বোকা ছেলে

পর্ব  ১২

কলমেMeherab Kabbo


এলাকায় হৈ চৈ পড়ে গেছে।  আংকেলের বাড়ির চারপাশ পুলিশে ঘেরা।  হঠাৎ করে তার বাড়িতে পুলিশের অভিযান কি জন্য কেউ কিছু বুঝতে পারছে না। 
মিডিয়ার লোকজন তাদের ক্যামেরা বাড়ি টার দিকে ধরে আছে৷  বড় অফিসার আংকেলের ঘরের কলিং বেল চাপলো কিন্তু কোনো সাড়াশব্দ নেই ।  বড় স্যারের ইশারায় কয়েক জন জানালার পাশে গেলো।  দেখার চেষ্টা করছে ভেতরে।  কিন্তু দেখার কোনো সুযোগ পাচ্ছে না। হ্যান্ড মাইক এ বের হয়ে আসার জন্য বললো কিন্তু কোনো সাড়াশব্দ নেই। 

হঠাৎ করেই বড় স্যারের ফোনে ফোন আসলো।  স্যার ফোনটা রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে

- যত দ্রুত সম্ভব বাড়ির আশ পাশ থেকে সব লোক জনকে সরিয়ে নিতে। 

ফোনটা কেটে গেলো।  বড় স্যার সবাইকে সরে যাওয়ার বললো।  যে যত দুর পারছে সরে গেছে।  একটা ফাঁকা জায়গায় সরে জড়ো হলো সবাই।  মিডিয়ার লোকজন বড় স্যারকে জিঙ্গেস করলো
- কি হলো আপনারা পিছু সরলেন কেন?
- আমাদের সরে আসতে বলা হয়েছে। 
- কে বলেছে স্যার?
- সিক্রেট অপারেশন । 

মিডিয়ার লোকজন সবাই অবাক হয়ে গেলো।   আরেক জন জিঙ্গেস করলো
- কে এই সিক্রেট অপারেশন।  আমাদের সামনে কি আসবে না?
- আসবে।  যে আমাদের পরিচালনা করছে সে এই সিক্রেট অপারেশন৷  আমরা তার নাম দিয়েছি। 

হঠাৎ করেই বাড়িটা ভুম করে ব্ল্যাস্ট হয়ে গেলো।  সবাই আতংকে উঠলো।  পিছু সরে গেলো।  মিডিয়ার লোকজন ক্যামেরা বাড়ি টার দিকে ফেরালো।  সবাই অবাক হয়ে গেলো।  তাহলে এটা কোনো নতুন চাল ছিলো।  আসল অপরাধী কে কি ধরতে পারবে না৷ 

একজন এসে
- স্যার আসল অপরাধী কি তাহলে পালিয়ে গেলো?

বড় স্যার মুচকি হেসে
- আমাদের মিশন কখনো বিফলে যায় না।  আর কখনো যাবে না। এই এলাকা থেকে ত্রাস উঠে যাবে। 

বড় স্যার রাস্তার দিকে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিলো।  সবাই হা হয়ে তাকিয়ে আছে।  সবাই মাঝখানে জায়গা করে দিছে।  পাচটা গাড়ি লাইট মেরে তাদের দিকে এগিয়ে আসছে।  মিডিয়ার লোকজন তাদের ক্যামেরা সেদিকে করে তাকিয়ে আছে।  কি ঘটতে যাচ্ছে এখানে তাহলো।  গাড়ি গুলো দ্রুত এসে থেমে একটা গাড়ির দরজা খুলে কাউকে ফেলে দিলো। প্রতিটা গাড়ির ভেতর থেকে অনেক কে ফেলে দিছে৷  একটা লোক বড় স্যার কে বৃদ্ধ আঙ্গুল টা দেখালো।  স্যার ও তার বৃদ্ধ আঙ্গুল দেখিয়ে দিলো। 

পুলিশ সবাইকে ধরলো।  একজন মাটিতে পড়ে আছে।  সে আর কেউ না৷  আংকেল।  বড় স্যার আঙ্কেলের সামনে বসে মুচকি হেসে
- ছদ্মবেশ ধরে তো ভালই দূর এগোইছে।  এই কোচিং-এ র আঙ্কেল কে মেরে ফেলে তার রাজত্ব তুমি করে এসেছো।  এতো সুন্দর একটা মাটির মানুষ কে তুই মেরে ফেলে সব বাজে কাজকর্ম চালিয়ে যাচ্ছিস।  কোচিং এর কম মেয়েকে নির্যাতন করিস নি। 

