তুমি আমার এক অন্যরকম শান্তি
পর্ব ২৮
লেখা: Meherab Kabboমেধা দাড়িয়ে থেকে বিরক্ত হয়ে গেলো। মেধা নাহিদকে বললো
- তোমার গাড়ি আজ আর আসবে না। তুমি যাও তোমার বাইক টা নিয়ে এসো। কেমন ড্রাইভার রাখছো কে জানে। আজকে আসলেই চাকরি থেকে বের করে দিবা নতুন ড্রাইভার দেখবা।
মেধার কথা শুনে নাহিদ তাকিয়ে পড়লো। মেধা নাহিদের তাকানো দেখে
- আমার দিকে না চেয়ে বাইক নিয়ে এসো।
নাহিদ অবাক হয়ে
- তুমি বাইক, গাড়ি, ড্রাইভার এসব কোথায় পাইছো। ড্রাইভারকে চাকরি থেকে বের দিবো।
- মানে
- মানে তো আমি ও বুঝছি না। আমরা তো রিকশায় যাবো। রিকশার জন্য অপেক্ষা করছি।
- রিকশায় যাবো মানে। তোমার গাড়ি, বাইক কই ওগুলো থাকতে রিকশায় কেন যাবো?
- তুমি গাড়ি,বাইক কই পাইছো।
- তোমাদের নেই।
- না
মেধা না শব্দ টা শুনে থ হয়ে গেলো। পুরোই শকড্ হয়ে গেছে। এর ভেতর একটা রিকশা আসলো দাঁড় করালো নাহিদ। নাহিদ রিকশায় উঠে মেধাকে বললো উঠতে। মেধা বললো
- তাহলে সেদিনের যে গাড়ি আর বাইক ছিলো
- ভাড়া করে নিয়েছিলাম।
- তোমাদের নিজস্ব কোনো কিছু নেই।
- না।
মেধা আর এক মুহুর্ত দাঁড়ায় না সোজা চলে যায় বাসার ভেতর রাগ হয়ে। নাহিদ অবাক হয়ে গেলো।
**
রিপন লিমন শিপন তামান্নাকে এক এক কথা বলতে থাকে৷ তামান্না হেটে যাচ্ছে। রাগ ও হচ্ছে খুব৷ হঠাৎ করে একটা গাড়ি এসে ওদের বাইকের সামনে এসে দাড়ালো। রিপন ব্রেক করে অবাক হয়ে গেলো। গাড়ি থেকে হকি হাতে নিয়ে কিছু লোকজন নেমে তিনজনকে পেটানো শুরু করলো৷ তিনজনেই অবাক হয়ে গেলো। পেটানি খাচ্ছে।। লোকগুলো বেদম পেটালো। একজন বললো
- শহরের পরিবেশ নষ্ট করতে আসছিস। তোদের এমন হাল করবো ২য় বার শহরের পরিবেশ নষ্ট করার আগে ১০ বার ভাববি৷
রিপন ব্যাথায় কাটরাচ্ছে আর বলছে
- আমরা কি করছি? কেন মারছেন আমাদের।
- বখাটে পনা করিস। রাস্তায় মেয়েদের উত্ত্যক্ত করিস। এত সুন্দর শহর টাকে তোরা তিনজনে খারাপ করবি কিভাবে আমরা থাকতে৷ তোদের নামে অনেক অভিযোগ শুনেছি। আজ সজমিনে তোদের ধরছি।
এর ভেতর পুলিশের গাড়ি এসে থামলো। দারোগা গাড়ি থেকে নেমে
- ওদের আমাদের হাতে তুলে দেন। বাকীটা আমরা দেখে নিবো।
- নেক্সট টাইম জেনো কোনো মেয়েকে উত্ত্যক্ত না করে সেদিকে খেয়াল রাখবেন৷
- ঠিক আছে। ওদের মামা শশুর বাড়ির আদর টা দিতে হবে।
লোক গুলো গাড়িতে উঠে চলে গেলো। দারোগা ওদের তিনজনকে গাড়িতে উঠিয়ে নিয়ে চলে গেলো।
**
নাহিদ রুমের ভেতর এসে
- কি হলো তুমি চলে আসলে কেনো?
- আমার ইচ্ছা হয়েছে তাই আমি এসেছি। কোনো সমস্যা।
- কি হয়েছে তোমার?
