বোকা ছেলে

পর্ব  ১৮ (শেষ পর্ব)

কলমেMeherab Kabbo

গাড়ি থেকে একটা লোক নামলো রিক্ত পুরো থ হয়ে গেলো।  রিক্তর মুখ থেকে বের হলো
- স্যা স্যা স্যার আপনি। 
- হুম আমি।  যা দেখছো সবাই আমার লোক। 
প্রিন্সিপাল বললো
- আবুল কি চাই এখানে? 
আবুল হেসে দিয়ে
- তোর জীবন৷ তোর মগজ টা।  আমার ব্যবসায়ে বাঁধা হয়ে দাড়াবি তুই তা আর হবে না। 
প্রিন্সিপাল  অবাক হয়ে
- তোর কোন ব্যবসায়।।
- তোর ভার্সিটিতে যে মাদকের ব্যবসা চলে ঐটায়।  তুই বেঁচে থাকতে আমি কখনো করতে পারবো না। তাই তোকে আমার পথ থেকে সরিয়ে দিবো৷ 
  - তুই কিন্তু ভূল করছিস।  আমাকে মেরে ফেললে তুই প্রাণে বাঁচবি না। 

আবুল হেসে দিয়ে
- কে মারবে আমাকে?  কারো কলিজা আছে মারার। 
- তোর ভালো মুখোশের আড়ালে শয়তানি লুকিয়ে আছে।  তুই বাঁচতে পারবি না। 
- আমার মতো একটা ভালো মানুষ দেখা তো। কে সাক্ষী দিবে৷ 
- সবাই দিবে।
- কেউ দিবে না।  সাক্ষী দিলে তো ওরা প্রাণে শেষ। 
- তোর এই ভালো মানুষির আসল রুপ ধরা পড়বে। 

আবুল হেসে উঠে
- কেউই কখনো কিছু জানতে পারবে না।  তোমার পাশের ছেলেটা আমার লোক। 

প্রিন্সিপাল রিক্তর দিকে তাকিয়ে
- তুই  ও শেষ পর্যন্ত ছাড়লি না। 
রিক্ত মাথা নিচু করে নেয়। সবাই দূর থেকে দেখতে লাগলো।  আবুল উচ্চ কন্ঠে হেসে উঠে বললো
- তুই তো এটা ও জানিস না।  এই ভার্সিটির যতো অপকর্ম হয় সব আমার ইশারায়।  নেশা থেকে শুরু করে সব আমি দি।  একটু ভূলের কারণে ওরা জেলে। 

সবাই অবাক হয়ে গেলো৷ আবুল জোরে হেসে উঠে
- ওদের দুজনকেই শেষ করে দাও।  কোনো সাক্ষী রাখি না আমি৷
রিক্ত আবুলের পায়ে জরিয়ে
- স্যার স্যার প্লিজ আমাকে মারবেন না।  আমি কিছু করিনি।  আমাকে ছেড়ে দেন। 

আবুল রিক্তকে লাঠি মেরে ফেলে দিলো। 

ইভা রিছাকে বললো
- রিক্তকে তো আজকে মেরে ফেলবে।  কি হবে এখন?
- রিক্তর কিছু জেনো না হয়।  ওর ক্ষতি আমি  নিজ চোখে দেখতে পারবো না। 
রিছা কান্না করার অবস্থায়। 
- ওরা খুব ডেঞ্জারাস।  কিভাবে বাঁচবে । 


রেজা সিয়ামকে আধ মরা অবস্থায় এনে সামনে ফেললো।  রিক্ত অবাক হয়ে গেলো।  আবুল সাহেব প্রিন্সিপালকে বললো
- এরা আমার কাজ করতো কিন্তু আমার সাথে বিশ্বাস ঘাতকটা করছে।  তাই এদের এই অবস্থা।

রিক্ত সিয়াম রেজার কাছে যেয়ে ওদের ধরে
- রিক্ত সিয়াম চোখ খোল তোরা।  দেখ আমি রিক্ত।  তোদের ভয় নেই। 

