ভালোবাসা দিন কতটা রঙিন
পর্ব ৩০
লেখা: Meherab Kabbo
প্রীতমের মা বাবা প্রিয়ন্তিকে নিয়ে বের হলো। রাস্তার পাশে গাড়ি দাড়িয়ে আছে। তিন জনে গাড়িতে উঠলো৷ ড্রাইভার গাড়ি চালাতে শুরু করলো।
পিহু সেজে গুজে বাসা থেকে বের হলো৷ গাড়ির কাছে আসতেই পিহু হেসে উঠে বললো
- যাও যাও প্রীতমকে নিয়ে বাড়ি ফিরতে হবে না। মাঝ রাস্তায় সোজা উপরে চলে যাবে। আমি প্রীতমকে যেয়ে আনবো। আমার এতোদিনের স্বপ্ন পূরণ হতে চলছে।
পিহু গাড়িতে উঠে পড়লো। ড্রাইভার গাড়ি চালানো শুরু করলো।
প্রিয়ন্তি মনে মনে ভয় পেয়ে চলছে। যে করেই হোক সব শেষ করতে হবে। আর এভাবে চলতে পারবো না। আমার প্রিয়মকে নিয়ে আমি থাকতে চাই। আমার ভালো লাগার মানুষটাকে অনেক কষ্ট দিয়েছি। অনেক অন্যায় করে ফেলছি। আজ আমার প্রিয়মকে চমকে দিবো৷ ওর উপর থেকে সকল খারাপ মানুষকে সরিয়ে দিবো৷ সবকিছু বলবো আজ প্রিয়মকে৷ আমি আমার প্রিয়মকে পেয়ে গেছি।
প্রিয়ন্তির চোখের কোণে পানি জমা হয়ে গেছে।
পিহুর গাড়ি চলতে চলতে একটা কাভার ফ্যানের সাথে এক্সিডেন্ট হয়। ড্রাইভার স্পটে মারা গেছে। পিহুর অবস্থা আশাংকা জনক। পিহুকে হাসপাতালে icu তে নেওয়া হয়েছে।
এয়ারপোর্টের সামনে এসে গাড়ি থামলো। গাড়ি থেকে নেমে প্রীতমের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলো৷ কিছুক্ষণ পর প্রিয়ন্তি প্রীতমকে দেখতেই দৌড়ে যেয়ে প্রীতমকে জরিয়ে ধরে কান্না
- তুমি কেন বলো নি তুমি আমার প্রিয়ম । কেন কষ্ট দিলা এভাবে। আমি তো তোমাকে ভালোবাসি। আমার প্রিয়ম কে।
প্রীতম প্রিয়ন্তির কথা শুনে পুরো থ হয়ে গেলো৷ প্রিয়ন্তি কিভাবে জানতে পারলো৷ সবার তো বারণ ছিলো। তাহলে। কে বললো?
প্রীতম কি করবে বুঝতে পারছে না। প্রিয়ন্তি বললো
- চিন্তা করো ন আমি আছি তো। তোমার ক্ষতি আর কেউ করতে পারবে না।।
প্রীতম কিছুই বুঝতে পারছে না। কি হলো হঠাৎ করে প্রিয়ন্তির। আমি যে প্রিয়ম ও কার থেকে জানলো।
প্রিয়ন্তি প্রীতমের ভাবনা ভেঙ্গে দিয়ে
- এতো কি ভাবছো? চলো মা বাবা দাঁড়িয়ে আছে৷
প্রিয়ন্তি প্রীতমকে ছেড়ে দিলো। প্রীতম প্রিয়ন্তি মা বাবার সামনে দাঁড়ালো। মা প্রীতমকে জরিয়ে ধরে কান্না করে দিয়ে
- মা কে ছাড়া খুব ভালোই ছিলি৷ এতোটা অভিমান করছিলি৷
প্রীতমের মুখে কথা নেই। কি বলবে বুঝতে পারছে। প্রীতমের বাবার ফোনে ফোন আসলো। কলটা রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে
- পিহু এক্সিডেন্ট করছে। হাসপাতালে ভর্তি। অবস্থা আশংকা জনক। যত তাড়াতাড়ি পারেন চলে আসুন
প্রীতম বাবা কথাটা শুনে থ হয়ে গেলো৷ ফোনটা কেটে গেলো৷ প্রীতম জিঙ্গেস করলো
- কি হয়েছে বাবা ? কার ফোন ছিলো।
- পিহু পিহু
প্রীতম অবাক হয়ে
- কি পিহু?
