ভালোবাসা দিন কতটা রঙিন


পর্ব ৩১  (অন্তিম পর্ব)



লেখাMeherab Kabbo


হাসপাতালের ভেতর পিহুর বোন দুলাভাই,  প্রীতম, প্রীতমের মা বাবা সবাই উঠে দাঁড়িয়ে হা হয়ে যায়
পিহুর  সামনের দিকে এগিয়ে যেয়ে
- আপনারা আমার মা কে হাত কড়া কেন পড়াইছেন?  কি করছে সে?
পাশ থেকে একজন পুলিশ বললো
- সে অপরাধ করছে।  তাই তাকে  হাতকড়া পড়ানো হয়েছে। 
- কি করছে?
- ট্রাক ড্রাইভার কে ভাড়া করে প্রীতমের পরিবারকে শেষ করার পরিকল্পনা করেছিলো।  ভূল ক্রমে গাড়ি টা তা নিজেরি মেয়ের গাড়িতে ডাক্কা মারে।  ড্রাইভার আমাদের সব স্বীকারোক্তি দিয়েছে৷ 

পিহুর বোন চোখের পানি মুছে
- ছিঃ মা শেষ পর্যন্ত তুমি এমন একটা জঘন্য কাজ করলে।  একটু ও কি বাঁধলো না।  ঐ প্রীতম ঠিকি কাজ টা করেছিলো তোমাকে মেয়েকে পাত্তা না দিয়ে।  প্রীতম সব জানতো পিহুর ব্যাপারে।  ওর থেকেই দূরে দূরে সরে ছিলো।  আর তুমি কি না ওদের মারার প্ল্যান করলে। 
পিহুর মা হাত জোর করে
- তুই আমাকে প্লিজ মাফ করে দে।  আমি টাকার পিছনে ছুটেছি আমার ভূল হয়ে গেছে৷
- তোমার কোনো মাফ হবে না।  অফিসার তাকে তার উপযুক্ত শাস্তি টা দেওয়ার ব্যবস্থা করুন।  পিহুর অবস্থা আশঙ্কাজনক।  আপনি তাকে নিয়ে যান। 
পিহুর মা কান্না করে
- একটি বার পিহু কে দেখে চলে যাবো।
- না তুমি যাবে না।  পিহুর সাথে তোমার সাথে কোনো সম্পর্ক নেই।  অফিসার নিয়ে যান। 

পিহুর মা কে নিয়ে চলে গেলো।  দুলা ভাই পিহুর বোনের পিছনে দাঁড়াতে পিহুর বোন পিছন ফিরে দুলা ভাই কে জরিয়ে ধরে কান্না করতে লাগলো৷  সবাই পিহুর বোনটা শাস্তনা দিতে লাগলো। 

প্রিয়ন্তি পিহুর কানের কাছে যেয়ে
- তোমাকে উচিৎ একটা শিক্ষা দিবো ভেবে রেখে দিছিলাম। আজ সেই দিনটা পেয়ে গেলাম।  তুমি চলে এলে সোজা হাসপাতালে মৃত্যুর দুয়ারে।  অন্যের ক্ষতি করা কেমন লাগে এখন তুমি অনুভব করবে।  বলেই অক্সিজেন টা মুখ থেকে খুলে ফেললো।  পিহু ছটফট করতে লাগলো।  আবার দিলো ওমনটা।  আমার সরিয়ে নিলো৷  প্রিয়ন্তি বললো
- আর যদি তোকে দেখি আমাদের পিছনে লেগে বসে আসিছ তাহলে তুই সেদিন সোজা উপরে চলে যাবি। 

