ভালোবাসা দিন কতটা রঙিন


পর্ব ২৩


লেখা: Meherab Kabbo


প্রিয়ন্তি শুয়ে  ভাবছে পানি খেতে যেয়ে এখনো আসছে না।  ব্যাপার কি?  ও কি পিহুর সাথে কথা বলছে।  নাকি অন্যকিছু।  যায় তো দেখি একটু। প্রিয়ন্তি উঠে রুম থেকে বের হলো।  ঘর বাহির দিয়ে সব জায়গায় দেখলো কিন্তু প্রীতমকে দেখতে পেলো না।  গেলো কোথায়।  রাগ করে বাসায় চলে যায় নি তো।  এতো রাতে গাড়ি কোথায় পাবে।  হেঁটে হেটে যাওয়া তো সম্ভব না।  রাস্তা তো এমনি ও ভালো না ছিনতাইয়ের কবলে পড়তে হবে।  যাক গেলে যাক আমার কি?  আমি যেয়ে ঘুমায়।  প্রিয়ন্তি রুমে যেয়ে শুয়ে পড়ে। 

প্রীতম মিমি রাজ কে কি বলবে বুঝতে পারছে না।  রাজ বললো
- দেখো প্রীতম কোনো জড়তা না রেখে বলো।  তাহলে ব্যাপারটা সহজ হয়। 
- প্রীতম তুমি বলো সমস্যা নেই। 

প্রীতম মনে মনে ভাবছে তারা যখন জেনে গেছে তাহলে বলে দি সত্যিটা।  প্রীতম  মনের জড়তা ছাড়িয়ে পিহুর সম্পর্কে সব কিছু বললো।  মিমি রাজ দুজনে অবাক হয়ে গেলো৷  প্রীতম কথাগুলো বলে বেরিয়ে আসলো। প্রিয়ন্ত কেবল ঘুমের ঝিমটি দিবে তখন প্রীতম  সোজা রুমে যেয়ে  দরজার ছিটকানি লাগালো প্রিয়ন্তি শব্দ পেয়ে লাফিয়ে উঠলো৷  প্রীতম পিছন ঘুরতেই অবাক হয়ে গেলো।  প্রিয়ন্তি ভূত দেখার মতো তাকিয়ে আছে রাগি গলায় বললো
- ঘুমের ১২ টা বাজায় দিলেন।  ছিটকানি আস্তে দেওয়া যায় না। 
- সরি৷  বুঝতে পারিনি। 
- কোথায় গিয়েছিলেন? পানি খেতে যেয়ে হারায় গেছেন। 
- পানি খেয়ে ওয়াশ রুমে গেছিলাম।  সেখান থেকে। 
- হয়েছে হয়েছে।  শুয়ে পড়ুন। 
প্রীতম কোনো কিছু না শুয়ে পড়লো।  প্রিয়ন্তি একা একা বক বক করতে লাগলো।  প্রীতম মুচকি হাসতে লাগলো। 


পরের দিন, দুপুরে

খাবার টেবিলে বসে আছে রাজ মিমি প্রিয়ন্তি  আর বাবা।  মা খাবার দিচ্ছে সবাইকে।  খাবার দেওয়া শেষে মা প্রীতমকে তরকারি দিলো।  একে একে সবাই তরকারি দিলো।  প্রিয়ন্তি প্রীতমের দিকে তাকিয়ে  মনে মনে বলছে
- খাও চান্দু৷  শশুর বাড়ি খাওয়ার স্বাদ কেমন বুঝবা। 
প্রীতম মুখে খাবার তুলতে মুখ টা অফ করে ফেললো৷  এদিক ওদিক তাকাতে লাগলো।  প্রিয়ন্তির মা বললো
- কোনো সমস্যা হয়েছে বাবা। 
প্রীতম খাবার টুকু খেয়ে
- না।  রান্না কে করছে?
- আমি। 
- খুব সুন্দর হয়েছে৷  এতোদিন পর  এতো সুস্বাদু টেস্টি খাবার খাচ্ছি। 
প্রিয়ন্তি মনে মনে বলছে
- টেস্টি না ঝাল।  মানসম্মান যাওয়ার ভয়তে ঝালের কথা বলতে পারছে না৷ 
প্রিয়ন্তির মা বললো
- প্রিয়ন্তি বলছিলো তুমি নাকি মরিচ বেশি খাও৷  তাই তোমার জন্য আলাদা করে রান্না করছি।  এরা আবার বেশি মরিচ খেতে পারে না। 
প্রীতম প্রিয়ন্তির দিকে তাকিয়ে 
- মা প্রিয়ন্তি আমার এতো টেক কেয়ার করছে সামনে না জানি আরো কত করে। 
প্রিয়ন্তি মনে মনে বলছে
- মায়ের আর কাজ হলো না।  আমার নামটা বলা লাগলো। 
প্রিয়ন্তি মুচকি হাসলো প্রীতমের দিকে তাকিয়ে।  প্রীতম রাজ খেয়ে উঠে গেলো৷  মিমি খাবার টেবিলে বসে  বললো
- মানুষ  কতো যে ঢং নাটক করতে পারে না দেখলে জানতাম না। 
মা বললো
- কে আবার কি করলো মিমি?
- আছে না কতগুলো মানুষ উপরে ভালো মানুষি দেখায় তলে ঠিকি খারাপি কাজ করে৷  বিপদে পড়লে দেখা যায়। 
প্রিয়ন্তি মিমির দিকে তাকিয়ে
- আপু তুই কি বলতে চাইছিস। 
- তোকে আমি আবার কি বলবো?  মা তুমি বলো তো একটা  কথা
- কি কথা?
- অন্যের কথা শুনে নাচলে তার কি হয়?
- কি হবে অশান্তি?  পরে বুঝতে পারলে হাজার কাঁদলে ও নিজের জায়গায় ফেরা যায় না। 
- মানুষ যা করবে তাই পাবে।  শুধু সময়ের অপেক্ষা। 
ভালোবাসা দিন কতটা রঙিন পর্ব ২৩     



