ভালোবাসা দিন কতটা রঙিন

পর্ব ২৭


লেখাMeherab Kabbo

(Birthday surprise 🥰🥰🥰 প্রিয়ন্তি)

(গিফট ছাড়া কেউ কিন্তু আসবেন না 😁😁)

প্রীতমের মা বাবা বাসার সামনে এসে  প্রিয়ন্তিকে চাবি দিয়ে  বললো
- তুমি দরজা খুলে ঘরে যেতে  লাগো৷  আমরা তোমার ছোট চাচার বাসা থেকে আসছি৷ 
প্রিয়ন্তি হাতে চাবি নিয়ে
- ঠিক আছে। 

বাসায় এসে চাবি দিয়ে দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করতেই  চমকে উঠলো প্রিয়ন্তি। জোরে শব্দ হলো অন্ধকার রুমে  দু হাত কানে ঠেসে ধরে  চিৎকার দিয়ে জড়োসড়ো হয়ে বসে পড়লো।  হঠাৎ করেই আলো জ্বলে উঠলো৷ সবাই একত্রে বলতে লাগলো
Happy birth day  প্রিয়ন্তি। সাথে সাথে কয়েকটা বেলুন ফুটে উঠলো।    প্রিয়ন্তি মাথাটা উঁচু করে সবাইকে দেখতে পেলো।  পিছন ফিরে দেখলো প্রীতমের মা বাবা মুচকি হাসছে।  প্রিয়ন্তি উঠে দাঁড়িয়ে থ হয়ে গেলো।  পিছন থেকে প্রীতমের মা বললো
- সারপ্রাইজ টা কেমন লাগলো। 
প্রিয়ন্তি প্রীতমের মা কে জরিয়ে ধরে   কান্না করে দিলো।  প্রিয়ন্তি কিছু বলতে পারছে না।  শশুর বাড়িতে এভাবে সারপ্রাইজ পাবে কখনো কল্পনা করতে পারে নি।  আজ প্রিয়ন্তির জন্মদিন কিন্তু প্রিয়ন্তির মনেই নেই।  অথচ  এদের মনে আছে।  ভাবি এসে প্রিয়ন্তির মাথায় হাত দিয়ে
- মা কে ছেড়ে এসো রেডি হবে। 

ভাবি প্রিয়ন্তিকে নিয়ে রুমে চলে যায়।  ভাবি একটা প্যাকেট থেকে হালকা মিষ্টি কালারের শাড়ি বের করলো।  যেটা প্রিয়ন্তির খুব পছন্দের।  প্রিয়ন্তি শাড়িটি  হাতে নিয়ে অবাক হয়ে
- খুব সুন্দর শাড়িটা।  কে এনেছে?
- প্রীতম এনেছে। 
প্রিয়ন্তির মুখটা কালো হয়ে গেলো৷  শাড়িটি পাশে রেখে
- আমি পড়বো না শাড়ি।  মার্কেট থেকে একটা শাড়ি এনেছি এটা পড়বো৷ 
ভাবি ভ্রু কুচকে
- আজকের দিন টা অত্যন্ত সবকিছু ভূলে যাও।  সময় হলে সব জানতে পারবে।  কিছু দেখার ভেতর ভূল ও থাকতে পারে। 

প্রিয়ন্তি আর কিছু বললো না।  কারণ এই ভাবির সাথেই প্রীতমকে  দেখছে রুম থেকে  বের হতে৷  আর সেই আসছে সাজাতে।  ভাবি প্রিয়ন্তিকে শাড়িটা পড়িয়ে দিয়ে মাথায় বকুল ফুল দিয়ে খোপা করে দিলেন।  প্রিয়ন্তির মনে মনে বলছে আমার পছন্দের জিনিস দিয়ে আমার রাগ ভাঙ্গানো এতোটা সহজ না প্রীতম ।  ভাবি প্রিয়ন্তিকে নিয়ে সামনের ঘরে এলো৷ সবাই আছে।  কিন্তু প্রীতম নেই।  প্রিয়ন্তি সবাইকে দেখলে ও প্রীতমকে দেখছে না।  মানুষটা নেই দেখে একটু খারাপ লেগে উঠলো।  প্রীতমের মা প্রিয়ন্তির হাত ধরে নিয়ে এসে টেবিলের সামনে এনে দাঁড় করালোন। বড় একটা কেকে লেখা happy birth day  Priyanti।  প্রিয়ন্তি কেকটা কাটলো।  সবাই happy birth day to you বলতে লাগলো আর স্প্রে করতে লাগলো। সবার মুখে হাসি।  প্রিয়ন্তি ও খুব খুশি।     কেক কেটে প্রথমে প্রীতমের মা উঠিয়ে প্রিয়ন্তিকে খাইয়ে দিলো৷  প্রিয়ন্তি ও খাইয়ে দিলো প্রীতমের মা কে।  এভাবে একে একে সবাই খাইয়ে দিলো। 
ভালোবাসা দিন কতটা রঙিন পর্ব ২৭    




সবাই আনন্দে মেতে উঠেছে।  প্রিয়ন্তির মুখে হাসি।  বেহায়া মন আর চোখ দুটো প্রীতমকে খুঁজছে।  কিন্তু প্রীতম নেই।  আজকের দিনটা স্পেশালি ভাবে উইশ টুকু করতে পারতো।  করে নি।  প্রীতমের মা পাশে এসে
- কি ভাবছো দাঁড়িয়ে?
- মা আপনারা জানলেন কি করে আজ আমার জন্মদিন। 
- তোমার  ভাবি আমাকে এসে সব টা বললো ।  প্রীতমের প্ল্যান ছিলো।  তাই তোমাকে নিয়ে মার্কেটে চলে যায়। ওরা বাড়িতে বাকী কাজ করে।   তোমার ভালো লাগে নি।

