বোকা ছেলে

পর্ব  ১৪

কলমেMeherab_Kabbo


রিছা নিজের চোখকে জেনো বিশ্বাস করতেই পারছে না।  রিবা রিমি ইভা সবাই রিছার দিকে তাকিয়ে আছে৷  রিছা চোখটা হাত দিয়ে মুছে নিয়ে আবার দেখলো।  না এটা রিছা ঠিকি দেখছে।  রিছা এক মুহুর্ত দাঁড়ায় না।  মনের ভেতর আজ এক অজানা সুখ বাসা বেঁধেছে।  রিছা দৌড়ে যায়।  রিবা রিমি ইভা সবাই অবাক হয়ে চেয়ে থাকে।  রিছা কেন দৌড় দিলো।  হ্যা ১ বছর পর রিছা রিক্তকে খুজে পেয়েছে।  রিক্ত ভার্সিটির গেইট দিয়ে ঢুকছে।  চোখে সাদা ফ্রেমের চশমা৷  রিছা রিক্তর সামনে যেয়ে হাঁপাতে থাকে।  রিক্ত অবাক হয়ে যায়।  চশমার ভেতর দিয়ে চোখ বড় বড় করে ফেললো।  রিছা হাপাচ্ছে। রিক্তর দিকে তাকিয়ে আছে কিন্তু মুখ দিয়ে কোনো কথা বের হচ্ছে না।  কথা কেন বের হচ্ছে না রিছা বুঝতে পারছে না। হয়তো এতো দিন পর রিক্ত কে দেখে  খুশিতে জেনো মুখের কথা সব হারিয়ে গেছে।  রিক্ত রিছার দিকে চোখ বড় বড় করে দিয়ে তাকিয়ে আছে।  এমন সময় রিক্তর হাত ধরে একটা মেয়ে টেনে নিয়ে গেলো।  রিছার হাসি মাখা মুখটা কালো বর্ণের হয়ে গেলো।  চোখের কোণে মুহূর্তে পানি জমে গেলো।  এতোদিন পর প্রিয় মানুষটাকে খুঁজে পেলো তা ও আবার অন্য মেয়ে হাত ধরে নিয়ে যাচ্ছে।  বুকের ভেতর মোচড় দিয়ে উঠলো।  ইভা রিছার কাঁধে হাত দিয়ে

- কে ছেলেটা রিছা?
- যার কথা বলতেছিলাম৷  যাকে আমি হারিয়ে ফেলছিলাম। 
ইভা অবাক হয়ে
- এই হাবাগোবা ছেলেকে৷ 
- হ্যা। 
- তাহলে ওকে বলে দে মনের কথা গুলো। 
- আর কি ভাবে বলবো৷ ও অন্য কারো হয়ে গেছে।  আমার আর নেই। 
রিছা ইভাকে জরিয়ে ধরে কেঁদে দিলো।  ইভা রিছাকে বললো
- আরে বোকা কাঁদছিস কেন?  যে তোর না সে কখনোই তোর হবে না।  তুই সব কিছু ভূলে যা তাহলে। 
- ওর জন্য এতোদিন অপেক্ষা করলাম অথচ ও৷ 
- সবই কপাল।  মন খারাপ করিছ না। 


রিক্তকে হাত ধরে টেনে নিয়ে প্রিন্সিপালের রুমে নিয়ে চলে গেলো।  অনুমতি নিয়ে রিক্তকে পরিচয় করিয়ে দিলো।  তারপর রিক্তকে ক্লাস দেখিয়ে দিলো।  রিক্ত ক্লাসে যেয়ে বসলো।

ভার্সিটি শেষ করে ক্যাম্পাস দিয়ে রিক্ত যাচ্ছিলো।  রিছা রিক্তকে দেখে অন্যদিক দিয়ে চলে যাচ্ছিলো।  তখনি রিক্ত রিছার সামনে দাঁড়িয়ে

