ভালোবাসা দিন কতটা রঙিন
পর্ব ২৮
লেখা: Meherab Kabbo
প্রিয়ন্তি পিছন থেকে প্রীতমের হাত থেকে সিগারেট টা ফেলে দিয়ে কলার ধরে
- আপনার এতো বড় সাহস হলো কি করে সিগারেট খাওয়ার।
প্রীতম অবাক হয়ে গেলো৷ প্রিয়ন্তি রাগে ফুসছে। প্রিয়ন্তি প্রীতমকে জরিয়ে ধরলো। প্রীতম প্রিয়ন্তি কে ছাড়িয়ে চলে গেলো। প্রিয়ন্তি অবাক হয়ে গেলো। অসহায় ভাবে তাকিয়ে আছে। প্রিয়ন্তির চোখে নিজের অজান্তে চোখে পানি চলে আসলো৷
প্রীতম নিচে নামতে দেখলো পিহু সামনে। প্রীতম পিহুকে পাশ কাটিয়ে চলে গেলো। পিহু সোজা ছাঁদে উঠে গেলো। প্রিয়ন্তিকে দেখে পিহু কান্না কান্না ভাব নিয়ে প্রিয়ন্তি কে যেয়ে জরিয়ে ধরে
- আমার সব কিছু শেষ হয়ে গেলো। কি করবো এখন?
- চিন্তা করো না সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে।
- কি ঠিক হবে আমার আর এই জীবন রাখবো না?
- পাগলামি করো না। আর কয়েকটা মাস পর তোমার হাতে প্রীতমকে তুলে দিয়ে চলে যাবো।
প্রিয়ন্তি চোখের পানি মুছে চলে গেলো। পিহু দাঁড়িয়ে শয়তানি হাসি হাসতে লাগলো।
রাতে লেট করে প্রীতম বাসায় ফিরলো। প্রিয়ন্তি তখনো জেগে আছে। প্রীতমকে দেখে
- কি সমস্যা কি আপনার? ঘরে আপনার বউ আছে এটা কি ভূলে গেছেন।
প্রীতম প্রিয়ন্তির মুখে এমন কথা শুনে অবাক হয়ে গেলো৷ হঠাৎ প্রিয়ন্তি এতো ভালো ব্যবহার করছে কেন?
প্রিয়ন্তি অভিমান সুরে
- আজকের দিন টা তো আমার পাশে থাকা উচিত ছিলো৷ থাকেন নি । আমি এতো বড় অপরাধ করে ফেলছি। আমি ভেবেছিলাম আপনি আজ আমাকে সময় দিবেন৷ কিন্তু দেন নি৷ সেই বের হলেন আসলেন এখন৷ খাওয়া দাওয়ার দরকার নেই।
- খিদে নেই৷
প্রিয়ন্তি রাগি ভাবে প্রীতমের দিকে তাকিয়ে
- চুপচাপ খেতে চলে। আমার সেই কখন থেকে খিদে পাইছে। আপনার জন্য খেতে পারিনি৷
প্রীতম আবার ও অবাক হয়ে গেলো। বলে কি প্রিয়ন্তি। ওর মাথায় কি আবার ভূত উঠলো।
প্রীতম বললো
- আপনার খাওয়া আপনি যেয়ে খেয়ে নিন।
- আমি খেলে আর আপনার জন্য জন্য এতোক্ষণ অপেক্ষা করতাম না।
প্রিয়ন্তি প্রীতমের হাত ধরে নিয়ে খাবার টেবিলে নিয়ে বসালো। প্রীতম প্রিয়ন্তির ব্যবহারে রীতি মতো অবাক। ভাবি তাহলে সবকিছু বলে দিলো৷ না না ভাবিকে তো মানা করেছি। সে বলবে কেন ? তাহলে এতো ভালো ব্যবহার করছে কেন?
প্রিয়ন্তি প্রীতমের ঘাড়ে হাত দিয়ে
- কি ভাবছেন এতো খান না কেন?
