তুমি আমার এক অন্যরকম শান্তি


পর্ব   ২২

লেখাMeherab Kabbo


পরেরদিন
দুপুরে মেহেরাব খাওয়া দাওয়া করে কোচিং এর উদ্দেশ্যে বের হলো।  মিহু এসে মিথিলা কে বললো
- আপু কখন যাবা। 
- কিছুক্ষণ পর। 
জান্নাত এসে
- আমি ও তোমাদের সাথে যাবো। 
- মেয়ে নিয়ে যাবা। 
- না।  ওর বাবার কাছে রেখে যাবো। 
- রাতুল জানে। 
- হ্যা। 
- ঠিক আছে।  টাইম মতো বের হবো। 

মেহেরাব কোচিং এ ঢুকে বেঞ্চে বসলো।  আশ পাশ তাকাচ্ছে কিন্তু তামান্না এখনো আসেনি৷  ক্লাসে ভাইয়া চলে আসলো।  ক্লাসে এখনো অনেকে আসেনি।  ভাইয়া সবাইকে পড়া বের করে দেখতে বললো।  মেহেরাব মনে মনে ভাবছে রাগ করে কি আসছে না৷ না অন্য কোনো কারণ৷ না আসলে না আসুক।  ১৫ মিনিট পর ক্লাসের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে
- ভাইয়া আসবো৷ 
- তামান্না এতো দেরি করলা কেন?
- আজ বের হতে দেরি হয়ে গেছে৷  সরি ভাইয়া। 
- ঠিক আছে যেয়ে বসো। 

তামান্না ক্লাসে ঢুকলো।  মেহেরাব তামান্নার দিকে তাকালো।  তামান্না সোজা যেয়ে বেঞ্চে বসলো।  মেহেরাব বইয়ের দিকে নজর দিলো।  তামান্না বই না বের করে মেহেরাবের দিকে আড় চোখে তাকাচ্ছে।  চোখে মুখে হাসি ভরা।  লজ্জা ভয় দুটোই কাজ করছে মনে।  ভাইয়া তামান্নার দিকে তাকিয়ে
- তামান্না তোমাকে কি বসে থাকতে বলেছি।  বই বের করে পড়া দেখো না কেন?
- সরি সরি ভাইয়া।  বুঝতে পারিনি। 
তামান্না বই বের করছে আর আড় চোখে মেহেরাবকে দেখছে।  তামান্না বই বের করে পড়ায় জায়গা বের করতে লাগলো।  তখন মেহেরাব তামান্নার দিকে আড় চোখে তাকালো। মেয়েটা রাগ টা বেশি করছে।  ছুটির পর হয়তো বেশি রাগ ও করতে পারে না হয় রাগ কমে ও যেতে পারে। 


**
বিকাল ৫ টা
শিপন রিপন লিমন এসে কোচিং এর কিছুটা দূরে বসে আছে।  শিপন বললো
- আজকে ওর সাথে থাকা ছেলেটাকে ধরতে হবে। 
- না ওকে ধরবো না।  মেয়েটাকে গিফ্ট দিবো৷  দেখি ও কত দিন ঐ ছেলের সাথে রিলেশন করে। 
- আমি বলতেছিলাম কি যখনি মেয়েটা গিফ্ট টা ধরবে তখন তোদের ছবি তুলবো।  ছবিগুলো ছেলেটাকে দেখিয়ে দিবো।  ব্যাস শুরু হবে ঝগড়া।  এক পর্যায় ব্রেকআপ।  মেয়েটা তোর কাছে চলে আসবে। 
- আইডিয়া টা মন্দ বলিসনি। 
- ছেলেটাকে যা বোঝানোর আমি বোঝাবো।  তোরা দুজন মেয়েটার সাথে কথা বলবি ওকে। 
- ঠিক আছে। 


**
মিথিলা বাইরে এসে
- কই রে তোরা বের হ।  টাইম কতো হয়েছে দেখছিস। 
- হয়ে গেছে আসছি। 
জান্নাত মিহু বের হয়ে আসলো।  তিনজনে একটা গাড়িতে উঠে চলে আসলো। 
তুমি আমার এক অন্যরকম শান্তি পর্ব ২২  