বড় স্যারের কথাগুলো শুনে সবাই হা হয়ে গেলো। কি বলছে এসব৷  একজন বললো
- তাহলে  কে স্যার। 
স্যার উঠে দাঁড়িয়ে ঘুরে
- কুখ্যাত ত্রাস সন্ত্রাসী  এ, কে, বাবু।  যে আঙ্কেলের মুখোশ পড়ে এই অপকর্ম গুলো করে এসেছে।  আর আঙ্কেল কে মেরে ফেলছে।  কয়েক বছর ধরে খুঁজে চলছি আজ পেয়েছি। 

এ,কে, বাবু কে তুললো।  হাতের আঙ্গুল গুলো কাটা।  জিব টা ও কাটা। 

বড় অফিসার ক্যামেরার সামনে এসে
- আর কোনো কালপিট নেই এই শহরে।  যদি ও থেকে থাকে তাহলে সিক্রেট অপারেশন সবাইকে উৎখাত করে দিবে৷  সবাই যে যার স্বাধীন ভাবে চলতে পারেন।  আর কারো কোনো সাহায্য লাগলে অবশ্যই পুলিশের শরণাপন্ন হবেন।  সবাই এক না। 
বাবু কে গাড়িতে তুলে নিয়ে চলে গেলো।  মিডিয়ার লোক যে যার মতো করে নিউজ করতে লাগলো।  এলাকার লোক জনের ভেতর কানাঘুঁষা চলতে থাকে।  কেউ কেউ বলতে লাগলো

- ভালো লোকটাকে এভাবে মেরে ফেললো।  অনেক মানুষদের বিনা টাকায় পড়িয়েছে। 

- ভালো লোক গুলো বেশি দিন বেঁচে থাকে না। তাদের পেছনে শত্রু লেগে থাকবে। 
- আমার পোলা মাইয়াকে ও লোকটা পড়িয়েছিলো।  আমি তো পড়াইতে চাইনি। টাকার অভাবে।  সে নিজে যেয়ে আমাকে বলছে একটা টাকা লাগবে না। পোলা মাইয়া দুটো মেধাবি ।  টাকা ছাড়াই পড়াবে। 

অনেকে অনেক প্রশংসা করতে লাগলো। 
বোকা ছেলে পর্ব ১২ 




পরের দিন সব জায়গায় খবর টা চলে গেলো।  সবাই এসে ভিড় জমিয়েছে ধ্বংস স্তুপের সামনে৷  রিক্ত রিছা সিয়াম রেজা প্রান্ত মিরা রিবা আরো সবাই এসেছে৷  পড়ানো ভাইয়া গুলো ও এসেছে। 

রিক্ত নিলয়ের পাশে দাঁড়িয়ে
- ভাইয়া এ গুলো কি শুনছি?
- হুম ঠিকি শুনেছো।  আমি এতো বছর আঙ্কেলের কাছে থেকে ও নকল মানুষটাকে চিনতে পারলাম না।  আঙ্কেল কে এভাবে। 

নিলয়ের চোখ বেয়ে পানি পড়লো।  মিরা পাশে এসে
- স্যার সব কিছু তো শেষ হয়ে গেলো। কোচিং ও শেষ। 
- হুম।  আঙ্কেলি তো নেই।  তাকে তো আরো আগেই মেরেই ফেলছে।  নকল মানুষটা আমাদের সরলতার সুযোগ নিলো। 

প্রান্ত এসে
- ভাইয়া নতুন করে সবকিছু শুরু করেন।
রিক্ত বললো
- হ্যা ভাইয়া।  আপনারা যারা আছেন সবাই মিলে আঙ্কেলের স্বপ্নের কোচিং টা শেষ হতে দিয়েন না।  আঙ্কেলের কোচিং আপনারাই চালাবেন। 
- কেউ কি আসবে? 
- আসবে।  আঙ্কেল তো শুধু মাধ্যম ছিলো।  আপনারা আঙ্কেলের নীতিগুলো অনুসরণ করে কাজ করেন কেউ ছেড়ে যাবে না। 
- দেখি সবাইকে বলে। 

নিলয় ভাইয়া সবাইকে একত্রিত করে সবকিছু বললো।  সবাই রাজি হলো।  আঙ্কেলের সৃতি তারা ধরে রাখবে। 


দেখতে দেখতে
H s c পরীক্ষা চলে আসলো। সবাই মিলে পরীক্ষা দিতে গেলো।  রিক্তর পাশে রিছার সিট পড়েছে।  রিছা খুব খুশি।  খাতা দিলো সবকিছু পূরণ করলো।  রিছা রিক্তকে বললো

- না পারলে আমার খাতা দেখে সব লেখবা।  প্লিজ খালি খাতা জমা দিবে না। 
রিক্ত মুচকি হেসে
- ঠিক আছে। 

