তুমি আমার এক অন্যরকম শান্তি


পর্ব   ২৩

লেখাMeherab Kabbo

তামান্না বাসায় মা কে জরিয়ে ধরলো।  মা জিঙ্গেস করলো
- কি হয়েছে?
- আজকে খুব খুশি আমি। 
- কেন?
- কিছু না। 

তামান্না মা কে ছেড়ে দিয়ে নিজের রুমে চলে গেলো।  দরজা আটকিয়ে দিলো।  তামান্নার মা মনে মনে বলছে পাগল।  তামান্না ব্যাগটা বিছানার উপর ফেলে দিয়ে আয়নার সামনে দাঁড়ালো ।  হাত দিয়ে মুখটা ঢেকে ফেললো।  লজ্জা পাচ্ছে।  মেহেরাব এভাবে চমকে দিলো।  কিভাবে বুঝলো আমার এইগুলো খুব পছন্দের।  তামান্না চুড়ি হাতে পড়লো।  নাড়াচাড়া করলো হাত।  কানে দুল পড়লো।  তারপর আবার আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে পড়লো। 


মেহেরাব চোখটা মেলে দেখলো মাথার কাছে মিথিলা বসা। ডান পাশে মিহু।  বাম পাশে জান্নাতু৷  মা পাশে দাড়ানো।  সামনে রাশেদ সজীব দুজনে দাঁড়িয়ে আছে।  মেহেরাব অবাক হয়ে গেলো।  সবাই মুচকি হাসছে।  মিথিলা মেহেরাবের মাথা হাত বুলিয়ে দিলো।  মেহেরাব উঠে বসে
- তোমরা সবাই আমার রুমে?  ভাইয়া তোমরা কখন আসলে।  কিছু কি হয়েছে?
রাশেদ বললো
- আমরা তো ঐটাই জানতে চাইছি কিছু কি হয়েছে?
মেহেরাব বাঁকা চোখ করে জান্নাত মিহু মিথিলার দিকে তাকালো।  জান্নাত কিছু বলছে নাকি। 
সজীব বললো
- কি ভাবছিস চোরের মতো?  সত্যি সত্যি সব কিছু বল। 
- আমি না কিছু বুঝতাছি না। 
মিহু মেহেরাবের মাথায় টোকা মেরে
- কিছুই বুঝতাছো না।  একটু মনে করো তো তুমি কোচিং এ গেলা।  কোচিং থেকে এসে সোজা রুমে ঢুকে ঘুমিয়ে পড়লা।  যে পোশাকে গেছিলা সেই পোশাকেই আছো। 

মেহেরাব মাথা চুলকিয়ে মনে মনে ভাবছে এই রে সবাই কি জেনে গেলো নাকি।  তারা কিভাবে জানবে।  না কিছু একটা বুঝাতে হবে।  মেহেরাব থ ম খেয়ে
- মাথাটা ব্যথা করছিলো তাই এসে ঘুমিয়ে পড়ছি। 
মিথিলা মেহেরাবের সামনে চোখ রাঙ্গিয়ে
- মাথা ব্যথা নাকি অন্যকিছু। 
জান্নাত বললো
- মনে হয় হার্টের সমস্যা হয়েছে।  মেহেরাব কম্পন টা কি বেশি হয়ে গেছে। 

মেহেরাব চুপ করে রইলো।  রাশেদ বললো
- তোর যদি পছন্দ হয়ে থাকে তাহলে বল আমরা যেয়ে পাকা কথা দিয়ে আসি৷ 
- কি যা তা বলছো ভাইয়া।  কাকে আবার পছন্দ করবো আমি। 
মিহু বললো
- আজ সন্ধ্যার আগে রাস্তার মাঝখানে
মিথিলা হেসে দিয়ে
- একজন ছেলে একজন মেয়ে
জান্নাত বললো
- কি যেন করলো?

