আজকে আমার প্রেমিকাকে নিয়ে  বাসায় আসলাম। বাসায় ঢুকতে যাবো তখনি প্রেমিকা বললো

- এদিকে কই যাচ্ছো 
- এই যে এটা আমাদের বাড়ি। 
প্রেমিকা আমার বাড়ি দেখে
- কেন তোমার বাড়ি ঐটা না?
- আরে না।  এটাই আমার বাড়ি৷ 

প্রেমিকা চোখ বড় বড় করে দিয়ে অবাক হয়ে আছে৷  প্রেমিকা দাঁড়িয়ে পড়লো।  আমি প্রেমিকাকে বললাম
- দাঁড়িয়ে আছো কেন?  ভেতরে এসো।
প্রেমিকা তার ভাবনা ভেঙ্গে
- হ্যা আসছি। 

(আমি মেহেরাব আর আমার প্রেমিকার নাম মেধা।  খুব সুন্দরী।  এলাকার ভেতর যদি কেউ সুন্দর হয়ে থাকে তাহলে মেধাই সুন্দর৷  তার আশে পাশে মেয়ে দেখতে গেলে যে একবার মেধাকে দেখছে সে মেধার বাড়িতে প্রস্তাব নিয়ে যায়।  কিন্তু মেধার বাবা  না করে দেয়। ) 

যাক গল্পে ফেরা হোক

মেধা মেহেরাবের বাড়ি দেখে হতাশ হয়ে গেলো৷ মনে মনে ভাবছে দেখলাম কি আর হলো কি?  মেহেরাবের বাসা টা ছিলো গোল পাতার ছাউনি, বাশের বেড়া, নিচে মাটি,দু খোলা দরজা।  মেহেরাব মেধাকে নিয়ে ঘরে ঢুকলো।  কিন্তু মা নেই ঘরে৷  মেহেরাব মেধাকে বসতে দিয়ে মাকে খুজতে গেলো পাশের বাড়িতে। 

মেধা বসে মনে মনে কিছুটা বিরক্ত হলো৷  এমনি তে গরম লাগছে৷  ফ্যান টা ও ছেড়ে গেলো না।  ঘর তো না কুঁড়ে ঘর।  এর ভেতর মানুষ থাকে৷  মেধা উঠে যেয়ে ফ্যানের সুইচ দিলো।  ফ্যান ভো ভো করে  ঘুরতে লাগে।  ফ্যানের বিকট শব্দে মেধা আরো বেশি বিরক্ত হয়ে গেলো।  রাগে ফ্যান টা অফ করে দিলো৷  অসহ্য লাগছে এখানে। 

মেহেরাব পাশের বাড়ি থেকে
- মা তুমি এখানে।  তোমাকে না বলছি বাসায় থাকবা।  ওদিকে
মা মেহেরাবকে থামিয়ে দিয়ে
- আসছে।
মেহেরাব লজ্জা মাখা মুখে মাথা নিচু করে
- হ্যা। 
মেহেরাবের মা চলে আসলো।  মেহেরাব পিছনে।  মা রুমে ঢুকলো।  মেধা বসে আছে।  মেহেরাব বললো
- মেধা মা। 
মেধা উঠে দাঁড়িয়ে
- আসসালামু আলাইকুম আন্টি। 
- ওয়ালাইকুম আসসালাম
- কেমন আছেন
- আলহামদুলিল্লাহ।  তুমি কেমন আছো মা।
- জ্বী আলহামদুলিল্লাহ। 
- কিছু মনে করো না।  আমি একটু পাশে বাসায় গেছিলাম। 
- না আন্টি ঠিক আছে। 
- এই মেহেরাব তোর চাচির বাসায় ফ্রিজে পানি রেখে আসছি ঐটা নিয়ে আই। 

মেহেরাব চলে গেলো।  মেহেরাবের মা ফ্যানটা চালিয়ে দিলো।  মেধা বললো
- আন্টি ফ্যানটা অফ থাকুক৷ 
- কেন মা তুমি তো ঘেমে গেছো।  আর আমার বলদ ছেলেটা ফ্যান টা চালিয়ে দিয়ে যাবে তা আর করলো না। তোমাকে কষ্ট দিলাম শুধু শুধু। 
- না।  আসলে আমার বেশি শব্দে মাথা ব্যথা করে। 
- ও আচ্ছা আচ্ছা৷
তুমি আমার এক অন্য রকম অনুভূতি পর্ব ১   



ফ্যানটা অফ করে দিয়ে ঘরের উত্তর দিকে ছোট্ট একটা জানালা। সেটা খুলতে যেয়ে জানালার দরজা ভেঙ্গে পড়ে গেলো।  হুর হুর করে বাতাস ঢুকছে।  মেহেরাবের মা মেধার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসি দিলো।  মেধা মনে মনে রাগ হচ্ছে অনেক। মেধা লক্ষ্য করলো মেহেরাবের মা ছেঁড়া শাড়ি পড়ে আছে।    মেহেরাব বোতল এনে মায়ের কাছে দিলো৷  মা বোতল নিয়ে শরবত বানিয়ে মেধাকে খেতে দিলো।  মেধার অনিচ্ছা সত্ত্বে ও খেলো।  বিস্কুট চানাচুর কেক এনে দিলো।  মা বাইরে চলে গেলো। 