মিমি উঠে চলে গেলো।  প্রিয়ন্তি রাগে তাকিয়ে আছে কিছু বলতে পাচ্ছে না।  ওকে ইঙ্গিত করে কথা বললো। প্রিয়ন্তি খাবার ছেড়ে উঠবি তখন মা বললো
- তোর কি হলো আবার?  খাবার রাখছিস কেন?
- পেট ভরে গেছে।  আর খেতে পারবো না। 
প্রিয়ন্তি উঠে চলে গেলো।  রুমে যেয়ে দেখলো প্রীতম চিনির দিব্যা নিয়ে বসে পড়ছে।  চোখ মুখ লাল হয়ে গেছে।  প্রিয়ন্তি হেসে দিলো প্রীতমের অবস্থা দেখে।  প্রীতম প্রিয়ন্তিকে দেখে চিনির দিব্যা লুকাতে গেলে প্রিয়ন্তি বললো
- আপনি নাকি মরিচ খেতে পারেন তাহলে এটা কি? 
প্রীতম ঝালে কথা বলতে পারছে না।  তাই চুপ করে গেলো।  প্রিয়ন্তি হেসে উঠলো।  প্রীতমের কিছুটা রাগ হলো৷  মনে মনে বলছে আমাকে ঝাল খাওয়ানো।  বুঝাবো পড়ে।  প্রিয়ন্তি হেসে দিয়ে
- শশুর বাড়িতে এসে মরিচ খেয়ে এই অবস্থা।  বাকী দিন গুলো কি হবে।  মা তো আপনার জন্য ঝাল বেশি দিয়ে তরকারি রান্না করবে৷ 
- আপনি একটু বারণ করে দিয়েন৷ 
- আমি বারণ করলে মা তো বকবে। আপনি কি আমাকে বকা খাওয়াবেন?
- না না ঠিক আছে। 
প্রীতম চিনির দিব্যা নিয়ে বের হয়ে গেলো।  প্রিয়ন্তি মনে মনে বলছে
- কেবল তো শুরু।  আমি কি জিনিস সবটা বুঝিয়ে দিবো?  আমাকে বিয়ে করে দয়া করা।  আমাকে মারার প্ল্যান করা সব হিসাব বুঝে নিবো। 

বিকালে
রাজ প্রীতম কে নিয়ে বের হলো ।  পথে একজন মুরব্বি রাজকে বললো
- ছেলেটা কে?
- প্রিয়ন্তির জামাই
- ডিভোর্স হয়েছিলো না তার। মেয়েটার স্বভাবের কারণে তো ডিভোর্স হয়েছে৷ এ আবার ডিভোর্স দিলো বলে।  অন্য কোথায় সম্পর্ক আছে৷ 
রাজ কিছু বললো না।  প্রীতম চুপ মুরব্বি বললো
- তুমি বাপু আর মেয়ে পাও নি৷  জানো তো ডিভোর্সের পর অন্য জায়গায় ছেলে নিয়ে পালিয়ে গেছিলো। 
প্রীতম একটু রাগান্বিত স্বরে
- আমি যতদূর জানি আপনার দুই বিয়ে।  ২য় জনকে তার স্বামীর ঘর থেকে ভাগিয়ে আনছিলেন৷  সেটা বুঝি খুব ভালো স্বভাবের৷ 
লোকটা রেগে যেয়ে
-বেয়াদব ছেলে৷ তোকে তোর মা বাবা ঠিক মতো শিক্ষা দেয় নি।  তুই আমার ঘরের বউ নিয়ে কথা বলিস।  তোর ব্যবস্থা আমি করছি। 
- বাহ্ ৷  আপনি আমার বউ নিয়ে বলবেন আমি বললেই দোষ। 

লোকটা একটা ছেলেকে ডাক দিলো।  ছেলেটা আসতেই
- এই ছেলে জেনো সুস্থ শরীরে যেতে না পারে।  আমার ঘরের বউ নিয়ে কথা বলিস। 
লোকটার কথা শুনে ছেলেটা প্রীতমের কলার ধরে
-কি বলেছিস তাকে?  তুই চিনিস তাকে।  গ্রামে তো তোকে আগে দেখিনি। 
আরেকটা ছেলে এসে প্রীতমের কলার ধরা ছেলেটাকে এসে উড়ো ঘুসি মারলো।  ছেলেটা ছিটকে পড়ে যায়।  ছেলেটার বুকের উপর পা রেখে নুয়ে
- তোর এতো বড় সাহস তুই গ্রামের জামাইয়ের কলার ধরিস।
- ভাই ভূল হয়ে গেছে।  আমি জানতাম না।  ও নাকি কাকাকে কি বলছে?
লোকটা বললো
- তোদের নামে বিচার বসাবো। 
লোকটা চলে গেলো। 


সন্ধ্যার পর
বাজারের মোড়ে বিচার বসেছে।  একজন বললো
- তুই জামাই জামাইয়ের মতো থাকবি তুই  তার সাথে বেয়াদবি কেন করবি......

( Waiting for next part.........)  

Leave a Comment