মেধা রাগে ক্ষোভে
- তুই আমাকে ঠকিয়েছিস। আমার পরিবারকে ঠকিয়েছিস। মিথা কথা বলেছিস। তোর সাথে আমি সংসার করবো না।
মেধার কথা শুনে নাহিদ অবাক হয়ে গেলো। নাহিদ বললো
- কি বলছো এসব?
- ঠিকি বলছি। তুই গাড়ি বাইক ভাড়া করে বড়লোক সেজেগুজে আমাদের ঠকিয়েছিস।
- তোমার কোথা ও ভূল হচ্ছে।
- ভূল না। আমি আমার পরিবারকে সব জানিয়ে দিবো৷ তোরা ঠকবাজ।
নাহিদের মাথা গরুম হয়ে গেলো । নাহিদ রেগে বললো
- মেধা মুখ সামলে কথা বলো। লিমিট ক্রস করো না। আমাকে চেতিয়ো না।
মেধা নাহিদের কাছে এগিয়ে যেয়ে
- কি মুখ সামলে কথা বলবো? তুই গাড়ি বাইক দেখিয়ে আমার বাবাকে ঠকিয়েছিস। কিন্তু তোর কিছু নেই। তুই একটা ঠক বাজ।
![]() |
| তুমি আমার এক অন্যরকম শান্তি পর্ব ২৮ |
নাহিদ মেধার গালে চড় বসিয়ে ফোনটা বিছানার উপর ফেলে দিয়ে
- নে তোর পরিবারকে কল কর। তোর পরিবারই বলছিলো আমার মার কাছে তুই লং ড্রাইভে যাবি৷ একটা গাড়ি ভাড়া করে জেনো তোর সামনে যায়৷ তোকে নিয়ে যায়।
মেধা গালে হাতে দিয়ে
- তুই আমাকে চড় মারলি৷ আমার পরিবার আজ পর্যন্ত আমাকে মারেনি তুই মারলি৷
- তুই যে অর্থলোভী এটা আমি আগে জানলে তোকে কখনোই বিয়ে করতাম না। বিয়ের আগে তো বলতি ভালবাসাটাই মেইন৷ গাড়ি বাড়ি টাকা পয়সা থাকলে ভালোবাসা হয় না৷ এখন আমার এটা নেই জেনে তোর আসল রুপ দেখালি। ছিঃ তোরা আমাকে এভাবে ঠকালি।
নাহিদ দরজা খুলে বের হয়ে গেলো। মেধা কান্না করতে লাগলো। কোথায় ভাবলো নিজেকে ভালোভাবে উপস্থাপন করবে। বড়লোক গিরি দেখাবে এখন তো কিছুই নেই। কিভাবে সবাইকে বলবে কিভাবে সবার সামনে যাবে। সব স্বপ্ন জেনো মাটিতে মিশে গেলো। এভাবে ঠকতে হলো। আমার পরিবার আমার সাথে এটা না করলে পারতো। আমার স্বপ্নগুলো ভেঙ্গে দিলো।
**
তামান্না কোচিং এ যেয়ে ক্লাস করছে। মেহেরাবকে দেখতে পেলো না। ক্লাস শেষে বাহিরে বেরিয়ে একজনকে জিঙ্গেস করলো
- মেহেরাব কি গতকাল আসছিলো কোচিং এ।
- না। আজ তিন দিন ধরে তো আসে না। কেন?
