বোকা ছেলে

পর্ব  ১৫

কলমে :Meherab Kabbo



সন্ধ্যার পর লেকের উপর বসে আছে ইভা আর রিছা৷  ইভার হাতে একটা সিগারেট রয়েছে।  রিছা ইভাকে বললো
- সিগারেট টা জ্বালা।  খায়। 
ইভা রিছার দিকে তাকিয়ে
- তুই বলছিস এই কথা৷ 
- হ্যা কেন রে?
- তুই তো আর খাস না।  কখনো শুনি নি তো। 
- তো কি হয়েছে।  মনের জ্বালা টা তো দূর করতে পারবো। 
- তুই রিক্ত কে খুব ভালোবাসিস। তাই না রে। 
- বাদ দে ওর কথা।  সিগারেট টা দে। 

রিছা ইভার হাত থেকে সিগারেট টা নিয়ে মুখে দিলো। 


রিক্ত বাদাম বিক্রি করতে করতে লেকের পাশে চলে এলো।  রিক্ত খেয়াল করলো রিছা মুখে সিগারেট নিয়ে আগুন জ্বালাবে।  রিক্ত এগিয়ে যেয়ে রিছার মুখ থেকে সিগারেট টা নিয়ে ভেঙ্গে মাটিতে ফেলে দিলো।  রিছা পুরো অবাক হয়ে গেলো।  রিছা রাগ কন্ট্রোল না করতে পেরে রিক্তর গালে ঠাস ঠাস করে চড় সবিয়ে দিলো।  রিছা রেগে যেয়ে
- ছোট লোকের বাচ্চা তোর সাহস হলো কিভাবে।  আমার সিগারেট নিয়ে ভেঙ্গে ফেলা।  একে তো জুনিয়র তার পর আসছিস সিনিয়রদের সাথে বেয়াদবি করতে। 

রিক্ত গালে হাত দিয়ে অবাক হয়ে গেলো।  রিছাকে জেনো নতুন করে দেখছে।  রিক্ত আমতা আমতা করে
- সিগারেট খাওয়া ভালো না।  আপনি একটা মেয়ে এমন কাজ করবেন না। 
রিছা তীক্ষ্ণ ভাবে বললো
- তোর থেকে আমার উপদেশ নিতে হবে এখন।  যা সামনে থেকে না হলে তোর খবর আছে। 

রিক্ত চলে যায় কথা না বাড়িয়ে।  ইভা বললো
- আরেকটা বের করি। 
- না তার আর লাগবে না।  মুড টাই নষ্ট করে দিলো। 

রিছা আর না থেকে চলে গেলো।  রিক্ত বাদাম নিয়ে লেকের এক কোণে গেলো। যেয়ে বললো
- মামা বাদাম খাবেন। 
একজন বললো
- বাদাম না অন্য কিছু আছে। 
- না মামা শুধুই বাদাম আছে৷
আরেকজন বললো
- তোর কাছে গা*জা টেব*লেট হিরো*ইন কি আছে। 
- না মামা আমি শুধু বাদাম বিক্রি করি। 

একজন রিক্তকে লাঠি মারে।। রিক্ত পড়ে যায় বাদাম নিয়ে।  একজন বললো
- শালা এখানে মা*ল না নিয়ে এসেছিস কেন? 
- আমার ভূল হয়ে গেছে।  আমি বাদাম বিক্রি করতে চলে এসেছি৷ 
- তোকে জেনো এখানে আর না দেখি৷  যা। 

রিক্ত উঠে হাটা দিলো। রিক্তর কানে একটা আওয়াজ ভেসে আসলো।  দুজনে মিলিত হওয়ার শব্দ।  একজন বললো
- এই তোর হলো।  আমরা এখনো অনেকে আছি।
- আরে দাঁড়া।  টাকা দিয়ে কি এমনি এমনি ভাড়া করে নিছি।  সারা রাত চলবে। 

বোকা ছেলে পর্ব ১৫ 



রিক্তর বুঝতে বাকী নেই কি চলছে।  রিক্ত তারাতাড়ি চলে গেলো।  রিক্তকে পিছন থেকে ইভা ডাক দিলো।  রিক্ত দাঁড়িয়ে গেলো।  ইভা বললো
- রিছা তোমাকে যে মারলো তুমি কিছু বললে না কেন?
- ভূল টা আমার ছিলো।  আমি জুনিয়র হয়ে সিনিয়র কে জ্ঞান দিতে গেছিলাম।  তাই কিছু বলিনি। 
- আচ্ছা তুমি বাদাম বিক্রি করো কেন?
- না করলে তো আর পড়তে পারবো না।  খেতে পারবো না।
- তোমার বাবা
- সে যা আয় করে সংসার চলতেই হিমশিম খেয়ে যায়। তাই নিজের পড়াশোনা চালানোর জন্য এই কাজটা করছি। 
- যাক ভালো করেছো।  এমন কাজ ক ত জনে করে। 
- একটা কথা বলি
- হ্যা বলো।
- আপনার হাতে সিগারেট।  এসব আপনি খান নাকি। 
ইভা হেসে দিয়ে
- আরে না।  এটা জাস্ট জ্বালিয়ে রেখে বাস্তবতাকে বোঝার চেষ্টা করি।  নিজ ইচ্ছায় জ্বললে পুরো টা জ্বলতে হয়।  প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে কিভাবে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া হয়। 
- ও আচ্ছা।  আমি যায় এগুলো বিক্রি করে নি। 
- তোমার এই গুলো আমি কিনবো। 
রিক্ত হাসি মুখে
- আপনি কিনবেন।
- হ্যা। 
- আচ্ছা নেন। 
রিক্ত টাকা নিয়ে চলে গেলো।  ইভা বাদাম গুলো নিয়ে রুমে চলে যায়। 

