লেডি কুইন ( চ্যাপ্টার ২)

পর্ব ৩৬

শেষ পর্ব (প্রথমাংশ)

 লেখা: Meherab Kabbo
 
তিথি হা হয়ে বললো
- ডায়না মা তুমি হাসছো কেন?
ডায়না তিথির চুলের মুঠি ধরে
- তোর জন্য আমার ছেলেকে হারাতে হয়েছে।  শুধুমাত্র তোর জন্য। 
তিথি অবাক হয়ে
- তোমার ছেলে কে?
চুলের মুঠি জোরে টান মেরে
- শুভ্র আমার ছেলে।  আমার কলিজার ছেলেটাকে এভাবে কেড়ে নিলি কেন?  কি দোষ করছিলো বল? 
আয়ান মাথা দুলাতে দুলাতে
- তুই যখন প্ল্যান করে দুটো মানুষের প্রাণ নিয়েছিলি তখন ওদের মা বাবার অবস্থা কি ছিলো।  এখন বোঝ ছেলে হারানোর যন্ত্রণা। 
ডায়না আয়ানের কাছে যেয়ে আয়ানের মুখ চেপে ধরে দাঁতের সাথে দাঁত লাগিয়ে
- তুই কে?  সত্যি করে বল।  তোর সাথে আর কে আছে?
আয়ান হাসতে পাচ্ছে না তবু ও হেসে দিলো।  ডায়না আয়ানের গলা চেপে ধরে
- হাসছিস তুই।  তোকে আজ মেরে ফেলবো। 
আয়ানের গলা চেপে ধরাতে আয়ানের জীব বের হয়ে আসার মতো। এখনি দম বন্ধ হয়ে মারা যাবে।  ডালিয়া চৌধুরী ডায়নাকে সরিয়ে দিয়ে
- ওকে যদি এখনি মেরে ফেলো তাহলে ওর পিছনে থাকা লোকগুলোকে জানতে পারবো না। 
ডায়না কান্না করে দিয়ে
- ধ্বংস করে দিবো সব কিছু।  আমার রত্নকে আমার থেকে কেড়ে নিছে। 
জেসিকা এবার জোরে হেসে উঠে
- অনুভব কর সন্তান হারানোর যন্ত্রণা।  নিজেকে অনেক চালাক ভাবিস তুই।  তোর চালাকির দিন শেষ।
ডালিয়া চৌধুরী হকি দিয়ে মাথার উপর বারি মারলো জেসিকাকে।  জেসিকা বেহুশ হয়ে পড়ে গেলো।  ডালিয়া চৌধুরী রেগে
- চুপ একদম।  তোদের সব গুলোকে মেরে আমি শোধ নিবো।  আমাদের বুক খালি করে দিস।  ডায়না তিথিকে মারতে থাকে।  আয়ানের শরীর বেয়ে রক্ত পড়ছে।  কপালে রক্ত জমাট বেঁধে আছে।  জান টা বের হয়ে যাবে এক্ষুণি।  ডায়না বলতে লাগলো
- বল তুই কার কথায় তুই এসব করছিস। 
তিথি বললো
- আমি কারো কথায় কোনো কিছু করিনি।
- তোর পিছনে কে আছে?
- কেউ না। 
ডায়না তিথিকে মারতে থাকে।  তিথির কপাল বেয়ে রক্ত বের ঝরছে।  পুরো শরীরে ব্যথা।  প্রতিটা আঘাতে জানটা বেরিয়ে যাবে মনে হয়।  এর ভেতর একটা পুলিশের জিপ এসে থামলো মাঝখানে।  চারপাশের সবাই বন্দুক তাক করে ধরলো। 
লেডি কুইন চ্যাপ্টার ২ পর্ব ৩৬ শেষ প্রথমাংশ  