রিক্ত ওদের অবস্থা দেখে রেগে যায় খুব।  চোখ লাল বর্ণের ধারন করে।  রাগি ভাবে আবুলের দিকে তাকায়।  আবুল রিক্তর রাগি চেহারা দেখে
- এই দেখ তোরা বোকা ছেলের রাগি চেহারা।  মেরে ফেল সবগুলোকে৷ 

রিক্ত জোরে এক চিৎকার দিয়ে
- স্যার down
প্রিন্সিপাল স্যার মাটিতে শুয়ে পড়লো।  সাথে সাথে ফায়ার শুরু।  ভার্সিটির সবাই কানে হাত দিয়ে চোখ বন্ধ করে বসে পড়লো।  রিছার চোখ বেয়ে পানি ঝরছে।  গুলির শব্দ শেষে ইভা চোখ মেলে তাকিয়ে রিছাকে বললো
- একবার পিছন ফিরে দেখ। 
- আমি পারবো না রিক্তর লাশ দেখতে।  আমি সহ্য করতে পারবো না। 
- একবার দেখ না। 

রিছা পিছন ফিরে চোখ আসতে আসতে খুলে পুরো থ হয়ে গেলো। ইভা অবাক হয়ে

- কাকে দেখছি এ
- এটা কিভাবে সম্ভব। 

রিক্তর দু হাতে পিস্তল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।  সামনে আবুল৷  প্রিন্সিপাল স্যার ভয়তে চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছে।  রিক্ত জোরে হেসে উঠলো।  ভার্সিটির সবাই পুরো হা হয়ে গেলো।  প্রিন্সিপাল স্যার রিক্তর হাসির আওয়াজ শুনে উঠে দাঁড়িয়ে পুরো থ হয়ে গেলো।  আবুল এক পা পিছে সরে যেয়ে
- ক ক ক কে তুই
- সিক্রেট
আবুলের গলা শুকিয়ে গেলো।  সিক্রেট নামটা শুনে রিছা বেশি হা হয়ে গেলো।  তার এলাকায় যে সিক্রেট খবরে সিক্রেট সব জায়গায় শুনেছে।  রিবা মিরা রিছাকে বললো
- এই বোকা টা সিক্রেট হয় কিভাবে।  ও তো বলদ
। ও এতো পাওয়ারফুল হতে পারে না।
- দেখে তো হাবাগোবা লাগতোই।  কিন্তু ভেতরে এতো পাওয়ারফুল। 
রিছা বললো
- আমার মাথায় কিছুই ঢুকছে না।  ও রিক্ত বোকা রিক্ত সিক্রেট হবে  কেন?

আবুল ভয়তে
- আমার ভূল হয়ে গেছে।  প্লিজ মাফ করে দাও রিক্ত। 
রিক্ত হেসে উঠে
- ভূল তো সবাই করে। কিন্তু সব ভূলের মাফ সবাই পাই না।  তোকে আমি অনেক খুঁজেছি। তোর মতো কীট কে রেখে দেশের ক্ষতি করতে চাই না।    অনেক অত্যাচারের শিকার হয়েছি।  ছদ্মবেশ ধরতে হয়েছে আমাকে।  কেন জানিস

আবুল অবাক হয়ে চেয়ে আছে।  রিক্ত চরম ঘৃণা নিয়ে
- আমার বাবাকে মারার প্ল্যান করছিলি৷  না পেরে তাকে মিথ্যা মামলায় ভাসিয়ে তাকে হাসপাতালে পাঠিয়েছিস। তার মিশনের দায়িত্ব টা আমি নিয়েছি।  আজ আমি সফল তোর মতো বড় মাফিয়াকে ধরতে।  
- কে?

