ভালোবাসা দিন কতটা রঙিন


পর্ব ২২


লেখা: Meherab Kabbo

প্রিয়ন্তি গালে হাত দিয়ে চোখ বড় বড় করে দিয়ে মিমির দিকে তাকিয়ে আছে।  মিমি রাগকে কন্ট্রোল করতে না পেরে
- তুই কি আমার বোন না অন্য কেউ, কিভাবে পারলি তুই এটা করতে।  ছি ঃ
- আমি যেটা করেছি একদম ঠিক করেছি।
মিমি রাগি গলায়
- আমার ভাবতে ও অবাক লাগছে।  তোর স্বামী হাসপাতালে আর তুই এখানে সাজ গোজ করে বসে আছিস।  একটু ও কি লজ্জা লাগলো না। 
- না লাগে নি।  আর ও আমার স্বামী না। 
- তাহলে বিয়ে করলি কেন?
- তোদের মান সম্মানের কথা ভেবে। 
প্রিয়ন্তি হেটে চলে যায়।  রাজ মিমির পিছনে এসে
- কি হয়েছে?
- ও কি প্রিয়ন্তি? এতটা বদলে গেলো  কি করে।
- আমি দেখছি এতোটা অস্থির হয়ো না।
- প্রীতমের কাছে চলো।  ওকে দেখতে হবে। 

রাজ মিমি গেইট দিয়ে বাইরে যাবে তখনি প্রীতম আর মা এসে হাজির।  প্রীতম মিমিকে দেখে
- কই যাচ্ছেন আপনারা।  চলেন ভেতরে।  সরি একটু লেট করে ফেললাম। 
- তোমাকেই দেখতে যাচ্ছিলাম।
প্রীতম কথা না বাড়িয়ে ওদের নিয়ে ভেতরে গেলো।  প্রীতম মা কে বললো
- তুমি যাও।  আমি ফ্রেশ হয়ে রেডি হয়ে আসছি। 
- ঠিক আছে। 

প্রীতম রুমে ঢুকে দেখলো প্রিয়ন্তি মুখ ফুলিয়ে বসে আছে।  প্রীতম মনে মনে ভাবছে কেউ কি কিছু বললো ওকে।  জিঙ্গেস করবো একবার।  না থাক।  প্রীতম ঘর থেকে বের হয়ে যায়৷ প্রিয়ন্তি প্রীতমকে দেখে ও না দেখার ভান করে ছিলো। 
এদিকে সবাইকে খাওয়া দাওয়া করানো নিয়ে ব্যস্ত।  পিহু রুমে এসে
- প্রিয়ন্তি একটু সাবধানে থেকো। 
- কেন?
- তোমার শাশুড়ী আসছে তোমাকে কিছু করতে পারে।  একটু এড়িয়ে চইলো। 
- ঠিক আছে। 
দরজার পাশ দিয়ে মিমি পিহুর সব কথা শুনলো।  মিমি মনে মনে বলছে এই মেয়েটা কে?  আমার বোনের কান ভাঙ্গাচ্ছে।  পিহু বের হতে যেয়ে মিমির পায়ে বেঁধে পড়ে গেলো।  পিহু চিল্লিয়ে
-ও মা রে বাবা রে আমার কোমর টা গেলো।
মিমি না জানার ভান করে
- সরি সরি দেখতে পাইনি।  আপনার লাগছে।
- কে আপনি?  চোখ নেই কপালে আপনার। 
প্রিয়ন্তি রুম থেকে বের হয়ে
- আমার বড়  বোন মিমি। 
প্রিয়ন্তি পিহুকে হাত ধরে তুললো৷  ব্যথায় খুড়াতে খুড়াতে যাচ্ছে।  মিমি মনে মনে হাসছে।  মিমি প্রিয়ন্তি দিকে তাকিয়ে
- তোর জন্য সবাই অপেক্ষা করছে।  আই
- আমি যাবো না।
- মান সম্মান না খেতে চাইলে আই
মিমি চলে গেছে। প্রিয়ন্তি ঘরে বসে থাকলো৷  প্রীতম কিছুক্ষণ পর একটা আইক্রিমের বাটি খাটের উপর রেখে ওয়াশরুমে ঢুকে গেলো।  প্রিয়ন্তি আইসক্রিম দেখে খুশি হয়ে গেলো।  যতই রাগ অভিমান করুক না কেন আইসক্রিম দেখলে রাগ অভিমান চলে যায়। প্রিয়ন্তি আইসক্রিমের বাটি হাতে নিলো।  উপরে একটা কাগজে লেখা
- এ রকম গোমড়া মুখে থাকলে মানুষ দেখলে কি বলবে।  কেউ কিছু বলে থাকলে সরি।
প্রিয়ন্তি অবাক হয়ে গেলো।  প্রিয়ন্তি মনে মনে ভাবছে প্রীতম কিভাবে জানলো এটা।  ও কে?  আমাকে কি আগে থেকে চিনতো।  নাকি আমাকে মারার প্ল্যান করার জন্য আইসক্রিম আনছে।  না আমি খাবো না। 
ভালোবাসা দিন কতটা রঙিন পর্ব ২২     