প্রিয়ন্তি শয়তানি হাসি দিয়ে বের হয়ে গেলো। প্রিয়ন্তি প্রীতমের মায়ের পাশে দাঁড়িয়ে
- ভাবি কান্না করে কেন?
- তার মা আমাদের মারতে চেয়েছিলো।  কিন্তু ভূল করে পিহুকে মেরে দেয়।  তাই  এই অবস্থা ছিলো ।।
প্রিয়ন্তি অবাক হওয়ার ভান করে
- কি বলেন আমাদের মারবে মানে?
- আমাদের কে মেরে আমাদের সব সম্পতি হাতিয়ে নেওয়ার জন্য। 
- এতো লোভ ছি ঃ

প্রীতম রা বাসায় চলে আসলো।  প্রীতম ফ্রেশ হয়ে খেয়ে ঘুমিয়ে গেছে।  প্রিয়ন্তি আজ অনেক খুশি।  প্রিয় মানুষটাকে এতোদিন পর কাছে পাবে।  প্রিয়ন্তি প্রীতমের মাথার কাছে বসে প্রীতমের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে জাগিয়ে তুললো।  প্রীতম চোখ মেলে দেখলো প্রিয়ন্তির মুখে হাসি ভরা।  প্রিয়ন্তি প্রীতমকে বললে
- একটা কথা বলবে।
- হুম।
- তুমি আমার হলুদের দিন আসছিলা৷ 
- হ্যা। 
- আমি বলেছিলাম তুমি এসেছিলে কিন্তু কেউ না বিশ্বাস করে নি। 
- কিভাবে বুঝলা আমি আসছিলাম
- তোমার দেওয়া অনুভব আমাকে জাগিয়ে তুলেছিলো। 
- তাহলে অন্যকে বিয়ে করছিলা কেন?
প্রিয়ন্তি মুখটা কালো করে
- বাবার চাপে বিয়েতে রাজি হয়েছি৷ 
- আমাকে তো একটা কল দিতে পারতা। 
- দিছিলাম কিন্তু তুমি ধরো না।
- আমি খেয়াল করিনি।  আরেক বার দিলে তো পারতে। 
- একবারে ধরো নি আরেক বার দিলে ধরতা কি করে। 
- তাই বলে এতো রাতে।
- হঠাৎ করেই সব হয়েছে। 
-আমাকে একটি বার তোমার মনের কথা বলে দিলে পারতা।
- কখনো সাহস হয়ে উঠেনি৷ 
- তুমি যদি তার ঘরেই থাকতা।  মনে পড়তো আমাকে। 
- পড়তো কি না জানি না।  তবে মাঝে মাঝে মনে হতো তুমি আমার আশে পাশেই আছো৷ 
- আমি তোমার এতো কাছে থাকা সত্ত্বেও কেন বুঝলা না। 
- ঐ ডায়নির জন্য।  ডায়নি টা কে উচিত শিক্ষা দিবো বলে তোমার উপর এতো অত্যাচার করেছি। 
- ডায়নি তো তুমি।  আগে জানলে তো বিয়েই করতাম না। 
- তাই না।  তাহলে কেন করলে বিয়ে। 
- বিয়ে না করলে তোমার মতো চুন্নিকে কি চিনতে পারতাম নাকি । 
- আমি চুন্নি। 
- হুম। 
প্রিয়ন্তি প্রীতমের গায়ের উপর উঠে বসে প্রীতমের চুল ধরে টানতে থাকে আর বলে
- আর বলবে। 
- না না।  এবার ছাড়ো। 
- ছাড়বো সত্যি একটা কথা বললে
- কি আবার?
- আমার খোঁজ তুমি পেলে কিভাবে। 
- তোমার হৃদয় ভাইয়ের কাছ থেকে সবটা জানলাম। 
- তোমার সাথে কথা হতো৷ 
- না।  হঠাৎ তোমার খোজ নিতে যেয়ে সবটা জানলাম। 
- জানার পর আমাকে দয়া করলা। 
- না তা করবো কেন?  তোমাকে আমার করে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছি।  তা না হলে তো পেতাম না তোমাকে। 
- কিভাবে ম্যানেজ করলা এতো কিছু। 
- বাবাকে বলছিলাম।  সে তোমার দুলা ভাইয়ের সাথে কথা বলছে।  তারপর তোমার ম্যাছে গেছিলো।  তোমার সরলতা দেখে বাবা এক পায়ে রাজি হয়ে গেলো। 
প্রিয়ন্তি অবাক হয়ে
- উনি তাহলে তোমার বাবা ছিলো। 
- হ্যা। 
- আমি এতো দিন সবার ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত হয়েছি।  আর বঞ্চিত হতে চায় না।  আমাকে দূরে ঠেলে দিয়ো না।  আমি আমার ভালো লাগার মানুষ টাকে পেয়ে গেছি।  আমি বাকীটা জীবন তোমার সাথে কাটাতে চায়। 
প্রীতম মুচকি হেসে
- চাই বলেই তো বিয়ে টা করে বেঁধে নিলাম।  আর পলাতে পারবে না। 

