ভালোবাসা দিন কতটা রঙিন
পর্ব ২৯
লেখা: Meherab Kabbo
প্রিয়ন্তি রান্না শেষে ঘরে এসে কোথা ও প্রীতমকে দেখলো না। প্রিয়ন্তি সামনের ঘরে এসে
- মা ওনাকে তো দেখছি না।
- কাকে প্রীতম কে?
- হ্যা।
- ও তো কাজের জন্য সিংগাপুর গেছে।
- ও।
প্রিয়ন্তি মনটা খারাপ করে রুমে চলে আসলো। ওকে একটু বলে গেলো না। একটি বার বলে গেলে তো পারতো।
৩ দিন পর
প্রিয়ন্তি রুমের ভেতর বসে গভীর চিন্তায় পড়ে গেছে। প্রীতম গেলো অথচ প্রিয়ন্তির খোঁজখবর নেয় নি এই ক দিনে। প্রিয়ন্তি মনে মনে প্রীতমকে অনেক কিছু বলতে থাকে। প্রীতম কাজ টা ঠিক করে নি।
একদিন
খাবার টেবিলে বসে খাবার মুখে নিলো। প্রীতমের মা বাবা একে অপরের দিকে তাকিয়ে পড়লো। মুখ থেকে খাবার গুলো বের করে ফেললো। প্রিয়ন্তি অবাক হয়ে
- কি হয়েছে মা?
- এতো নুন দেয় কেউ তরকারি তে।
প্রিয়ন্তি অবাক হয়ে
- কই। ঠিক থাক মতই দিছি তো।
- খেয়ে দেখো।
প্রিয়ন্তি খাবার তুলে মুখে তুলে নিলো। আসলেই নুন হয়েছে। প্রীতমের বাবা বললো
- হয়তো ভূল করে বেশি করে পড়ছে। বউ মা কষ্ট করে ডিম ভেজে এনো।
- ঠিক আছে।
প্রিয়ন্তি রান্না ঘরে চলে গেলো।
প্রীতমের বাবা প্রীতমের মার দিকে চেয়ে
- প্রিয়ন্তির মন খারাপ। কিছু একটা নিয়ে চিন্তিত। না হলে তো তরকারি এতো খারাপ হতো না।
- তোমার ছেলের জন্যই তো মেয়েটা এতো চিন্তিত।
- কেন কি করছে?
- সিঙ্গাপুর গেলো একটা বার ও তো ফোন করলো না। আমাদের কি চিন্তা হয় না?
- প্রীতম আমাদের উপর রাগ করছে।
প্রিয়ন্তি ডিম ভাঁজছে আর ভাবছে তরকারি তো ঠিক মতো ছিলো। নুন আসলো কই থেকে৷ এতোটা পরিমান যে খাওয়ার মতো না। আমি তো সব কিছু ঠিক ঠাক মতো করেছি। রেখে ও গেছি। এর ভেতর নুন আসলো কই থেকেন৷
প্রিয়ন্তি ডিম ভেজে নিয়ে গেলো। সবাই খেলো।
রাতে প্রিয়ন্তি মন খারাপ করে ফোনের দিকে চেয়ে বসে আছে। প্রীতম কল দিবে। কিন্তু না প্রীতমের কোনো কল আসেনি। প্রিয়ন্তি প্রীতমের নাম্বারে কল দিলো কিন্তু নাম্বার তো বন্ধ। কিভাবে খোঁজ নিবে প্রীতমের। কোন কিছু হয়নি তো। প্রিয়ন্তির ভাবনা ছেদ করে দিলো পিহুর কলে। প্রিয়ন্তি কলটা রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে পিহু হাসি খুশি হয়ে
- এই জানো প্রীতম আমাকে কল করেছিলো। আমাদের বিয়ের মার্কেট করবে। আমার একটা একটা লেহেঙ্গা কিনছে।
প্রিয়ন্তি পিহুর কথায় অবাক হয়ে গেলো। চুপ করে রইলো ্।। পিহু বললো
- ও খুব তাড়াতাড়ি আসছে৷ কি করবো তুমি বলে দাও? আমি বিয়ে করতো না প্রীতম কে?