কোচিং ছুটি হয়ে গেলো।  মেহেরাব বসে আছে।  তামান্না ব্যাগ নিয়ে বের হলো।  মেহেরাব তামান্নার পিছনে বের হলো।  তামান্না লক্ষ্য করলো।  তামান্নার ভেতর লজ্জা ভয় দুটোই কাজ করছে।  তাই তো কথা বলতে পারছে না মেহেরাবের সাথে।  কি বলবে  কি করবে বুঝতে পারছে।  তামান্না কিছুদূর যেতেই মেহেরাব তামান্নাকে ডাক দিলো।  তামান্না দাঁড়িয়ে পড়লো। 


**
- এই রিপন ঐ দেখ আসছে। 
- আসতে দে। 
- আমি যেয়ে ছেলেটাকে পাশে নিয়ে যায়।
- এখান থেকে না। সামনের মোড় থেকে। 

জান্নাত বললো
- ভাবি ঐ যে মেহেরাব। 
মিথিলা মিহু আর জান্নাতকে নিয়ে গাছের আড়ালে লুকিয়ে পড়ে
- এখানে দাঁড়িয়ে দেখা যাবে৷  সামনে গেলে ও দেখে ফেলবে। 
- হ্যা তাই ভালো। 

**
মেহেরাব তামান্নার সামনে এসে দাঁড়ালো ।  চারপাশটা দেখলো কেউ নেই।  রাস্তা ফাঁকা।  মেহেরাব বললো
- আপনাকে একটা কথা বলার ছিলো
তামান্না মাথা নিচু করে
- জানি কি বলবে?
মেহেরাব অবাক হয়ে
- কিভাবে জানেন৷  আমি তো আপনাকে বলিনি তো যে কি বলবো। 
তামান্না মুচকি হেসে
- না মানে কি বলবা বলো৷

মেহেরাব ব্যাগ থেকে একটা প্যাকেট বের করে তামান্নার দিকে এগিয়ে দিয়ে
- এটা আপনার জন্য। 
- কি এটা?
- নিয়ে তো দেখুন। 

তামান্না প্যাকেটা নিলো

*★
জান্নাত বললো
- দেখছো ভাবি৷ আমার অনুমানই ঠিক।  বলেছিলাম না৷
মিথিলা বললো
- আমি তো পুরো শকড্
মিহু বললো
- কিভাবে পারলো মেহেরাব আমাদেরকে না জানিয়ে। 
- গতকাল ওর ব্যাগ চেক করা উচিত ছিলো । 
- ভূল হয়ে গেছে। 

**
তামান্না প্যাকেটা খুলে দেখে পুরো অবাক হয়ে গেলো৷  প্যাকেটের ভেতর গতকালকের সেই চুড়ি গুলো।  খুশিতে তামান্না মেহেরাবকে জরিয়ে ধরে  ছেড়ে দিলো
মেহেরাব পুরো স্তব্ধ হয়ে গেলো৷  তামান্না খুশিতে বললো
- ধন্যবাদ। 

রিপন শিপন লিমন এমন দৃশ্য দেখে থ হয়ে গেলো।  মিহু মিথিলা জান্নাত এক অপরের দিকে হা হয়ে দেখছে৷  কাজটা হলো কি। 
তামান্না খুশিতে
- এতোগুলো ধন্যবাদ তোমাকে।  এতোগুলো৷

একটা গাড়ি এসে থামলো তামান্না গাড়িতে উঠে চলে গেলো।  মেহেরাব স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।  তামান্না করলো টা কি আচমকা।   শিপন রিপনকে বললো
- দেখছিস ওদের ভালোবাসাটা কত গভীর।  রাস্তার উপর জরিয়ে ধরলো । 
- না এগুলো দেখার মতো না। 
- এগুলো মেনে নেওয়া যায় না।  খুব খারাপ।


মিথিলা বললো
- চোখে কি ভূল কিছু দেখলাম?
- স্বপ্ন দেখছি না তো আমরা। 
- আমার ও তাই মনে হচ্ছে।  কেমন জেনো সব গুলিয়ে গেলো। 