মেহেরাব তিনজনের কথা শুনে থ হয়ে গেলো।  খুব বেশি লজ্জা পেয়ে গেলো।  মাথা নিচু করে নিলো।  কিভাবে জানলো তারা৷  মান ইজ্জত শেষ সব।  তারা যা ভাবছে তা ঠিক না।  কিভাবে বুঝাবো। 

সজীব বললো
- এবার তুই বলবি নাকি ওরা রিপিট করবে। 
মেহেরাব বললো
- ও আমার বন্ধু ছাড়া কেউ না।  তোমরা যা ভাবছো তা না। 
- তাহলে চুড়ি দিলি কেন?
- ও মেলায় পছন্দ করছিলো।  টাকা ছিলো না তাই আমি কিনে নিয়ে গেছিলাম। 
মিথিলা বললো
- তোমার বয়স টা কিন্তু আমরা পার করে আসছি। 
- ভাবি।  আমাকে একটু বোঝো।  তোমরা সবাই এক জায়গায় গেলে আমি একা কিভাবে বুঝাবো। 
- আহারে৷  তুমি আমাদের থেকে লুকাবা আমরা তোমার সাপোর্ট দিবো। 
মিহু বললো
- সত্যি কথা বলো।  শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সাপোর্ট দিবো।  মিথ্যা বললে দিবো না।
- আমি তোমাদেরকে বোঝাতে পারবো না।

মেহেরাব উঠে রুম থেকে বের হয়ে গেলো।  সবাই অবাক হয়ে গেলো। 


তামান্না মোবাইল দিয়ে চুড়ি পড়া হাতের ছবি তুললো।  কানের দুলের ছবি তুললো।  মনে মনে ভাবছে,
এই ক দিনে এতোটা আপন হয়ে গেলো মেহেরাব। কই আগে তো এমন কারো জন্য কখনো ফিল আসেনি।  সবার সাথে মজা দুষ্টুমি করছি কিন্তু মেহেরাবকে পেয়ে এতোটা ফিল করিনি।  তাহলে কি মেহেরাব আমার জন্য বলে এতো দিন অপক্ষা করছি আগে তো এতোটা ভালো কাউকে লাগতো না৷ যতটা মেহেরাবকে   দেখে লাগছে।  মনে হচ্ছে আমার বুকের বাশ পাশ টা ঐ ব্লক দিয়েছে। 



★★
মেধার ফোন বাজছে।  মেধা এসে কলটা রিসিভ করলো।  নাহিদ বললো
- কাল বিকালে একটু দেখা করবা। 
- কেনো? 
- কালকের পরের দিন তো গায়ে হলুদ তোমাকে তো আর দেখতে পাবো না দুদিন তাই। 
- বাব্বাহ তাই।  তর সইছে না বুঝি। 
- জানি না৷  তবে তোমাকে দেখতে মন যাচ্ছে।  কিছু টা সময় কাটাতে চাই। 
- আহারে আমার বেচারা জামাইটা।  বউকে ছাড়া কিছু  বুঝে না। 
- হুম ভালোবাসি তো খুব তাই৷
- ঠিক আছে।  আমার ও মনটা চাইছিলো তোমার সাথে দেখা করবো। 
- সত্যি বলছো। 
- হ্যা। ।  আমার কল দেওয়ার আগে তুমি দিয়েছো।  - তাহলে সময় মতো চলে এসো। 
তুমি আমার এক অন্যরকম শান্তি পর্ব ২৩  




**
মেহেরাব বসে আছে চেয়ারে৷  রাশেদ মেহেরাবের পাশ বসে
- কি হয়েছে বলবি ?
মেহেরাব রাশেদকে জরিয়ে ধরে
- সত্যি বলছি ভাইয়া।  আমার কোনো কিছু নেই মেয়েটার সাথে।  ও বন্ধু।  পড়া শেয়ার করি। 

রাশেদ একটু চিন্তিত হয়ে পড়লো।  মুখটা কালো হয়ে গেলো।  মেহেরাব বললো
- ভাইয়া তুমি কি আমাকে বিশ্বাস করো না?
- এমন কথা কেন বলছিস।  তোর উপর আমাদের যথেষ্ট বিশ্বাস আছে।  তোর সাথে সবাই আমরা একটু মজা করি। 