মেধা মেহেরাব কে বললো
- আমাকে যেতে হবে।  কাজ আছে একটু। 
-কি বলো?  দুপুরে খেয়ে যাবা তো৷ 
- না।  অন্য একদিন এসে খাবো৷  শরীরটা ভালো লাগছে না।
মেহেরাব এগিয়ে যেয়ে মেধার কপালে হাত দিয়ে
- কি হয়েছে?  জ্বর এসেছে। 
- না।  শরীরটা কেমন লাগছে৷  বাসায় যাবো৷ 
- মা তোমার জন্য রান্না করছে তো৷ 
- প্লিজ বাবু টা না করে দাও।  আন্টি শুধু শুধু কষ্ট করছে। 
- মা কিন্তু রাগ করবে।  কষ্ট পাবে৷ 
- একটু বোঝো আমার ব্যাপার টা। 

মেহেরাব বাইরে যেতে যাবে তখনি বৃষ্টি শুরু হলো৷  মেহেরাব ঘরে ঢুকে
- এই উঠো তুমি ওখানে যেয়ে বসো৷

মেধা অবাক হয়ে যায়।  মেধা উঠে দাঁড়াতে মেহেরাব বিছানা পুরোটা উঠিয়ে ফেলে৷  মেধা অবাক হয়ে
- বিছানা তুলছো কেন৷?
মেহেরাব দাঁত কেলিয়ে হেসে
- ঘরের চালের ফুতো দিয়ে পানি পড়ে। 

মেহেরাব কয়েকটা  পাত্র এনে ঘরের অনেক জায়গায় দিয়ে দেয়।  বৃষ্টির পানি পড়ছে৷  মেহেরাব মেধার দিকে তাকিয়ে
- সরি।  তুমি বসো। 
মেধার ভেতরে বিরক্তির ছাপ ফুটে উঠলো৷ মেধা নিজেকে সামলিয়ে
- না না ঠিক আছে।  তোমাদের কতো কষ্ট করে থাকতে হয়।  বাসাটা তো ভেঙ্গে নতুন করে গড়তে পারো৷
- টাকার অভাবে পারছি না।  আমাদের পড়াশোনার খরচ চালাতে যেয়ে আর ঘরের কাজ করা হচ্ছে না। 
- তোমার বড় ভাইয়েরা
- তারা তো পড়াশোনা করে৷ 

বৃষ্টি টা কমলে মেধা বের হয়ে রান্না ঘরের দিকে যায়।  রান্না ঘরে মেহেরাবের মা ভিজে গেছে।  চুলা টা পলিথিন দিয়ে ডেকে রাখছে।  মেধা বললো

- আন্টি আজ আসি তবে। 
- কই যাচ্ছো।  রান্না করছি খেয়ে যাও। 
মেধা মুচকি হেসে
- অন্য একদিন এসে খাবো৷  আজ একটু জরুরি কাজ পড়ে গেলো।
মেহেরাবের মা উঠে দাঁড়িয়ে মলিন মুখে
- কেমন একটা হয়ে গেলো না।  আজ নতুন আসছো কিছু না খেয়ে চলে যাবে।  তোমাকে তো ঠিক মতো আপ্যায়ন করতে পারলাম না৷ 
- না না আন্টি যেটা করছেন কম কি ?  অন্য একদিন টাইম করে আসবো।  সেদিন সারাদিন থাকবো৷ 
মা হেসে দিয়ে
- সত্যি তো৷
- হ্যা। 
- আচ্ছা সাবধানে যেয়ো। 

মেহেরাব মেধাকে নিয়ে বের হলো।  কিছুদূর যেতে মেধা বললো
- তুমি যাও আমি যেতে পারবো। 
- আর কিছুদূর এগিয়ে দি৷ 
- না না আমি যেতে পারবো তুমি যাও। 
- আচ্ছা যেয়ে ফোন দিয়ো। 

মেহেরাব বাসায় এসে মা কে বললো
- কেমন লাগলো? 
- মাশাআল্লাহ খুব সুন্দর । 
- তোমাকে বলেছিলাম না।  মেধা খুব ভালো। 
- মেয়েটাকে আমার খুব পছন্দ হয়েছে। 
- তুমি তো কি না কি বলছিলা। 
- চাকরি খোঁজ এখন।  তারপর মেয়েটাকে ঘরের বউ করে আনবি। 
- হুম।  তার আগে ঘর টা ঠিক করতে হবে৷ 
- একদিন সব বলদে যাবে শুধু সময়ের অপেক্ষা। 
- হুম। 


পরেরদিন

মেহেরাবের গালে ঠাস ঠাস  চড়ের শব্দে আশ পাশের মানুষ চেয়ে পড়লো।  মেহেরাব গালে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে............

তুমি আমার এক অন্যরকম শান্তি


পর্ব ১

লেখা: Meherab Kabbo

Leave a Comment