লেডি কুইন ( চ্যাপ্টার ২)
পর্ব ৩৬ (শেষ দ্বিতীয়াংশ)
অন্তিম পর্ব
লেখা: Meherab Kabbo
ডায়না চোখ বড় বড় করে দিয়ে থ ম খেয়ে
- মে মে মে মেহেরাব তুই।
মেহেরাব মুচকি হাসি দিয়ে
- হ্যা আমি।
- তুই বেঁচে আছিস।
- কেন বিশ্বাস হচ্ছে না মাম্মি?
- তোকে তো আমি সেদিন
- সামন্য একটু ভূল করছিলা। আর তারই জন্য আমি বেঁচে গেছি। আর তোমার মতো কালপিট কে চিনতে পেরেছি। তিথির বাবার ম্যাসেজ টুকু পেয়েই আমি সরে যায় কিন্তু আরোহী।
-আরোহী শেষ ।
- তুমি একটি বার আমাকে বলতা তোমার নামটা ফুটাতে চাও। আমি সব দিয়ে দিতাম। কিন্তু তুমি আমাকে এভাবে মেরে ফেললা।
ডায়না জোরে হেসে উঠে
- তুই কি ভেবেছিস তোর কাছে ভিক্ষা চাইবো কখনো না। তুই বেঁচে গেছিস এখন তোকে আমি নিজ হাতে মারবো।
মেহেরাব জোরে হেসে উঠলো । ডালিয়া চৌধুরী বললো
- বুবু আমি ওকে মেরে দিচ্ছি এখন
মেহেরাবের চোখ লাল বর্ণের আকৃতি ধারণ করছে। মেহেরাব পিস্তল বের করে ডালিয়া চৌধুরী কপালে গুলি চালিয়ে দেয়। ডালিয়া চৌধুরী মাটিতে লুটিয়ে পড়ে । ডায়না যেয়ে ডালিয়া চৌধুরীকে ধরে
- ওকে মেরে ফেলো। গুলি চালাও।
ডায়নার লোকগুলো বন্দুক ফেলে দিয়ে মাটিতে হাটু গেঁড়ে বসে পড়লো। মেহেরাব অট্ট হাসিতে হেসে উঠলো। ডায়না পুরো অবাক হয়ে গেলো। মেহেরাব ডায়নার দিকে বন্দুক তাক করলো। ডায়না বললো
- মেহেরাব তুই ভূল করছিস। আমি তোর মা হই। তুই আমাকে মারতি পারবি বাবা।
মেহেরাব মাথাটা ঝাঁকিয়ে
- কেন ইমোশনাল আঘাত করো মাম্মি। আমাকে মারতে একটু ও হাত কাঁপলো না ।
- দেখ বাবা আমার ভূল হয়ে গেছে। তুই আমাকে মাফ করে দে। মা তে তো ভূল করতেই পারে। আমাকে মারিস না।
মেহেরাব হেসে উঠলো। ডায়না বললো
- দেখ বাবা এমন করিস না। আমাকে ছেড়ে দে। আমি ভালো হয়ে যাবো।
- আচ্ছা ভালো হয়ে যাবা। ঠিক আছে যাও ছেড়ে দিলাম।
ডায়না উঠে দাঁড়ায়। মেহেরাব পিস্তল নামিয়ে নেয়। আয়ান বললো
- বস ওকে বিশ্বাস করেন না। ও গিরগিরি আপনার ক্ষতি করে দিবে।
আকবর বললো
- মেহেরাব কি করছিস তুই। ওকে ছেড়ে দিলে তুই বাঁচতে পারবি। ও তোকে আবার মারার প্ল্যান করবে। ভূল করিস না।
মেহেরাব বসে
- আর কি মারবে। এই বুকে তো অনেক আগেই গুলি চালিয়ে দিছে। আমি তো সেদিনই মরে গেছি
জেসিকা বললো
- মেহেরাব তুমি ভূল করছো। আর ভূ ল করো না।
মেহেরাব সবার বাঁধন খুলে দেয়। তিথি কোনরকম উঠে হেলিয়ে
- ওকে আমি মারবো আর কেউ না মারলে ও।
ডায়না ভ্রু কুচকে
- তুই মারবি আমাকে৷ হাহাহাহা।
- তুই আমার বাবাকে মেরেছিস। আমি এর প্রতিশোধ নিবো৷
তিথি পিস্তল খোঁজে কিন্তু পায় না। মেহেরাব বললো
- তিথি ওনাকে ছেড়ে দাও। কি হবে মেরে আর?