- না দেখলাম না তো তাই। ভাবলাম ওর থেকে গত দুদিনের নোট নিবো।
তামান্না চলে গেলো। হাটছে আর ভাবছে
ও কোচিং এ আসলো না কেন? আসলে নিশ্চয়ই আমাকে খুজতো আমি কেন আসছি না। আমার প্রশ্ন গুলো কি থেকে যাবে। ও কি আসবে না কোচিং এ। তামান্না ফোনটা বের করে অনলাইনে গেলো। মেহেরাবের আইডিতে ঢুকলো। মেহেরাব এখনো একটিভ হয়নি। তামান্না একটা স্টিকার সেন্ড করলো। মন খারাপ করে বাসার দিকে চলে গেলো৷
**
রাত ১০ টা
বাসায় নাহিদ এখনো ফেরেনি। মেধাকে এসে খেতে ডাকলো। মেধা খাবে না বলে দিলো। এটা শুনে নাহিদের মা চলে আসলো। রুমে এসে
- কি হয়েছে বউমা? শরীর খারাপ তোমার।
- না আমার ভালো লাগছে না। পরে খাবানি।
- কিছু কি হয়েছে? তোমার মুখটা শুকনো দেখাচ্ছে।
- না কিছু হয়নি।
- ঠিক আছে। তাড়াতাড়ি এসো খেতে।
নাহিদের মা রুম থেকে বের হয়ে গেলো। মেধা শুয়ে পড়লো। বাসায় সবাই ব্যস্ত। গোজগাজ করা নিয়ে। আগামীকাল মেধার বাসা থেকে লোকজন আসবে। রাতেই সবাই সবকিছু নিয়ে ব্যস্ত।
**
তামান্না বই সামনে নিয়ে বসে আছে৷ বারবার ফোন দেখছে কিন্তু কোনো কিছুই হলো না। মেহেরাব লাইনে আসেনি। তামান্নার মা রুমে ঢুকে
- কি হয়েছে তোর। বই সামনে রেখে বার বার ফোন চেক করছিস।
- কই কিছু না তো।
মা তামান্নার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে
- ঠিক করে খাচ্ছিস না ঘুমাচ্ছিস না। তুই কিছু নিয়ে চিন্তিত।
- না।
- মায়ের থেকে লুকাবি।
- যখন সবকিছু জানতে পারবো সেদিন না হয় বলবো। কিছুই লুকাবো না।
- এখন বলতে কি সমস্যা। কারো মায়ায় পড়েছিস।
- ধরে নাও তেমনি। তবে সে আমার মায়ায় আছে কি না এটা আমি জানি না। আমাকে জানতে হবে। তুমি যাও তো মা। পড়তে দাও।
- যেটা করবি ভেবে চিন্তে করবি। আমাদের কথা নিশ্চয়ই তোর মাথায় আছে।
- হ্যা মা আমি জানি৷ এমন কিছু করবো না যে তোমাদের মাথা হেট হোক।
তামান্নার মা চলে গেলো। তামান্নার পড়ায় কিছুতেই মন বসছে না। কি করবে বুঝতাছে না।
রাত ১ টা নাহিদ বাসায় ফিরলো। নাহিদের মা নাহিদ কে বললো
- এতো রাত পর্যন্ত তুই বাহিরে ছিলি কেন? তোর ঘরে বউ আছে ভূলে গেছিস। মেয়েটাকে তো একটু সময় দিবি। তোর জন্য না খেয়ে আছে এখনো
- তুমি যাও তো এতো ঙ্গান দিতে হবে না।
নাহিদের কথায় মা অবাক হয়ে গেলো। নাহিদ রুমে যেয়ে দেখলো মেধা শুয়ে আছে চোখ বুঝে। নাহিদ রুমের দরজা আটকালো। ধীরে ধীরে মেধার কাছে যেয়ে ঝাপটে ধরলো। মেধা ছাড়ানোর চেষ্টা করলো। কিন্তু ব্যর্থ হয়ে গেলো। নাহিদের শক্তির সাথে পারছে না। নাহিদ মেধাকে আদর করতে থাকে আর বলে
- বিকালের ব্যাপারের জন্য আমি দুঃখিত। আমি রাগের মাথায় তোমাকে মেরেছি। সরি।
মেধা নাহিদকে ডাক্কাতে লাগে আর বলে
- ছাড় আমাকে। তোর ছোঁয়া আমার চাই না। ছাড় আমাকে।
- তোমার চাই না। আমার তো চাই।
- তুই একটা ঠকবাজ লম্পট।
নাহিদ মেধাকে ছেড়ে দিয়ে রুম থেকে বের হয়ে গেলো। জামা ঠিক করে অন্যপাশ হয়ে শুয়ে পড়ে। আর ভাবতে লাগে সবার সামনে কিভাবে যাবো। সবাই তো আমাকে নিয়ে হাসাহাসি করবে। যার জন্য আমি মেহেরাবকে পর্যন্ত ছেড়ে দিয়েছি। সেই আমি ঠকে গেলাম।
পরেরদিন সকালে
ভোরে নাহিদ কাউকে কিছু না বলে ব্যাগ নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে গেলো..........
( waiting for next part.........)
(গল্পটা শেষ করে দেওয়া দরকার। তিতা তিতা হয়ে গেছে।)
কি বলেন আপনারা।

Leave a Comment