তুমি আমার এক অন্যরকম শান্তি


পর্ব   ২১

লেখাMeherab Kabbo

জান্নাত দৌড় দিয়ে সরে গেলো।  মিথিলা মেহেরাবকে টেনে বসিয়ে
- কোথায় যাচ্ছো সত্যি কথাগুলো বলো।
- ভাবি আমাকে বিশ্বাস হয় না। 
- তাহলে দুজনে রিকশায় উঠছিলা কেন?  এতোই যখন বন্ধু। 
- রিক্সা ছাড়া তো অন্য গাড়িতে যাওয়া যাবে না।
মা বললো
- ঠিক আছে সবই বুঝলাম।  তা ফোন অফ করছিস কেন?
- কই ফোন অফ করছি। 
মেহেরাব ফোন টা বের করে পাওয়ার বাটনে চাপ দিয়ে ফোনটা খুলে অবাক হয়ে গেলো। 
মিহু বললো
- দুজনের প্রেমে ডিস্টার্ব না হয় সেই জন্য ফোন অফ রাখছিলো। 
- আরে না।  ফোনের সিম সরে গেছে। 
মিথিলা ফোনটা নিয়ে
- দেখি তো। 
মিথিলার থেকে মিহু নিয়ে দেখলো ।  মিথিলা বললো
- সরে গেছে নাকি ইচ্ছা করে সরানো হয়েছে। 
- ভাবি তোমরা কেন আমার সাথে এমন করছো।  আগে কখনো লুকাইছি তোমাদের থেকে।  যা করেছি বলেছি।  আজ ঐ বান্দর দুটো কথা শুনে। 
মিথিলা ঢং করে
- আহারে দেবর টা আমার। 
মা দিয়ে সবাই হেসে উঠলো।  মেহেরাব বোকার মতো চেয়ে আছে।  সবাই মিলে আজকে মজা নিলো ওর সাথে।  ভাই দু জন জানলে আরো বেশি মজা নিবে।  মেহেরাব বললো
- ভাইয়া দের বইলো না প্লিজ।  তাহলে
মিহু হেসে দিয়ে
- তাদের কানে খবর চলে গেছে।  সিমটা ঠিক ভাবে লাগাও।
- না থাক।  আজ আর ফোন খুলবো না।
মা বললো
- অনেক হয়েছে এখন যা হাতমুখ ধুয়ে আই সবাই এক সাথে খাবো। 

মেহেরাব চলে গেলো।  সবাই হাসাহাসি করছে।  জান্নাত বললো
- ও তো ভয় পেয়ে গেছিলো।  আমরা যদি সত্যি করে দিতাম। 
মিথিলা হেসে দিয়ে
- তুমি না এসে বললে তো আজ এমন মজা নিতে পারতাম না।  মনে হয় না ও আর রিলেশন করবে।
- তবে মেয়েটা সুন্দর আছে।  ভালোই মিশুক আছে।  অল্পতে সবাইকে আপন করে নিতে পারে। 
- কি বলো জান্নাত?
- হ্যা ঠিকি বলছি।  যার উপর একবার অধিকার দেখায় তা আদায় করে নেয়।
- তাহলে তো মেয়েটাকে দেখতে হয়।
- মেহেরাবকে বলি আনতে।
মা উঠে দাঁড়িয়ে
- না থাক।  বাসার যে অবস্থা।  মেয়েটা যদি কোনো কিছু বলে মেহেরাব এবার ভেঙ্গে পড়বে। 
জান্নাত বললো
- তা ও ঠিক।  ওর যেমন আছে থাকতে দি। 
- হুম। 

**
(মেধা নাহিদ কে সবাই ভূলে গেছেন তাই না।  নিয়ে আসলাম ওদের কে আবার)

নাহিদ মেধাকে কল করলো।  কয়েকবার কল হওয়ার পর মেধা ফোনটা রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে
- এতোক্ষণ লাগে একটা কল ধরতে। 
- সরি সরি।  বাসায় কাজ করছি। 
- কিসের এতো কাজ তোমার। 
- আত্নীয় স্বজনদের লিস্ট করছি।  ওদের দাওয়াত দিতে হবে। 
- ওওও
- বাব্বাহ একটু দেরি হয়েছে বলে এতো পাগল হয়ে গেছো।  বিয়ের পর কি করবা নে। 
নাহিদ মেধার কথায় লজ্জা পেয়ে গেলো।  নাহিদ কিছু বললো না। মেধা বললো
- তুমি লজ্জা পেয়েছো।  আর লজ্জা পেতে হবে না।  - লজ্জা দিয়ে কথা বললে পাবোই তো। 
- ছেলেদের নাকি লজ্জা নেই।  তাহলে তোমার আছে কেন?
- শুধুই কি তোমাদের মেয়েদের লজ্জা আছে। 
- অবশ্যই কেন না?
- তাহলে ছেলেদের ও আছে। 
- বিয়ের পর দেখবো কেমন লজ্জা।
- হুম। 
- এই বাবু আম্মু ডাকছে।  তোমাকে কাজ শেষে কল দিবো৷
- আর একটু থাকো না।  বাসায় কি আর কেউ নেই। 
- আপুরা তো এখনো আসেনি। ভাবি আছে সে ওতো বুঝে না। আমি যেয়ে বলে আছি।  বিয়ের পর দেখবো এতো ভালোবাসা কই থাকে। 
- হুম দেখবা ভালো করে। 
- যায় পাখি এখন। 
- আচ্ছা।  অপেক্ষায় থাকলাম তোমার। 

