তুমি আমার এক অন্যরকম শান্তি


পর্ব   ৩১

লেখাMeherab Kabbo

তামান্নার মা তামান্নাকে বললো
- কাঁদছিস কেন?
- আমি সম্পূর্ণ ভূল ছিলাম।  আমার জন্য ওর মনে কোনো ভালোবাসা নেই। 
- কাঁদিস না মা।  নিজেকে শক্ত রাখ ভালো করে পড়াশোনা কর।  তোর এই বয়সটা খুব খারাপ।  আবেগ ইমোশনাল ভূল সিদ্ধান্ত নিতে বেশি সময় লাগে না।  ভূল পথে যাস না মা।  তোকে নিয়ে আমাদের অনেক স্বপ্ন। 
- ও কেন আমার মনে চলে আসলো।  আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না। 
- কখন কার মনে কি হবে কেউ জানে না।  হুটহাট সব হয়ে যায়।  এখন নিজেকে শক্ত কর।  

তামান্না মা কে অনেকক্ষণ জরিয়ে ধরে আছে। 


মেহেরাব বাসায় এসে সবকিছু বললো মিথিলা মিহু মা কে।  তারা শুনে অবাক হয়ে গেলোন। মিথিলা বললো
- মেয়েটাকে দেখে আগেই বুঝেছিলাম।  ও তোমাকে ভালোবাসে। 
- কিন্তু ভাবি তুমি তো জানোই। 
মা বললো
- তুই যখন না বলেছিস ভালো করেছিস।  তবে বলি কি?
- কি মা?
- মেয়েটাকে একদিন বাসায় নিয়ে আই।  ওকে আমি একটু দেখলাম।  আর ও আমাদের পরিবেশ টা দেখে নিলো।  তাহলে ও নিশ্চয়ই পরবর্তীতে আর কষ্ট পাবে না।  নিজ ইচ্ছায় চলে যাবে। 
মিহু বললো
- মা ঠিক কথা বলেছে।  ওকে নিয়ে এসো।  আমাদের বাসার অবস্থা দেখে ওর ভালোবাসা জানালা দিয়ে পালাবে। 
- ওরা তো বড় লোক। 
মিথিলা বললো
- হ্যা এই জন্যই তো। ও তো তোমার প্রতি দূর্বল হয়েছে।  কিন্তু ও তো আর তোমার অবস্থান জানে না।  জানলে নিশ্চয়ই ও অট্টালিকা ছেড়ে কুঁড়ে ঘরে আসবে না।  ওর ফ্যামিলি ও কখনো চাইবে না। 
- তা ঠিকি বলেছো।  দেখি একদিন নিয়ে আসবানি। 
মিহু বললো
- আমরা বাসায় থাকতে থাকতে নিয়ে এসো। 
- হ্যা। তা তো আনবই। 

মেহেরাব চলে গেলো ঘরে। 


**
মেধা বালিশে মুখ চেপে ধরে কান্না করছে আর ভাবছে সবাই আমাকে কত ভালোবাসতো কিন্তু এখন আমাকে ভালোবাসে না। যার সাথে বিয়ে হয়েছে তার মা ও আমাকে অত্যাচার করছে।  আমার মা বাবা এতোটা নিষ্ঠুর হলো কেনো।  আমাকে নিয়ে যাও তোমরা।  আমার আর এই জীবন ভালো লাগছে না। 


**
রাত ১০ টা
মেহেরাব খাওয়া দাওয়া করে ফোনটা হাতে নিয়ে অনলাইনে আসলো।  অনলাইনে ঢুকেই অবাক হয়ে গেলো।  এই ক দিনে তামান্না একাই ম্যাসেজ করেছে ।  তামান্নার একটা ম্যাসেজে চোখ আটকে গেলো
- তোমার কি আমার কথা মনে পড়ে না?  তুমি আমার উপর রাগ করলে বলো প্লিজ তা ও তুমি কোচিল এ আসো।  তোমাকে না দেখলে আমার শান্তি লাগে না।  আমার কিছুই ভালো লাগে না।  রাতে তোমার চিন্তায় ঘুম আসে না ।  ঠিক করে খেতে পারি না।  কেন এতো মায়া করলে আমাকে।  তুমি একটি বার আমার সামনে আসো।  তোমাকে ছাড়া আমার মন যে ভালো থাকতে দিচ্ছে না। 

