বোকা ছেলে
পর্ব ১১কলমে: Meherab Kabbo
বড় স্যার হাসপাতালে রিক্তর বেডে ঢুকে বসলো। সিয়াম রেজা প্রান্তর মনের ভেতর ভয় বাড়তে লাগলো৷ রিক্ত কিছু বললে তো সব শেষ। বড় স্যার রিক্ত কে বললো
- কেমন ফিল করছো এখন?
- জ্বী ভালো।
- তা তুমি ঐ পরিত্যক্ত বাসার ভেতরে কেন গেছিলা?
- ভূতকে দেখতে৷
বড় স্যার অবাক হয়ে
- ভূত দেখতে মানে। নাকি তোমাকে এই তিন জন ভেতরে পাঠিয়েছিলো।
প্রান্ত সিয়াম রেজা ভয় পেতে লাগলো। গলা শুকিয়ে গেলো। রিক্ত ওদের তিন জনের তাকিয়
- না স্যার। আমি ওদের নিয়ে গেছিলাম ওরা বাহিরে থাকবে আমি ভেতর থেকে ঘুরে আসবো। ওদের সাথে বাজি ধরেছিলাম। ওরা আমাকে বারণ করেছিলো৷
রিক্তর কথা শুনে তিন জনে হাফ সেরে বাচলো। বোকাটা কিছু বলে নি। যদি সত্যি টা বলতো তাহলে আর কোনো রক্ষা থাকতো না।
বড় স্যার উঠে দাঁড়িয়ে রাগি গলায়
- আজ যদি তোমার কিছু হয়ে যেতো তাহলে এই ছেলে তিন টার কি হতো? বিনা কারণে ওদের জেল হতো।
- সরি স্যার। আমি বুঝতে পারি নি।
- তোমাদের সামান্য ভূলের কারণে নির্দোষ মানুষ গুলোকে শাস্তি পেতে হতো৷
রিক্ত মন টা খারাপ করে মাথা নিচু করে নিলো। বড় স্যার বেড থেকে বেরিয়ে গেলো। সিয়াম, প্রান্ত, রেজা রিক্তর হাত ধরে
- আমাদের প্লিজ মাফ করে দে। আমরা অনেক বড় অন্যায় করে ফেলছি তোর সাথে। আমাদের কে বাঁচিয়ে দিলি৷ তোর সাথে আর কখনো এমন টা করবো না। তোকে কোনো বিপদে ফেলবো না
- আমার একটা কথা রাখবি।
- বল দোস্ত তোর সব কথা রাখবো।
- মন দিয়ে পড়াশোনা কর। আর এই সব বাজে কাজ থেকে দূরে থাক। বাজে কাজ কখনো ভালো কিছু এনে দেয় না। পড়াশোনা ঠিক মতো করে মানুষের মতো মানুষ হ। মা বাবার স্বপ্ন গুলো পূরণ কর।
- ঠিক আছে। আমরা আজ থেকে ভালো পথেই চলবো। ঠিক মতো পড়াশোনা করবো ফাঁকি দিবো না।
বেডের ভেতর আঙ্কেল আর নিলয় ঢুকলো। প্রান্ত সিয়াম রেজা পাশে সরে গেলো। আঙ্কেল তিন জনের দিকে রাগি দৃষ্টিতে তাকিয়ে তাকালো। নিলয় রিক্তকে বললো
- তুই এতো বলদ কেন? তোর কি বুদ্ধি হবে না কখনো।
আঙ্কেল রিক্তর দিকে তাকিয়ে
- তোকে জানিস এখন মারতে ইচ্ছে করছে। তোর কিছু হয়ে গেলে আমি তোর মা কে কি জবাব দিতাম। তোর মতো বোকা ছেলের জন্য আমরা সবাই জেল খানায় থাকতে হতো।
রিক্ত নরম সুরে
- সরি। আমি বুঝতে পারিনি।
আঙ্কেল একটু ঠান্ডা হয়ে
- বল তো কি হয়েছিলো? পুলিশ গেলো কিভাবে। তুই ইনফর্ম করছিলি।
- না আঙ্কেল। আমি বাড়ি ভেতর ঢোকার কিছুক্ষণ পর মাথায় কি জেনো এসে পড়ে৷ তারপর উঠে দেখি হাসপাতালে। কি হয়েছিলো ওখানে?
