বোকা ছেলে
পর্ব ১০
কলমে: Meherab_Kabboরেজা সিয়াম প্রান্তর মনের ভেতর ভয় জন্মে গেলো। ওদের জেল খানায় গেলে আর রক্ষে থাকবে না। যাদের হয়ে কাজ করতো তারা সবাই ধরা খেয়েছে৷ রিক্তর কিছু হলে তো আর রক্ষা থাকবে না৷ রিক্তর বোকামি গুলো মনে করে হাসছে। পরক্ষণেই কেঁদে দিলো তিন জনে। সিয়াম বললো
- রিক্তর সাথে করা কাজ গুলো আমাদের খুব অন্যায় হয়েছে।
প্রান্ত বললো
- রিক্ত কি আমাদের মাফ করবে।
রেজা বললো
- না রে। ওর সাথে আমরা অনেক মজা নিছি অন্যায় করেছি ওকে আমরা মারতে চেয়েছি। ও কখনো আমাদের ক্ষমা করবে না।
তিনজনে আরো অনেক বলতে লাগলো।
হাসপাতালের সামনে বড় স্যারের গাড়ি এসে থামলো৷ পিছনে ফোর্স। গাড়ি থেকে নেমে হাসপাতালের ভেতরে ঢুকলো৷ সিয়াম রেজা প্রান্ত বড় স্যারকে দেখে উঠে দাঁড়িয়ে মাথা নিচু করে নিলো। বড় স্যার রিক্তর বেডে ঢুকলো৷ ডাক্তার এখনো রিক্ত কে দেখছে৷ বড় স্যার ডাক্তারকে জিঙ্গেস করলো
- কি অবস্থা এখন?
- বিপদ কেটে গেছে। ৬ ঘন্টার ভেতর জ্ঞান ফিরবে।
- কোনো অসুবিধা নেই তো ছেলেটার।
- না স্যার।
- ধন্যবাদ।
বড় স্যার বেড থেকে বাহিরে বের হয়ে প্রান্ত সিয়াম রেজার সামনে দাঁড়িয়ে কনস্টেবল কে বললো
- এদের তিন জনের উপর ঠিক মতো নজর রাখবে। এরা জেনো ছেলেটার কোনো ক্ষতি না করতে না। ছেলেটার কিছু হলে এদের নিয়ে ফাঁকা মাঠে নিয়ে ক্রসফায়ার করে দিবে।
বড় স্যারের কথা শুনে তিন জনে আতংক হয়ে গেলো। কি বলছে এসব বড় স্যার। তিন জনে বড় স্যারের পায়ে পড়ে
- স্যার আমরা কোনো দোষ করিনি। আমাদের সাথে এমনটা করবেন না। মা বাবার স্বপ্ন তাহলে ভেঙ্গে যাবে।
বড় স্যার পা ছিটকে সরিয়ে দিয়ে ধমক সুরে
- মা বাবার কথা এখন মনে পড়ছে। অপকর্ম করার আগে মনে ছিলো না। জানা ছিলো না অপকর্ম করলে কেউ ছাড় পায় না। তোদের শাস্তি তোরা পাবি । ছেলেটাকে বাসার ভেতর ঢোকানোর আগে মাথায় ছিলো না। কি হতে পারে।
বড় স্যার চলে গেলো। তিনজনে বড় স্যারের যাওয়ার দিকে চেয়ে রইলো৷
কিছুক্ষণ পর রিবা, রিছা হাসপাতালে চলে আসলো। তিনজনকে দেখে রিছা বললো
- রিক্ত কই।
সিয়াম হাত দিয়ে বেড দেখিয়ে দিলো৷ রিছা রিবা ভেতরে ঢুকতে গেলে নার্স বের করে দিয়ে বললো
- রোগীর জ্ঞান ফিরুক। এর আগে দেখতে পাবে না।
রিছা রিবা তিনজনের দিকে চেয়ে আছে। তিনজনে মাথা নিচু করে নিলো। রিবা বললো
- তোরা রিক্তর সাথে মজা নিতে নিতে ওকে মৃত্যুর দোয়ারে পাঠাতে তোদের একটু ও বাঁধলো না।
রিছা বললো
- ওরা তো পারে শুধু নরম মানুষের সাথে৷ ভালো কারো সাথে পারবে না।
নিজেদের কাছে অপরাধ বোধ করতে লাগলো।
রিক্তর মা রিক্তর ফোনে ফোন করলে বড় স্যার ফোনটা রিসিভ করেই
- আসসালামু আলাইকুম
- ওয়ালাইকুম আসসালাম । কে আপনি? রিক্ত কোথায়।
- রিক্ত ক্লাসে আসে। ওখানে ফোন নিয়ে ঢোকা নিষিদ্ধ। আমার কাছে রেখে গেছে।
- আচ্ছা ও আসলে বলে আমাকে দিতে। আর বলেন আমার আসতে ৭ দিন লাগবে।
- ঠিক আছে।
ফোনটা কেটে গেলো। রিক্তর মা মনে মনে বলছে যাক শান্তিতে গ্রামে আসতে পারছি। থাকতে পারছি। তা হলে সবকিছু চাল ডাল হয়ে যেতো।
একজন অফিসার এসে বড় স্যারের রুমে ঢুকে সেলুট দিয়ে
- স্যার ওরা কোনো কিছু বলছে না। কোনো তথ্য দিচ্ছে না।
বড় স্যার উঠে দাড়িয়ে
হুম ওদের অন্ধ মহলে পাঠিয়ে দাও। ওদের হাজার মারলে ও মুখ খুলবে না। আসল কালপিট কে খুব শ্রীগ্রই ধরবো৷
অফিসার অবাক হয়ে
- স্যার কিভাবে
- এটা যেভাবে পেয়েছো। ওটা সে ভাবেই পাবে৷
- স্যার এবার কি সম্ভব হবে৷
- কেন নই।
বিকালে রিক্তর জ্ঞান ফিরলো। রিছা রিবা রিক্তর বেডে ঢুকলো। রিছা রিক্তর পাশে যেয়ে
- কি হয়েছিলো তোমার বলো তো?
