ভালোবাসা দিন কতটা রঙিন
পর্ব ২০
লেখা: Meherab_Kabbo
মাঝিকে ডেকে এনে জিঙ্গেস করলো। মাঝি উত্তরে বললো
- আপনি যেভাবে বলছিলেন সব কিছু ঠিক ঠাক ভাবে করে রেখেছিলাম।
- তাহলে নৌকায় পানি উঠলো কি করে?
- আমি কিভাবে জানবো।
- তুমি নৌকাটার তলা ফুটো করে দাও নি তো।
- ছিঃ ছিঃ কি বলেন? আমি কেন দিতে যাবো।
- ঠিক আছে তুমি যাও৷
মাঝি চলে গেলো। মিমি রাজ প্রীতমের সাথে কথা বলে চলে গেলো।
প্রীতমের মা প্রীতমকে বললো
- তোকে আর বাহিরে যেতে হবে না। পরে আরো অনেক টাইম আছে।
প্রীতম অবাক হয়ে
- কেন মা?
- তোকে যেটা বলছি তাই শুনবি৷ এতো কথা বলতে পারবো না।
প্রীতমের মা চলে গেলো। প্রীতম প্রিয়ন্তির দিকে তাকিয়ে
- সরি। আজকে আমার জন্য আপনাকে এতো বড় বিপদের সম্মুখীনে পড়তে হলো।
- সরি আপনি কেন বলছেন? আমার বলা উচিৎ । আমি একটা অপয়া। আমার জন্য অন্যের ক্ষতি হবেই। আমি আর আপনার সাথে কোথা ও যাবো না।
প্রীতম কিছুটা রাগি দৃষ্টিতে তাকিয়ে
- মুখে জেনো আর এসব ফালতু কথা না শুনি।
- আপনি চোখ গরম দেন আর যা দেন আমি সত্যি বলতে ভয় পায় না।
- চুপ করেন৷ বেশি বলবেন না।
প্রিয়ন্তি মুখ ঘুরিয়ে পিছন ফিরে বসলো। প্রীতম আর কিছু বলে না।
প্রীতমের মা বাইরে এসে পিহুর সামনে দাড়িয়ে
- তাহলে তোর এসব কাজ ছিলো।
পিহু থ ম খেয়ে
- ম ম ম মানে।
- তুই বাবুর্চিকে ঝাল বেশি দিতে বললি কেন?
পিহু কিছুটা ভয় কাটিয়ে
- ও ও এই কথা।
প্রিতমের মা ভ্রু কুচকে
- তো কোন কথা ভাবছিলি।
-আরে ঐ যে বাবুর্চি বলে দিলো তবে। খিচুড়িতে বেশি ঝাল না হলে কি ভালো লাগে।
পিহু আর কথা না বাড়িয়ে চলে গেলো। প্রীতমের মা কিছুটা সন্দেহ করলো। ভাবছে নতুন কোনো ঝামেলার ফন্দি আটলো না তো। ওর উপর নজর রাখতে হবে।
রাতে ডিনার শেষ প্রীতম প্রিয়ন্তি রুমে চলে গেলো। বাসার সবাই কাজে লেগে বসলো। গেস্ট রা অনেকে ঘুমাতে গেলো। অনেকে কাজে সহযোগীতা করছে।
প্রীতম খাটের মাঝখানে একটা কোলবালিশ রেখে শুয়ে পড়লো। প্রিয়ন্তি অন্য পাশে। প্রিয়ন্তি শুয়ে শুয়ে ভাবছে আমার কপাল টা এতোটাই খারাপ। আমি যেখানে যায় সেখানেই কিছু না কিছু ঘটছে। আজ যদি প্রীতমের কিছু হয়ে যেতো। তাহলে আমার কি হতো? আমার স্বপ্নগুলো শেষ হয়ে যেতো। মরা ছাড়া আমার আর কোনো রাস্তা থাকতো না। সমাজের মানুষেরা অনেক কিছু বলতো আমাকে। ভাবতে ভাবতে প্রিয়ন্তির চোখ বেয়ে পানি ঝরছে। হঠাৎ খেয়াল করলো প্রীতম কেঁপে কেঁপে উঠছে। প্রিয়ন্তি এক হাত প্রীতমের কপালে দিয়ে দেখলো প্রীতমের গায়ে প্রচুর জ্বর। জ্বরে কেঁপে উঠছে। প্রিয়ন্তি উঠে একটা কম্বল এনে প্রীতমের গায়ে দিলো। কিছুটা কাঁপা কমে গেছে। প্রিয়ন্তি কি করবে বুঝতে পারছে না। রাত ২ টা বেজে গেছে। প্রীতমের কাঁপা বাড়তে লাগলো।
![]() |
| ভালোবাসা দিন কতটা রঙিন পর্ব ২০ |