প্রিয়ন্তি মা কে জরিয়ে ধরে 
- আমি অনেক হ্যাপি মা।  আমার জীবনের স্বরণীয় একটা দিন। 
- তুমি থাকো সবাইকে খেতে দিবো। 

মা চলে যায়।  প্রিয়ন্তি ভাবছে সবকিছু যে মানুষটা প্ল্যান করলো সেই মানুষটাই নাই।  এতোটা রাগ আমার উপর করছে।  অভিমান করলো।  প্রিয়ন্তির ফোনটা হঠাৎ বেজে উঠলো।  প্রিয়ন্তির ভাবনাটা কেটে গেলো।  ম্যাসেজ এসেছে আন নোন নাম্বার থেকে।  সেখানে লেখা
প্রিয়ন্তি বোন আমাকে বাঁচাও ।  তোমার স্বামী প্রীতম আমাকে জোর করে কোথায় নিয়ে এসেছে।  আমার চারপাশ টা অন্ধকার।  ও আমার ক্ষতি করবে।  তুমি প্লিজ বোন আমাকে বাচাও।   আমার সর্বনাশ হওয়ার আগে বাঁচাও।  আমার শরীর থেকে সবকিছু ছিড়ে ফেলছে।

ইতি,
পিহু

প্রিয়ন্তি ম্যাসেজটা পড়ে বাকরুদ্ধ হয়ে গেলো।  মেজাজটা বিগড়ে গেলো।  এই প্রীতমকে প্রিয়ন্তি চিনছে না। চিনতে পারছে না।  ভালো মানুষের আড়ালে অমানুষি রুপ।  ছিঃ এতোটা জঘন্য প্রীতম।  প্রিয়ন্তির রাগ টা ক্রমেই বেড়ে যায় ।  প্রিয়ন্তি একটা নাম্বারে কল দিলো।  কলটা রিসিভ হতেই
- আমার একটা হেল্প লাগবে।
- হ্যা কি হেল্প বল?
- তোকে দুটো নাম্বার দিচ্ছি আমাকে লোকেশন টা ম্যাসেজ করে দে।
- ঠিক আছে।

ফোনটা কেটে দিলো।  প্রিয়ন্তি দরজা দিয়ে বাইরে বের হতে যাবে তখনি ভাবি সামনে দাঁড়িয়ে পড়ে
- কই যাচ্ছো।
প্রিয়ন্তি থ ম খেয়ে
- বাইরে একটু কাজ আছে।
- তুমি কেমন মেয়ে বলোতো।  যে তোমার জন্য এতোকিছু করলো তাকে একটি বার খুজলা না। 
- আমি ওকে খুঁজতেই বাহিরে যাচ্ছি। 
ভাবি অবাক হয়ে
- বাহিরে যাবা কেন?  ও তো ঘর সাজিয়ে দিয়ে সাদে উঠে বসে আছে। 

প্রিয়ন্তি হা হয়ে গেলো।  প্রিয়ন্তি অবাক হয়ে
- কি বলছেন আপনি?  ও ছাদে
- হ্যা। 

প্রীতম হাতে একটা সিগারেট ধরিয়ে বসে আছে।  একবার ভাবছে খাবে আবার ভাবছে খাবে না।  সবাই তো বলে সিগারেট খেলে কষ্ট থাকে না৷ তাহলে ও খেতে যেয়ে ও খেতে পাচ্ছে না।  সিগারেট টা অর্ধেক শেষ প্রায়।  এখনো মুখে তুলে নি।  মুখের কাছে নিয়ে আবার নামিয়ে নিচ্ছে। 

প্রিয়ন্তির ফোনে ম্যাসেজ আসলো।  লোকেশন দুটো একটা নিজের বাড়ি আরেকটা চাচিদের বাড়ি।  প্রিয়ন্তি বললো
- ভাবি পিহু কোথায়?
- ও তো বাসায় আছে৷ কেন?
- ওকে দেখলাম না তাই। 
- আমি ওকে ডাকতে যাচ্ছি।  ওর পড়ার চাপ তো বেশি৷
- আমি যেয়ে ডেকে আনি। 
- না না তুমি থাকো আমি যেয়ে ডেকে আনি। 

প্রীতমের মা ভাবিকে ডেকে নিলো।  ভাবি চলে গেলো।  প্রিয়ন্তি ঘর থেকে বেরিয়ে চাচিদের বাড়ি গেলো।  পরক্ষণেই প্রিয়ন্তি বাসায় এসে ছাঁদে উঠলো।  প্রীতম দাঁড়িয়ে আছে সিগারেট হাতে নিয়ে।  সামনে বড় একটা টিভি৷  যেখানে বাসার ভেতরের সব কিছু দেখা যাচ্ছে।  কি কি হচ্ছে সব।  তাহলে প্রীতম এতোক্ষণ এখানে বসে সব কিছু দেখতে ছিলো।  প্রিয়ন্তি পিছন থেকে প্রীতমের হাত থেকে সিগারেট টা ফেলে দিয়ে কলার ধরে.......

( waiting for next part........) 

বিঃদ্রঃ ভূলত্রুটি ক্ষমা করবেন।  ধন্যবাদ সবাইকে। 

বলেন তো কি হতে যাচ্ছে৷  কি করবে প্রিয়ন্তি প্রীতমকে।  কলার ধরলো কেন প্রিয়ন্তি।  এখন কি হবে প্রীতমের। 

special birth day wish 😁😁😁😎

Leave a Comment