ভালোবাসা দিন কতটা রঙিন


পর্ব ২৬


লেখাMeherab_Kabbo

প্রিয়ন্তি দরজা খুললে প্রীতমের মা বাবা রুমে ঢুকে পড়লো।  প্রীতমের মা প্রিয়ন্তিকে বুকে জরিয়ে নিয়ে বসলো।  প্রিয়ন্তি কান্না করতে লাগলো৷  প্রীতমের বাবা বললো
- দেখো মা সংসারে টুক টাক ঝগড়া লাগতেই পারে।  তাই বলে রাগ করে বাবার বাড়ি টা যাওয়াটা ঠিক না। 
প্রীতমের মা বললো
- তোমার শশুরের সাথে আমার অনেক ঝগড়া হতো৷  আমাকে মারতো পর্যন্ত কিন্তু আমি কখনো বাবার বাড়ি চলে যায় নি।  পরে আমরা ঠিকি এক সাথে হয়ে গেছি। 
- তাই বলি কি বউ মা।  তুমি সবটা নিজেদের ভেতর ঠিক করে নাও।  আর প্রীতম আসুক ওর শাস্তি আমি দিবো৷  তুমি তোমার বাবার বাড়ি যেয়ো না৷ 
- হ্যা মা।  আমাদের মুখের দিকে তাকিয়ে থেকে যাও। 
প্রিয়ন্তির কান্না জেনো থামছে না।  খুব বেশি কান্না করছে। 



প্রীতম ঘরে ঢুকতে যাবে তখনি প্রীতমের গালে ঠাস ঠাস করে শব্দ হলো।  চড়ের শব্দ শুনে প্রীতমের মা আর প্রিয়ন্তি বেরিয়ে এলো।  চড় টা আর কেউ মারেনি মেরেছে প্রীগতমের বাবা।  প্রীতমের বাবা রাগি গলায়
- বেয়াদব।  তোকে আমি এই শিক্ষা দিছি।  তুই আমার বউ মা কে কাঁদিয়েছিস। 
- বাবা। 
- চুপ কর।  বউ মার যদি চোখে আর পানি দেখি তাহলে তোকে ঘর থেকে বের করে দিবো। 

প্রীতম প্রিয়ন্তির দিকে রাগি দৃষ্টিতে তাকিয়ে চলে গেলো নিজের রুমে।  প্রীতমের মা বললো
- তোমার শশুর ওকে শাসন করে দিছে। তোমার সাথে আর ঝগড়া করবে না।  এবার ঘরে যাও।  ও যদি কিছু বলে আমাকে বইলো৷ 

প্রীতম ওয়াশরুমে ঢুকে বেসিনের সামনে দাঁড়িয়ে কল ছেড়ে দিয়ে মুখে পানি নিচ্ছে।  আর ভাবছে মানুষদের কতটা সহজে নিয়ে নি।  আর মানুষেরা আমাকে কঠিন ভাবে নিচ্ছে।  আমাকে কি একটু ও বোঝার মতো মন হয়নি তোমার।  নাকি এখনো জায়গা করতে পারি নি তোমার মনে।  প্রীতমের চোখ বেয়ে পানি ঝরছে।  বাবা তুমি আমার কাছে না জিঙ্গেস করে চড় মারলো শাসিয়ে গেলো।

প্রীতম  গোসল করে বের হলো।  প্রিয়ন্তি প্রীতমের দিকে তাকিয়ে ও চোখ ফিরিয়ে নিলো।  প্রীতমের দিকে খেয়াল করে নি।  প্রীতম ঘর থেকে বের হবে তখনি প্রীতমের মা বললো
- কই যাস।  খাবি না। 
- খিদে নেই। 
প্রীতম চলে গেলো বাহিরে৷   প্রিয়ন্ত হাত মুখ ধুয়ে খেতে আসলো।  কিন্তু প্রীতমকে দেখতে পেলো না।  প্রীতমের বাবা জিঙ্গেস করলো
- প্রীতম কই। 
প্রীতমের মা বললো
- কই জানি গেলো। 
- না খেয়ে
- হ্যা ।  বলছিলাম শুনলো না। 
ভালোবাসা দিন কতটা রঙিন পর্ব ২৬     





রাতে প্রীতম বাসায় ফিরলো।  দেখলো প্রিয়ন্তি ঘুমিয়ে আছে।  প্রীতম লক্ষ্য করলো প্রিয়ন্তির গালে হাতের পাঁচটা আঙ্গুলের ছাপ ফুটে উঠছে।  প্রীতম নিজেকে গালি দিতে লাগলো।  কেন যে চড় টা মারতে গেলো।  প্রিয়ন্তি রেগে গেলে মাথা ঠিক থাকে না।  প্রীতম ধীরে ধীরে প্রিয়ন্তির কাছে যায়। প্রিয়ন্তির মুখে হাত দিতে ও যেয়ে ও দেয় নি।  সরে আসলো। 