মেহেরাব তামান্নার ম্যাসেজটা পড়ে দীর্ঘ শ্বাস ছেড়ে দিয়ে মনে মনে বললো
- সরি তামান্না।  মেধার বিয়ে হয়ে যাচ্ছে দেখে আমার পরিবার আমাকে নিয়ে চিন্তা করছিলো।  তারা আমাকে এটা জানতে দিবে না বলে এখান থেকে সরিয়ে দিছিলো।  ফোনটা ও পর্যন্ত দেয় নি।  আমি ভাবি মা কারো সাথেই কথা বলতে পারি নি।  আমার জন্য তোমাকে অনেক কষ্ট পেতে হলো।  তুমি যে আমাকে এতোটা ভালোবাসো আমি জানতাম না।  তবে আমরা বাস্তবতার কাছে হেরে যাবো।  তাই তোমাকে বাস্তবতা দেখাবো৷  তারপর তুমি যা ডিসিশন নিবে তাই হবে।।
তুমি আমার এক অন্যরকম শান্তি পর্ব ৩১  



মেহেরাবের ডাটা অফ করতে যাবে তখনি তামান্নার ম্যাসেজ আসলো
- রাতে খেয়েছো। 
- হুম আপনি?
- না।  কি করো?
- ঘুমানোর জন্য রেডি হই। 
- ওও আচ্ছা ঘুমাও তবে। 
- খান নি কেন?
- এমনি। 
- খাবেন না। 
- না। 
- খেয়ে নেন এখন। 
- ইচ্ছা নেই। 
- খেয়ে নিতে বলেছি খেয়ে নেন।  দ্বিতীয় বার বলা না লাগে। 
- আমার ভালো লাগছে না। 
মেহেরাব রাগি ইমোজি দিয়ে
- আপনি আমার কথা শুনবেন না। 
- শুনে কি হবে ?
- এই নাকি আমাকে ভালোবাসেন।  তাহলে কথা শুনেন না কেন? 
- জানি না। 
- খেতে যান এক্ষুনি।  আমি অপেক্ষা করবো আপনার ম্যাসেজের জন্য৷ 
- না তুমি ঘুমাও। 
- যেটা বললাম করেন।  রাগাবেন না কিন্তু। 
- ঠিক আছে যাচ্ছি। 

তামান্না খেতে চলে গেলো। 

**
মেধা বিছানায় শুয়ে ঘুমাচ্ছে।  নাহিদের মা এসে মেধার হাত ধরে টেনে তুলে
- এসব নাটক তোর বাসায় করিস।  খাস না খাস তোর বাসায় বসে করবি আমার বাসায় না।   খেতে আই। 
ঘুম কন্ঠে মেধা বললো
- আমার খিদে নেই। 
নাহিদের মা গম্ভীর কণ্ঠে
- চুলের মুঠি ধরতে বাধ্য করিস না। 
মেধা ভয় পেয়ে যায়।  উঠে খেতে চলে যায়।  নাহিদের মা বলে
- ঘুঘু দেখছো ঘুঘুর ফাঁদ দেখো নি।  একবারে সোজা বানাই দিবো। 


**
তামান্না খেয়ে এসে মেহেরাবকে ম্যাসেজ দিলো।  মেহেরাব রিপলে করলো।  দুজনে কিছু কথা বলতে লাগলো।  রাত ১২ টা বেজে গেছে।  মেহেরাব বললো
- এখন ঘুমাতে যান।
- এখন না পরে। 
- এখন।  রাত অনেক হয়েছে।
- প্লিজ। 
- না।  ঘুমাতে হবে। । সকালে তাড়াতাড়ি লাইনে এসেন
- ইচ্ছা করছে না তো। 
- করতে হবে। 

