Stupid_Boy
বোকা ছেলে
পর্ব ১৬
কলমে: Meherab_Kabboপ্রিন্সিপাল স্টেজে উঠে মাইক্রোফোন নিয়ে তার বক্তৃতা দিতে লাগলেন। সবাই খুব আগ্রহের সাথে শুনছিলো। হঠাৎ করেই রিক্ত প্রিন্সিপাল কে ডাক্কা মেরে ফেলে দেয়
সবাই হা হয়ে যায় উঠে দাঁড়ায়। মুহুর্তেই গুলির আওয়াজ শুরু হয়ে গেলো। সবার ভেতর আতংকিত সৃষ্টি হয়ে গেলো। সবাই ছুটোছুটি করবে তখন একজন মাইক্রোফোন নিয়ে বললো
- কেউ ছুটোছুটি করবেন না। শান্ত হয়ে বসুন। না হলে আমরা আমাদের কাজ করতে পারবো না। আপনাদের ভয়ের কোনো কারণ নেই। আমাদের লোক খুব সতর্কতার সাথে কাজ করছে।
সবাই বসে পড়লো। প্রিন্সিপালকে প্রশাসনের লোকজন ঘিরে ধরলো। আর কয়েকজন ঘিরে ধরলো বন্দুক তাক করে। রিক্ত বোকার মতো সেদিকে চেয়ে আছে। রিক্ত বুঝতে পারছে না কি হতে যাচ্ছে।
পুলিশের অফিসার কিছুক্ষণ পর স্টেজে উঠে বললো
- আসলে আমরা দুঃখিত একটু অসতর্ক টার জন আপনাদের ভেতর আতংক ছড়িয়ে পড়লো। আর কোনো চিন্তা নেই। সন্ত্রাসী দের আমরা ধরে ফেলছি কয়েজজন সন্ত্রাসী আমাদের গুলিতে মারা গেছে। আজকে তাদের প্ল্যান ছিলো প্রিন্সিপালকে শেষ করার। কিন্তু তার আগেই আমরা সব প্ল্যাণ নষ্ট করে দিছি।
রিক্তর হাতে হ্যান্ডকাপ লাগানো। অফিসার রিক্তর দিকে তাকিয়ে পাশের কনস্টেবল কে বললো
- ওর হাতে হ্যান্ডকাপ লাগাইছো কেন?
- স্যার ও এদের সাথে জড়িত। প্রিন্সিপালকে ডাক্কা মেরে ফেলে দিছে।
অফিসার হেসে দিয়ে
- আরে বোকা ও ডাক্কা না মারলে প্রিন্সিপাল তো উপরে চলে যেতো।
কনস্টেবল হ্যান্ডকাপ খুলে দিলো। অনুষ্টান স্বাভাবিক ভাবে চলতে লাগলো।
অনুষ্ঠান শেষে রিক্তর সামনে রিছা দাড়িয়ে পড়লো । রিক্ত পাশ কাটিয়ে যেতে যাবে রিছা যেতে দেয় না। রিক্ত অবাক হয়ে রিছার দিকে চেয়ে আছে। রিছা খুব রেগে আছে। রেগে যেয়ে
- তুই ওভাবে ডাক্কা দিলি কেন? যদি গুলি টা তোর গায়ে এসে লাগতো।
- সবাই আমার জানাযা পড়তো।
রিছা আরো রেগে যেয়ে রিক্তর কলার ধরে বসে। পিছন থেকে একজন বললো
- রিক্ত তোমাকে প্রিন্সিপাল ডেকেছে এক্ষুণি ।
রিছা কলার ছেড়ে দিলো৷ রিক্ত চলে গেলো প্রিন্সিপালের রুমে। প্রিন্সিপাল রিক্তকে বসতে বললো। রিক্ত বসলো। প্রিন্সিপাল বললো
- তোমাকে ধন্যবাদ দিয়ে ছোট করবো না। তুমি আমাকে যেভাবে বাঁচালে তার জন্য তোমার কাছে চির ঋণি।
- আরে স্যার কি বলেন? আমি তো উছিলা মাত্র।
- তোমাকে আমার পছন্দ হয়েছে।। বলো কি চাও?