- পিহু এক্সিডেন্ট করছে। হাসপাতালে ভর্তি।
সবাই হা গেলো। সবাই তাড়াতাড়ি গাড়িতে উঠে পড়লো৷ গাড়ি যেয়ে হাসপাতালের সামনে থামলো। প্রিয়ন্তি প্রীতম মা বাবা সবাই হাসপাতালের ভেতর প্রবেশ করলো। ভাবি সামনে এসে দাঁড়ালো। প্রীতম বললো
- কিভাবে হলো এক্সিডেন্ট?
- জানি না রে। বড় গাড়ি এসে মারছে।
- এখন কি অবস্থা?
- বলতে পারছে না, ঙ্গান না ফিরা পর্যন্ত কিছু বলা যাচ্ছে না৷
![]() |
| ভালোবাসা দিন কতটা রঙিন পর্ব ৩০ |
সবাই হাসপাতালে অপেক্ষা করতে লাগলো। কখন পিহুর জ্ঞান ফিরবে। সবাই পিহুর জন্য দোয়া করছে। প্রিয়ন্তি প্রীতমের কাঁধে মাথা রেখে ঘুমিয়ে গেছে।
পরেরদিন
পিহুর জ্ঞান ফিরলো। নার্স এসে বললে পিহুর বোন পিহুর কাছে চলে যায়। পিহু বোনকে বললো
- আপু রে আমাকে মাফ করে দিস। আমি অনেক অপরাধ করছি এটার জন্য জানি আমার মাফ হবে না।
- তুই চুপ থাক বোন। তুই আগে সুস্থ হ।
- আপু একটা কথা রাখবি।
- কি বল?
- প্রিয়ন্তিকে একটু এনে দিবি। ওর কাছে আমি মাফ চেয়ে নিবো। আমি ওর সাথে অনেক অন্যায় করছি। ৷
- প্রিয়ন্তি তো আছে হাসপাতালে।
- ওকে ডেকে দাও। মরার আগে আমি মাফ চেয়ে নিবো প্লিজ আপু৷
- ঠিক আছে আমি দিচ্ছি ডেকে৷
পিহুর বোন ভেজা চোখে বের হলো৷ প্রিয়ন্তির সামনে দাঁড়িয়ে কেঁদে দিয়ে
- তুমি আমার বোনকে মাফ করে দিয়ো। ও তোমার সাথে কথা বলবে৷ ভেতরে যাও প্লিজ।
প্রিয়ন্তি ভেতরে চলে গেলো। পিহুর সামনে দাড়িয়ে। পিহু হাতটা বাড়িয়ে দিলো। প্রিয়ন্তি নিজে এগিয়ে গেলো৷ পিহু প্রিয়ন্তির হাত টা ধরে
- বোন রে তুই আমাকে মাফ করে দিস। আমি তোর সাথে অনেক বড় অন্যায় করেছি।
প্রিয়ন্তি অবাক হয়ে
- না না কি বলছো এসব । তুমি আবার কি বলছো এসব। তুমি আগে সুস্থ হয়ে নাও।
- আমি হয়তো বেশিক্ষণ নেই। তোমাকে সত্যটা জানিয়ে মরতে চাই।
- কি সত্য?