মেহেরাবের জোড়াজুড়ি তে তামান্না ঘুমাতে রাজি হলো।  মেহেরাব লাইন থেকে বের হয়ে গেলো৷

পরের দিন সকালে
মেহেরাব ঘুম থেকে উঠে ফোন টা হাতে নিয়ে ডাটা অন করে দেখলো তামান্না ম্যাসেজ দিছে ভোরে।  ম্যাসেজটা ছিলো
- আম্মু আমাকে নিয়ে আন্টির বাড়িতে যাচ্ছে।  দুদিন পর ফিরবো।  কোচিং এর পড়া গুলো আমাকে দিয়ো৷  আর তুমি অনলাইনে থেকো।  কথা বলবে একটু। 

মেহেরাব ম্যাসেজ দিলো
- সাবধানে যাবেন।  পৌঁছে জানাইয়েন। 
মেহেরাব আবার শুয়ে পড়লো।  ঘুমাবে বলে। 

**
তামান্নাদের গাড়ি চলতাছে।  তামান্নার মার কাছে তামান্না জিঙ্গেস করলো
- হঠাৎ আন্টির বাসায় কেন যাচ্ছি?
- ওখানে গেলে তোর মনটা ভালো হবে।  আমি তোর আন্টিকে ও দেখতে পাবো। 
- এখানে আমার মন ভালো হওয়ার কি আছে?
- তুই তো কষ্ট পেয়েছিস তাই তোকে নিয়ে আসছি ভূলে যাবি তার জন্য। 
- আমার তো মন ভালো থাকার কারণ তো ও।  কষ্ট দূর করবে তো ও।  ও তো আমার শান্তি।  আমার মনের শান্তি। 
তামান্নার মা তামান্নার দিকে তাকিয়ে পড়লো। 


*
মেধা আজকে ও ঘুমাচ্ছে।  নাহিদের মা এসে ধরে তুলে আগের মতো ব্যবহার করলো।  মেধা কোনো উপায় না পেয়ে সোজা রান্না ঘরে গেলো। মেধার এখানকার জীবন নরক মনে হচ্ছে।  যে কখনো রান্না ঘরে আসেনি সে আজ রান্না ঘরে। কাজ করেনি কখনো আজ কাজ করতে হচ্ছে।  মেধার ভাবতেই কষ্ট এসে ভর করলো।  এতো বড় স্বপ্ন দেখতে যেয়ে আজ এই অবস্থা। 

**
বিকালে মেহেরাব কোচিং এ গেলো।  তামান্না আসবে না জেনে ও তামান্না যেখানে বসে সেখানে বার বার চোখ দিচ্ছে।  জায়গাটায় আজ অন্য কেউ বসছে।  তামান্না একটা ও ম্যাসেজ দিলো না।  এখনো কি পৌঁছাই নি।  মেহেরাবের চিন্তা হলো।  কোচিং শেষে মেহেরাব রাস্তার পাশ দিয়ে হাটছে।  এখন কেন জানি তামান্নার কথা বেশি মনে পড়ছে।  কিন্তু কেন বুঝতে পারছে না। 

দেখতে দেখতে দুদিন কেটে গেলো।  মেধার উপর অত্যাচারের মাত্রা বেশি হয়ে গেলো।  মেধা আর সহ্য করতে পাচ্ছে না।  বাসা থেকে পালিয়ে দূরে কোথা ও চলে যাবে। 
২ দিন পর

মেহেরাব তামান্নার সাথে পার্কে দেখা করলো।  তামান্না মেহেরাবের হাত ধরে 
- একটা সত্যি কথা বলবে।
- হ্যা কি বলেন?
- এই দুইদিনে আমাকে কেমন মিস করলে। 
- আপনাকে মিস করার কি আছে?
- তুমি আমাকে মিস করো না। 
- না। 

তামান্নার মুখটা কালো হয়ে গেলো.........

( waiting for next part.......)  

Leave a Comment