- বেশি কিছু না। যাদের অর্থের সমস্যা তাদের জন্য সবকিছু ফ্রী করে দিবেন। তারা টাকার অভাবে জেনো ছিটকে পড়তে না পারে।৷
প্রিন্সিপাল স্যার উঠে দাঁড়িয়ে
- আমি তো ভেবেছিলাম তুমি অন্য কিছু চাইবে।
- না স্যার আমার এতোটুকু চাই।
- ঠিক আছে।
রিক্ত হাসিখুশি মুখে বেরিয়ে আসলো।
রিছা যাওয়ার সময় আফসানাকে দেখতে পেলো। আফসানা দাঁড়িয়ে আছে হয়তো রিক্ত কে নেওয়ার জন্য। রিছা মনে মনে ভাবছে এই মেয়েটা যদি না থাকতো তাহলে রিক্ত আর আমি এক সাথে যেতে পারতাম। কেন যে মায়ায় জড়ালাম আর কেন যে বাঁশ খেলাম। জীবনে কাউকে এতো করে চাওয়া টা ঠিক না।
রিক্ত এসে দেখলো আফসানা দাঁড়িয়ে আছে। রিক্ত অবাক হয়ে
- আপনি দাঁড়িয়ে আছেন এখনো।
- এই তোমাকে বলছি না আপনি করবা না তুমি করে বলবা।
- বলতে বলতে অভ্যাস হয়ে যাবে।
- অভ্যাস টা তাড়াতাড়ি করো। না হলে কিন্তু তোমার খবর আছে।
- হুম জানি তো।
- চলো তোমাকে নামিয়ে দিয়ে আমি বাসায় যাবো।
- আমি যেতে পারবো তো।
আফসানা চোখ রাঙ্গিয়ে
- বেশি চালাক হয়ে গেছো।
রিক্ত মাথা নিচু করে গাড়িতে উঠলো। আফসানা গাড়িতে উঠলো। ড্রাইভার গাড়ি চালাচ্ছে।
এতক্ষণ দূর থেকে রিছা সবকিছু দেখতে ছিলো। মনের ভেতর কষ্ট জেনো বাসা বেধে ফেলছে।
রিছা মন খারাপ করে চলে গেলো।
![]() |
| বোকা ছেলে পর্ব ৫ |
৭ দিন কেটে গেলো কিন্তু এই ৭ দিনে রিক্তর কোনো ছায়া দেখতে পেলো না রিছা। রিছা মনে মনে ভাবছে রিক্তর কোনো অসুবিধা হলো না তো। ও কি অসুস্থ যে আসছে না। ওকে দেখলে ও তো মনটা ভালো লাগতো। কিন্তু এখন আর ভালো লাগছে না। ইভা রিছার পাশে বসে
- কি নায়কের জন্য মন খারাপ?
- না।
- আমি জানি রে। তবে তোর নায়ক বড় লোক মেয়েটার সাথে ট্র্যুরে গেছে। বুঝতেই তো পারছিস দুজনে যাওয়া মানে এক রুমে থাকা
রিছা কানে হাত দিয়ে
- চুপ কর ইভা। আমি আর শুনতে পারছি না।
- শুনবি না কেন? তোর তো এসব ভালো লাগে। যে তোকে কখনো ভালোবাসেনি সেখানে তুই কিসের ভালোবাসিস।
রিছা উঠে চলে গেলো। ইভা বললো
- যতই লুকাস না কেন বুঝবি তুই, আমাকে মনে করবা
সন্ধ্যার পর লেকের পাশে রিছা একাই বসে ছিলো। কিছুক্ষণ পর ইভা এসে
- এতো মন খারাপ করলে হবে।
- দোস্ত আমাকে কোনো ওষুধ দিবি যেটা খেলে আর রিক্তর কথা মনে পড়বে না।
ইভা একটা সিগারের বের করে দিলো। আর বললো
- ইনজয় কর।
- এটা খেলে ভূলবো তো।
- হ্যা। এটা খেলে তোর আর কারো কথা মনে পড়বে না।
রিছা সিগারেট টা মুখে নিয়ে ধরাতে যাবে যখন তখনি কানে ভেসে আসলো শব্দ.......
waiting for next part

Leave a Comment