পরেরদিন ভোরে
প্রিয়ন্তির ঘুম ভাঙলো।  উঠে বসে আলসেমি ছাড়তে লাগলো।  চোখটা ডান পাশে যেতেই দেখলো একটা বক্স আর চিরকুট রাখা।  চিরকুট টা মেলে পড়লো প্রীতম লিখছে
- গত কালকের জন্য সরি।  মলম টা লাগিয়ে নিয়েন মুখে ।  দাগ টা চলে যাবে। 
প্রিয়ন্তি চিরকুট টা আর মলমের বক্স টা প্রীতমের গায়ে ছুঁড়ে মারে।  কিন্তু প্রীতমের গায়ে লাগলো না।  প্রীতম ঘুমিয়ে আছে।  প্রিয়ন্তি মনে মনে বলছে
- অন্যের সাথে ফস্টি নষ্টি করে এখন আসছে ভালো সাজতে।  আমাকে চড় মারা।  সব সুদে আসলে  বুঝিয়ে দিবো। 
প্রিয়ন্তি উঠে যেয়ে ঘরের কাজ করতে লাগলো। 

প্রীতম ঘুম থেকে উঠে দেখলো ওর পাশে চিরকুট টা আর মলম টা পড়প আছে।  হাতে নিয়ে দেখলো ইউস করে নি।  প্রীতম মনে মনে বলছে
- এতো রাগ অভিমান। 
প্রীতম উঠে ফ্রেশ হয়ে অফিসে যাওয়ার জন্য বের হবে তখনি প্রীতমের মা ডাক দিয়ে
- অফিস যাচছিস খেয়ে যা। 
- আমার জরুরী কাজ পড়ে গেছে যার জন্য আমাকে যেতে হচ্ছে। 
- আচ্ছা।  সাবধানে যাস। 

প্রীতম বাসার সবাইকে ইগনোর করতে লাগলো লাগলো।


পিহু তার বোন কে বললো
- আপু একটু বাহিরে যাচ্ছি । 
- ঘর থেকে কোথা ও যাবি না।  তোর কিছু লাগলে আমাকে বল৷  নাই তোর ভাইয়া আমাকে বুঝছিস তো। 
- কেন এমন করছো আমার সাথে।
- তুই যে কাজটা করলি তা কম কি?
- আমার সাথে কেন বিয়ে টা দিলে না?  বিয়ে টা হলে আর এতো ঝামেলা থাকতো। 
- তোর মাথা আসলে গেছে। 

আপু চলে গেলো।  পিহু বললো
- এতো সহজে শান্তি দিবো না। 


বিকাল বেলা
ঘরে বসে প্রিয়ন্তি ডায়রি পড়তে ছিলো তখনি
প্রীতমের মা এসে প্রিয়ন্তিকে বললো
- রেডি হয়ে না ও। 
প্রিয়ন্তি অবাক হয়ে
- কেন? 
- একটু মার্কেটে যাবো।  রেডি হও। 
- ঠিক আছে৷

প্রীতমের মা চলে গেলো।  প্রিয়ন্তি রেডি হয়ে বের হলো।  প্রীতমের বাবা মা আর প্রিয়ন্তি তিনজনে মার্কেটের উদ্দেশ্য বের হলো। 

পিহু ওদের যেতে দেখে  ভাবিকে বললো
- আপু  ওরা কই যাচ্ছে?
- ডাক্তারের কাছে। 
পিহু অবাক হয়ে
- কেন?
- কেন জানিস না?  প্রিয়ন্তি মা হতে যাচ্ছে। 
পিহু অবাক হয়ে
- ওদের তো তেমন সম্পর্ক হয়নি তাহলে মা কিভাবে হতে যাচ্ছে। 
- তোকে কে বলেছে হয়নি?  হয়েছে বলেই তো মা হচ্ছে।  নাই হতো নাকি। 

ভাবি চলে গেলো।  পিহু এটা জেনো মেনে নিতে পারছে না।  মনে মনে বলছে আমি থাকতে প্রিয়ন্তির বাচ্চা  কখনো পৃথিবীর আলো দেখতে পারবে না।  প্রিয়ন্তিকে তাড়িয়ে আমি প্রীতমকে নিয়ে সুখে শান্তিতে থাকবো।  প্রীতমকে আমার করে নিবো৷ 

প্রীতম সন্ধ্যার একটু আগে  অফিস থেকে বের হলো।  আজ ভাবছিলো তাড়াতাড়ি কাজ শেষ করে বের হবে কিন্তু না কাজের চাপ বেশি আজ।  আর আজকেই এতো কাজ হতে হলো।  নিজের ভেতর বিরক্তের ছাপ ফুটে উঠলো।  অফিস থেকে বেরিয়ে রাস্তায় পাশে একটা লোক বকুল ফুল বিক্রি করছে।  প্রীতম সবগুলো কিনে নিয়ে বাসার দিকে রওনা করলো। 

প্রিয়ন্তি কে নিয়ে মার্কেট করতে করতে সন্ধ্যা পার হয়ে গেলো।  মার্কেট শেষে প্রিয়ন্তিকে নিয়ে বাসায় চলে গেলো।  বাসায় এসে চাবি দিয়ে দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করতেই  চমকে উঠলো প্রিয়ন্তি।  দু হাত কানে ঠেসে ধরে  চিৎকার দিয়ে বসে পড়লো............

(waiting for next part..........) 

Leave a Comment