প্রিয়ন্তি প্রীতমকে খুব শক্ত করে জরিয়ে ধরলো।  প্রীতমের ঠোঁট টা প্রিয়ন্তির ঠোঁটের কাছে যেয়ে স্পর্শ করলো৷ 

(দুজনে এখন রোমান্টিক মুডে আছে।  পরে আসবো।  এখন সবাই মিষ্টি নিয়ে লাইনে দাড়ান)


পরের দিন ভোরে
প্রিয়ন্তি প্রীতমের বুকে শুয়ে ফোন টা নিয়ে মিমি কে কল করলো।  মিমি ফোনটা ধরতেই হাসিমাখা মুখে প্রিয়ন্তি বললো
- দুলা ভাইকে ধন্যবাদ দিস।  আমার ভালো লাগার মানুষ টার সাথে বিয়ে দেওয়ার জন্য। 

মিমি কিছু বলার আগে ফোনটা কেটে দিলো।  প্রিয়ন্তি প্রীতমের বুক থেকে উঠে সবার জন্য চা নাস্তা বানালো।  প্রীতমের মা বাবাকে চা নাস্তা দিয়ে।  প্রীতমের জন্য চা নিয়ে রুমে ঢুকলো।  চা টা টেবিলে রেখে প্রীতমকে ডাক দিয়ে বললো
- এই উঠো চা ঠান্ডা হয়ে যাবে। 
প্রীতম প্রিয়ন্তির হাত ধরে টেনে পাশে বসিয়ে কোমর টা জরিয়ে ধরে
- আর একটু ঘুমায়। 
- না আর একটু ও না।  উঠো বলছি। 
প্রীতম কোমর ছেড় দিয়ে প্রিয়ন্তিকে টান মেরে বুকে নিয়ে ঠোঁটে ঠোঁট লাগিয়ে চুম্বন করতে লাগলো। 

৫ মিনিট পর প্রীতমকে ছাড়িয়ে
- কেউ এসে যাবে।  উঠো।
- কেউ আসবে না।
- ভালোবাসা দেখি বেশি পাইছে। 
- যাহ্ দুষ্টু৷ 

প্রিয়ন্তি প্রীতমকে ছাড়িয়ে এক দৌড়ে রান্না ঘরে চলে গেলো।  প্রীতম উঠে ফ্রেশ হয়ে নিলো৷

প্রিয় মানুষ টাকে কাছে পেলে মনে হয় এতো টা শান্তি আর হয়তো পাওয়া যাবে না।
ভালোবাসা দিন কতটা রঙিন অন্তিম পর্ব      