রিক্ত হাত দিয়ে ইশারা করলো।  আবুল রিক্তর বাবাকে দেখে পিছে সরে যায়।  কয়েকটা গাড়ি ভেতরে ঢুকে।  সবাই হা করে চেয়ে আছে।  রেজা সিয়ামকে হাসপাতালে পাঠিয়ে দিলো।  পুলিশের সবাই চারপাশ ঘিরে ধরলো।  পুলিশ অফিসার বললো
- একে কি নিয়ে যাবো?
- কি দরকার ওকে নিয়ে জেলে রেখে।  শেষে তো জেল খানায় নষ্ট হবে। 
- তাহলে কি করবো
- ছেড়ে দেন। 
- ঠিক বলেছো। 

আবুল ওদের কথা শুনে অবাক হয়ে গেলো।  ছেড়ে দিলো ওকে।  আবুল মনে মনে খুশি।  একবার বের হতে পারলে সবাইকে দেখে নিবে। হঠাৎ করেই আবুল মাটিতে লুটিয়ে পড়লো।  বড় স্যার রিক্তর দিক তাকাতে  রিক্ত মুচকি হাসি দিলো৷
লাশ গুলো গাড়িতে তুলে নিয়ে চলে গেলো।  রিক্ত পিস্তল হাতে নিয়ে রিছার সামনে দাঁড়িয়ে
- সরি একটু বেশি অভিনয় করা হয়ে গেছে।  আমি দেখতে চেয়েছিলাম তুমি আমাকে ভালোবাসো কি না।  ইভার থেকে শুনে সিউর হলাম গতকাল। 
বোকা ছেলে অন্তিম পর্ব 




রিছা পিছে সরে যেয়ে
- সরি মিস্টার রিক্ত আমি আপনাকে ভালোবাসি না।  আমি ভালোবেসেছি একজনকে সে আপনি না। 
ইভা রিছাকে ডাক্কা মেরে
- এই তুই তো শুধু রিক্ত রিক্ত করতিস আজ এটা বলছিস কেন?
- হ্যা আমি ভালোবাসতাম এখনো ভালোবাসি সেই বোকা রিক্ত কে কিন্তু এই নতুন রিক্তকে না। 
- ঠিক আছে। 

রিক্ত চলে আসলো।  ইভা রিছাকে বললো
- কাজটা ঠিক করলি না।  রিক্তকে পেয়ে ও হারিয়ে ফেললি। 

কিছুক্ষণ পর
আফসানা রিছার সামনে দাঁড়িয়ে একটা কার্ড দিয়ে
- আমার আর রিক্তর বিয়ের কার্ড।  সময় মতো চলে এসো।   আর হ্যা রিক্ত সেই আগের বোকা রিক্ত টাই থাকবে আমার কাছে।  বাইরে যা থাকার থাকুক সমস্যা নেই।  কিন্তু আমার কাছে stupid থাকবে। 

আফসানা চলে গেলো।  রিছা হা হয়ে রইলো।  ইভা রিছাকে বললো
- তুই কখনো রিক্তকে ভালোবাসিস নি।  সবটা তোর আবেগ।  ওরা দুজনে সুখী হোক দোয়া করি। 
ইভা চলে গেলো৷  রিছার চোখ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়লো৷ কার্ডটা ছিঁড়ে ফেললো।   রিছা গেইট দিয়ে বাইরে  বের হয়ে দেখলো রিক্ত দাঁড়িয়ে আছে।  কথা বলছে।  রিছা কোনো কিছু না ভেবে সোজা যেয়ে রিক্তকে জরিয়ে ধরে কেঁদে দিলো।  রিক্ত হা হয়ে গেলো।  রিছা বললো
- তুমি প্লিজ অন্য কাউকে বিয়ে করো না।  আমি তোমাকে ছাড়া থাকতে পারবো না।  তুমি প্লিজ আমাকে ছেড়ে দিয়ো না।  আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি।  তুমি আমার বোকা রিক্ত হয়ে থেকো এতো কঠিন মানুষ হইয়ো না।  আমি কঠিন মানুষদের ভয় পাই। 

পিছন থেকে আফসানা বললো
- বাহ্ বাহ্ অন্যের জামাই কে জরিয়ে ধরতে লজ্জা লাগছে না।  কি যুগ এলো রে বাবা?

