বোকা ছেলে

পর্ব  ১৭

কলমেMeherab_Kabbo

রিছা উঠে দাঁড়িয়ে দেখলো রিক্ত এসেছে বাদাম বিক্রি করতে।  রিক্ত বলতে বলতে আসছে
- মামা বাদাম আছে।  বাদাম।  মামা বাদাম লাগবে। 
ইভা পাশ থেকে বললো
- কি রে ধরালি না কেন?
- রিক্ত। 
- তো কি হয়েছে?
- আমার না রিক্ত কে হলে হয়ে যাবে।  আর কিছু চাই না।  ওর শুন্যতায় আমি থাকতে পারি না। 
- রিক্ত তো অন্য কারো তাই না। 
- আমি ঐ মেয়েটার কাছে আমার রিক্তকে ভিক্ষা চাইবো। 
- রিছা জোর করে কখনো ভালোবাসা হয় না।  দুজনের সম্মতি আছে বলেই তো একে অপরকে ভালোবাসসে।  এর ভেতর তোকে কিভাবে৷
- আমার না এখানে থাকাটা হবে না। 
ইভা অবাক হয়ে
- কেন?
- রিক্তকে অন্য কারো সাথে আমার সহ্য হয় না।  অনেক দূরে চলে যাবো।।

রিক্ত বাদাম বিক্রি করতে করতে এগিয়ে আসলো রিছার কাছাকাছি।  রিছা ভাবছিলো রিক্ত আজকে রিছার হাত থেকে সিগারেট টা ফেলে দিবে।  কিন্তু না রিক্ত গালে হাত দিয়ে পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছিলো তখনি ইভা বললো
- কি মামা বাদাম দিবে না?
-কেন দিবো না?  এই নেন। 

ইভাকে বাদাম দিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে গেলো।
ইভা রিছাকে বললো
- কি বুঝলি?
- কি বুঝবো?
- চড় মেরে অপমান করছিলি তাই মনে করিয়ে দিলো।

  রিছা রিক্তর কোনো রিয়েক্ট না দেখে হাত থেকে সিগারেট টা ফেলে দিয়ে চলে গেলো।  ইভা মুচকি হাসছে। 

রিক্ত কিছু দূর যেতে একজন বয়স্ক ভদ্রলোক রিক্তকে ডাক দিলো।  রিক্ত এগিয়ে যেয়ে

- কি মামা বাদাম লাগবে?
- হ্যা লাগবে তবে আমার একটা কাজ করে দিতে হবে। 
- হ্যা বলুন কি কাজ?

একটা মোড়ানো কাগজ দিয়ে
- এটা ঐ গাছের পাশে কিছু ছেলে মেয়ে আছে ওদের কাছে দিবা।  আর তোমার বাদাম। 
- কি এটা মামা?
- তুমি বুঝবে না।  যা বলছি করো।
- ঠিক আছে। 

রিক্ত বাদাম দিলো লোকটাকে।  রিক্ত মোড়ানো কাগজ টা নিয়ে ওদের কাছে দিলো আর বাদাম। 

পরেরদিন
বোকা ছেলে পর্ব ১৭ 




সকালে ভার্সিটিতে আসলে রিক্ত সামনে গতকালকের ভদ্রলোক টা এসে দাঁড়ালো ।  রিক্ত লোকটাকে দেখে
- মামা আপনি এখানে?
- আসলাম তোমার কাজ টা আমার পছন্দ হয়েছে।  আমার সাথে কাজ করবে। 
- কি কাজ মামা?
- তুমি আমার থেকে বাদাম নিবে।  যেখানে দিতে বলবো সব জায়গায় দিয়ে আসবা৷ তোমাকে আমি মাসে ২০ হাজার টাকা দিবো বেতন। 

রিক্ত অবাক হয়ে
- এতোটুকু তে এতো বেতন।
- ভালো কাজ করতে পারলে এর থেকে বেশি দিবো। 
- তবে কাজটা কখন আমার করতে হবে
- সকাল থেকে রাত ১০ টা। 
- সরি আমি পারবো না।
- কেন?
- আমার ভার্সিটি আছে।  আপনি অন্য কাউকে দেখে নেন। 
- আচ্ছা ঠিক আছে।  তোমার ভার্সিটিতে শেষে আমার কাছে চলে আসবা। খাওয়া দাওয়া আমার এখানে করবা। 
- ঠিক আছে। 