নিলয় সবকিছু বললো। রিক্ত হা হয়ে গেলো। আঙ্কেল তিন জনের দিকে তাকিয়ে
- তোরা কেউ কি গোপন তথ্য দিয়েছিলি।
- না না আঙ্কেল। প্রশাসন সাংবাদিক তো আমাদের সামনে দিয়েই ছিলো। কেউ ভেতরে ঢুকতে পারে নি।
আঙ্কেল উঠে দাঁড়িয়ে
- থাকো আমি একটু পর আসবো।
আঙ্কেল চলে গেলো। নিলয় বললো
- তোমাকে কবে ছাড়বে।
- পরশু দিন৷
- তা তোমার মাথায় কি বুদ্ধি আসবে না কখনো?
- কেন ভাইয়া?
- যে যায় বলে বোকার মতো করতে যাও কেন?
- আমি কি জানতাম নাকি। আমি বোকা না।
- হ্যা তা তো দেখতেই পারছি।
রিছা রিবা মিরা খাবার হাতে নিয়ে বেডে ঢুকলো। নিলয় অবাক হয়ে
- তোমরা ভাত নিয়ে
- ঐ যে তিনটা গরু এখনো কিছু খায়নি। ওরা তো শুধু পারে ছাগল টা কে বিপদে ফেলতে। কবে যে বুদ্ধি আসবে।
- রিক্তর মা আসেনি।
মিরা বললো
- যাচ্ছিলাম খবর দিতে কিন্তু শুনলাম বাসায় নেই।
- ওহ। আচ্ছা তোমরা খাওয়া দাওয়া করো আমি রাতে আরেক বার আসবানি।
রিছা বললো
- ভাইয়া খাইছেন আপনি।
- হ্যা খেয়েই তো আসছি। তোমরা খাও এখন।
নিলয় বের হয়ে গেলো। রিছা রিবা মিরা প্রান্ত সিয়াম আর রেজা কে খেতে দিলো। আরো কিছু বকা দিলো।
![]() |
| বোকা ছেলে পর্ব ১১ |
দুই দিন পর
রিক্ত কে হাসপাতাল থেকে রিলিজ দিয়ে দিছে। রিক্তকে নিতে সিয়াম রেজা প্রান্ত রিছা রিবা মিরা আসছে। রিক্ত কে বেরিয়ে গেলো। একটা গাড়িতে উঠে রিক্তর বাসার সামনে এসে থামলো। বাসা টা কুঁড়ে ঘরের মতো গাড়ি থেকে নামলো রিক্তর বাড়ির অবস্থা দেখে মিরা অবাক হয়ে
- এটা তোদের বাড়ি।
- হ্যা। আমার রাজ প্রাসাদ।
রিবা বললো
- তুই তো দেখি বড় বোকা৷ রাজপ্রাসাদ কাকে বলে জানিস।
রিছা ওদের দুজনকে থামিয়ে
- যার বাড়ি তার কাছে রাজপ্রাসাদ। এতে সমস্যার কি আছে?
- তাই বলে কুঁড়ে ঘর।
- তোদের যদি বেশি সমস্যা হয় তাহলে চলে যা।
- হ্যা। আগে জানলে কে আসতো।
রিবা মিরা চলে গেলো। রিছার ব্যবহারে মুগ্ধ রিক্ত৷ রেজা বললো
- আরে ওদের কথা কানে তুলিস না। নতুন নতুন বড় লোক হয়েছে তো তাই ভাবে মাটিতে পা পড়ে না।
- না না ঠিক আছে। কিন্তু তোদের কে তো আপ্যায়ন করতে পারবো না।
সিয়াম বললো
- আরে বোকা আমরা কি বাহিরের মানুষ। চল ভেতরে।
দরজার তালা খুলে ভেতরে ঢুকলো। চার পাশ থেকে আলো আসছে। খাটের উপর বসতে দিলো। রিক্ত বেশ লজ্জিত। কখনো ভাবেনি বন্ধুরা ওর বাসায় আসবে। রিছা বললো
- আরে রিক্ত তুমি এতো ছটফট করছো কেন?