ডায়না এবার জোরে হেসে উঠে
- এই মেহেরাব তুই কি ভেবেছিস কি? আমি তোর কাছে ভিক্ষা চাইছি। ভিক্ষা তো তুই চাইবি এখন। আশফা নিয়ে আয়।
আশফা আরো কিছু লোকজন মর্জিনা খান আর আশরাফ চৌধুরী কে ধরে নিয়ে আসলো। মাথায় পিস্তল ঠেকানো৷ লিমনকে টানতে টানতে নিয়ে আসছে। মেহেরাব পুরো হা হয়ে গেলো। আশফা রাগি দৃষ্টিতে তাকিয়ে
- কি ভেবেছিস মেহেরাব তুই? তুই আমার শুভ্রকে মেরে শান্তিতে থাকবি। বেচে থাকবি তুই। কখনো না। তোকে সহ তোর শাশুড়ী আর বাবাকে তোর লোকজন গুলোকে মেরে ফেলবো৷ কেউ বাঁচাতে পারবে না তোদের।
মেহেরাব বললো
- আশফা তুই আমার ওনাদের ছেড়ে দে।
ডায়না জোরে হেসে
- তোকে এমন ভাবে মারো তোকে দেখে সবাই ভয়তে কাঁপবে৷ রাজত্ব হবে আমার আর আশফার। তোর লোকগুলোকে বল চুপচাপ বসে থাকতে না হলে তোর বাবাকে আর শাশুড়ীকে মেরে ফেলবো৷
মেহেরাবের হাতের ইশারায় সবাই বসে পড়লো৷ পিছন থেকে আশফা হকি দিয়ে সজোরে মেহেরাবের পায়ে বারি মারে। মেহেরাব হাঁটু গেড়ে বসে পড়ে। সামনে থেকে ডায়না হাতের বাহুতে বারি মারে৷ মেহেরাব ব্যথায় ক্যাত করে উঠে। আকবর বললো
- মেহেরাব।
মেহেরাবকে দুজনে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে যাচ্ছে। মেহেরাব ব্যথায় ক্যাত করে উঠছে বার বার। সবার চোখে পানি। আশরাফ চৌধুরী বলে উঠলো
- ডায়না তুই আমার ছেলেকে ছেড়ে দে। আমাদের মেরে ফেল। আমার ছেলেকে মারিস না।
ডায়না হেসে উঠলো । রাগি তীক্ষ্ণ ভাবে তাকিয়ে
- কাউকে বাঁচতে দিবো না। আমার বুকের রত্নকে কেড়ে নিয়েছে তোর ছেলে। আমার যে রক্ত ভালো লাগে। আজকের পর থেকে সবসময় রক্তের বন্যা বয়ে যাবে।
![]() |
| লেডি কুইন চ্যাপ্টার ২ অন্তিম পর্ব |
বৃষ্টির পরিমাণ বেড়ে গেলো। মুখ থুবড়ে পড়ে গেলো মেহেরাব। মাথা বেয়ে রক্ত পড়ছে। কপালে রক্ত জমাট বেঁধে আছে। আশফা তিথির কাছে যেয়ে তিথির চুলের মুঠি ধরে
- তোর বাবার হত্যার প্রতিশোধ নিবি তাই না। নে এখন।
ডায়না এগিয়ে এসে
- তোর বাবার মতো তুই ও ওপরে চলে যা তিথি।
- মম আগে ওকে মারো ওর বাবার সামনে। ওকে মারলে সবাই মরবে।
- ঠিক বলেছিস।
ডায়না পা দিয়ে লাঠি মেরে মেহেরাবকে চিৎ করে ফেলে। ডায়না পিস্তল নিয়ে মেহেরাবের দিকে তাক করে তখনি আশরাফ চৌধুরী বললো
- আমার ছেলেকে মারিস না ডায়না। আমাকে মেরে ফেল।
মর্জিনা খান বললো
- ওকে ছেড়ে দাও। ও তোমার কিছু করে নি। আমরা চলে যাবো। তোমরা রাজত্ব করো। আমরা থাকবো না আর। অনেক দূরে চলে যাবো।