প্রশ্নপত্র দিলো।  রিক্ত লেখা শুরু করলো।  স্যার ম্যাডাম কড়া গার্ড দিচ্ছে।  রিছা খাতা মেলে লিখছে।  যাতে রিক্ত দেখতে পারে।  তবু ও ম্যাডাম স্যারদের চোখ এড়াতো না।  সামনের বেঞ্চ থেকে পিছনে একটা ছেলে বার বার রিছার খাতা দেখছে।  যার কারণে স্যার ম্যাডাম রিছাকে কড়াভাবে সতর্ক করলো।  খাতা মেলে লিখলে নিয়ে যাবে।  সাথে ছেলেটাকে বললো আর একবার পিছনে তাকালে খাতা নিয়ে নিবে আর দিবে না। 

পরীক্ষা শেষে সবাই বের হলো।  রিছা রিক্তকে বললো
- লিখছো তো ঠিক মতো৷ 
- কি ভাবে লিখবো তাকানোর কোনো সুযোগ আছে। 
- হ্যা।  সামনের ছেলেটা বেশি বাঁশ দিলো। 
- আচ্ছা সমস্যা নেই টেনে টুনে পাশ হবে। 

দুজনে মিলে কিছুক্ষণ কথা বলে বাসায় চলে গেলো। 

এভাবে পরীক্ষা চলতে লাগলো।  রিছা রিক্তর মায়ায় পড়ে যায়।  একদিন পরীক্ষায় রিছার কিছু বাঁধে নি।  মুখটা কালো করে বসে আছে।  রিক্ত রিছার দিকে তাকিয়ে
- কি হলো?  মুখটা কালো করলেন কেন?
- আজ কিছু বাঁধে নি৷
- সমস্যা নেই।  আমি আছি তো। 
- তুমি তো নিজেই পারো না।
- সমস্যা কই দুজনে একসাথে ফেল করবো। 
- মজা করছো।  আমার কান্না পাচ্ছে। 
- দেখি আপনার কোন সেট পড়ছে
- গ। 

রিক্ত প্রশ্ন নিয়ে MCQ গুলো দাগিয়ে দিলো পেন্সিল দিয়ে।  প্রশ্ন টা রিছার দিকে এগিয়ে দিলো।  রিছা স্যারদের ভয়ে রিক্তর দিকে তাকাতে পাচ্ছে না।  রিক্তর দাগানোগুলো সব পূরণ করে দিলো।  

প্রশ্নগুলো ও বাঁধেনি রিছার।  রিক্ত রিছাকে বললো
- এই সুযোগে দেখে নেন।  স্যার ম্যাডাম দুজনে আজ ভালো কেউ কিছু বলছে না।  বুঝছে কারো বাঁধে নি। 
রিছা রিক্তর টা দেখে লিখলো। 


পরীক্ষা শেষে রিছা রিক্তকে বললো
- তুমি সব পারলে কি করে?
- সব কি আর হবে পাশ হলে হবে। 
- ঠিক আছে। 

দুজনে রাস্তার পাশ দিয়ে হাটছে।  কথা বলছে।  মজা করছে খুব৷

আজ পরীক্ষা শেষ।  রিছার মনটা খারাপ হয়ে গেলো।  রিক্ত র সাথে আর হেটে হেটে অনেক দূর যেতে পারবে না।  আজকে রিছা তার মনের কথা গুলো রিক্তকে বলবে।  সবকিছু ভেবে চিন্তে পরীক্ষার হলে আসলো।  দুজনে লিখলো ভালো।  পরীক্ষা শেষ হওয়ার ১৫ মিনিট আগে একজন স্যার এসে
- এই রিক্ত কে এখানে?
রিক্ত উঠে দাঁড়িয়ে
- জ্বী স্যার আমি। 
- তোমার লেখা শেষ
- হ্যা স্যার।
- তোমাকে অফিস রুমে ডাকছে এক্ষুনি। 

ক্লাসের সবাই অবাক হয়ে গেলো।  রিক্ত খাতা জমা দিয়ে চলে গেলো। 

পরীক্ষা শেষে রিছা বাইরে বের হয়ে রিক্তকে খুজলো কিন্তু কোথা ও পেলো না।  অফিস রুমে যেয়ে ও খুজলো পেলো না।  রিছা তার অব্যাক্ত কথা গুলো তাহলে রিক্তকে বলতে পারলো না।  রিছার চোখের কোণে পানি এসে জমে গেলো........

( waiting for next part......) 

রিক্ত কে আর খুঁজে পাবে না রিছা।  কেমন হবে ব্যাপার টা ☺

Leave a Comment