প্রীতম ভাবনার জগৎ থেকে বের হয়ে
- হ্যা খাচ্ছি।
প্রীতম খাওয়া শুরু করলো৷ প্রিয়ন্তি বললো
- আমাকে বলবেন না খেতে।
- খান না কেন সামনেই তো আছে৷
![]() |
| ভালোবাসা দিন কতটা রঙিন পর্ব ২৮ |
প্রিয়ন্তি কিছুটা রাগ হয়ে খাবার টেবিলে বসলো। খাবারে হাত দিয়ে ভাবছে
- ভালোবাসা দেখাচ্ছি দেখে দূরে ঠেলে দিচ্ছে। কিন্তু তুমি তো চান্দু জানো না। তোমাকে ভালোবাসা দেখিয়ে তোমার বুকে ছুরি টা গেঁথে দিয়ে চলে যাবো৷ তোমাকে তোমার শাস্তি পেতে হবে।
খাওয়া শেষে প্রীতম যেয়ে শুয়ে পড়ে৷ কিছুক্ষণ পর প্রিয়ন্তি রুমে ঢুকলো৷ প্রিয়ন্তি যেয়ে শুয়ে পড়লো মাঝখানে কোলবালিশ। প্রিয়ন্তি কোলবালিশ টা সরিয়ে দিয়ে প্রীতমের দিকে ফিরলো। প্রীতম ওপাশ ফিরে শুয়ে আছে। প্রিয়ন্তি প্রীতমকে পিছন থেকে জরিয়ে ধরলো। প্রীতম প্রিয়ন্তিকে সরিয়ে দিলো। প্রিয়ন্তি রেগে গেলো৷ উঠে যেয়ে ওপাশে যেয়ে প্রীতমকে ডাক্কা মেরে সরিয়ে দিয়ে প্রীতমের বুকে যেয়ে জরিয়ে ধরলো। প্রীতম পুরোই অবাক হয়ে গেলো। প্রীতম প্রিয়ন্তি কে ছাড়ানোর চেষ্টা করলো কিন্তু প্রিয়ন্তি ঝাপটে ধরে আছে। প্রিয়ন্তি বললো
- একদম যদি ছাড়ানোর চেষ্টা করেন তাহলে খুব খারাপ হবে৷
প্রীতম প্রিয়ন্তিকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে
- ছাড়ুন বলছি৷
- কেন ছাড়বো। আমি আমার জামাইকে জরিয়ে ধরবো না তো কাকে ধরবো। বেশি করবেন তো খুন করে ফেলবো।
প্রীতম এবার প্রিয়ন্তিকে জোরে ডাক্কা মারলো৷ প্রিয়ন্তি তাল সামলাতে না পেরে খাট থেকে পড়ে গেলো৷ মাথায় আঘাত পেলো৷ প্রীতম লাফিয়ে উঠলো। প্রিয়ন্তির কাছে গেলো৷ প্রিয়ন্তি কান্না করছে। মাঝায় ব্যথা বেশি পাইছে। প্রীতম প্রিয়ন্তির পাশে যেয়ে
- সরি আমি বুঝতে পারি নি।
প্রিয়ন্তি কিছু বললো না। উঠার ট্রাই করলো কিন্তু পারলো না৷ প্রীতম প্রিয়ন্তিকে ধরতে যাবে তখনি প্রিয়ন্তি বললো
- একদম টার্চ করবেন না আমাকে।
কে শোনো কার কথা। প্রীতম প্রিয়ন্তিকে কোলে তুলে উপরে শুয়ে দিলো৷ কপাল টা একটু কেটে গেছে। ড্রয়ার থেকে মলম বের করে লাগিয়ে দিলো। প্রিয়ন্তি খুব কষ্ট পেলো। এভাবে তাকে বুক থেকে সরিয়ে দিলো। দূরে ঠেলে দিলো৷ প্রীতম এসে শুয়ে পড়লো। প্রিয়ন্তি মনে মনে বলছে দেখি কতো সরাতে পারে। আমি আমার প্রতিশোধ নিবোই। প্রিয়ন্তি আবার ও প্রীতমের বুকে মাথা রেখে জরিয়ে ধরলো৷ প্রীতম আর কিছু বললো না। ঘুমিয়ে গেলো।
সকালে প্রীতমের ঘুমটা আগে ভেঙ্গে গেলো। প্রিয়ন্তির ঘুমন্ত চেহারার দিকে তাকিয়ে আছে অপলক দৃষ্টিতে। ঘুমন্ত মানুষ এতো টা সুন্দর হয় প্রীতম আজ কাছ থেকে দেখছে। প্রিয়ন্তির মুখে হাত বুলিয়ে দিলো৷ প্রিয়ন্তির ঘুম ভেঙ্গে গেলো। প্রীতমের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসি দিয়ে উঠতে যাবে তখনি কোমড়ে ব্যথা অনুভব করলো। ব্যথায় উহ্ করে উঠলো। প্রীতম জিঙ্গেস করলো
- কি হয়েছে?
- ব্যথা করছে কোমড়ে৷
- বেশি ব্যথা লাগছে।
- হ্যা। আপনি আমাকে এভাবে মারলেন।
- আমি বুঝতে পারিনি। এমনটা হবে।
- বুঝবেন কেন?
