বোকা ছেলে

পর্ব  ১২

কলমেMeherab_Kabbo



আজ কোচিং এ বিদায় অনুষ্ঠান ।  সবার রেজাল্ট দেওয়া শেষে রিক্তর রেজাল্ট দেওয়ার সময় আঙ্কেল খুব রাগি দৃষ্টিতে তাকালো রিক্তর দিকে।  কারণ রিক্তর কোনো মার্ক নেই৷  রিক্ত পেয়েছে ০০।  আঙ্কেলের তাকানো দেখে সবাই একটু ভয় পেয়ে উঠলো।  আঙ্কেল বললো
- বিদায় অনুষ্ঠানের দিন ভাবছি সবাইকে হাসিখুশি মুখে বিদায় দিবো।  কিন্তু রেজাল্টের সিট দেখে তা আর হবে না। 
রেজা উঠে দাঁড়িয়ে
- কেন আঙ্কেল কি হয়েছে? আমরা কেউ ভালো করিনি৷ 
- হ্যা ভালো করেছিস কিন্তু একটা ব্যক্তি খারাপ করেছে৷ 
- কে আঙ্কেল?
আঙ্কেল গম্ভীর গলায়
- এই রিক্ত উঠে দাড়া।
রিক্ত উঠে দাঁড়াতে আঙ্কেল বললো
- তোকে আমার কোচিং কে আসতে বলছে।  কে পাঠিয়েছে তোকে এই কোচিং এ।  আমার কোচিং এর বদনাম করার জন্য। 

রিক্ত বোকা বোকা ভাবে তাকিয়ে পড়লো আঙ্কেলের দিকে।  আঙ্কেল বললো

- আমার কোচিং এর যদি বদনাম হয় তোর জন্য তো তোর খবর আছে।  তুই আমার কোচিং এর নাম বলবি না কাউকে।  

রিক্ত মাথা নাড়ায়।  আঙ্কেল সবার হাতে রেজাল্ট দিয়ে দিলো।  রিক্তর মুখে ছুড়ে মারলো।  আঙ্কেল চলে গেলেন ক্লাস থেকে।

বিদায় অনুষ্ঠানে সবার লেকচার শোনা শেষে বের হলো সবাই।  রিছা রিক্তর সামনে দাঁড়িয়ে
- তুমি এমন কেন?
- কেন আমি কি করলাম? 
- তুমি পড়াশোনা করো না।  আঙ্কেল কত গুলো কথা শোনালো।  আমার টা দেখে লিখলে ও তো পারতা।  তোমার জন্য সবাইকে কথা শুনতে হলো।  - পড়াশোনা করতে ভালো লাগে না। 
- তাহলে তোমার মা কে যেয়ে বলো তুমি কামলা খাটবে। 
রিক্ত মুখটা মলিন করে দিয়ে
- ওত কষ্টের কাজ করতে পারবো না। 
- তুমি পারবে ও না  কিছু করতে বুঝলে। 

রিক্ত বোকার মতো তাকিয়ে আছে রিছার দিকে।  রিছার বেশ ভালো লাগে রিক্তর এই বোকামিগুলো।  সহজ সরল।  রিছা রিক্তকে খুব পছন্দ করে।  ভালোবাসে কি না জানে না। 

রিছা বললো
- বাসায় যাবে না। 
- হ্যা।  নিলয় ভাইয়ার সাথে একটু কথা বলা লাগবে।
- আচ্ছা কথা বলে এসো আমি বাহিরে দাঁড়িয়ে আছি৷ 

রিছা চলে যেতেই রিক্ত নিলয়ের সামনে যেয়ে দাড়ালো।  নিলয় বললো
- তুমি এখানে
- ভাইয়া ম্যাডামের কি কোনো খোঁজ পেয়েছেন। 
- না।  হঠাৎ ম্যাডামের কথা। 
- না মানে সেদিন ম্যাডামের মুড খারাপ ছিলো।  আমাকে অনেক বকেছিলো।  তাই মনে পড়লো। 
- কি হলো বুঝতে পারছি না?  কিন্তু
রিক্ত হা হয়ে
- কিন্তু কি?
- সেদিন  ম্যাডামকে দেখছিলাম আঙ্কেলের রুম থেকে কান্না করতে করতে বের হচ্ছে। 
- কেন?  আঙ্কেল কি বকছে ম্যাডাম কে?
- না।  তবে কি জন্য কান্না করে বের হলো আমি জানি না। 
বোকা ছেলে পর্ব ৬ 



রিছা বাহিরে দাঁড়িয়ে আছে তখনি আঙ্কেল রিছাকে ডাক দেয়।  রিছা আঙ্কেলের রুমে যায়। আঙ্কেল রিছা কে বললো
- বাসায় না যেয়ে দাঁড়িয়ে আছো কেন?
- রিক্তর জন্য দাড়িয়ে আছি। 
- ওর মতো গাধার জন্য দাঁড়িয়ে তোর পড়ার ক্ষতি করছিস কেন?
- আমি একা আছি তাই ওকে নিয়ে যাবো।।
- কই গেছে
- নিলয় ভাইয়ের সাথে কথা বলতে গেছে। 