প্রিয়ন্তির রুমের দরজায় একজন টোকা দিলো। সবাই যে যার মতো কাজে ব্যস্ত। প্রিয়ন্তি দরজা খুলতেই অবাক হয়ে যায়। পিহু এতো রাতে হঠাৎ এলো কেন? প্রিয়ন্তি অবাক হয়ে
- আপনি
- হ্যা তোমার সাথে কিছু কথা আছে খুব জরুরি।
- কিন্তু প্রীতমের শরীরে জ্বর এসেছে। পরে শুনবো আপনার কথা।
- আরে বোন এটা বাঁচা মরার কথা। এখন না বলতে পারলে অনেক দেরি হয়ে যাবে।
প্রিয়ন্তি পিহুর কথায় পুরো থ হয়ে গেলো। পিহু প্রিয়ন্তির হাত ধরে পাশে নিয়ে
- বোন তোকে ওরা বাঁচতে দিবে না।
প্রিয়ন্তি আরো অবাক হয়ে
- কারা।
- এই প্রীতম আর প্রীতমের মা।
প্রিয়ন্তি পিহুর কথা শুনে মেজাজ খারাপ হয়ে গেলো। প্রিয়ন্তি বিরক্তি নিয়ে
- এই রাতে আসছেন ফাজলামো করতে। আর এটা কোন ধরনের ফাজলামি আপনার।
- বোন তুই বোঝার চেষ্টা কর। আমি যা বলছি সত্যি কথা বলছি। প্রীতমের সাথে আমার বিয়ে হবার কথা ছিলো। কিন্তু প্রীতমের বাবা তোকে পছন্দ করে প্রীতমের সাথে বিয়ে দেয়। প্রীতম আমাকে ভালোবাসে। ও তোকে মেরে আমাকে বিয়ে করবে। আমি চাই না বোন তোর কিছু হোক। আমি ও তো একটা মেয়ে।
প্রিয়ন্তি কথাটা শুনে জেনো পায়ের তলা থেকে মাটি সরে গেলো। পিহু আবার বললো
- তোকে নদীতে ডুবিয়ে মারতে চেয়েছিলো। তাই তো নৌকার তলা ফুটো করে রাখতে বলছিলো। আমি নিজ কানে সবটা শুনেছি। তুই সাবধানে থাকিস বোন।
- কি বলছেন কি আপনি? আমি বিশ্বাস করি না।
- প্রমাণ চাই তো তোরা ওয়েট
ফোনটা বের করে কাকে কল দিলো। সাউন্ড স্পিকার বাড়িয়ে দিলো। ফোনটা ধরতে ওপাশ থেকে
- প্রীতম স্যার আপনার কথা মতো সব কিছু করেছি। নৌকাটা ডুবে গেলে প্রিয়ন্তি শেষ। ওকে খুঁজে পাওয়া যাবে না। আপনি সাঁতার কেটে উঠে আসবেন।
ফোনটা কেটে দিলো পিহু। তারপর বললো
- কি বিশ্বাস হলো তো? আর শোনো তোমাকে মারতে যখন পারেনি তখন তোমাকে তাড়ানোর জন্য ফন্দি আঁটবে। তাই সাবধানে থেকো।
প্রিয়ন্তির চোখ বেয়ে পানি ঝরলো। পিহু একটা পৈশাচিক হাসি দিয়ে চলে গেলো। প্রিয়ন্তি জেনো নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছে না। ছিঃ শেষে কি না আমার সাথে এতো বাজে একটা মানুষের সাথে বিয়ে হলো। আমি কোনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দিবো না। তাতে আমার যা হবার হবে। মরতে হলে মরবো৷ প্রিয়ন্তি রুমে এসে দেখলো প্রীতমের কাঁপুনি বেড়ে গেলো। প্রিয়ন্তির সেদিকে কোনো ভ্রূক্ষেপ নেই৷ পিহু যা বলে গেলো তাই শুধু ঘুরপাক খাচ্ছে। প্রিয়ন্তি প্রীতমের দিকে তাকিয়ে
- আপনাকে আমি অনেক ভালো ভাবছিলাম । ছিঃ আপনি এতোটা খারাপ। আমাকে তো বলতে পারতেন আপনি অন্য কাউকে ভালোবাসেন। আমি কখনোই আসতাম না আপনাদের মাঝখানে। আমি বিয়েটা ভেঙ্গে দিতাম। নাটক করে এখন কেমন লাগছে। আপনার এই শাস্তি পাওয়া উচিৎ। কাপুন আরো আমি আপনার কাছে যাবো না।
পিহুর বোন পিহুকে দেখে
- কি রে কোথায় গেছিলি। সেই কখন থেকে খুঁজছি।
- ওয়াশ রুমে গেছিলাম। কি হয়েছে? খুঁজছিস কেন?