সজীব এসে বললো
- তুই এতো ভাবিস না।  কখনো যদি মনে কেউ আসে বলিস।
- হুম।  

সবাই চলে আসলো।  মেহেরাবকে নিয়ে হাসাহাসি করছে৷  অন্যদিকে রাশেদ সজীবের মুখে চিন্তার ছাপ পড়ে গেলো।  মিথিলা রাশেদ আর সজীবের সামনে দাঁড়িয়ে
- এতো কিছু ভেবো না।  সব ঠিক হয়ে যাবে৷ 
- ও কি পারবে নিজেকে কন্ট্রোল করতে। 
- কেন পারবে না ?  ও পারবে। 
- এটা কিছুতে মেনে নিতে পারবে না। 
মিহু এসে
- ঠিক হয়ে যাবে সব। 


রাত ১১ টা
মেহেরাব রুমে এসে ফোনটা হাতে নিয়ে ফেসবুকে ঢুকলো।  দেখলো তামান্নার ম্যাসেজ৷  মেহেরাব ম্যাসেজ সিন করলো।  দেখলো ওর দেওয়া চুড়ি পড়ে পিক দিয়েছে।  হাতে খুব সুন্দরই লাগছে।  কানের দুলটা ও সেই লাগছে কানে।  মেহেরাব লাভ রিয়েক্ট দিলো।  লাভের ইমোজি সেন্ড করলো।  তামান্না এতোক্ষণ জেনো মেহেরাবের ম্যাসেজের অপেক্ষায় ছিলো।  সিন করেই সাথে সাথে রিপ্লে দিলো
- কাল তুমি পার্কে চলে আসবা।  আমি তোমার জন্য অপেক্ষা করবো। 
মেহেরাব ম্যাসেজ দেখে অবাক হয়ে
- কেন?
- আসতে বলছি আসবা। কোনো কিছু জিঙ্গেস করবা না।  আমি অফ লাইনে যাচ্ছি।  সঠিক সময়ে চলে এসো। 

তামান্না অফ লাইন হয়ে গেলো।  মেহেরাব অবাক হয়ে গেলো।  হঠাৎ পার্কে দেখা করতে বললো কেন?  এই মেয়ের কি মাথায় সমস্যা নাকি।  যখন তখন হুটহাট যা পাগলামি করে।  আমাকেই চোখে পড়লো ওর।  ভাবিরা যদি পিছু নেয়।  না ভাইয়ারা বাসায় আছে।  তারা যদি ভাবির সাথে আমাকে ফলো করে।  হায় রে কপাল।  এই মেয়েটা আমাকে কিছু বলতেই দিলো না।  খুব রাগ হচ্ছে।  তাদের চোখকে ফাঁকি কিভাবে দিবো।  কাল তাড়াতাড়ি বের হতে হবে। 


পরেরদিন

বিকালে
রিপন শিপন লিমন বাইক নিয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে আছে।  পুলিশের একটা গাড়ি ওদের সামনে দাঁড়ালো।  তিনজনে পুরো অবাক হয়ে গেলো। 


২ ঘন্টা অপেক্ষা করার পর বাইরে চোখ যেতেই মেহেরাব দাঁড়িয়ে পড়লো হা হয়ে

( waiting for next part.............) 

(গল্পের ভেতরে হারিয়ে গেছি সত্যি।  গল্পটার ভেতর এতোটা ইমোশনাল যে বোঝাতে পারবো না।  লিখতে লিখতে ঘুমিয়ে পড়ি।  এতোটা শান্তি লাগছে গল্পটা বোঝাতে পারছি।  হ্যা আমি গল্পের ভেতরে শান্তি খুঁজে পেয়েছি 🥰🥰🥰)

রহস্যর পর রহস্য।  জানতে হলে বড় করে কমেন্ট করুন।  আগ্রহ টা বাড়িয়ে দেন৷  🙂🙂🙂

Leave a Comment