প্রিয়ন্তি একটা দীর্ঘ শ্বাস ফেলে
- তুমি ওকে বিয়ে কইরো৷ ও আসার আগে আমি চলে যাবো। তোমরা শান্তিতে থেকো।
পিহু ন্যাকামি করে
- না আমার জন্য তুমি কষ্ট পাও এটা আমি চাই না। আমি ও তো একটা মেয়ে বুঝতে পারছি তোমার মনের অবস্থা।
- আমার কপালে যেটা আছে তাই হবে। আমি চায় না অশান্তি।
প্রিয়ন্তি ফোনটা কেটে দিয়ে কান্না করে দিলো৷
পরেরদিন
দুপুরে খাবার খেতে বসে প্রীতমের মা চিল্লিয়ে উঠলো
- প্রিয়ন্তি
প্রিয়ন্তি দৌড়ে এসে
- কি হয়েছে মা?
মা রাগি ভাবে
- কি এটা? আজকাল মনটা কই রাখছো। আজ নুন বেশি কাল ঝাল বেশি। এগুলো কি বলা যায়।
প্রিয়ন্তি মাথা নিচু করে ফেলে। প্রীতমের বাবা বললো
-আহা বকছো কেন তুমি? হতেই পারে ভূল।
প্রীতমের মা চুপ করে গেলেন। প্রিয়ন্তির চোখ বেয়ে পানি মাটিতে টপ টপ করে পড়তে লাগলো।
এভাবে চলতে লাগলো আরো ৫ দিন। কখনো লবন হয়না। কখনো নুনে তিতা। আবার ঝালে ভরা। কেমন জেনো সবাই বিরক্ত হয়ে গেলো।
একদিন
প্রীতমের মা প্রিয়ন্তি হাকিয়ে ডাক দিলো। প্রিয়ন্তি দৌড়ে চলে আসলো। প্রীতমের মা প্রিয়ন্তির দিকে রাগি ভাবে তাকিয়ে
- তোমার কি সংসার করে খাওয়ার কোনো ইচ্ছে নেই। যদি ইচ্ছে না থাকে বলে দাও। রোজ রোজ এতো কাহিনি ভালো লাগে না।
![]() |
| ভালোবাসা দিন কতটা রঙিন পর্ব ২৯ |
প্রিয়ন্তি অবাক হয়ে
- কি করেছি আমি?
প্রীতমের মা রাগি ভাবে তরকারীর ঢাকনা উঁচু করলো৷ হাত দিয়ে দেখিয়ে দিলো। প্রিয়ন্তি পুরো থ হয়ে গেলো। প্রীতমের মা প্রিয়ন্তিকে বকতে লাগলো৷ তখনি পিহু আসলো। প্রিয়ন্তি গায়ে কথা গুলো লেগে যায়। প্রিয়ন্তি নিজের রাগ কন্ট্রোল করতে না পেরে রাগের মাথায় বললো
- আপনারা মা ছেলে মিলে আমাকে তাড়ানোর জন্য এতো নাটক করছেন। আপনাদের যদি কিছু বলার থাকে বলুন। তবে এই নাটক বন্ধ করুন। দরকার পড়লে আমি বাসা থেকে বেরিয়ে যাবো৷ আপনারা যেটা চান বলুন। আমি সবকিছুর জন্য প্রস্তুত ।
প্রিয়ন্তি কথা গুলো বলে চলে গেলো রুমে। পিহু বললো
- আন্টি বলেছিলাম না মেয়েটা বেয়াদব৷ ভালো না।
প্রীতমের মা রেগে যেয়ে
- ওর বেয়াদবি শেষ করে দিবো।
পিহু মুচকি হেসে
- আমার সাথে বিয়েটা দিয়ে দিলে তো আর এতো কিছু হতো না ।
- আমার ছেলেকে দরকার পড়লে কেটে নদীতে ভাসিয়ে দিতাম তবু ও তোর মতো মেয়েকে বিয়ে করতে দিতাম না৷
