ভালোবাসা দিন কতটা রঙিন
পর্ব ২৫
লেখা: Meherab Kabbo
রাজ মিমিকে বললো
- প্রীতম খুব রাগি স্বভাবের। অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয় না৷ ও ভালোর ভালো আবার খারাপের খারাপ। যার উপর থেকে একবার মন উঠে যাবে সে হাজার কিছু করুক কখনো তার দিকে ফিরে তাকাবে না। অন্যায় যে করুক না ওর কাছে কেউ ছাড় পাবে না।
রাজের কথাই সবাই থ হয়ে গেলো। প্রিয়ন্তি মনে মনে বলছে
- ওর নিজের অন্যায় টা তো দেখছে না। লোকদের কথায় বিশ্বাস করে আমাকে ডিভোর্স দিয়ে দিলে পারে তো৷ বেঁচে যেতাম। পিহুকে নিয়ে সুখে থাকতো। তা করে না।
প্রীতম ফ্রেশ হয়ে বের হলো৷ প্রীতমের সাথে সবাই ভালোভাবে কথা বললো।
তিনদিন পর
প্রীতম প্রিয়ন্তিকে নিয়ে চলে আসলো বাসায়। প্রীতমের মা বেশ খুশি হলো। রাতে খাওয়া দাওয়া করে সবাই ঘুমিয়ে পড়লো। প্রিয়ন্তি জেগে আছে। বাসায় এসে পিহুকে একবার ও দেখলো না। পিহু কি তবে চলে গেলো।
পরের দিন
প্রীতমের মা প্রিয়ন্তিকে নিয়ে রান্না ঘরে গেলো। প্রিয়ন্তিকে সব টা নিজ হাতে দেখিয়ে দিলো। প্রিয়ন্তি রান্না শিখছে। প্রীতম রান্না ঘরে এসে
- মা কি করছো?
- রান্না করছি।
- ও এখানে কেন?
মা মুচকি হেসে
- বউ মাকে রান্না শিখাচ্ছি।
- পারবে না যতই শেখাও না কেন? হাত পুড়িয়ে নিবে। শেষে এ বলবে শুশুর বাড়ির লোকজন অত্যাচার করে যৌতুকের জন্য।
প্রীতমের মা প্রীতম হেসে দেয়। প্রিয়ন্তি প্রীতমের দিকে রাগি দৃষ্টিতে তাকিয়ে পড়ে। প্রীতম রান্না ঘর থেকে চলে গেলো। প্রীতমের মা প্রিয়ন্তিকে বললো
- তুমি ওর কথায় কিছু মনে করো ও মজা করে খুব বুঝছো।
প্রিয়ন্তি মাথা নাড়িয়ে হুম বললো। রান্না শেষে সবাইকে খেতে দিলো। বাসায় সব কাজ প্রিয়ন্তিকে হাসি মুখে দেখিয়ে দিলো প্রীতমের মা।
প্রিয়ন্তিকে ২০ দিনের মতো রান্নার কাজ ঘরের কাজ সব দেখিয়ে দিলো। প্রিয়ন্তি এখন সব কাজ করতে পারে। প্রীতমের মায়ের সুন্দর আচরণ দেখে প্রিয়ন্তি সবকিছু জেনো ভূলে যেতে লাগলো। প্রিয়ন্তি পিহুর কথা সব কিছু মাথা ঝেড়ে ফেলবে কিন্তু বিপত্তি ঘটলো
একদিন
প্রীতমকে ভাবি ডেকে তার রুমে নিয়ে যেয়ে দরজা আটকিয়ে দিলো । প্রীতম বললো
- ভাবি কিছু কি হয়েছে?
- হ্যা তোমার সাথে দরকারি কিছু কথা ছিলো।
- দরজা আটকালেন কেন?