আফসানার কথা শুনে রিক্তকে ছেড়ে দিলো। রিছা মাথা নিচু করে রইলো।  আফসানা মুচকি হাসছে।  আফসানা রিছার হাতে আরেকটা কার্ড দিয়ে
- কার্ডটা খুলে দেখলে হয়তো এই সমস্যাটা হতো না। 

রিছা কার্ডটা খুলে দেখলো নিজেরই নাম দেওয়া কার্ডে।  লজ্জায় মাথা নিচু করে নিলো।  আফসানা রিছার পাশে দাঁড়িয়ে
- রিক্ত বলছিলো তোমার কথা।  আমি ওকে বলছিলাম তোর মতো বোকা সোকাকে ঐ মেয়ে ভালোবাসতে পারে না।  তাই এই প্ল্যানটা করা।  তুমি যদি ভালো না বাসতে তাহলে ও তো ফিরিয়ে দিতা। 

রিছা রিক্তর দিকে তাকিয়ে
- এর আগে আমাদের ওখানে যে কাজ গুলো হয়েছে সব তুমি করেছো। 
- হুম।  পেপারে দেখলাম  এলাকার নাম।  তাই সোজা চলে এলাম।  বন্ধু বান্ধবী সবাইকে দেখা হলো৷  আর তোমাকে পেয়ে গেলাম। 
রিছা লজ্জায় কিছু বলতে পারছে না আর।  রিক্তকে জরিয়ে ধরলো। 
- সেদিন পরিক্ষা শেষে তোমাকে বলতে চেয়েছিলাম কিন্তু তুমি কোথায় চলে গেছিলা। 
- আমার অন্য জায়গায় কাজ পড়ে গেছিলো।  বলার টাইম পাইনি।

রেজা সিয়াম রিক্তর পরিচয় জানতে পেরে রিক্তর কাছে যেয়ে মাফ চাইলো।  তখনি প্রান্ত আসলো৷  প্রান্তকে দেখে রেজা সিয়াম হা হয়ে গেলো।  রেজা বললো
- তু তু তুই পুলিশ
- হ্যা রে।  বাবা মারা যাওয়ার পর সংসার চালাতে কষ্ট হচ্ছিলো।  রিক্ত কি করে জেনে আমাকে পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে নিয়ে পাঠায় দেয় ট্রেনিং এ।  রিক্তর পরিচয় তখন ও জানতে পারিনি। পরে জেনেছি। 
- আমাদের বললি না কেন?
- বারন ছিলো।  আমরা তো স্বার্থপর দরকার ছাড়া তো আর কেউ কারো খোঁজ  নি না।  তোরা নিছিলি একবার ও খোজ।  কেমন আছি কই আছি৷ 

রেজা সিয়াম মাথা নিচু করে নিলো। 

সবাই সবার ভূল বুঝতে পেরে একত্রিত হয়ে গেলো।  রিক্ত রিছার বিয়ে টা ও হয়ে গেলো। 

(রোমান্টিকতা আমাকে দিয়ে হবে না 😁😁।  তাই আর লিখতে পারলাম না।  এখানেই শেষ করে দিলাম৷।  ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন সবাই। ) 

রিছা রিক্তর সুখের সংসারে আপনাদের দাওয়াত ।  কোনো চুন্নি থাকলে এসেন ওদের মাঝে প্যাচ লাগাতে।  তাহলে হবে নতুন গল্প ☺।

সমাপ্ত

বিঃদ্রঃ  গল্প টার সাথে বাস্তবের কোনো মিল নেই।  গল্প শুধুই গল্প৷  কল্পনার জগতে মানাই বেশি।  কখনো যদি রোমান্টিকতা লিখতে পারি অবশ্যই লিখবো৷ 





Leave a Comment