প্রীতম প্রিয়ন্তির ফ্যামিলির সবাইকে দাওয়াত করলো।  প্রিয়ন্তির পরিবার প্রীতমদের বাসায় চলে আসলো। আজ কেমন জানি সবার মনে আনন্দ উল্লাস বয়ে যাচ্ছে৷  প্রিয়ন্তি সবার সাথে হাসিখুশি ভাবে কথা বলতেছিলো।  মিমি প্রিয়ন্তিকে পাশে নিয়ে
- তুই এতো চেঞ্জ কি ভাবে হলি?  কি হয়েছে তোর।
- প্রিয় মানুষটাকে পেলে চেঞ্জ  তো এমনিতেই হবে।
মিমি অবাক হয়ে
- মানে।
- প্রিয়মকে পেয়ে গেছি আমি। 
- কই পেলি
- প্রীতমই হলো প্রিয়ম৷ 
মিমি অবাক হয়ে যায়। 

প্রিয়ন্তি চলে আসলো।   রাজ এসে মিমি কে বললো
- কি ভাবছো এতো?
- প্রীতম নাকি প্রিয়ম প্রিয়ন্তির ভালোবাসা। 
- হ্যা ঠিকি শুনেছো
- আমাকে কেন বলোনি?
- আমি তো ১ সপ্তাহ আগে জেনেছি। 
মিমি রাজের দিকে রাগি দৃষ্টিতে তাকিয়ে পড়লো৷ রাজ কানে ফোন ধরে হ্যালো হ্যালো বলে চলে গেলো। 


প্রীতম ঘরে বসে শার্ট পড়তে ছিলো তখনি প্রিয়ন্তি ঘরে ঢুকলো।  প্রীতমের সামনে দাঁড়িয়ে প্রীতমের শার্টের বোতাম লাগিয়ে দিচ্ছে আর অভিমান সুরে
- তুমি যদি সেই প্রথম দিকে বলতে তুমি প্রিয়ম তাহলে তোমার প্রতিটা ভালোবাসার দিন গুলো থেকে বঞ্চিত হতাম না।  হতাম না তোমার বাবা মায়ের ভালোবাসা থেকে। 
- আমি দেখতে চেয়েছিলাম তুমি প্রিয়মকে কতোটা মনে রেখেছো ওকে চাও কি না?
- চেয়েছি তো কিন্তু সাহস পাই নি। 
- আমি আগে জানলে তোমাকে বলে দিতাম। 

শার্টের বোতাম লাগানো শেষে প্রীতম ঘরের বাহিরে চলে গেলো। 

কিছুক্ষণ পর মিমি ঘরে এসে
- জানিস কি হয়েছে?
- কি?
-ঐ ছেলের বোন এসেছিলো তোকে ঐ ঘরের বউ করে নিতে
প্রিয়ন্তি অবাক হয়ে
- মানে?
- ওর বউ তো আরেক টা ছেলের সাথে পলাইছে।  ঐ ছেলেকে ডিভোর্স দিয়ে।
প্রিয়ন্তি হেসে দিয়ে
- একদম ঠিক কাজ করেছে ।  একজনকে ঠকালে কি হয় বুঝুক। 
মিমি ও হেসে দিলো। 

কেউ কাউকে ঠকালে সে নিজে একদিন না একদিন ঠকবে।


বিকালে ফ্যামিলির সবাই মিলে এক ফ্রেমে বন্দী হলো।  হাসি খুশি দুষ্টুমির ভেতর দিয়েই চলবে প্রিয়ম প্রিয়ন্তির সংসার। 

সবাই দোয়া করবেন প্রিয়ম প্রিয়ন্তির জন্য। ওদের সংসার জেনো সুখময় হয়। 

বিঃদ্রঃ  গল্পটা অনেক বড় হয়ে গেলো।  যার কারণে তিতা ও হয়ে গেছে।  সবার সময় নষ্ট করলাম তার জন্য সরি।  কম পার্টের ভেতর আসছে নতুন একটা গল্প।  সবাই পাশে থাকবেন দোয়া করবেন এর থেকে ভালো কিছু উপহার দিতে পারি। 

(গল্পে রোমান্টিক তা ছিলো না তেমন।  আমি তেমন রোমান্টিকতা লিখতে পারি না সরি তার জন্য। ) 

Leave a Comment