- কাজ আছে। ভাবলাম তুই প্রীতমের ওখানে যেয়ে ওদের ডিস্টার্ব করলি কি না?
- পাগল নাকি আপু। আমাকে তের এতোটা খারাপ মনে হয়।
- তুই যে কি? সেটা আমি ভালো করেই জানি।
প্রীতমের মা প্রীতমের দরজায় নক করলো। প্রিয়ন্তি ভাবছে পিহু আসছে। কিন্তু না, দরজা খুলে দেখলো প্রীতমের মা। প্রিয়ন্তি বললো
- আপনি এসেছেন। আমি আপনার কাছেই যাচ্ছিলাম
- কেন?
- ওনার গায়ে প্রচুর জ্বর আসছে।
প্রীতমের মা ঘরে ঢুকে
- কখন এসেছে।
- মাত্রই৷ আমি আপনাকে ডাকতে যাচ্ছিলাম।
- ঠিক আছে তুৃমি আমার রুমে যাও দেখো সাদা বক্সে ওষুধ আছে নিয়ে এসো।
প্রিয়ন্তি রুমে যেয়ে জ্বরের ওষুধ টা নিয়ে ফেলে দিলো। আর মনে মনে আপনাকে শাস্তি পেতে হবে আপনার ভালোমানুষির রুপ দেখিয়ে দিবো। জ্বরের ওষুধ না নিয়ে অন্য ওষুধ নিয়ে রুমে গেলো। প্রীতমকে খাইয়ে দিলো............
( Waiting for next part.......)
- হ্যা তোমার সাথে কিছু কথা আছে খুব জরুরি।
- কিন্তু প্রীতমের শরীরে জ্বর এসেছে। পরে শুনবো আপনার কথা।
- আরে বোন এটা বাঁচা মরার কথা। এখন না বলতে পারলে অনেক দেরি হয়ে যাবে।
প্রিয়ন্তি পিহুর কথায় পুরো থ হয়ে গেলো। পিহু প্রিয়ন্তির হাত ধরে পাশে নিয়ে
- বোন তোকে ওরা বাঁচতে দিবে না।
প্রিয়ন্তি আরো অবাক হয়ে
- কারা।
- এই প্রীতম আর প্রীতমের মা।
প্রিয়ন্তি পিহুর কথা শুনে মেজাজ খারাপ হয়ে গেলো। প্রিয়ন্তি বিরক্তি নিয়ে
- এই রাতে আসছেন ফাজলামো করতে। আর এটা কোন ধরনের ফাজলামি আপনার।
- বোন তুই বোঝার চেষ্টা কর। আমি যা বলছি সত্যি কথা বলছি। প্রীতমের সাথে আমার বিয়ে হবার কথা ছিলো। কিন্তু প্রীতমের বাবা তোকে পছন্দ করে প্রীতমের সাথে বিয়ে দেয়। প্রীতম আমাকে ভালোবাসে। ও তোকে মেরে আমাকে বিয়ে করবে। আমি চাই না বোন তোর কিছু হোক। আমি ও তো একটা মেয়ে।
প্রিয়ন্তি কথাটা শুনে জেনো পায়ের তলা থেকে মাটি সরে গেলো। পিহু আবার বললো
- তোকে নদীতে ডুবিয়ে মারতে চেয়েছিলো। তাই তো নৌকার তলা ফুটো করে রাখতে বলছিলো। আমি নিজ কানে সবটা শুনেছি। তুই সাবধানে থাকিস বোন।
- কি বলছেন কি আপনি? আমি বিশ্বাস করি না।
- প্রমাণ চাই তো তোরা ওয়েট
ফোনটা বের করে কাকে কল দিলো। সাউন্ড স্পিকার বাড়িয়ে দিলো। ফোনটা ধরতে ওপাশ থেকে