আঙ্কেল উঠে দাঁড়িয়ে পড়লো। 

রিক্ত কোচিং এর গেইটের বাহিরে বের হয়ে দেখলো রিছা নেই।  হয়তো চলে গেছে ভেবে রিক্ত চলে গেলো। 

আঙ্কেল রিছার পিছনে এসে রিছার পিঠে হাত দিয়ে
- দুজনের ভেতর প্রেম চলছে মনে হয়। 
রিছা ইতস্তত বোধ নিয়ে
- কি বলছেন আপনি আঙ্কেল?
আঙ্কেল রিছার পিঠের উপর হাত বুলিয়ে যাচ্ছে।  রিছার অস্বস্তি লাগতে শুরু করলো।  রিছা উঠে দাঁড়িয়ে
- কি করছেন কি আঙ্কেল?
- আহা মজা পাবে বসো।  নতুন প্রেম একটু বুঝিয়ে দি।  না হলে তো ছুটে যাবে। 
- কি যা তা বলছেন।  আপনি গুরু জন হয়ে এসব কি বলছেন? 

আঙ্কেল শয়তানি একটা হাসি দেয়। 


রাত ১২ টা

শহরের মেইন রোড দিয়ে কন্টিনিয়ার দ্রুত গতিতে চলতাছে।  পিছনে পুলিশের গাড়ি।  সামনের কন্টিনিয়ারকে থামানোর সিগনাল দেখালে ও থামে নি। 
কিছু দু্ূর যেতেই সামনে দাঁড়িয়ে আছে সামনে আরো ক টা গাড়ি।  কন্টিনিয়ারের ড্রাইভার কষে ব্রেক করে  পালিয়ে গেলো।  পুলিশর লোকজন কন্টিনিয়ার টা ঘিরে ধরলো৷  বড় অফিসার চলে এসেছে।  কন্টিনিয়ারের তালা ভেঙ্গে ফেললো।  দরজা টা খুলতেই পুলিশে গুলি চালালো ভেতরে দাড়িয়ে থাকা বন্দুক হাতে লোক গুলোর উপর। সবাই লুটিয়ে পড়লো ।  ভেতরে থাকা সব মেয়েরা ভয়তে চিৎকার করতে লাগলো। 

এক এক করে সবাইকে বের করে  দাড়িয়ে দিলো।  সবাই ভয়তে কাপছে।  বড় অফিসার বললো
- কেউ ভয় পাবেন না।  আমরা থাকতে আর আপনাদের ভয় নেই।  সবাই শান্ত হোন। 

বড় অফিসারের কথা শুনে সবাই শান্ত হলো।  মিডিয়ার লোকজন এর ভেতর হাজির হয়ে গেলো। 
বড় স্যারের কাছে জিঙ্গেস করলো
- স্যার  কে ছিলো?  আপনারা কিভাবে তথ্য পেলেন?
- গোপন তথ্যের ভিত্তিতে।  মেয়েগুলো কে পাচার করতে চেয়েছিলো।  এদের বিনিময়ে মোটা অঙ্কের টাকা ও খেয়েছে। 
- কে?
- এখন না।  পরে সব জানাবো। 

বড় স্যার সরে গেলো।  মিডিয়ার লোক তার পিছনে।  সংবাদ পেয়ে প্রতিটা মেয়ের ফ্যামিলি চলে আসলো।  যার যার মেয়েকে নিয়ে বাসায় চলে গেলো।  এর ভেতর রিছা ও ছিলো।  রিছা বড় অফিসারের সামনে যেয়ে
- আপনারা ঠিক টাইমে না আসলে আমরা এতোক্ষণে।  আর এর সাথে কে জড়িত আমি জানি?
- আমরা সব তথ্য পেয়ে গেছি।  মিডিয়ার সামনে কেউ মুখ খুলবেন না।  তাহলে আপনাদেরই বিপদ। 

বড় স্যার কথা মতো কেউ মিডিয়ার সাথে কথা না বলে এড়িয়ে গেলো।  মিডিয়ার লোকজন সবাই অবাক হয়ে গেলো।  বড় অফিসারের কাছে যেয়ে
- স্যার কেউ কিছু তো বললো না।  আপনি একটু যদি জিনিস টা ক্লিয়ার করে দেন। 
- একটু ওয়েট করেন।  সব কিছু ক্লিয়ার হয়ে যাবে।  বড় অফিসার কথা বলে গাড়িতে উঠে পড়লো।  সবাই বড় স্যারকে ফলো করতে লাগলো।  একটা বিশাল বড় বাড়ির সামনে এসে গাড়িটা থামলো।

বাড়িটার সামনে পিছনে পুলিশের লোক জন ঘিরে ধরছে.....

(waiting for next part........)

Leave a Comment