- কেউ এসে গেলে তো আমার প্ল্যান করা হবে না।
- আচ্ছা বলুন
![]() |
| ভালোবাসা দিন কতটা রঙিন পর্ব ২৫ |
প্রিয়ন্তি ঘরের কাজ শেষ করে মাত্র রুমে এসে বসলো। হঠাৎ পিহু প্রিয়ন্তির রুমে ঢুকে
- তুমি এখানে বসা আর তোমার জামাই অন্য দিকে
প্রিয়ন্তি পিহু কে দেখে অবাক হয়ে
- আপনি কখন আসছেন।
- আমার কথা ছাড়ো। তোমার জামাই ভাবির সাথে পরকীয়ায় লিপ্ত নিজ চোখে দেখবা।
প্রিয়ন্তি উঠে দাঁড়িয়ে
- কি বলছেন কি,?
- নিজ চোখে দেখলে বুঝবা কি বলছি?
পিহু প্রিয়ন্তির হাত ধরে টেনে ভাবির দরজার সামনে দাঁড়ালো তখনি প্রীতম দরজা খুলে জামার বোতাম লাগানো অবস্থায় বের হলো। পিছনে ভাবি। প্রিয়ন্তি এটা দেখে নিজেকে আর সামলে রাখতে পারলো না। প্রীতমের গালে কষে চড় বসিয়ে দিলো। পিহু বললো
- বলছিলাম না তোমার জামাই অন্যের বউয়ের সাথে। ছিঃ ছিঃ
ভাবি প্রীতম পুরো অবাক হয়ে গেলো৷ প্রিয়ন্তি রাগে বললো
- ছিঃ তুই এতোটা খারাপ। তোকে আমি এই ভালো মনে করেছিলাম। তোর চরিত্র এতোটা ভালো। ছিঃ আমি তোকে আমার শরীর দেয়নি বলে তুই অন্য মহিলার সাথে। ছিঃ। আমার ভাবতেই অবাক লাগছে আমার সাথে চরিত্রহীন মানুষের সাথে বিয়ে হলো।
প্রীতম চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে। পাশ দিয়ে ভাবি বললো
- প্রিয়ন্তি তুমি কিন্তু
ভাবিকে থামিয়ে দিয়ে
- আপনি চুপ থাকেন। আপনার চরিত্র কত ভালো দেখতেই পারছি৷ ঘরে জামাই রেখে পরপুরুষের সাথে ছিঃ
প্রীতম এবার রেগে প্রিয়ন্তির গালে চড় বসিয়ে দিয়ে
- ভাবিকে নিয়ে আর একটা ও বাজে কথা বললে আমি আপনাকে ছেড়ে কথা বলবো না। আপনি যা বলার আমাকে বলেন৷ ভাবিকে না।
প্রিয়ন্তি জেনো আরো খেপে খেলো। প্রিয়ন্তি বললো
- তোকে কি বলবো৷ তোর মতো চরিত্রহীন মানুষের সাথে আমি থাকবো না। তুই একটা খারাপ। ঘরে বউ রেখে অন্য মহিলার সাথে। তোর চরিত্র এতো ভালো৷ আমি আজই চলে যাবো। তোর সাথে আমি সংসার করবো না।
প্রিয়ন্তি আরো অনেক বাজে কথা বলে চলে গেলো কান্না করতে করতে। পিহু একটু জোর গলায়
- প্রিয়ন্তি এমন চরিত্র হীন লম্পট মানুষের সাথে সংসার করো না।
পিহুর গালে ঠাস ঠাস চড়ের শব্দ। প্রীতম ভাবি হা হয়ে গেলো। ভাইয়া পিহুর গালে কষিয়ে চড় মারছে। বলতে লাগলো
- আজ তুই যদি আমার শালি না হতি তাহলে তোকে এখানে ফেরে ফেলতাম। বেয়াদপ। তোর মা বাবাকে আমি আজই ফোন করছি। তোর মতো চরিত্রহীন মেয়ে বাসায় রেখে এই বাড়ির সম্মান নষ্ট করবো না।
পিহু ভাইয়ার পায়ে পড়ে কান্না করে দিয়ে
- ভাইয়া ভাইয়া প্লিজ আমার ভূল হয়ে গেছে। আমি বুঝতে পারিনি। আমাকে মাফ করে দেন আমি আর কখনো এমন করবো না।
- পা ছাড় আমার। তোর জন্য এই সংসারে আজ অশান্তি নেমে এসেছে।
- আমি বুঝতে পারিনি আপনি ভেতরে ছিলেন। আমাকে মাফ করে দেন৷
প্রিয়ন্তি কান্না করতে করতে বাসায় ঢুকলো। প্রীতমের বাবা প্রিয়ন্তি দেখে
- কি হয়েছে মা? কান্না করছো কেন?
