ভালোবাসা দিন কতটা রঙিন


পর্ব ২৪


লেখা: Meherab Kabbo


রাজ প্রীতমকে বললো
- শুধু শুধু ঝামেলায় জড়িয়ে পড়লা। 
- বাবা ঠিকি বলছে এখান কার অনেক মানুষ অসুস্থ।  এদের সঠিক টিটমেন্ট না দিলে সুস্থ হবে না । 
- দুলাভাই চিন্তার কারণ নেই আমি ব্যাপার টা দেখছি।

রাজ প্রীতম চলে গেলো। প্রিয়ন্তির বাবাকে মেম্বরের লোক এসে বললো
- মেয়েকে কেমন ছেলের সাথে বিয়ে দিয়েছো।  দেখে শুনে বিয়ে দিতে পারো নি।  বেয়াদব কে জামাই করেছো
প্রিয়ন্তির বাবা অবাক হয়ে
- কেন?  কি করছে জামাই তে?
- সন্ধ্যায় বাজার মোড়ে তোমার ছোট জামাইকে নিয়ে এসো মেম্বরে ডাকছে। 

লোকগুলো চলে গেলো।  প্রিয়ন্তির বাবা তার বড় ভাইকে বললো থাকার জন্য।  জামাই তে কি করলো চিন্তায় পড়ে গেলো সবাই।  বাসার সবাই চিন্তিত৷
মিমি রাজকে ফোন দিয়ে বাসায় আসতে বললো প্রীতমকে নিয়ে।
রাজ বাসায় আসতে আসতে সন্ধ্যা হয়ে গেলো।   প্রিয়ন্তির বাবা, চাচা, রাজ ও প্রীতমকে নিয়ে বাজার মোড়ে চলে গেলো৷  বাজার মোড়ে মুরব্বি মেম্বর তার লোকজন বসা।  প্রীতমরা গেলে বসতে বলে। 


মিমি প্রিয়ন্তির মা প্রিয়ন্তি চাচি একসাথে বসে আছে।  মিমি বললো
- প্রীতম আবার কি করলো?  যে বিচার বসালো।
প্রিয়ন্তি বললো
- নিশ্চয় কোনো অকাজ করছে৷  বাবার সম্মান টা কই চলে যাবে এখন ঐ ছেলের জন্য। 
প্রিয়ন্তির মা ধমক দিয়ে প্রিয়ন্তিকে বললো
- না জেনে শুনে কথা বলছিস কেন?  আগে ভালোই ভালোই আসুক ওরা। 
প্রিয়ন্তির চাচি বললো
- হ্যা তাই  হয় জেনো৷  সব বিপদ কেটে যাক৷ 

মেম্বর সাহেব বললো
- মুরব্বি বলেন কি বেয়াদবি করছে। 
মুরব্বি লোকটা উঠে দাঁড়িয়ে
- ও কত বড় বেয়াদব আমার ঘরের বউ নিয়ে কথা তুলে।  বাজে কথা বলে।  আমি অন্যের বউ ভাগিয়ে নিয়ে আসছি। 
পাশ থেকে একটা লোক উঠে দাঁড়িয়ে
-তুই জামাই জামাইয়ের মতো থাকবি তুই  তার সাথে বেয়াদবি কেন করবি।  এতো বড় সাহস কই পাইছিস।  তোর হাত পা ভেঙ্গে ফেলবো।  তুই জামাই বলে বেচে গেলি৷ 
মেম্বর সাহেব ধমক দিয়ে লোকটাকে বললো
- তুমি কিন্তু বেশি বেশি করছো।  এখানে আমি বসে আছি কেন ? 
লোকটা চুপ করে বসে পড়লো।  মুরব্বি লোকটা বললো
- মেম্বর সাহেব আপনি যা বিচার করার করেন।  দুদিনের ঝুট আমার সাথে বেয়াদবি করে। 
মেম্বর সাহেব বললো
- প্রীতম মুরব্বি যা বলছে সব কি সত্যি। 
প্রীতম উঠে দাঁড়িয়ে
- হ্যা যা বলেছে সত্যি কিন্তু আমি ওনাকে বাজে কথা বলিনি। 
প্রীতমের কথা শুনে পাশ থেকে মরব্বি লোকটার ছেলে
- তোর সাহস হলো কি করে আমার বাবার সাথে বেয়াদবি করার।  মেম্বর না থাকলে তোকে এখানে পুঁতে রেখে দিতাম। 
মেম্বর উঠে দাঁড়িয়ে
- তোর সাহস দেখে আমি অবাক হয়ে গেলাম।  তুই এখানে নতুন এসে মুরব্বির ঘরের বউ কে নিয়ে বেয়াদবি করিস৷  কই থেকে পাইছিস এতো সাহস।  প্রীতম গম্ভীর কণ্ঠে
- আপনাদের বলা শেষ হয়েছে।  আমার এখনো বলা শেষ হয়নি৷ আমার বলা শেষে যা বিচার করবেন তাই মাথা পেতে নিবো। 
মেম্বর বসে পড়ে
- বল তোর কি কথা ?
প্রীতম রাগি গলায়
- আমার ঘরের বউ ভালো না খারাপ।  ও ক টার সাথে প্রেম করছে না পালিয়ে গেছে।  না রাত কাটাইছে না বে* শ্যা পাড়ায় গেছে না ডিভোর্স হয়েছে ঐ লোকটা আমাকে কেন বলবে?  আমি কি তার কাছে জিঙ্গেস করেছি।  আমার বউ ভালো না খারাপ।  আমি কি তার কাছে শুনতে গেছি।  সে কেন আমার বউ নিয়ে বললো।  আপনার ঘরের বউ নিয়ে বললে কি করতেন?  মুরব্বির তো এক পা কবরে চলে গেছে সে কেন নিজ এলাকার মেয়েদের নামে খারাপ মন্তব্য করবে।  এটার বিচার করার পর আমার বিচার করবেন।  আর এই যে আপনি আমাকে পুঁতে ফেলবেন।  আপনার তো ঘরে মেয়ে রয়েছে বিয়ে দিবেন সে মুরব্বি হয়ে আমার বউ কি খারাপ করছে না করছে আমাকে কেন বলবে।  আজ যদি আপনাকে বলতো।  এক হাতে কখনো তালি বাজে না।  যেই আমি বলেছি আপনার নামে তো শুনেছি গ্রামে আপনার বউ থাকা সত্ত্বেও  অন্য এক লোকের স্ত্রী কে ভাগিয়ে নিয়ে আসছেন৷ এটা কি সত্যি?  এতে আমি বেয়াদব হয়ে গেছি।  খারাপ হয়ে গেছি। 
ভালোবাসা দিন কতটা রঙিন পর্ব ২৪ 