পিহু আরো অনেক কিছু বললো
প্রীতমের মা সবটা শুনলো। পিহু চলে গেলো।
প্রিয়ন্তি ঘরে যেয়ে দরজা আটকিয়ে দিয়ে কান্না করতে লাগলো। প্রিয়ন্তির ফোনে পিহু কল দিলো। প্রিয়ন্তি ফোনটা রিসিভ করতেই পিহু বললো
- বোন তুই একটু সাবধানে থাকিস। প্রীতমের মা তোকে মারার প্ল্যান করছে। তুই সাবধানে থাকিস । তোকে এই বাসা থেকে বের করার জন্য কতো প্ল্যান করলো। তুই যখন সবটা জেনে গেলি৷ তোকে এখন এরা কেউ বাচতে দিবে না৷
পিহু ফোনটা কেটে দিলো। প্রিয়ন্তি ফোনটা পাশে রেখে ভাবছে কি করবে এখন? এখান থেকে কিভাবে বাঁচবে । এরা সবাই তো আমাকে মেরে ফেলবে। কার সাহায্য নিবো৷ আমাকে কিছু একটা করতে হবে। আমি এই পরিবারের প্রীতম আর প্রীতমের মা কে শাস্তি দিবোই। তাতে আমার মরতে হলে মরবো৷। কিন্তু আর কারো জীবনকে নিয়ে খেলতে দিবো না।
পরের দিন
সবকিছু স্বাভাবিক ছিলো। প্রীতমের মা রান্না করছে নিজেই। প্রিয়ন্তি ভয়তে রুম থেকে বের হচ্ছে না। প্রীতমের মা রান্না শেষে খাবার নিয়ে প্রিয়ন্তির রুমে গেলো আর বললো
- যত পোড়া কপাল আমার। একটু শান্তি নেই।
খাবার রেখে চলে গেলো৷ প্রিয়ন্তি খাবার খাওয়ার আগে দিয়ে ভাবছে খাবারে বিষ দেয় নি তো আমার মারার জন্য। পিহু তো আমাকে সব সত্যি সত্যি কথা বলছে৷ ও যদি আমার পাশে না থাকতো তা না হলে অনেক আগেই আমাকে মেরে ফেলতো এরা৷ আমার কপাল টাই এতোটা খারাপ।
আজ প্রীতম দেশে ফিরবে। প্রীতমের মা প্রিয়নৃতির রুমে ঢুকে
- বউ মা রেডি হয়ে নাও৷ প্রীতমকে রিসিভ করতে যাবো৷
- আমি যাবো না।।
-কি বলো? ছেলেটা আমাদের উপর অনেক রাগ করে আছে। না গেলে তো ওর রাগ ভাঙ্গানো যাবে না। তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নাও।
প্রীতমের মা বেরিয়ে গেলো। প্রিয়ন্তি রেডি হয়ে নিলো৷ প্রিয়ন্তির মন টানছে না বের হওয়ার। বলা তো যায় না আজকে আমার শেষ দিন। এরা আমাকে আর বাঁচতে দিবে না। আর হয়তো এই বাসায় আসা হবে না। এরা আমাকে মিথ্যা বলে নিয়ে যাচ্ছে।
রাত ১০ টা
হাসপাতালের বেডের পাশে পিহুর হাত ধরে বসে আছে প্রিয়ন্তি।
প্রিয়ন্তি উঠে দাঁড়িয়ে শয়তানি একটা হাসি দিয়ে বেড থেকে বের হলো............
(waiting for next part.........)

Leave a Comment