বোকা ছেলে

পর্ব  ১৩

কলমেMeherab_Kabbo



রিছা হতবাক হয়ে বাসার দিকে রওনা করলো।  বোকা ছেলেটাকে মনের কথা বলা হলো না। রিছা বাসা চলে আসে মন খারাপ করে।  কত আশা নিয়ে গেছিলো আজ।  আশাটা যে অপূর্ণই রয়ে গেলো।    রিছার কোনো কিছু তে মন নেই।  সে তার আশা পূরণ করবেই।  এটাই তার লক্ষ্য।  কিন্তু কিভাবে।  পরীক্ষা তো শেষ রিক্ত কে পাবে কি করে।  রিক্তর বাড়ি যেয়ে রিক্তকে ডেকে নিয়ে বলবো। রিছার ভাবনা ছেদ করে দিয়ে বললো
- রিছা তোর মামা বাড়ি যেতে হবে।  তোর নানু অসুস্থ।  রেডি হয়ে নে ব্যস্ত। 
- কিন্তু মা আমি
- তোর পরীক্ষা শেষ।  তোর বাবা বলছে তোকে সাথে নিয়ে যায়।  আমি রেডি হয়ে গেছি।  তুই রেডি হয়ে বের হ।  আমি ড্রাইভার কে বলছি গাড়ি বের করতে। 

রিছার মা চলে গেলো।  রিছা মন খারাপ করে গুছিয়ে নিয়ে বের হয়ে গেলো।  গাড়িতে উঠলো। 

রাত ১১ টার দিকে পৌঁছালো মামা বাড়িতে।  মামিরা বাহিরে এসে অপেক্ষা করছিলো ওদের।  রিছা আর রিছার মা কে নিয়ে ভেতরে গেলো।  ডাক্তার মাত্র বের হয়ে গেলো রিছার নানু কে দেখে।  রিছার মা রিছার নানুর কাছে যেয়ে কান্না করে দিলো।  মা অসুস্থ এটা কোন মেয়ে সহ্য করবে। 



রিছাকে রুম দেখিয়ে দিলো৷  রিছা রুমে যেয়ে শুয়ে পড়লো।  ফ্রেশ হলো না।  মনটা বড্ড খারাপ।  যদি রিক্ত কে কথা গুলো বলতে পারতো তাহলে আর এতোটা খারাপ লাগতো না। 

রাত ১ টা

রিছার মামি মা বসে কথা বলছিলো তখন মেজো মামি বললো
- রিছার কি কিছু হয়েছে?
রিছার মা অবাক হয়ে
- না কেন?
- ওর মনটা খারাপ কেন তবে?  আপসেট দেখাচ্ছে ওকে। 
- আজকে পরীক্ষা শেষ হলো তো তাই মনে হয় ক্লান্ত। 

বড় মামি বললো
- রিছা তো হাসিখুশি ভাবেই কথা বলতো এখানে বসে থাকতো তাহলে আজ কেন এমন করলো। 

ছোট মামি উঠে দাঁড়িয়ে
- তোমরা বসো আমি দেখি ওকে ডেকে আনি।  কি হয়েছে জানা যাবে?
মেজো মামি বললো
- ও আসবে না রে।  আমরা চলো যায় ওর রুমে। 

রিছার মা মামি সবাই রিছার রুমে গেলো।  যেয়ে দেখলো রিছা ঘুমিয়ে গেছে।  রিছার মা বললো
- বলছিলাম না ও ক্লান্ত তাই এমন লাগছে।  ঘুমিয়ে পড়েছে। 
- তাই হবে।  আমরা কি না কি ভাবছিলাম। 

রিছার রুম থেকে বের হয়ে গেলো। 


পরের দিন সকাল বেলা
রিছা বাহিরে বের হয়।  মন টা রিক্ত র কাছে পড়ে আছে।  এখানে কিছুই ভালো লাগছে না রিছার।  রিছা যেয়ে মা কে বললো
- মা আমরা কখন যাবো। 
- তোর নানু সুস্থ হলেই চলে যাবো।  কেন?
- না এমনি। 

রিছা চলে যায়।  রিক্তর কথা খুব মনে পড়ে।  রিক্তর বোকাসোকা চেহারা বার বার সামনে ভেসে উঠে।  কিন্তু রিক্তকে না বলতে পারলে এই মনের আগুন নিভবে না। 