রিক্ত রিবা আর রিছার দিকে তাকালো। রিছা আবারো বললো
- কি হয়েছিলো তোমার বলো তো?
- আমি এখানে কেন? কে নিয়ে আসছে?
রিবা বললো
- তুই হাসপাতালে আছিস। পরিত্যক্ত বাসা থেকে পুলিশ তোকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসছে।
- পরিত্যাক্ত বাড়ি, পুলিশ আমি হাসপাতালে কিছুই বুঝছি না
বেডে এর ভেতর ডাক্তার ঢুকে পড়ে
- আপনারা ওকে উত্যক্ত করবেন না। মাত্র জ্ঞান ফিরছে। রেস্ট নিতে দেন।
![]() |
| বোকা ছেলে পর্ব ১০ |
রিবা রিছা উঠে দাঁড়ালো। ডাক্তার রিক্তর দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে
- কেমন ফিল হচ্ছে এখন
- হ্যা ভালোই। তবে আমি এখানে কেন?
- তোমাকে এখানে আনা হয়েছে অচেতন অবস্থায়। তুমি মনে করো তো কি হয়েছিলো তোমার সাথে।
রিক্ত মনে করার চেষ্টা করলো। হ্যা মনে পড়েছে৷ রিক্ত বললো
- আমি তো ঐ ভূতুরে বাড়ির ভেতর ঢুকলাম ভয়ংকর আওয়াজ। কিছুদূর যেতে মাথার উপর কি পড়লো আর কোনো কিছু মনে নেই।
রিক্তকে সবটা বললো। রিক্ত শুনে অবাক হয়ে গেলো। সিয়াম রেজা প্রান্ত বেডের ভেতর ঢুকলো। রিক্ত ওদের দেখে
- তোরা। কখন আসছিস।
সিয়াম বললো
- তুই যখন বাড়ির ভেতর ঢুকছিস৷ তখন থেকে তোর অপেক্ষা করতে করতে এই পর্যন্ত। বাসায় যায় নি না খাওয়া দাওয়া।
রিক্ত অবাক হয়ে গেলো। রিক্ত বললো
- কেন?
রেজা বললো
- তোর জন্যই সব হলো। তোকে আমরা বাড়ির ভেতর পাঠিয়েছি তোর কিছু হলে আমাদের তো জেল খানায় যেতে হবে৷
- আমার জন্য৷ ।
প্রান্ত বললো
- হ্যা। এতোক্ষন তোর জন্য রয়েছি।
- সরি রে আমি বুঝতে পারিনি। আয় বোস তোরা
- বড় স্যারকে বলিস আমরা কিছু করিনি।
- ঠিক আছে। বলবানি।
বেডের ভেতর নার্স ঢুকে
- এই বের হোন সবাই। রোগীর পাশে এতো ভির করা যাবে না৷
সবাই বের হয়ে গেলো৷ পুলিশের কনস্টেবল বেডে ঢুকে
- আপনাকে আমাদের সাথে যেতে হবে। বড় স্যার ডেকেছে।
রিক্ত ভয় পেয়ে গেলো। কি হবে এখন? রিক্ত অনেক কিছু ভাবতে লাগলো৷
নার্স বললো
- দুদিনে আগে যেতে পারবে না। তাকে ডিস্টার্ব করবেন না।
বড় স্যার হাসপাতালে রিক্তর বেডে ঢুকে বসলো। সিয়াম রেজা প্রান্তর মনের ভেতর ভয় বাড়তে লাগলো৷ রিক্ত কিছু বললে তো সব শেষ.......
(waiting for next part......)

Leave a Comment