- কেমন আছেন।  আপনি এই ভার্সিটিতে
- ভালো।  হুম।  তুমি
- আমি নতুন ভর্তি হলাম ১ম সেমিস্টারে। 
রিছা অবাক হয়ে
- কেন?  এর আগে চান্স পাও নি। 
- পেয়েছি কিন্তু টাকার অভাবে ভর্তি হতে পারিনি।  এবার চান্স পেয়ে কস্টে ভর্তি হয়েছি। 
- আচ্ছা আমার একটু কাজ আছে। 
- আচ্ছা বাই। 
রিছা চলে গেলো।  রিক্ত সামনের দিকে এগিয়ে গেলো।  রিছা কিছু দূর যেয়ে পিছনে ফিরে রিক্তকে দেখছে।  রিক্ত সেই মেয়েটার সামনে দাঁড়িয়ে পড়লো।  মেয়েটার সাথে কথা বলছে দেখলো।  দুজনে এক সাথে ভার্সিটি থেকে বের হয়ে গেলো।  রিছা এটা কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না।  এতোদিন পর প্রিয় মানুষ টাকে পেয়ে ও চোখের সামনে হারিয়ে ফেললো।  রিছা আর না দাঁড়িয়ে হোস্টেলে চলে গেলো।  হোস্টেলে যেয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়লো।  আজ অনেক কান্না পারছে নিজের ভালোবাসার মানুষটাকে অন্য কারো সাথে দেখে।  রিছার চোখের পানি কিছুতেই থামছে না।  কষ্টে বুক টা ফেটে যাচ্ছে৷ 


সন্ধ্যার পর

রিছা হোস্টেলের রুমে বসে বই দেখছিলো আর রিক্তকে অন্য কারো হতে দেখে ভাবনা কিছুতেই যাচ্ছে না৷  ইভা এসে
- রিছা এটা আমি কি দেখলাম?
- কি?
- তোর প্রিয় মানুষটা ক্যাম্পাসের ভেতর বাদাম বিক্রি করছে। 

রিছা থ ম খেয়ে যায়।  হা হয়ে যায়।  উঠে দাড়িয়ে
- তুই কি ঠিক দেখছিস৷ 
- হ্যা রে।  আমি মিথ্যা কেন বলবো।  তুই নিজে চোখে দেখবি চল৷

ইভা রিছার হাত ধরে টেনে নিয়ে গেলো৷  রিছা চোখ বড় বড় হয়ে গেলো।  রিক্ত বাদাম বিক্রি করছে।  সাথে মেয়ে টা ও আছে।  রিছা মেয়েটাকে রিক্তর পাশে একদম সহ্য করতে পারছে না।  রিছা রুমে চলে আছে। 

মেয়েটা রিক্তর সাথে বাদাম বিক্রি করতে লাগলো। 

ইভা ভেতরে এসে
- কি  হয়েছে বল তো
- আমার ওসব সহ্য হয় না।
- কি করবি বল
- আমার সাথে দেখা না হওয়ায় ভালো ছিলো।
দেখা হয়ে আমার কষ্ট টা বাড়িয়ে দিলো।  আমি কি করবো বুঝতে পারছি না। 
বোকা ছেলে পর্ব ১৪ 



বাদাম বিক্রি শেষে রিক্ত চলে যায়।  রিছার রাত টা কাটে বিষময়।  এভাবে নিজেকে জ্বলতে হবে তা কখনো কল্পনা করে নি। 

পরের দিন রিক্ত ভার্সিটি গেইট দিয়ে ঢুকবে তখনি সিনিয়র ভাইদের সামনে পড়ে যায়।  রিক্ত রেজা সিয়াম কে দেখে
- আরে দোস্ত তোরা।  কেমন আছিস?  কতদিন পর দেখা। 
সিয়াম রিক্ত কে বললো
- কে তোর দোস্ত।  এই সকাল সকাল কি কিছু খেয়ে বের হয়েছিস।  ভূল বকছিস কেন?  কোন সেমিস্টারে তুই। 

রেজার মুখে এমন কথা শুনে রিক্ত মাথা নিচু করে নিয়ে
- ১ম সেমিস্টার। 

সিয়াম রিক্তর কলার ধরে
- ১ম সেমিস্টারে পড়ে সিনিয়র ভাইদের সাথে তুই তুকারি।  তোর সাহস তো কম না। 