মেহেরাব  আনমনে হেটে যাচ্ছে।  লিমন ডাক দিলো।  মেহেরাব এগিয়ে যেয়ে
- জ্বী ভাইয়া বলেন।
- তোমার সাথে মেয়েটা কে?
- ও আমার বন্ধু।  কেন?
- বন্ধু।  তোমার গালফ্রেন্ড না। 
- ও তো আমার মেয়েবন্ধু।  কেন?
- কিছু না যাও তুমি৷ 

মেহেরাব চলে গেলো৷ শিপন বললো
- এটা কোনো কথা।  গালফ্রেন্ড কে বন্ধু বলছে। 
- বন্ধু হলে কি রাস্তার মাঝখানে এভাবে কেউ জরিয়ে ধরে। 
- কোনো রহস্য আছে এদের ভেতর। 
রিপন বাইক থেকে নেমে দাঁড়িয়ে
- যতই রহস্য থাকুক মেয়েটাকে আমার করে নিবো৷

মেহেরাব বাসায় এসে ঘরে ঢুকে সোজা শুয়ে পড়লো।  মেহেরাবের মা ব্যাপারটা লক্ষ্য করলো৷ ঘরের কাছে এসে
- কি রে এই সন্ধ্যা বেলা এসে শুয়ে পড়লি কেন?  শরীর খারাপ তোর। 
- না মা।  ঘুম পাচ্ছে খুব। 
- সন্ধ্যাটা ঘুরুক ঘুমাস।  উঠ। 
- তুমি যাও তো।

মা চলে আসলো। মেহেরাব চোখ বুঝলো  কি ঘটে গেলো এটা৷ এতোটা দূর্বল হয়ে গেলো মন৷  কে ও যার এক স্পর্শে স্তব্ধ হয়ে গেলাম।  কেন এমন অদ্ভুত ফিল হচ্ছে।  হার্টবিট তো কম্পন ধরে গেলো৷ শান্তি লাগছে না।  যখনি জরিয়ে ধরলো বুকের ভেতরের ফিলটা বেড়ে গেলো৷ কেমন এক অদ্ভুত শান্তি লাগছিলো।  এমনটা ফিল আমি আগে কখনো করেনি৷ না মেধাকে করেছি৷ যতটা তামান্নার জন্য হচ্ছে।  মেহেরাব ভাবতে লাগলো চোখ বুঝে৷


মিথিলা বাসায় ঢুকে
- মা ও মা কই তুমি
মিহু বললো
- আপু মা কে এই লজ্জার কথা বলো না।  আমাদের ইজ্জত ফালুদা হয়ে যাবে৷ 
জান্নাত বললো
- হ্যা ভাবি৷ 

মা বেরিয়ে আসলো
- কি হয়েছে এভাবে ডাকছিস কেন?
- মেহেরাব কি বাসায় ফিরছে।
- হ্যা কেন ও আবার কি করলো?
- কই ও
- ঘরে ঘুমাচ্ছে । 

মিহু মিথিলা জান্নাত একে অপরের দিকে তাকিয়ে পড়ে
-এসে ঘুমাচ্ছে। 
তিন জনে লজ্জা পেলো।  আবার হাসছে ও।  মা অবাক হয়ে
- কি হয়েছে বলবি তোরা?
- চলো ওর ঘরে সব জানতে পারবে।  ওর ঘুম পরাচ্ছি

মিথিলা মিহু জান্নার ঘরে ঢুকলো মা ওদের পিছনে এসে
- ওর মনে হয় শরীর খারাপ তাই ঘুমাচ্ছে এখন ডাকিস না। 
- শরীর খারাপ না কি খারাপ আমরা তো জানি ?
জান্নাত বললো
- ভাবি
মিথিলা জিভে কামড় দিলো। 


মেহেরাব চোখটা মেলে দেখলো মাথার কাছে মিথিলা বসা। ডান পাশে মিহু।  বাম পাশে জান্নাতু৷  মা পাশে দাড়ানো।  সামনে রাশেদ সজীব দুজনে দাঁড়িয়ে আছে।  মেহেরাব অবাক হয়ে গেলো...........

( waiting for next part.........) 

Happy ending ☺


Leave a Comment