দেখতে দেখতে ৭ দিন কেটে গেলো। 

আজ বাসায় ফিরলো রিছা।  এক মুহুর্ত দেরি না করে সোজা রিক্তর বাড়িতে চলে গেলো৷  যেয়ে অবাক হয়ে যায়। বাড়িটার দরজায় তালা ঝুলছে।  রিছা আশে পাশে তাকায়।  কাউকে দেখতে পাই না।  এমন সময় পিছন থেকে এল লোক বললো
- তুমি কি বাসা ভাড়া নিতে এসেছো। 
- না।  এই বাসায় যে যারা ছিলো তারা কোথায়?
- বাসা ছেড়ে দিয়ে চলে গেছে। 
- কই গেছে বলে গেছে।
- না তো।  আমাকে আর কিছু বলে নি। 

রিছার মনটা আরো খারাপ হয়ে গেলো।  রিক্ত গেলো কোথায়।  এখন রিক্ত কে কই খুঁজবে।  কোথায় পাবে রিক্ত কে?

রিছা বাসায় আসতেই রিছার মা রিছার পথ আটকিয়ে
- কই গেছিলি।  কি হয়েছে তোর?
- কোথা ও না। 
রিছার মা চোখ পাকিয়ে
- কি হয়েছে তোর?  তোকে তোর মামা বাড়ি নিয়ে গেছি তুই তেমন কারো সাথে কথা বলিস নি।  সবাইকে এড়িয়ে গেছিস।  কেন? কি হয়েছে তোর। ঠিক মতো খাসনি।  এখন আবার বাসায় আসা মাত্রই কই চলে গেলি। 

রিছা নিজেকে কন্ট্রোল না করতে পেরে  মা কে জরিয়ে ধরে কান্না করে দিয়ে

- মা আমি একটা ছেলেকে খুব ভালোবেসে ফেলছি।  ছেলেটা অনেক বোকা।  আমি ওকে আমার মনের কথা বলতে পারি নি।  বলার আগেই কই জানি চলে গেছে।  আমি ওর বাসায় গেছিলাম ওখানে নেই।  বাসা ছেড়ে দিয়ে চলে গেছে।  আমি পারলাম না বলতে। 

মা রিছার কথা শুনে হা হয়ে যায়।  রিছার মা রিছার মাথায় হাত বুলিয়ে
- আরে পাগল মেয়ে কান্না করলে হবে৷  কই যাবে চলে।  আমার মেয়ে কোনো ছেলেকে এতোটা ভালোবাসলো তাকে ছেড়ে কোথায় যাবে।  তোর ভালোবাসার মানুষটা তোর কাছে ফিরে আসবে৷  আমার মেয়ে মন থেকে চেয়েছে সে পালিয়ে যাবে  কই আর।  তবে একটা কথা আছে

- কি কথা মা?
- যতদিন না ছেলেটাকে খুজে পাচ্ছিস ততোদিন নিজের খেয়াল রাখবি৷  ঠিক মতো খাওয়া দাওয়া করবি ঘুমাবি।  নিজের যত্ন নিবি।  তা না হলে না খেয়ে রোগা হলে ছেলেটা ফিরে এসে দেখে তোর এই অবস্থা তাহলে কি তোকে মেনে নিবে। 
- ঠিক আছে মা।  আমি তোমার সব কথা শুনবো। তুমি প্লিজ বলো ওকে কখনো পেলে তুৃমি ওকে মেনে নিয়ো। 
- ঠিক  আছে।  এখন ফ্রেশ হয়ে খেয়ে নে। 

রিছা চলে গেলো৷ 
বোকা ছেলে পর্ব ১৩ 





১ বছর পর

রিছা ভার্সিটির ক্যাম্পাসে বসে রিবা রিমি ইভা আরো কয়েক জনের সাথে বসে আড্ডা দিচ্ছিলো।  সবাই সবার মনের কথা।  ভালো লাগার মানুষের নাম তার সম্পের্ক সব বললো।  ইভা রিছাকে জিঙ্গেস করলো

- তোর টা বল এখন।  আমাদের সবাই টার সবটা বলা হয়ে গেছে।  এখন তুই বলবি আমরা শুনবো। 

রিছা মুখটা কালো করে দিয়ে
- আমি এখানো তার অপেক্ষায় রয়েছি৷  একদিন সে আসবে৷ আমাকে আপন করে নিবে। 

সবাই অবাক হয়ে।
- কে সে?
- আমার ভালোবাসা।  আমার রাজকুমার।  খুব বোকা।  আমি ঐ বোকাটাকে ভালোবেসে ফেলছি।। তাই তো একটা বছর হয়ে গেলো ওর অপেক্ষায়  বলার আগে চোখটা যেয়ে গেইট এর উপর পড়লো।  রিছা হা হয়ে দাড়িয়ে পড়লো......
...

( waiting for next part .........)  

Leave a Comment