ভালোবাসা দিন কতটা রঙিন

পর্ব ১৯


লেখা: Meherab Kabbo

প্রিয়ন্তির বাবা প্রিয়ন্তির মাকে বললো
- কি গো তোমারে অস্থির লাগছে কেন?
-মনের ভেতর টা কেমন করছে। 
- কেন?
- প্রিয়ন্তির কিছু হয়নি তো। 
- কি বলছো?  প্রিয়ন্তি তো শশুর বাড়ি কিছু হলে তো মা ফোন দিয়ে বলতো। 
- তুমি একটু কল দাও। 
- তুমি বেশি ভাবছো।  মেয়েকে নিয়ে তোমার অনেক চিন্তা।  প্রিয়ন্তি সুখে থাকবে।  এতো  ভেবো না।   একটু পর কল দিবানি।  সন্ধ্যা টা হোক। 

*
রিয়া অভির পিছনে দৌড়াতে যেয়ে পড়ে যায়।  অভি দৌড়ে এসে রিয়ার হাতটা ধরে
- কি হলো?  পড়ে গেলা কিভাবে।
- পা টা মচকে যেয়ে।
- দেখে দৌড় দিবা তো।
- তোমার জন্যই তো পড়ে গেলাম। 
অভি রিয়ার পা টেনে দিলো।  রিয়া ব্যথায় চিৎকার করলো। অভি মুচকি হেসে
- কেমন লাগে এখন।
- একদম মজা নিবা বল্লাম। 
- আর লাগবা আমার পিছু। 
- পা টা মচকে না গেলে তোমার আজ খবর ছিলো। 
- এখন যাবা কিভাবে।
- তোমার কোলে উঠে
- কোলো নিয়ে ফেলে দিবো।
- এতো সহজ। 
- হ্যা।  আজ তোমাকে বা গে পাইছি। 
- ভালো হবে না কিন্তু।
- তাহলে সুন্দর করে বলো আমার ভূল হয়ে গেছে। 
- না।  আমি ভূল করিনি। 
অভি রিয়ার পায়ে চাপ দিলো
রিয়া চিৎকার মেরে
- ও মা গো।  গেলাম আমি।
- বলো তবে।
- আমার ভূল হয়ে গেছে। 
অভি হেসে দিয়ে
- এই বাবু লাইনে আসছে। 
অভি রিয়াকে টেনে তুলে হাত কাঁধের উপর দিয়ে
- আস্তে আস্তে হাটো ঠিক হয়ে যাবে। 
ভালোবাসা দিন কতটা রঙিন পর্ব ১৯     

**
প্রীতমের ভাই ভাবিরা প্রীতমদের থেকে অনেকটা  দূরে।  প্রীতম এক মনে প্রিয়ন্তির দিকে তাকিয়ে আছে।  প্রিয়ন্তির খোলা চুল বাতাসে উড়ছে।  নৌকা আস্তে আস্তে করে চলছে।  প্রিয়ন্তি নদীর চারপাশ উপভোগ করছে।  হঠাৎ করে নৌকায় পানি উঠতে শুরু করে।  প্রিয়ন্তি এটা দেখে দৌড়ে যেয়ে প্রীতমকে জরিয়ে ধরে। প্রীতম কিছু বোঝার আগে  সাথে সাথে নৌকাটা তলিয়ে যায় নদীতে। প্রীতমের ভাবি একটা চিৎকার মেরে
- প্রীতম। 
ভাবির চিৎকার শুনে সবাই ঐদিকে তাকিয়ে দেখলো নৌকাটা তলিয়ে গেছে। 
প্রিয়ন্তি প্রীতমকে জরিয়ে ধরায় প্রীতমের থেকে প্রিয়ন্তি সরে যেতে পারিনি।  প্রীতম প্রিয়ন্তিকে নিয়ে ভেসে উঠলো।  প্রীতম প্রিয়ন্তিকে এক হাত ধরে ভাসিয়ে রাখছে।  মাঝে মাঝে নদীর পানি খেয়ে ফেলছে।  তার ভেতর ট্রলার এসে পড়লো।  ভাইয়েরা প্রিয়ন্তির হাত ধরে উপরে তুললো।  প্রীতম তলিয়ে গেলো।  প্রিয়ন্তি চিৎকার মেরে
- প্রীতম।  প্রীতমকে তুলেন আপনারা। 
প্রিয়ন্তি কান্না করে দেয়। ভাই একজন নদীতে লাফ মেরে  প্রীতমকে ট্রলারের ওপাশ থেকে তোলা হলো।  ট্রলারে উঠতে প্রীতম শুয়ে পড়লো।  ক্লান্ত হয়ে গেছে। 
ভাইয়েরা জিঙ্গেস করলো
- কিভাবে হলো এটা?
প্রিয়ন্তি বললো
- জানি না।  হঠাৎ করে খেয়াল করে দেখি নৌকায় পানিতে ভরে গেছে।  বলার আগেই ডুবে যায়। 
- একটু বেখেয়ালির জন্য আজ কতো বড় একটা দুর্যটনা ঘটতে যাচ্ছিলো। 
ট্রলার কিনারায় চলে আসলো।  প্রীতমকে ধরে বাসায় আনলো।  ওদের ভেজা দেখে বাসার লোক সবাই অবাক হয়ে গেলো।  প্রীতমকে ধরে ঘরে নিয়ে গেলো।  প্রীতমের মা এসে
- কি হয়েছে প্রীতমের। 
- মাঝ নদীতে নৌকা ডুবে গেছিলো।  ওরা দুজন। 
প্রীতমের মা এটা শুনে কান্না করে দিয়ে
- কি ভাবে হলো এটা। 
- আমরা কিছুই বুঝতে পারছি না। 
বাসার সবাইকে ঘটনা গুলো বললো।  খবর চলে গেলো প্রিয়ন্তিদের বাসায়।  প্রিয়ন্তির মা চিৎকার মেরে উঠে।  সাথে সাথে মিমি রাজ রিয়া অভি বাসার সবাই চলে এসে মিমি বললো
- কি হয়েছে মা?
প্রিয়ন্তির মা সব কিছু বললো।  সবাই অবাক হয়ে গেছে। 
রাজ বললো
- চিন্তা করেন না।  আমি আর মিমি যাচ্ছি। 
প্রিয়ন্তির মা বললো
- আমি ওর বাবাকে বলছিলাম আমার প্রিয়ন্তির কোনো বিপদ হইছে।  কিন্তু লোকটা আমার কোনো কথায় শুনলো না। 
মিমি বললো
- মা শান্ত হও। 