রিক্ত থ ম খেয়ে
- ক ক কই
- অস্থির হইয়ো না। চুপচাপ বসো। আমরা তো যে কোনো সময় আবার তোমার বাড়িতে চলে আসবো ্ তখন আপ্যায়ন কইরো।
রিক্ত মাথা নিচু করে নিলো৷ রিক্তর সাথে কিছুক্ষণ কথা বলে চলে গেলো সবাই।
২ দিন পর
কোচিং পরীক্ষা চলছে। রিক্ত আজ ও পরীক্ষার খাতায় কিছু লিখছে না। ক্লাসে ম্যাডাম খুব রেগে আছে। ম্যাডাম রিক্তকে কিছু লিখতে না দেখে রেগে বললো
- পড়া যখন পারো না তখন আসছো কেন? পড়াশোনা করতে। যাও বিলে যেয়ে কাবলা করো। পরীক্ষা দিতে আসতে বলছে কে?
রিক্ত ম্যাডামের দিকে তাকাতে ম্যাডামের মুখে চিন্তার ছাপ দেখতে পেলো। ম্যাডার আরো অনেক কিছু শুনিয়ে খাতা নিয়ে রেখে দিয়ে রিক্তকে বের করে দিলো৷ রিছা রিক্তর যাওয়ার দিকে তাকিয়ে ছিলো৷
রিক্ত বাইরে বেরিয়ে সামনের দিকে গেলো। আঙ্কেল কে দেখলো মুখটা শুকনো হয়ে গেছে। নিলয় ভাইয়ার সাথে কথা বলছে। রিক্ত বাহিরে চলে আসলো।
পরের দিন
কোচিং এ পরীক্ষা দিতে এসে শুনলো ম্যাডাম নিখোঁজ। কেউ কোনো কিছু বলতে পারছে না। কই গেলো কেউ বুঝছে না। রিক্ত আজকে ও খাতায় কিছু লিখলো না। খালি খাতা জমা দিয়ে বেরিয়ে গেলো৷ রাস্তা দিয়ে হাটছে আর ভাবছে ম্যাডাম নিখোঁজ হলো কিভাবে। নাকি আত্নহত্যা করছে।
- আমার এতো কিছু জেনে হবে কি?
রিক্ত বাসায় চলে গেলো।
৭ দিন পর
মর্জিনা বেগম বাসায় আসলো। রিক্ত কে দেখে
- বাবা যা আছে সব কিছু গোছানো শুরু করো।
রিক্ত অবাক হয়ে
- কেন মা কি হয়েছে?
- এই শহর অভিশপ্ত তে ভরা। দিন দিন মানুষ নিখোঁজ হচ্ছে। আমি তোকে হারাতে চাই না। আমরা গ্রামে চলে যাবো।
- মা আমার তো আর কিছুদিন পর পরীক্ষা তখন কি করবানি।
- তোকে পরীক্ষা দিতে হবে না। আামার সাথে যেতে হবে।
- মা। আমি কি মেয়ে যে আমাকে ধরে নিয়ে যাবে।
রিক্ত মা কে বোঝালো। মর্জিনা বেগমকে অনেক কষ্ট করে বোঝালো৷
সংবাদ পত্রিকায় প্রকাশিত হলো
- ভূতুড়ে বাড়ির রহস্য উন্মোচন করার পর নতুন করে আসলো নিখোঁজ। টার্গেট শুধু মেয়েদের। কিন্তু ফ্যামিলর কাছে কোনো মুক্তিপন দাবি করছে না কেউ। তাহলে কে বা কারা করছে এমন কাজ। পুলিশ কি পারবে আসল রহস্য উদঘাটন করতে।
আজ কোচিং এ বিদায় অনুষ্ঠান । সবার রেজাল্ট দেওয়া শেষে রিক্তর রেজাল্ট দেওয়ার সময় আঙ্কেল খুব রাগি দৃষ্টিতে তাকালো......
(Waiting for next part.....)
বিঃদ্রঃ গল্পটা বাস্তবের সাথে কোনো মিল নেই। গল্পটা শুধু গল্ প।।।।।।।।।।।।।।।।

Leave a Comment