পরের দিন সকালে

রিক্ত ভার্সিটিতে ঢুকতে  রিছাকে দেখতে পেলো।। রিক্ত আড়াল হয়ে গেলো।  রিছার পিছন থেকে একজন সুই ফুটিয়ে দিলো।  রিছা তার উপর হেলে পড়লো৷  একটা গাড়ি এসে থামলো।  গাড়িতে উঠিয়ে নিয়ে চলে গেলো।  রিক্ত কিছুই বুঝতে পারলো না।  রিক্ত ক্লাসে চলে যায়। 


দুপুর ১২ টা

পুলিশের গাড়ি ক্যাম্পাসে ঢুকলো।  সবাই অবাক হয়ে গেলো।  ক্লাস থেকে সবাই বেরিয়ে আসলো।  পুলিশ অফিসার প্রিন্সিপালকে কি জেনো বললো।  তারপর এসে ভার্সিটির সিনিয়র ৩ জন কে গাড়ি থেকে নামালো।  রিক্ত অবাক হয়ে গেলো।  এই ছেলেটাই তো রিছাকে অচেতন করে নিয়ে গেছিলো।  পুলিশ অফিসার বললো
- বল তোর সাথে আর কে কে আছে। 
ছেলেটা সবার নাম বলতেই পুলিশ সবাইকে ধরে ফেললো পলানোর আগেই।  মিডিয়ার লোকজন এসে  পুলিশ অফিসার কে জিঙ্গেস করলো
- স্যার এরা কারা।  কেন ধরেছেন এদের?
- এরা সবাই এক চ্যানেলের৷  ভার্সিটির কোনো মেয়েকে টার্গেট করবো সময় বুঝে সুই ফুটিয়ে অচেতন করে গাড়িতে করে নিয়ে একটা রুমে যাবে।  মেয়েটার সাথে শারিরীক সম্পর্ক করবে।  তা ভিডিও করে মেয়েটাকে ব্ল্যাক মেইল করে রাতে লেকের এক কোনে বসে মেয়েটাকে নিয়ে মাস্তি করে। 

সবাই হা হয়ে গেলো কথা গুলো শুনে।  মিডিয়ার একজন জিঙ্গেস করলো
- স্যার আপনারা খবর পেলেন কি ভাবে?
- খবর পাই নি।  তবে আমি নিজের হাতেই ধরেছি তাদের স্বীকারোক্তি নিয়েছি। 
- কিভাবে স্যার। 
- ওদের গাড়ির দরজার বাইরে একটা মেয়ের ওড়না ঝুলছিলো।  আমি বলার জন্য পিছু নি৷ ওদের থামতে বললে থামেনি।  একটা বাড়ির সামনে গাড়িটা থামে।  গাড়ি থেকে অচেতন হয়ে থাকা একটা মেয়েকে কোলে করে নিয়ে বাড়িটার ভেতর চলে যায়। আমি আগে থেকে আমার ফোর্স দের আসতে বলি।  তারপর ওদের ধরি।  আর কারো চিন্তা নেই ওরা আর কাউকে ব্ল্যাক মেইল করবে না।  যদি ও কেউ করে সোজা থানায় চলে আসবেন।  বাকী টা আমরা দেখে নিবো। 

পুলিশ ওদের নিয়ে চলে গেলো।  রিক্ত ভাবছে রিছার কিছু করেনি তো।   ও ঠিক আছে তো।  বাকি অন্য মেয়েদের মতো ও বলি হলো। । 
রিক্ত হলে চলে আসলো। 

প্রতিদিন সকালে ক্লাস করা সন্ধ্যার পর বাদাম বিক্রি করা রিক্তর একটা অভ্যাস হয়ে গেলো।  রিছা কে দেখলে রিক্ত অন্য পাশ দিয়ে সরে যায়। সামনে পড়লে কথা বলে না।  রিছা মনের যন্ত্রণা থেকে রেহাই  পাচ্ছে। যত ভাবছে রিক্তকে ভূলে যাবে ততোই জেনো আরো জরিয়ে নিচ্ছে। 

এভাবে কেটে গেলো এক মাস

আজ ভার্সিটিতে বিশাল এক অনুষ্ঠানের আয়েজন করা হয়েছে।  অনুষ্ঠানে নামি দামি ব্যক্তিরা ও উপস্থিত ছিলেন।  অনুষ্ঠান শুরু হলো। 

দুপুর তিন টা

প্রিন্সিপাল স্টেজে উঠে মাইক্রোফোন নিয়ে তার বক্তৃতা দিতে লাগলেন।  সবাই খুব আগ্রহের সাথে শুনছিলো।  হঠাৎ করেই রিক্ত প্রিন্সিপাল কে ডাক্কা মেরে ফেলে দেয়

সবাই হা হয়ে যায়...........

(waiting for next part.......) 

Leave a Comment