আস্তে আস্তে প্রিয়ন্তি উঠে পড়লো৷ প্রীতম উঠে ওয়াশরুমে ঢুকে পড়লো৷ প্রীতম খুব শান্তি পাচ্ছে। এতোদিনের বুকের ভেতরে থাকা বড় পাথর টা সরে গেলো জেনো৷
প্রিয়ন্তি উঠে সবার জন্য নাস্তা তৈরি করলো৷ প্রীতমের মা প্রিয়ন্তির কপাকে কাটা দেখে
- বউ মা কপাল কাটলো কি করে?
- অন্ধকারে যেতে যেয়ে খাটের কোনায় গুতো খেয়ে।
- দেখে শুনে চলবা না।
- বুঝতে পারি নি।
- হয়েছে৷
- হ্যা।
সকালের নাস্তা করতে সবাই বসলো। নাস্তা শেষে প্রীতম ঘরে গেলো। প্রিয়ন্তি সব কিছু গুছিয়ে দুপুরের খাবারের আয়োজন করতে লাগলো।
বেলা ১২ টা
প্রিয়ন্তি রান্না ঘরে রান্না করছিলো। প্রীতম রান্না ঘরে ঢুকে পিছন থেকে প্রিয়ন্তি কে জরিয়ে ধরে কাঁধে মুখ গুজে দিলো৷ তখনি প্রিয়ন্তি প্রীতমকে এক ঝটকা মেরে সরিয়ে দিয়ে হাতে গরম খুঁনটি
ঠেসে ধরলো৷ প্রীতম চিৎকার মেরে উঠলো। প্রীতমের দৌড়ে আসলো
- কি হয়েছে প্রীতম?
- কড়াই তে হাত লেগে গেছে।
- কই দেখি তো৷
প্রিয়ন্তি সাবান এনে দিলো । প্রীতমের মা প্রিয়ন্তি কে বললো
- তুমি তরকারি টুকু দেখো আমি প্রীতমকে মলম লাগিয়ে দিচ্ছি৷
- ঠিক আছে।
প্রীতমকে নিয়ে রান্না ঘর থেকে বের হলো তখনি পিহু আসলো। রান্না ঘরে ঢুকে
- একদম ঠিক কাজ করেছো৷
প্রিয়ন্তি রাগি ভাব নিয়ে
- কতো বড়ো সাহস আমাকে টার্চ করে।
- ওর এটা প্ল্যান ছিলো। রান্না ঘরে এসে তোমাকে পুড়িয়ে দিতে চাইছিলো। আমি তোমাকে বাঁচাতে আসছিলাম ভালো কাজ করছো।
প্রিয়ন্তি পিহুর দিকে অসহায় ভাবে তাকিয়ে
- তুমি আমার কতো ভালো চাও। তুমি না থাকলে আমি হয়তো মরেই যেতাম। তুমি আমার বোনের চেয়ে ও বেশি৷
পিহু প্রিয়ন্তির কানে কিছুক্ষণ বিষ ঢেলে চলে গেলো।
প্রীতমের মা প্রীতমকে বললো
- তুই কি এখনো ছোট বাচ্চা। এভাবে খেতে যায়। আমাকে বলতি নাই প্রিয়ন্তিকে
- একটু শখ করে গেছিলাম। হাতে লেগে গেলো৷
প্রীতম পুরো অবাক হয়ে গেলো প্রিয়ন্তির এমন কাজ দেখে। রাতে কতো সুন্দর ব্যবহার করলো আর সকালে। আমি কি বেশি বেশি ভাবছি নাকি প্রিয়ন্তির এটা ও চালাকি। প্রীতমের ফোনে ফোন আসলো। প্রীতম ফোনটা রিসিভ করার সাথে সাথে
- তোমার ভিসা হয়েছে আগামি ১৫ দিনের ট্যুরে তোমাকে সিঙ্গাপুরে যেতে হবে।
- ঠিক আছে বস।
- আমি গাড়ি পাঠিয়ে দিছি। তুমি এখনি রেডি হয়ে বের হও।
- ঠিক আছে।
প্রীতম উঠে দাঁড়ায়। প্রীতম মাকে বললো
- আমাকে সিঙ্গাপুর যেতে হবে। আমি রেডি হয়ে নি?
- প্রিয়ন্তি কে বল ও তোর টা সব গুছিয়ে দিবে।
- কোনো দরকার নেই। ও রান্না করছে করুক৷
প্রীতম ব্যাগ গুছিয়ে ঘর থেকে বের হওয়ার সময় রান্না ঘরের দিকে প্রিয়ন্তিকে একবার দেখে নিলো। প্রিয়ন্তির উপর রাগ আর ঘৃণা দুটোই জন্মিয়ে গেলো। প্রীতম চাইলে পারতো ট্যুর টা বাতিল করতে। কিন্তু প্রীতমের আর থাকার শখ নেই।
প্রীতম চলে গেলো প্রিয়ন্তিকে না বলে.........
(waiting for next part.......)

Leave a Comment