ভদ্র লোকটা চলে গেলো।  আফসানা দূর থেকে সব কিছু দেখতেছিলো।  আফসানা এগিয়ে এসে
- লোকটা কে ছিলো?
- চিনি না।  আমাকে চাকরির অফার করে গেছে।
- তুমি কি বলছো।
- করবো বলছি। 
- কেন তোমার বাদাম বিক্রি।
- বাদাম বিক্রি করে তো হয় না।  চাকরি টা পেয়েছি করবো।  বাসায় কিছু টাকা পাঠাতে পারবো। 
- শোনো অনেক ঠকবাজ মানুষ আছে।  চাকরির কথা বলে টাকা নেয়। 
- আমার তো লোকটাকে ভালো মনে হয়।  আমার কাছে টাকা চায় নি। 
- তুমি তো আমার বাবার কোম্পানি তে চাকরি করতে পারো।
- ওমন চাকরি আমার ভালো লাগে না। 
- ঠিক আছে যেটা ভালো মনে করো।  ঠকে গেলে বুঝবা।  তুমি যে বোকা। 

লোকটা আবার এসে সামনে দাঁড়িয়ে
- তেমার অগ্রিম বেতন৷ ভূলে গেছিলাম।  সঠিক সময়ে চলে এসো।

আফসানা পুরো হা হয়ে আছে।  লোকটা চলে গেলো। রিক্ত বললো
- বলেছিলাম না লোকটা ভালো।  অগ্রিম দিয়ে গেলো। 

রিক্ত ক্লাসে চলে গেলো।   ক্লাস শেষে রিক্ত রিছাকে দেখে সামনে এগিয়ে যেয়ে পকেট থেকে টাকা বের করে  দিয়ে
- ফিস টা সময় মতো দিয়ে দিয়েন।
রিছা অবাক হয়ে আছে রিক্তর দিকে তাকিয়ে।  মাথাটা নিচু করে আছে।  কিছু বলার মতো ভাষা নেই রিছা।  রিক্ত আবারো বললো
- সবটা আমি শুনেছি তাই আর লজ্জা পেতে হবে না।  একটা সময় পরিশোধ করে দিয়েন৷ 

রিক্ত চলে যায়।  ইভা পাশে এসে
- রিক্ত কি বললো?
রিছা টাকাটা দেখিয়ে দিয়ে
- ফিস দেওয়ার টাকা দিলো। 
ইভা অবাক হয়ে গেলো। 

আজ ভার্সিটিতে আসার পথে রিছার ব্যাগ টা ছিনতাই হয়ে যায়। ব্যাগে ফিস এর টাকাটা ছিলো।  আজ লাস্ট তারিখ ছিলো৷  রিক্ত ক্লাসে যাওয়ার আগে রিছাকে কান্না করতে দেখে।  পাশ থেকে সবটা শুনে নেয়। 


রিক্ত সেই লোকটার কাছে চলে যায়।  লোকটা রিক্তকে বাদামের ঝুড়ি দিলো।  ঠিকানা দিলো সাথে।  ঝুড়ির বাদাম গুলো বিক্রি করতে বলছে।  প্যাকেট করা বাদাম গুলো ঠিকানা মতো পৌছে দিতে বললো।  লোকটার কথা মতো রিক্ত সব কাজ গুলো করলো। 

সন্ধ্যায় ভার্সিটিতে এসে বাদাম বিক্রি করা।  বাদামের প্যাকেট গুলো অনেক কে দেওয়া। 

এভাবে প্রায় মাস খানেক কেটে গেলো।

রিছা খেয়াল করলো রিক্তর সাথে আফসানাকে দেখা যাচ্ছে না ।  আফসানার আফসানার মতো আসছে যাচ্ছে।  রিক্ত রিক্তর মতো।  হয়তো ঝগড়া বাঁধছে দুজনের।  আবার হয়তো ঠিক হয়ে যাবে৷  অনুভব করা ছাড়া রিছার আর কিছু করার নেই।  প্রিয় মানুষ টা ভালো থাকুক। 

একদিন রিক্ত আর প্রিন্সিপাল স্যার ক্যাম্পাসে কথা বলতে বলতে হাঁটতে ছিলো তখনি কিছু গাড়ি এসে গোল করে ঘিরে ফেলে ওদের।  প্রিন্সিপাল স্যার রিক্ত অবাক হয়ে যায়।  গাড়ি থেকে সবাই বন্দুক হাতে নামে।  ভার্সিটিতে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়ে গেলো৷  মেইন গেইট তালা মেরে দিছে।  ভেতরে প্রবেশ করতে পারবে না কেউ। 

গাড়ি থেকে একটা লোক নামলো রিক্ত পুরো থ হয়ে গেলো.........

(waiting for next part..........)

Leave a Comment