আকবর জিপ থেকে নেমে ডালিয়া চৌধুরীকে বললো
- কি হচ্ছে এখানে?
ডায়না মারা বন্ধ করে দিয়ে আকবরের দিকে তাকায়।  ডালিয়া চৌধুরী আকবরের সামনে যেয়ে
- তুমি এসেছো।  দেখো এই তিন জনকে এরা আসল কালপিট।  আমাদেরকে ধোঁকা দিয়েছে। ওর জন্য আমার ছেলেকে হারিয়েছি।  ওদের আজ রেহাই নেই। 
- আহা এতো উত্তেজিত হচ্ছো কেন ঠান্ডা মাথায় কাজ করতে হবে।  ওদের চ্যানেলে আর কেউ আছে কি না?
- এখনো মুখ খুলেনি।  মরে গেলে ও খুলবে না।  তাই ওদের এখনি পাঠিয়ে দিবো৷ 
ডালিয়া চৌধুরী পিস্তল তাক করলো জেসির দিকে।  সাথে সাথে আকবর ডালিয়া চৌধুরীর মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে
- ডালিয়া তোর প্ল্যান সব শেষ এখন আমার প্ল্যান শুরু।  তোদের কাউকেই বাচতে দিবো না।  তোর লোকজনগুলোর হাতের বন্দুক ফেলে দিতে বল।  ডালিয়া চৌধুরী পুরো থ হয়ে গেছে।  ডালিয়া চৌধুরী হাতের ইশারায় বন্দুক ফেলতে বললো।  সবাই ফেলে দিলো।  আকবর আয়ানের দিকে তাকিয়ে
- ভাই চিন্তা করিস না।  আমি এসে গেছি।  তোদের সবাইকে আমি নিয়ে যাবো।  কেউ কিছু করতে পারবে না। 
ডায়না হা হয়ে
- ভাই।  ঐ ছেলে তোর ভাই।  তার মানে ওর সাথে তুই যুক্ত।  দেখ ডালিয়া তোর চোখে আঙ্গুল দিয়ে কিভাবে দেখিয়ে দিলো। 
একজন এসে পিছন থেকে এসে আকবরের মাথায় বারি মারে।  আকবরের হাত থেকে পিস্তল টা ছিটকে পড়ে যায়।  আকবর মাটিতে লুটিয়ে পড়লো।  ডায়না জোরে হেসে দিয়ে
- তোকে দিয়ে কোনো কাজ হবে না।  দেখ কাজ কিভাবে করতে হয়ে।
ডালিয়া চৌধুরী বললো
- এই জন্যই তুমি লেডি কুইন। 
ডালিয়া চৌধুরী আকবরে গায়ে পা দিয়ে লাঠি মেরে
- তুই তো দু দিন হলো এই শহরে৷  আমাদের সাথে টক্কর দেওয়া এতো সহজ না। 

আকবরকে উঠিয়ে  চেয়ারের সাথে বেঁধে ফেললো। 

ডায়না তিথির কাছে যেয়ে
- শোন মরার আগে একটা সত্যি কথা শুনে যা। 
তিথি কথা বলতে পারছে না। ডায়নার দিকে তাকিয়ে আছে।  ডায়না তিথির গাল চেপে ধরে
- তোর বাবাকে আমি মেরেছিলাম।  দোষ দিছিলাম মর্জিনা খান আর আশরাফ চৌধুরীর। 
তিথি চমকে উঠে। পুরো থ হয়ে যায়। ডায়না বললো
- কেন মেরেছিলাম জানিস?  তোর বাবা আমার সব প্ল্যান জেনে গেছিলো।  ওদেরকে বলতে চেয়েছিলো।  বলার আগেই তোর বাবাকে উপরে পাঠিয়ে দিছি।  মেহেরাব আর আরোহীকে আমি মেরেছি।  তাই তো আজ আমি কুইন। 
ডায়না জোরে হেসে উঠে।  তিথি কথাগুলো শুনে পায়ের তলা থেকে মাটি সরে গেলো।  নিজের উপর ঘৃণা হতে লাগলো।  এতোদিন বিনা দোষী  দুজনের উপর প্রতিশোধ নিতে চেয়েছিলাম।  আয়ান একটু আওয়াজ করে হেসে উঠলো।  তিথি আয়ানের দিকে তাকিয়ে পড়লো।  আয়ান বললো
- তিথি তুই যা করেছিস এতোদিনে তোকে উপরে পাঠিয়ে দিতাম কিন্তু তোকে না মেরে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে সত্যি কথাগুলো শোনার জন্য।  আজ তুই সত্যি কথা শুনে নিলি। 
ডায়না উঠে দাঁড়িয়ে
- হেসে নে যত পারিস।  আজই তোদের দিন শেষ। 
ডায়না আয়ানের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে
- তুই সত্যি টা বলবি নাকি টিগ্যার চাপ দিবো।
- টিগ্যার চাপ দেওয়ার আগেই তুই তোর নিজেকে সামলা।  পড়ে যাবি। 
- তুই এই ডায়না কে চিনিস।  একটু ক্ষমতার লোভে দুজনকে মেরে দিয়ে আর দুজনকে পাগল বানিয়ে ফেলছি।  তোকে বাচিয়ে রাখবো না। 
আয়ান মুচকি হেসে
- কে কখন মরবে কে জানে?
হঠাৎ করেই বিদ্যুৎ চমকিয়ে বৃষ্টি পড়া শুরু হয়ে গেছে।  একটা গাড়ি এসে থামলো কালো রংয়ের।  রেইনকোট পড়া গাড়ি থেকে নেমে
- মিসেস ডায়না সুন্দরী ওয়েলকাম। 

ডায়না কথাটা শুনে চমকে উঠলো।  রেনকোটে পড়া লোকটাকে চিনতে পারছে না।  মুখটা ঢাকা।  ডায়না একপা সরিয়ে পিছনে সরে গেলো।  মাথা থেকে রেইন কোটটা সরিয়ে ফেলার সাথে সাথে
ডায়না ডালিয়া চৌধুরী পুরো হয়ে গেলো......
( waitin for next part) 


বলুন তো রেইন কোট পড়া লোকটা কে? 

Leave a Comment