**
ভাবি এসে বললো
- প্রিয়ন্তি তুমি বদলে নাও সবকিছু। 
- ভাবি প্রীতম।
- চিন্তা নেই।  কিছুক্ষণ পর ঙ্গান ফিরবে। 
- ও কি এই অবস্থায় থাকবে।
- না তোমার দেবর বদলিয়ে দিবে।  তুমি যাও জামা বদলিয়ে নাও। 

সবাই ঘর থেকে বেরিয়ে গেলো। প্রিয়ন্তি ওয়াশরুমে গেলো।  পিহু তার বোনকে বললো
- একদম ঠিক কাজ হয়েছে।  আমাকে না নিয়ে যাওয়ায় এটা হয়েছে। 
- পিহু একদম ফালতু কথা বলবি না। 
- এখন ফালতু কথা হয়ে গেলো।  আমি থাকলে আর এটা হতো না।  বউ নিয়ে গেছে নদী বিলাস করতে।  আমার তো মনে হয় বউ তে কিছু করছে।  প্রীতমকে মারার প্ল্যান। 
পিহুর গালে চড় বসিয়ে দিয়ে
- তুই আমার বোন বলে বেঁচে গেলি।  একটা মেয়ের নামে ফালতু কথা বলার উচিত শিক্ষা দিতাম।  তুই তো মানুষের ভেতর প্যাচ ছাড়া কিছু লাগাতে পারিস না। 
পিহুর বোন ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। 

প্রিয়ন্তি প্রীতমের পাশে বসে প্রীতমের চেয়ে আছে।  তখন পিহু এসে
- এই তুমি এখান থেকে সরো। 
প্রিয়ন্তি সহ ঘরের সবাই অবাক হয়ে গেলো।  প্রিয়ন্তি উঠে দাঁড়ালো।  পিহু প্রীতমের পাশে বসে প্রীতমের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে
- কতবড় সর্বনাশ থেকে বেঁচে আসলো৷  কার কোন অভিশাপ আমার প্রীতমের  গায়ে লাগলো। 
প্রিয়ন্তির গা জ্বলে উঠলো প্রীতমের মাথায় হাত বুলিয়ে দেখা দেখে। 

প্রীতমের মা ভাবিকে বললো
- পিহুকে ওখান থেকে নিয়ে যাও।  বউকে পাশে বসতে দাও।  ও একটা ঝামেলা পাকাবে। 
- কাকি মা আমি দেখছি ব্যাপার টা। 
পিহুর বোন পিহুর হাত ধরে টেনে নিয়ে বাইরে চলে গেলো।  প্রিয়ন্তি অবাক হয়ে গেলো।  প্রীতমের মা এ পাশে বসে
- বউ মা বসো ওর পাশে। 
প্রিয়ন্তি প্রীতমের পাশে বসে  ভাবছে কি দরকার ছিলো নদীতে নিয়ে যাওয়ার।  আজ যদি না যেতাম তাহলে এমনটা হতো না।  আমার জন্যই আপনাকে এতোবড়ো বিপদের সম্মুখীন হলো৷ 

মিমি রাজ  প্রীতমদের বাসায় চলে আসলো।  প্রীতম চোখ খুলে উঠে বসে
- প্রিয়ন্তি কোথায় ও ঠিক আছে তো। 
  প্রীতমের মা বললো
- হ্যা ঠিক আছে।  তোর পাশেই তো বসা। 
প্রীতম প্রিয়ন্তি কে পাশে দেখে শান্ত হলো।  মিমি বললো
- কিভাবে ঘটলো এই ঘটনা। 
- আমি জানি না।  মাঝিকে ধরলে সত্যি টা জানা যাবে। 

রাত ২ টা
প্রিয়ন্তির রুমের দরজায় একজন টোকা দিলো।  সবাই যে যার মতো কাজে ব্যস্ত।  প্রিয়ন্তি দরজা খুলতেই অবাক হয়ে গেলো.........

(Waiting for next part.......) 


Leave a Comment