প্রীতমের এক কথায় বিচার সভা থমথমে হয়ে গেলো। সবাই থ হয়ে গেলো।  সবাই চুপচাপ হয়ে একে অপরের দিকে তাকাচ্ছে।  লজ্জায় জেনো মাথা কাটা যাচ্ছে।  মেম্বর উঠে দাঁড়িয়ে
- ছিঃ চাচা।  আপনি এই বয়সে এসে ও এতোটা অসুস্থ মস্তিষ্কের।  একটু ও কি লজ্জা করলো না আপনার।  আমাদের গ্রামের মেয়ে নিয়ে বাজে মন্তব্য করতে।  আপনার জন্য মেয়েটার সংসার টা ভেঙ্গে গেলে কি হতো?
মুরব্বি লোকটা মাথা নিচু করে নিলো ।  প্রীতম বললো
- শুধু মাত্র উনি না।  সমাজে আরো অনেক মানুষ আছে যারা অন্যের ভালো দেখতে পায় না।  অসুস্থ মস্তিষ্কের।  তারা একটু চিন্তা করতে পারে না যে মেয়েটার নামে বদনাম করছে সে তো তার নিজ এলাকার।  সেই এলাকার সবার মান- সম্মান যায় না।  মানুষের চিন্তা ধারা এতোটাই উন্নতি হয়েছে যে কি আর বলবো৷ 

মেম্বর সাহেব রাগি দৃষ্টিতে তাকিয়ে
- তোমার বাবাকে নিয়ে যাও।  ফের জানো তার মুখ দিয়ে কিছু না শুনি। 
মুরব্বি লোকটার ছেলে প্রীতমকে বললো
- দুঃখিত ভাই।  তুমি কিছু মনে করো না।  না জেনে তোমাকে অনেক কিছু বলে ফেলছি। 
- আরে ভাই ঠিক আছে।  রাগের মাথায় অনেকে অনেক কিছু বলে ফেলে।।

মুরব্বি লোকটাকে নিয়ে চলে গেলো।  মেম্বর সাহেব প্রীতমকে বললো
- সরি জামাই।  তোমার মতো জেনো সবাই হয়।  অন্যের মন্তব্য শুনে কেউ জেনো নিজের সংসারে আগুন না জ্বালাক।  যাও তোমরা৷ ভাই আপনি থেকেন। 

রাজ প্রীতমকে নিয়ে বাসার দিকে রওনা হয়।  প্রিয়ন্তির বাবা চাচা থেকে গেলো।  মেম্বর সাহেব প্রিয়ন্তির বাবাকে বললো
- খানদানি একটা জামাই পেয়েছেন।  অন্যায়কে মোটে ও প্রশ্রয় দেয় না। 
মেম্বরের কথা শুনে প্রিয়ন্তির বাবার বুক টা ভরে গেলো।  যেখানে ভাবছিলো লজ্জায় মাথা কাটা যাবে সেখানে মাথাটা আরো উচু করে দিলো। 

রাজ প্রীতম বাসায় আসলো।  সবাই উঠে দাঁড়ালো।  রাজ প্রীতমকে বললো
- তুমি ওয়াশ রুমে যেয়ে ফ্রেশ হতে লাগো।  আমি ওদের সাথে কথা বলেনি। 
- ঠিক আছে। 

প্রীতম চলে গেলো।  মিমি জিঙ্গেস করলো
- কি হয়েছে বিচারে?
রাজ হাসি মুখে
- আমরা জিতেছি।  ওরা হেরে গেছে৷
- বলো কি?  কি হয়েছিলো? 
রাজ সবকিছু বললো।  সবাই শুনে অবাক হয়ে গেলো।  রাজ একটা কথা বললো তা শুনে প্রিয়ন্তি থ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে............

( Waiting for next part...........) 

গল্পে রেসপন্স পাচ্ছি না। গল্পটা এই পর্যন্ত থাকুক
।  গল্পটা লেখা বাদ দিয়ে দি।  নতুন গল্প লিখি কি বলেন সবাই?

Leave a Comment