ফোনটা কেটে দিলো।  মেধা চলে গেলো।  নাহিদ ছাদে উঠে একটা সিগারেট জ্বালালো। 


**

রাত ১২ টা
তামান্না ফোনটা হাতে নিয়ে ফেসবুকে ঢুকলো৷ দেখলো মেহেরাব লাইনে।  তামান্না ম্যাসেজ করলো
- হাই।
৩ মিনিট পর রিপ্লে আসলো
- হ্যালো। 
- কি করো?
- তোমার কথা ভাবছি। 
তামান্না এমন একটা ম্যাসেজ পাওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিলো না।  ম্যাসেজটা দেখে তামান্নার হার্টবিট কেঁপে উঠলো।  তামান্না বললো
- হঠাৎ আমার কথা কেন?
- আজকের এতো সুন্দর মুহূর্ত আগে কখনো কাটায় নি।  যতক্ষণ তুমি আমার সাথে ছিলে ততোক্ষণ মনে হয়েছে  তুমি আর আমি ছাড়া কেউ নেই। 
তামান্নার হার্টবিটের কম্পন বেড়ে গেলো।  মেহেরাব কি বলছে এগুলো।  তাহলে মেহেরাব আমাকে ভালোবেসে ফেলছে৷  না না এ কি ভাবছি ।  তামান্না কি রিপ্লে দিবে কিছু বুঝে উঠতে পারছে না৷ আজ বুকের কম্পন টা এতো বেড়ে গেলো কেন? সামন্য দুটো কথা আমার পৃথিবী উল্টিয়ে দিলো।  আমার এমন কেন লাগছে।  মেহেরাব।  মেহেরাব কি তাহলে আমার মনের শান্তি আমি কি তাহলে মেহেরাবকে ভালেবাসি। এতো তাড়াতাড়ি ভালোবেসে ফেললাম।  না না আমি বেশি ইমোশনাল হয়ে গেছি।  নিজেকে কন্ট্রোল করতে হবে।  তামান্না লাইন থেকে বেরিয়ে যেয়ে এক গ্লাস পানি ঢকঢক করে খেয়ে ফেললো।  শুয়ে কোল বালিশ শক্ত করে জরিয়ে ধরে চোখটা বন্ধ করে ফেললো। 
তুমি আমার এক অন্যরকম শান্তি পর্ব ২১  




মেহেরাব বাহির থেকে এসে
- আমি ঘুমাতে যায়। ঘুম পাচ্ছে খুব। 
মিথিলা হেসে বললো
- আচ্ছা যাও তবে৷ 
মেহেরাব যেতে যাবে তখন মিহু বললো
- ফোনটা নিয়ে যাও। 
মেহেরাব ফোনটা নিয়ে চলে গেলো নিজের ঘরে৷

মিহু মিথিলা জান্নাত তিনজনে জোরে হেসে উঠলো।  মিথিলা বললো
- কালকে দেখা যাবে আসল কাহিনি৷ 
- হুম।  ফোনটা রেখে বাইরে গেছিলো।  তখনি ম্যাসেজ টা দিলো। 
মিহু হেসে বললো
- যা বলছি মেয়েটার মনে এতক্ষণে লাড্ডু ফুটে গেছে। 

তিনজনে আবার হাসলো।  জান্নাত বললো
- যদি আবার ম্যাসেজ দেয়। 
- দিবে না।  দিলে তো তখনি দিতো। 
- মেহেরাবকে যদি বলে।
- বললে বলুক।  কিছু তো জানা যাবে। 

*★
মেধা ফ্রি হয়ে নাহিদকে কল করলো।  নাহিদ কল টা ধরেই
- এখন ফ্রি হলে৷ 
- হ্যা গো বাবু। 
- আমাকে কি একটু ও মিস করো নি?
- করেছি তো।  কি করবো বলো?  যতই তাড়াতাড়ি করি ততই দেরি হয়ে গেলো। 
- ও। 
- রাগ করে আছো সোনা।  উম্মাহ 😆

(লে আমি লোমান্টিক লিখতাছি।  আপনারা আবার হেসেন না।  তাহলে লজ্জা পাবো খুব🤣)

নাহিদের রাগ জেনো এক কিসে হারিয়ে গেলো।  নাহিদ বললো
- এতো রোমান্টিক হলে কবে। 
- তোমার জন্যই তো হয়েছে।
- হুম তা ভালো।  বিয়ের পর দেখবো রাগ ভাঙ্গাও কি করে?
- তখন তো সরাসরি তে দিবো বুঝছো।  পারবা রাগ করে থাকতে। 
- ভালোবাসো খুব তাই না। 
- হুম।  তুমি আমার লাইফে প্রথম স্বপ্নের আর ভালোবাসার মানুষ। খুব বেশিই ভালোবেসে ফেলছি। 
- আমার জীবনে তুমিই প্রথম। 
- হ্যা এই জন্যই দুজন দুজনকে পাওয়ার জন্য এতো পাগল। 
- হুম। 

দুজনে কথা বলতে থাকে । 


পরের দিন
বিকাল বেলা ফাঁকা রাস্তা। রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে তামান্না মেহেরাব।  গাছের আড়ালে লুকিয়ে আছে মিথিলা মিহু জান্নাত।  বাইকের উপর বসা রিপন পাশে শিপন আর লিমন দাড়ানো।  তামান্না মেহেরাবকে জরিয়ে ধরলো । 

মিহু মিথিলা জান্নাত তিনজন তিনজনের দিকে তাকিয়ে পড়লো হা হয়ে।  রিপন শিপন লিমন পুরো থ হয়ে গেলো..........

(Waiting for next part.........) 

লে পাঠকগন।  সবার ভালোবাসা পেয়ে আমি ও দেখি একটু লোমান্টিক হয়ে গেলাম।  সবার ভালোবাসায় আমি মুগ্ধ।  সবার জন্য ভালোবাসা অবিরাম 🥰🥰🥰।

happy ending


Leave a Comment