- আপনার ছেলেকে জিঙ্গেস করেন। আমি আর এই বাসায় এক মুহুর্ত থাকবো না।
- কি হয়েছে বউমা?
- আমি বলতে পারবো না। আপনার ছেলেকে জিঙ্গেস করেন।
প্রিয়ন্তি রুমে চলে গেলো৷ দরজা আটকিয়ে দিয়ে কান্না করতে লাগলো।
ভাইয়া পিহুকে ছাড়িয়ে
- তোর কোনো ক্ষমা নেই। তুই কি ভেবেছিস।
- ভাইয়া প্লিজ। আমার পড়াশোনা সব শেষ হয়ে যাবে। একটা বার সুযোগ দেন আর কোনো দিন আমি কিছু করবো না।
ভাইয়া রাগি গলায়
- তোকে জেনো আর ঐ বাড়ির ত্রি সীমানাই না দেখি। আর না প্রিয়ন্তির আশপাশে।
- আমি ঘর থেকে কোথা ও যাবো না।
- তোকে যদি ফের দেখি তাহলে আমার থেকে খারাপ কেউ হবে না। ঘরে যা।
পিহু উঠে দাঁড়িয়ে চোখের পানি মুছে শয়তানি একটা হাসি দিয়ে রুমে চলে গেলো।
দরজার সামনে প্রীতমের মা বাবা দরজা তাকাচ্ছে আর প্রিয়ন্তি বলে ডাকছে। প্রিয়ন্তি কান্না করছে আর ভাবছে কাকে আমার মনে জায়গা দিতে চাইছিলাম। একজন চরিত্রহীন কে ছিঃ এই দিন টা দেখার আগে কেন আমার মরণ হলো না। যে মানুষটাকে এতোটা ভালো ভাবলাম সেই মানুষটা ছিঃ তাই তো বলি বিয়ের পর পুরুষ রা মেয়েদের শরীর জোর করে হলে ও ভোগ করে আর এ কেন আমাকে ছেড়ে দিলো। অন্য নারীতে আসক্ত ছিলো। ছিঃ এতোটা খারাপ।
ভাইয়া প্রীতমের দিকে তাকিয়ে
- তুই কেন প্রিয়ন্তিকে বুঝালি না কেন?
- ও তো কোনো কথায় শুনতে চাইনি কিভাবে বুঝাবো৷
- আমি ও কেন যে ওয়াশরুমে গেলাম। তোদের সাথে বের হলে এই ভূল বোঝাবুঝি টা হতো না।
- যা বোঝার বুঝেছে। এতে আমার আফসোস নেই। মানুষ তো চিনতে পারলাম।
ভাবি অবাক হয়ে
- তুমি কিন্তু ভূল টা ভাঙ্গাতে পারতা।
- ভাবি সরি প্রিয়ন্তির হয়ে আমি ক্ষমা চাচ্ছি ও আপনাকে অনেক কিছু বলে ফেলছে।
- আরে না ঠিক আছে। মানুষ মাত্রই তো ভূল।
ভাইয়া বললো
- আমরা প্রিয়ন্তিকে বুঝিয়ে বলবো।
-না ভাইয়া। যে অন্যের কথায় নাচানাচি করে তাকে কিছু বোঝাতে হবে না। আগে সে অন্যের কথায় নাচানাচি না করে ব্যাপারটা বুঝুক তারপর বোঝানো যাবে। কিছু বলতে গেলে কথা শোনা লাগবে৷
প্রীতম চলে আসলো। ভাবি ভাইয়ার দিকে তাকিয়ে আছে। ভাইয়া বললো
- সামন্য একটু ভূল বোঝাবুঝি তে জিনিস টা কত দূর গেলো৷
ভাবি রুমে চলে যায়।
প্রীতম ঘরে ঢুকতে যাবে তখনি প্রীতমের গালে
ঠাস ঠাস ঠাস.............
(waiting for next part......)

Leave a Comment