- প্রীতম স্যার আপনার কথা মতো সব কিছু করেছি। নৌকাটা ডুবে গেলে প্রিয়ন্তি শেষ। ওকে খুঁজে পাওয়া যাবে না। আপনি সাঁতার কেটে উঠে আসবেন।
ফোনটা কেটে দিলো পিহু। তারপর বললো
- কি বিশ্বাস হলো তো? আর শোনো তোমাকে মারতে যখন পারেনি তখন তোমাকে তাড়ানোর জন্য ফন্দি আঁটবে। তাই সাবধানে থেকো।
প্রিয়ন্তির চোখ বেয়ে পানি ঝরলো। পিহু একটা পৈশাচিক হাসি দিয়ে চলে গেলো। প্রিয়ন্তি জেনো নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছে না। ছিঃ শেষে কি না আমার সাথে এতো বাজে একটা মানুষের সাথে বিয়ে হলো। আমি কোনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দিবো না। তাতে আমার যা হবার হবে। মরতে হলে মরবো৷ প্রিয়ন্তি রুমে এসে দেখলো প্রীতমের কাঁপুনি বেড়ে গেলো। প্রিয়ন্তির সেদিকে কোনো ভ্রূক্ষেপ নেই৷ পিহু যা বলে গেলো তাই শুধু ঘুরপাক খাচ্ছে। প্রিয়ন্তি প্রীতমের দিকে তাকিয়ে
- আপনাকে আমি অনেক ভালো ভাবছিলাম । ছিঃ আপনি এতোটা খারাপ। আমাকে তো বলতে পারতেন আপনি অন্য কাউকে ভালোবাসেন। আমি কখনোই আসতাম না আপনাদের মাঝখানে। আমি বিয়েটা ভেঙ্গে দিতাম। নাটক করে এখন কেমন লাগছে। আপনার এই শাস্তি পাওয়া উচিৎ। কাপুন আরো আমি আপনার কাছে যাবো না।
পিহুর বোন পিহুকে দেখে
- কি রে কোথায় গেছিলি। সেই কখন থেকে খুঁজছি।
- ওয়াশ রুমে গেছিলাম। কি হয়েছে? খুঁজছিস কেন?
- কাজ আছে। ভাবলাম তুই প্রীতমের ওখানে যেয়ে ওদের ডিস্টার্ব করলি কি না?
- পাগল নাকি আপু। আমাকে তের এতোটা খারাপ মনে হয়।
- তুই যে কি? সেটা আমি ভালো করেই জানি।
প্রীতমের মা প্রীতমের দরজায় নক করলো। প্রিয়ন্তি ভাবছে পিহু আসছে। কিন্তু না, দরজা খুলে দেখলো প্রীতমের মা। প্রিয়ন্তি বললো
- আপনি এসেছেন। আমি আপনার কাছেই যাচ্ছিলাম
- কেন?
- ওনার গায়ে প্রচুর জ্বর আসছে।
প্রীতমের মা ঘরে ঢুকে
- কখন এসেছে।
- মাত্রই৷ আমি আপনাকে ডাকতে যাচ্ছিলাম।
- ঠিক আছে তুৃমি আমার রুমে যাও দেখো সাদা বক্সে ওষুধ আছে নিয়ে এসো।
প্রিয়ন্তি রুমে যেয়ে জ্বরের ওষুধ টা নিয়ে ফেলে দিলো। আর মনে মনে আপনাকে শাস্তি পেতে হবে আপনার ভালোমানুষির রুপ দেখিয়ে দিবো। জ্বরের ওষুধ না নিয়ে অন্য ওষুধ নিয়ে রুমে গেলো। প্রীতমকে খাইয়ে দিলো............
( Waiting for next part.......)

Leave a Comment