প্রীতম ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে দেখলো প্রিয়ন্তি আইসক্রিমের বাটি হাতে নিয়ে কিছু ভাবছে।  প্রীতম প্রিয়ন্তিকে বললো
- কি ভাবছেন এতো?
- ক ক কই কিছু না তো। 
- তাহলে খাচ্ছেন না কেন?
- আপনি আগে একটু খান আমি খাবানি। 
প্রীতম ভ্রু কুচকে
- যতদূর জানি আপনি এই জিনিসের ভাগ কাউকে দেন না তাহলে।
প্রিয়ন্তি অবাক হয়ে
- না মানে একা খাবো কেমন একটা।  নেন খান। 

প্রীতম কিছুটা আইসক্রিম খেয়ে নিলো।  প্রিয়ন্তি দেখছে কিছু হয় কি না।  না কিছু তো হলো না
তাহলে ঠিক আছে।   প্রিয়ন্তি আইসক্রিম খেয়ে নিলো।   প্রীতম রেডি হয়ে
- চলেন যাওয়া যাক নাই সবাই কি না কি মনে করে। 
- ওকে। 
প্রীতম প্রিয়ন্তিকে নিয়ে গেলো।  মিমি প্রীতমের সামনে দাঁড়িয়ে
- তুমি কি যেতে পারবা?
- হ্যা পারবো সমস্যা নেই। 
- অসুবিধা হবে না তো। 
- হলে তো আপনারা আছেন। 
- তাই। 
- হ্যা।  আমার তো অফিসে জয়েন দেওয়া লাগবে৷ 
- ঠিক আছে। 

সবাইকে আপ্যায়ন করা শেষে প্রিতম প্রিয়ন্তিকে নিয়ে চলে গেলো। 

প্রীতমের মা প্রীতমের বাবাকে বললো
- ছেলেটা এই অবস্থায় গেলো৷  বউ কে দিয়ে তো বিশ্বাস নেই।
- বউ মা তো এরকম মেয়ে না।  ওকে কি কেউ কিছু বলছে?
- পিহু কিছু বলে নি তো।
- ঐ মেয়েটাকে আসতে বলছে কে?
- হুট করেই এসে পড়েছে।  মানসম্মানের ভয় তে কিছু বলতে পারছি না। 


রাত ১২ টা প্রীতম প্রিয়ন্তিকে বললো
- এক গ্ল্যাস পানি এনে দেন।
- আপনি যেয়ে খেয়ে আছেন।  আমি উঠতে পারবো না।
- আমি তো আপনাদের বাসার কোন কিছু চিনি না।
- আপনি তো ছোট বাচ্চা না যে চোখে দেখবেন না। বুঝবেন  না।  ঘুমাতে দেন৷

প্রীতম অবাক হয়ে গেলো প্রিয়ন্তির কথা শুনে।  গলা বেশি শুকিয়ে গেছে পানি খেতে হবে।  প্রীতম উঠে দরজা খুলে বের হলো।  তখনি মিমি এসে সামনে দাঁড়িয়ে
- কিছু লাগবে।
- হ্যা।  পানি খাবো৷
- প্রিয়ন্তিকে বলো নি।
- ও ঘুমাচ্ছে তাই আর ডিস্টার্ব করিনি৷
- ঠিক আছে।  তোমার সাথে আমার কিছু কথা আছে।  এদিকে এসে বসো

প্রীতম অবাক হয়ে গেলো।  এতো রাতে আবার কিসের কথা৷  মিমি  গ্লাসে পানি ঢেলে প্রীতম কে দিলো৷  প্রীতম পানি খেয়ে নিলো৷  তার ভেতর রাজ এসে প্রীতমের পাশে বসলো।  মিমি প্রীতমের হাত থেকে গ্ল্যাস নিয়ে রেখে দিলো৷  রাজ বললো
- আমাদের রুমে চলো।
- কেন ?
- কথা আছে।  চলো। 
রাজ প্রীতমকে নিয়ে রুমে গেলো।  মিমি রুমে ঢুকে
- পিহু তোমার কি হয়?

মিমির মুখে পিহুর কথা শুনে গলাটা শুকিয়ে যায়।  মনে মনে বলছে এই রে পিহু আবার আপুকে কিছু বলেনি তো৷ 
প্রীতম কে চুপ থাকতে দেখে
- চুপ করে আছো কেন?  সব সত্যিটা বলো। পিহু কে?
প্রীতম মাথা নিচু করে নেয়।  প্রীতম ভাবছে আপুকে তাহলে সবকিছু বলে দিছে......

( waiting for next part.......)  

Leave a Comment