- এতোদিন তোমার সাথে যা যা বলিছি সব মিথ্যা। প্রিয়ম আমাকে কখনো ভালোবাসি নি৷ ও শুধু তোমাকে ভালোবাসে। আমি প্রিয়মকে পাওয়ার জন্য অনেক কিছু করেছি। তোমাকে তাড়ানোর জন্য অনেক কিছু করেছি৷ কিন্তু দেখো সেই প্রিয়ম তোমাকে বেঁচে নিলো। এতো দিন যা করেছি শুধু মাত্র প্রিয়মকে পাওয়ার জন্য।
প্রিয়ন্তি হা হয়ে
- কেন? আমি আসার আগে তুমি আসো নি।
- প্রিয়ম তো কখনো আমাকে পছন্দই করতোই না। তেমন কথা বলতো না। সেদিন ভাবির রুমে প্রিয়ম তোমার জন্মদিনের প্ল্যান করছিলো কিন্তু আমি তোমাকে মিথ্যা বলে ভূল বুঝিয়েছি। তুমি আমাকে মাফ করে দাও।
প্রিয়ন্তি পিহুর কানের কাছে যেয়ে
- তুমি মনে হয় একটু ভূল করে ফেলছো। এই বেডে আমি আমার শাশুড়ী আর শুশুর থাকার কথা ছিলো কিন্তু ভাগ্যক্রমে তুমি এখন এই বেডে তাই না।
পিহু চোখ বড় বড় করে দিয়ে
- তু তু তু তুমি জানলে কিভাবে।
- আমার জন্মদিনের সময় তুমি একটা ম্যাসেজ করছিলা। আমি তোমার বোনের থেকে শুনে তোমাকে ডাকতে এসেছিলাম তখনি তুমি তোমার আম্মুর সাথে কথা বলতেছিলা আমি সবটা শুনে নিয়েছি। সেদিনের পর থেকে তোমার সব প্ল্যান জানার জন্য তোমাকে ফলো করি। তোমাকে প্রশ্রয় দিছি সবকিছুতে৷ আমি কষ্ট দিয়েছি আমার প্রিয়ম কে। আমার ভালোবাসার মানুষটাকে কাছে পেয়ে ও হারিয়েছি। ওর ভালোবাসা থেকে আমি বঞ্চিত হয়েছি। কষ্ট দিয়ে আমার শশুর শাশুড়ী কে। তবু ও তারা সহ্য করেছে আমাকে। শুধু মাত্র তোমার জন্য৷ আমি কিভাবে তোমাকে ছেড়ে দি বলো।
পিহু প্রিয়ন্তির হাত টা খুব শক্ত করে ধরে প্লিজ
-- তুমি আমাকে মাফ করে দাও। ওদের কে কিছু বলো না। আমার আপুর সংসার টা ভেঙ্গে যাবে৷ আমার আপুর সংসার ভেঙ্গো না।
- এতোটা অস্থির হয়ো না। এটা সবসময় মাথায় রাখবা কখনো সম্পত্তির লোভ করে জোর করে ভালোবাসা হয় না। ভালোবাসার জন্য মনের ভেতর মনুষ্যত্ব থাকতে হয়। ভালোবাসা একা একা এসে ধরা দিবে।
প্রিয়ন্তি উঠে দাঁড়িয়ে শয়তানি একটা হাসি দিয়ে পিছন ফিরলো
(জন্মদিনের দিন যখন পিহুর ঘরে গেছিলো তখন পিহুকে কথা বলতে দেখে ওর মার সাথে ফোনে কথা বলছে। পিহু আড়াল হয়ে যায়।
পিহু ফোনে বলতেছে
- মা এই প্রিয়ন্তির জন্য প্রিয়মকে হাতে আনতে পারলাম না। তবে প্রিয়ন্তিকে আমার দলে নিয়ে নিয়েছি৷ ওকে যা বলি তাই বিশ্বাস করে। ও প্রিয়মকে ছেড়ে দিবে। আর তখনি টোপ টা ফেলবো৷
- প্রিয়ন্তি না গেলে ওকে রাস্তা থেকে সরানোর ব্যবস্থা করবো। ঐ বাড়ির সম্পত্তি আমার চাই।
- একটি বার বিয়ে টা হতে দাও সব সম্পত্তি আমার নামে করে নিবো। ওদের এতো অহংকার কই থেকে আসে তখন বের করবো।
- যেটা করবি তাড়াতাড়ি। দরকার পড়লে প্রিয়মের মা বাবাকে ও রাস্তা দিয়ে সরিয়ে দিতে হবে।
- বেশি বারাবাড়ি করলে ওটায় করবো। কেবল তো শুরু। প্রিয়ন্তি আমার প্রতিটা কথা বিশ্বাস করে। একটু পর ওর কাছে যেয়ে বলবো প্রিয়ম আমার সব কিছু কেড়ে নিছে। আমি বাঁচবো না মরে যাবো।
প্রিয়ন্তি সেখান থেকে চলে যায়। মনে মনে ভেবে নেয় পিহুর সব শয়তানি থেকে নিজের পরিবার কে বাঁচাবে। শুরু করে পিহুকে ফলো করা। ওকে সঙ্গ দেওয়া৷)
হাসপাতালের ভেতর পিহুর বোন দুলাভাই, প্রীতম, প্রীতমের মা বাবা সবাই উঠে দাঁড়িয়ে হা হয়ে যায়............
(waiting for next part......)
গল্পটা শেষ পর্যায়। হাতে সময় কম থাকায় নিয়মিত গল্প দিতে পারছি না। তার জন্য সরি মাফ করবেন সবাই।
বিঃদ্রঃ ভূলত্রুটি ক্ষমা করবেন।

Leave a Comment