ডায়না হেসে উঠে
- কি দরকার এতো কষ্ট করার। এর থেকে একবারে উপরে চলে যাও।
ডায়না যখনি টিগ্যার চাপ দিতে যাবে তখনি একটা বাইক এসে সামনে দাঁড়িয়ে পড়লো। ডায়নার হাত থেকে পিস্তল টা কেড়ে নিলো। আরেকটা বাইক এসে আশরাফ চৌধুরী আর মর্জিনা খানের মাথায় বন্দুক ধরা লোকগুলোকে ডাক্কা মেরে ছিটকে ফেলে দেয়। কোমর থেকে পিস্তল বের লোকগুলোকে গুলি করে মেরে দেয়। সবাই থ হয়ে গেলো। বাইক থেকে নেমে আশরাফ চৌধুরী আর মর্জিনা খানের মাঝখানে দাঁড়িয়ে হেলমেট খুললো। আয়ান তিথি আকবর জেসি পুরো থ হয়ে গেলো। তিথি মুখ দিয়ে
- তা তা তাসনিম।
আয়ান বললো
- তাসনিম তুমি৷
তাসনিম মুচকি হাসি দিলো। আশফা ডায়না পুরো অবাক। তাহলে এ কে ডায়নার হাত থেকে পিস্তল কেড়ে নিয়ে তাক করে ধরে আছে। মেহেরাবের এক হাত ধরে উঠিয়ে নিলো। বাইক স্টান্ড করে মেহেরাবকে বাইকের উপর বসালো। ডায়না আশফা বলে উঠলো
- কে তুই?
এটা মেয়ে না ছেলে বোঝার কোনো উপায় নেয়। হেলমেট টা মাথা থেকে সরাতেই ডায়না আর আশফা পিছনে সরে যায়। মেহেরাব মুচকি হাসে। এ আর কেউ না আরোহী। মেহেরাব বলে উঠলো
- লেডি কুইন। আসল লেডি কুইন।
ডায়না বলে উঠলো
-এটা হতে পারে না।
পিছন থেকে তাসনিম আশফার মাঝায় হকি দিয়ে সজোরে বারি। আশফা চিৎকার দিয়ে বসে পড়ে। ডায়না পাশে তাকাতে তাসনিম ডায়নার পিঠের উপর বারি মারে। পিঠে ক্যাত করে শব্দ হলো। ডায়না মাটিতে বসে পড়লো৷ আরোহী ওদের সামনে বসে
- এতোটা বোকা তোরা। এই নাকি লেডি কুইন হবে৷
সবাই হেসে উঠলো৷ ডায়না বললো
- আমার ভূল হয়ে গেছে মাফ করে দাও আরোহী মা।
- মাফ তোদের করা যাবে না। তোদের উপযুক্ত শাস্তি তোরা পাবি।
তাসনিম একটা ব্যাগ দিলো। ব্যাগ থেকে আরোহী প্ল্যাস হাতুড়ি ব্লেড বের করলো। তাসনিম ওদের চেয়ারে বসালো সামনে টেবিল রাখলো। ডায়নার হাত টেবিলে রেখে প্ল্যাস দিয়ে নক গুলো উঠাতে লাগলো ডায়না চিৎকার দিতে লাগলো। এই চিৎকার কারো কানে লাগবে না আজ। হাতুড়ি দিয়ে প্রতিটা গিড়ায় গিড়ায় পিটালো। আশফাকে একই টা করলো। ডায়না সহ্য করতে না পেরে
- আর কষ্ট দিস না। মেরে ফেল। আর সহ্য হচ্ছে না।
আরোহী হেসে উঠে
- আজ থেকে লেডি কুইন নামে কোনো নাম থাকবে না শহরে। উঠে যাবে এই অভিশাপ নামক।
আরোহী তিথিকে ধরে এনে দাঁড় করিয়ে
- তোমার বাবা হত্যার প্রতিশোধ নাও।