রিক্ত কি বলবে বুঝতে পারছে না। মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে।  রেজা রিক্তকে ডাক্কা মারে।  রিক্ত মাটিতে পড়ে যায়।  চশমা টা পাশে পড়ে চশমার একটা চোখ ভেঙ্গে গেলো।  সবাই হাসাহাসি করছে৷  রিছা দূর থেকে দেখছে।  রিক্তর সাথে এই গুলো করছে৷  রেজা সিয়ামদের বস আকবরকে বললো
- বস কি করবো এ কে?
- সিনিয়রদের কিভাবে সম্মান দেই বুঝিয়ে দেয়। 
রিক্তর কলার ধরে তুললো।  রেজা রিক্তর গালে চড় বসিয়ে দিয়ে
- সিনিয়র দের কিভাবে সম্মান করতে হয় জানিস না।  তোকে আজ শিখাবো। 
এক এক করে সবাই মারতে লাগলো রিক্ত কে সবাই মজা নিচ্ছে।  রিছার ভেতর টা ফেটে যাচ্ছে কিন্তু কিছু বলার সাহস নেই।  কোনো ঝামেলা করলে নিজের ক্ষতি হয়ে যাবে।  তবু ও মনকে মানাতে পারলো না।  যা হবার হবে পরে দেখা যাবে।  রিছা সামনের দিকে এগোতেই থমকে যেয়ে অবাক হয়ে গেলো।  গেইট দিয়ে একটা গাড়ি ঢুকে থেমে হকি হাতে কয়েটা মেয়ে নেমে ওদের পেটানো শুরু করলো।  সেই মেয়েটা রিক্তকে ধরে
- তোমাকে না বলছি আমি না আসা পর্যন্ত ভার্সিটিতে ঢুকবা না। 
- আমি জানতাম নাকি এরা এতো খারাপ। 
- তুমি তো জানবে না।  তুমি তো একটা বোকা।  মেরে ফেললে ও কিছু বলবে না। 

মেয়েটি আকবরের দিকে তাকিয়ে চিল্লিয়ে
- আমি মানা করছিলাম না ভার্সিটিতে কোন র্যাগ চলবে না তাহলে এগুলো কি?

সবাই চেয়ে পড়লো ।  আকবর মাথা নিচু করে
- র্যাগ দেয়নি ও বেয়াদবি করছিলো তাই।
- বেয়াদবি করছে বলে তুই শাস্তি দেওয়ার কে?  হয় বুঝাবি না হয় কমপ্লেন করবি।  তুই না করে ওর গায়ে হাত দেওয়ার সাহস আসলো কই থেকে।  - সরি ভূল হয়ে গেছে। 
- পরের বার যদি আর এমন দেখি একটা কে ও ভার্সিটিতে থাকতে দিবো না। 

আফসানা গাড়িতে উঠে পড়লো।  সাথে ওর লোক গুলো।  রিক্ত সোজা হেটে চলে গেলো।  আকবর সিয়ামের সামনে বসে
- খুব লেগেছে। 
- হ্যা।  মেয়ে গুলোর হাতে যে শক্তি।  ওদের কিছু বললা কেন বস?
- ওরা এখানা কার স্থানীয়৷ তাই কিছু বলতে পারি না৷ তা না হলে কবে রুমে এনে শেষ করে দিতাম এতো দেমাগ। 

রেজা বললো
- বস তাহলে একটা সুযোগ নি৷ 
- পাগল হলি নাকি।  আর বেঁচে থাকা লাগবে না।  ওর থেকে দূরে থাকাই ভালো। 


রিক্ত রিছাকে দেখে
- কেমন আছেন?
- হ্যা ভালো।  তুমি কেমন আছো?
- হ্যা ভালো। 
- ওরা তোমাকে মারলো কেন?
- রেজা সিয়াম কে তুই করে বলেছি বলে৷  ওরা আমার বন্ধু না।  কিভাবে মানুষ বলদে যায়।
- হ্যা বলদে তো যাবে।  তুমি যেমন বদলে গেছো। 
রিক্ত অবাক হয়ে
- মানে।
- কিছু না৷  ক্লাসের টাইম হয়েছে।  বাই।

রিছা চলে গেলো। রিক্ত তার ক্লাসে চলে গেলো। 

সন্ধ্যার পর
রিক্তর গালে ঠাস ঠাস করে শব্দ হলো........

(Waiting for next part........) 

Leave a Comment