ভালোবাসা দিন কতটা রঙিন    

পর্ব ১৮

লেখাMeherab Kabbo



প্রীতম প্রিয়ন্তিকে সাথে নিয়ে নদীর তীরে আসলো।  প্রিয়ন্তি নদীর তীরে পুরো থ হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলো।  প্রীতম মুচকি হাসছে। 

**
পিহু প্রীতমের মাকে বললো
- আন্টি আপু ভাইয়ারা গেলো কোথায়?  কাউকেই তো দেখছি না। 
-ওরা সবাই মিলে বের হয়েছে। 
- কোথায় গেছে। 
- বলে যায় নি। 
প্রীতমের মা মনে মনে বলছে জানি কই গেছে কিন্তু তোমাকে বলা যাবে না পিহু।  তুমি জানলে ভেজাল একটা লাগাবা। 
পিহু কিছুটা অভিমানের সুরে
- আমি কি কেউ না?  আমাকে না  বলে সবাই বের হলো।  আপু তো আমাকে কিছু বললো না।  আসুক আজ আপু। 
পিহু চলে গেলো।  প্রীতমের মা মনে মনে বলছে ও  ভালোই ভালোই বিদায় হলে বাঁচা যায়।

**
প্রিয়ন্তির মুখে হাসি ফুটে উঠলো।  প্রিয়ন্তির মুখের হাসি দেখে প্রীতম শান্তি পেলো।  প্রিয়ন্তির সামনে সুন্দর করে সাজানো একটা নৌকা।  বেলুন ফুল দিয়ে সুন্দর করে সাজানো। প্রিয়ন্তি দেখে মুগ্ধ হয়ে গেলো।  দৌড়ে নৌকার কাছে গেলো।  প্রীতম পিছন থেকে
- সাবধানে পড়ে যাবেন। 
প্রীতম এগিয়ে গেলো।  প্রীতম ভাই ভাবিদের আরেকটা বড় ট্রলারে উঠতে বললো।  সবাই উঠে গেলো।  প্রীতম নৌকার উপর উঠে প্রিয়ন্তির দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়ে
- আসুন।
- না।  আমি একা উঠতে পারবো। 
- নৌকা দুললে পড়ে যাবেন সোজা নদীতে।  তাই হাত ধরে উঠে আসুন। 

প্রিয়ন্তি প্রীতমের হাত ধরে নৌকার উপর উঠতে নৌকা দুলতে লাগলো।  আরেক হাত দিয়ে প্রীতমকে ধরলো।  প্রীতম বললো
- এতো ভয় পাচ্ছেন কেন?
- দুলছে কেন এতো?
- নড়ছেন তো তাই৷ 
- মাঝি কই।
- মাঝি তো আমি নিজেই। 
- আপনি পারেন।
- হ্যা। 
- ডুবে যাবে না তো।
- না। 
প্রিয়ন্তিকে নৌকার উপর বসালো।  প্রীতম বৈঠা নিয়ে নৌকা চালাতে শুরু করলো।  প্রিয়ন্তি অনেক বেশি খুশি।  নদী বিলাস করতে আসছে।  প্রীতমের ভাই ভাবিরা সবাই অনেক খুশি।  তারা সবাই এক সাথে নৌকা বিলাসে আসছে এই প্রথম।  প্রীতমের ভাবি ভাইদের খোঁচা মেরে
- ভাবছিলাম প্রীতম আন রোমান্টিক কিন্তু এখন দেখছি তোমরা আন রোমান্টিক।  কত সুন্দর করে বউ কে নৌকায় তুলে নদী বিলাস করছে। 
- আমরা তো কতো পারি তাই না।
আরকে ভাবি বললো
- সময় আছে নাকি তোমাদের।
আরেক জন বললো
- থাক বাবা। এতো নদী বিলাস করতে এসে যদি ডুবে যায়। 
ভাই একজন বললো
- তোমার মুখে যতো ফালতু কথা। 
মুখটা বাকিয়ে
- যখন ডুববে তখন বুঝবা। 
- তোমার মুখে কি ভালো কথা আসে না। 
ভাবি একজন বললো
- হয়েছে তোমরা এখন নিজেদের ভেতর ঝগড়া করো না।  আসো আমরা ছবি তুলি।


এদিকে মিমি রাজকে বললো
- ও বাসা থেকে কেউ কিছু বলছে তোমাকে। 
- হ্যা।  প্রীতম বলেছে।  আমাদের যত লোক আছে সবাইকে জেনো নিয়ে যায়।
- বাবাকে বলছো। 
- না।  তুমি যেয়ে বলো।  লোক বেশি হলে সমস্যা নেই।
- আচ্ছা একটা বলো তো
- কি?
- তুমি প্রীতমের খোঁজ পেলে কি ভাবে?
- আমি চায়ের দোকানে চা খাচ্ছিলাম।  তখন