তিথির হাতে পিস্তল ধরিয়ে দিলো। তিথি সাত পাঁচ না ভেবে গুলি চালিয়ে দেয়। মাটিতে পড়ে যায় ডায়না আর আশফা। আরোহী মুচকি হেসে সামলে নিয়ো বাকীটা।
সবাই গাড়িতে উঠে পড়লো। আকবর আর তিথি বাদে। মেহেরাব আরোহীর বাইকের পিছনে৷ আয়ান তাসনিমের বাইকে। একে একে সব গাড়ি চলে গেলো। গাড়ি যাওয়ার সাথে সাথে পুলিশ ডিবি মিডিয়ার গাড়ি এসে হাজির হয়। মি. রয় এসে
-স্যার ঠিক আসেন তো।
- হুম।
আয়ান তাসনিম কে জিঙ্গেস করলো
- তুমি এতোকিছু কিভাবে শিখলে। তোমার এ্যাকশন দেখে তো আমি অবাক।
- আরোহী আপুর থেকে সব শিখছি।
- এই ক দি নে কি ভাবে।
- ভালোবাসা জয় করতে পারলে সব পাওয়া যায় ওকে। চুপ করে জরিয়ে ধরে বসো। অনেক কষ্ট পেতে হলো।
- হুম এখন কষ্ট থেকে চিরতরে মুক্তি পেয়ে গেলাম।
আরোহীকে জরিয়ে ধরে আছে মেহেরাব। আরোহী বললো
- মানুষ এবার শান্তিতে থাকতে পারবে।
- হুম। নোংরা খেলা থেকে সবাই মুক্তি পেলো৷
- এসব জীবনে পা দেওয়ায় ভূল৷ না আছে শান্তি না আছে সুখ।
- হুম। এই জন্যই তো আমরা নতুন করে সংসার পাতাবো।
- তাই না।
- হুম। অনেক দূরে চলে যাবো। কেউ চিনতে পারবে না।
মিডিয়ার লোকজন এসে তিথি আর আকবরকে জিঙ্গেস করলো
- কিভাবে মারা হলে তাদের
তিথি মুচকি হেসে
- লেডি কুইন ডায়না আর ডালিয়া চৌধুরী। তাদের নোংরা খেলা থেকে চিরতরে বিদায় করে দিয়েছি। লেডি কুইন নাম চিরতরে মুছে দিছি। আর থাকবে না কোনো নোংরা খেলা।
- আপনারা কিভাবে জানতে পারলেন
আকবর বললো
- গোপন সূত্রের মাধ্যমে। মিশনে আমরা সফল। লেডি কুইন নাম চিরতরে মুছে দিছি।
মিডিয়ার লোকজন সংবাদ বলতে লাগলো বড়ো মাফিয়া লেডি কুইন ডিবির অফিসার ও পুলিশ অফিসারের হাতে নিহত হয়েছে। লেডি কুইন নামক ভয়ংকর নামটা তারা তুলে দিয়েছে।
সবাই সংবাদ শুনে খুব খুশি। লেডি কুইনের হাত থেকে সবাই মুক্তি পেলো। কাউকে ভয় নিয়ে বাচতে হবে না। স্বাধীন ভাবে চলতে পারবে। তিথি আর আকবরের প্রমোশন হয়েছে বড় র্যাংকে।
সমাপ্ত।।।
বিঃদ্রঃ গল্পটার সাথে বাস্তবের কোনো মিল নেই। গল্পটা কাল্পনিক। গল্প শুধুই গল্প, বাস্তব হয় না।
ধন্যবাদ প্রিয় পাঠক গনদের। অনেক অত্যচার করেছি আপনাদের গল্পটা নিয়ে। তার জন্য ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। আপনাদের ভালোবাসায় আমাকে সামনে এগোতে আগ্রহ করেছে। আপানারা সাপোর্ট না দিলে হয়তো আমি ঝরে যেতাম। সবার প্রতি ভালোবাসা অবিরাম রইলো। দোয়া করবেন, আপনাদের জন্য নতুন ভালো গল্প নিয়ে জেনো আসতে পারি।

Leave a Comment