কল্পনা

প্রীতমের বাবা আমাকে বললো
- তোমার নাম কি রাজ?
- হ্যা।  আপনি কে?
- আমাকে তুমি চিনবে না। তোমার সাথে একটা কথা ছিলো পাশে আসলে ভালো হয়। 
রাজ পাশে গেলে প্রীতমের বাবা বললো
- তোমার নাকি একটা ডিভোর্সি শালীকা আছে।  বিয়ে কি দিছো অন্য জায়গায়?
রাজ অবাক হয়ে
- না।  আপনি জানলেন কি ভাবে?
- আমি খোঁজ নিয়ে দেখিছি।  আমি চাচ্ছিলাম তোমার শালিকাকে আমার ছেলের বউ করে নিয়ে যাবো। 
রাজ রীতিমতো হা হয়ে গেলো।  রাজ কিছু বলতে যাবে তখন  প্রীতমের বাবা বললো
- তুমি ভালোভাবে আমাদের খোঁজ খবর নিয়ে তাড়াতাড়ি জানাইয়ো।  তুমি বাসায় কথা বলতে পারো৷ 
প্রীতমের বাবা একটা কাগজে ঠিকানা লিখে দিয়ে চলে গেলো। 

বর্তমান
মিমি রাজকে বললো
- তুমি খোঁজ খবর নিয়ে তারপর আমাকে বলছো। 
- হ্যা ।  আমার ও প্রীতমকে অনেক পছন্দ হয়ে গেলো।  প্রিয়ন্তির সাথে ভালো মানাইছে। 
- হ্যা।  তবে
- তবে কি?
- ও ওর অতীত ভূলে নতুন করে যদি স্বপ্ন সাজায়। 
- এক সময় সব ঠিক হয়ে যাবে।  প্রীতম ওর অতীত সব ভূলিয়ে দিবে। 
- তাই জেনো হয়। 
ভালোবাসা দিন কতটা রঙিন পর্ব ১৮    


**
রিয়া অভির সাথে ঘরতে বের হয়েছে।  রিয়ার পরিচিত সবার সাথে অভিকে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে।  হবু বর হিসেবে।  অভি রিয়াকে বললো
- বিয়ের আগে সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছো।  শেষে যদি বিয়ে টা না হয় তখন। 
রিয়া চোখ পাকিয়ে অভির দিকে তাকিয়ে
- কি বললা বুঝি নি?
- বলছি আমাদের বিয়ে টা না হয় তখন।
রিয়া রেগে যেয়ে
- কুত্তা তোর আরেকটারে বিয়ে করার শখ আছে তাই আমাকে বিয়ে করবি না।  তোর আরেকটা আছে। 
অভি মুচকি হেসে
- আরে আমি ওটা বলিনি।
- কি বলছিস তুই।  আমি কি বুঝি না কিছু।  তোর আরেকটা কে আছে বল।
অভি মাথায় হাত দিয়ে চুল চুলকিয়ে বিরবির করে বলছে
- এই রে মজা করতে যেয়ে তো বিপদ ডেকে আনলাম।  আমি জেনে শুনে আবার। 
রিয়া অভির দিক রাগি লুকে তাকিয়ে আছে।  অভিকে জেনো খেয়ে ফেলবে।  রিয়া দাঁত খিটিমিটি দিয়ে
- বল তোর কোনটারে বিয়ে করবি যে তার জন্য আমাদের বিয়ে হবে না।
- আরে বাবু তুমি বুঝতাছো না।  আমি ঐটা বলিনি।
- তোর বাবুর গুষ্টিরে আমি কিলায়।  তোর হাত পা ভেঙ্গে দিবো আজ দেখবো তুই আমারে রেখে আর কোনটারে বিয়ে করতে পারিস। 

অভি দিলো দৌড়।  রিয়া বললো
- দৌড়াবি না একদম।  দাড়া বলছি। 

***
প্রীতম নৌকা চালিয়ে বেশ দূরে চলে আসছে।  প্রিয়ন্তি চারপাশ দেখছে।  হঠাৎ করে নৌকায় পানি উঠতে শুরু করে।  প্রিয়ন্তি এটা দেখে দৌড়ে যেয়ে প্রীতমকে জরিয়ে ধরে।  সাথে সাথে নৌকাটা তলিয়ে যায় নদীতে........

(Waiting for next part.....)

কি হবে এখন প্রীতম প্রিয়ন্তির।  ওরা কি মারা যাবে নদীতে নাকি বেঁচে যাবে।  নৌকায় পানি উঠে তলিয়ে গেলো কেন?

প্রশ্ন থাকলো আপনাদের কাছে।  নেক্সট নাইচ না বলে উত্তর টা করেন..... 

Leave a Comment