তুমি আমার এক অন্যরকম শান্তি


পর্ব   ২৪

লেখাMeherab Kabbo


পরেরদিন
কোচিং-এ র উদ্দেশ্যে বের হলো মেহেরাব। আজকে আর কোচিং এ যাবে না।  উদ্দেশ্য পার্ক।  রিকশায় করে সোজা পার্কের দিকে চলে গেলো।  রিকশা এসে পার্কের সামনে থামলো।  মেহেরাব পার্কের ভেতর যেয়ে বসলো।  মনে মনে বলছে আজকে আর কেউ ফলো করতে পারবে না।  কেউ যদি দেখতো আমি এখানে আসছি কোচিং বাদ দিয়ে তাহলে কপালে ছিলো।  তাদের সন্দেহ টা বেড়ে যেতো। 


রিপন শিপন লিমন রাস্তার পাশে বাইক নিয়ে দাড়িয়ে আছে।  শিপন বললো
- মামা আজ কিন্তু ভাবিকে দেখলাম না। 
- দেখবি নে।  কোচিং টা শেষ হতে দে। 
- যদি ঐ ছেলেটা থাকে। 
- ঐ ছেলের সামনেই ওকে ডিস্টার্ব করবো। 
- যদি কিছু বলে। 
- কেন তোদের ভয় লাগছে। 
- না তবে মেয়েলি কেস তো জানিস। 
- যায় হোক এতো ভয় নিয়ে চললে হবে না। 

এমন সময় ওদের সামনে পুলিশের একটা গাড়ি থামলো।  তিনজনে অবাক হয়ে গেলো।  থানার দারোগা গাড়ি থেকে নেমে
- তোমরা কারা।  কোচিং এ টাইমে এখানে কেন?
রিপন বললো
- স্যার এমনি দাঁড়িয়ে আছি। 
- এখান থেকে চলে যাও।  কোচিং টাইমে এখানে দাঁড়ানো যাবে না। 
লিমন বললো
- স্যার সমস্যা কোথায়।  আমরা তো আর কিছু করছি না। 
- তোমাদের ভালো ভাবে বলছি এখান থেকে চলে যাও।  এখানে কোচিং টাইম বাদে আর বাকী টাইম এসে দাঁড়িয়ে থেকো। 
রিপন বললো
- স্যার রাস্তা তো সবার জন্য। কে কোথায় দাঁড়ালো না দাঁড়ালো সমস্যা কি?  কাজ তো থাকতেই পারে। 
দারোগা রেগে যেয়ে  রিপনের কলার ধরে
- তোদের সমস্যা বোঝাবো। 
পাশ থেকে  লিমন বললো
- সরি স্যার সরি।  আমরা চলে যাচ্ছি। 
- তোদের যদি আর এখানে দেখি এর পর আর কোনো কথা বলবো না সোজা লকাবে ভরে দিবো।  যা। 

বাইক নিয়ে চলে গেলো তিনজনে।  থানার দারোগা গাড়িতে উঠার আগে ফোন দিয়ে
- স্যার কাজ হয়ে গেছে।
ফোনটা কেটে দিয়ে গাড়িতে উঠে চলে গেলো। 


১ ঘন্টা হতে যাচ্ছে এখনো তামান্নার কোনো খোঁজ খবর নেই।  মেহেরাব বিরক্ত হয়ে গেলো।  এখনো পর্যন্ত অনলাইনে আসেনি।  ফোন নাম্বার ও নেই যে ফোন করবে।  নাকি আসবে না।  বলে দিলে হতো।  এতো টাইম অপেক্ষা করানোর তো কোনো মানে হয় না।  চলেই যায়।  আর কতক্ষন বসবো।  এতো তাড়াতাড়ি বাসায় গেলে সবাই আবার সন্দেহ করবে।  কি বলবো তখন।
বসে থাকতে থাকতে কেটে গেলো আরো এক ঘন্টা।  বিরক্তকর হয়ে গেলো।

মেহেরাব উঠে দাঁড়িয়ে পিছন ফিরতেই পুরো থ হয়ে গেলো।  হা হয়ে তাকিয়ে আছে।  চোখের পলক যেনো পড়ছো না।  হ্যা মেহেরাব তামান্নাকে দেখে থ হয়ে গেছে।  তামান্না  মিষ্টি কালারে শাড়ি কানে দুল চোখে হালকা করে কাজল দেওয়া হাতে চুড়ি, হাসিমাখা মুখ    এক কথায় তামান্নাকে অপ্সরি লাগছে।   তামান্না মেহেরাবের সামনে এসে কানে ধরে
- সরি সরি সরি আম্মুর জন্য লেট হয়ে গেলো। 
তুমি আমার এক অন্যরকম শান্তি পর্ব ২৪  



মেহেরাবের সেদিকে কোনো খেয়াল নেই।  মেহেরাব হারিয়ে গেছে তামান্নার সৌন্দর্যের কাছে।  তামান্না বলেই যাচ্ছে মেহেরাবের কোনো খেয়ালই নেই সেদিকে।  তামান্না মেহেরাবকে ডাক্কা দিয়ে
- কি হলো মেহেরাব?
মেহেরাব থ ম খেয়ে
- ক ক ক ক কখন আসছেন। 
তামান্না অবাক হয়ে
- তোমার সামনে আসলাম আর তুমি ই বলছো কখন আসছি।  এতোক্ষণ কোন ভাবনায় হারিয়ে গেছিলা। 
- না মানে। কিছু না। 
- না মানে কিছু না করতে হবে না।  এখন বলো আমাকে কেমন লাগছে। 
- এক কথায় খুব মানিয়েছে আপনাকে।  আপনার সৌন্দর্য টা ফুটে উঠছে। 

তামান্না ভ্রু কুচকে
- তাই।  তা এভাবে বলে কেউ। 
- কিভাবে বলে। 
- রোমান্টিক ভাবে বলে। 
মেহেরাব হেসে দিলো।  তামান্না ও হাসলো।  মেহেরাবের রাগ বিরক্ত কর সব কেটে গেলো।  এতোক্ষন বসে থেকে সার্থকতা হয়ে গেলো।  তামান্নার সৌন্দর্যের কাছে হার মেনে গেলো।  মেহেরাব তামান্না পাশাপাশি বসলো।  দুজনে চুপ চাপ সামনের দিকে তাকিয়ে আছে। 


**
মেধা আর নাহিদ ঘোরাঘুরি করে সব মাত্র পার্কের ভেতর ঢুকলো।  একটা বেঞ্চির উপর বসলো।  নাহিদ মেধার হাত ধরে
- তোমাকে এই দুটো দিন খুব মিস করবো। 
- আমি তো আসতাছি তাই না।  ফোনে তো কথা হবেই
- বেশি তো আর হবে না।  আশপাশে তো সবাই থাকবে। 
- তা ঠিকি বলছো।  তবে একটু সবুর করো।  পারমানেন্ট ভাবেই তো চলে আসছি।  তখন দেখবো আমার জন্য ভালোবাসা কই থাকে। 
- মন তো আর মানছে না।  খুব খারাপ লাগছে এই দুটোদিন তোমাকে দেখতে পাবো না। 
মেধা মুচকি হেসে
- বিয়ের আগে এতো ভালোবাসছো।  না জানি বিয়ের পর কতোটা ভালোবাসবে আমাকে। 
নাহিদ লজ্জা পেয়ে মাথাটা নিচু করে নিয়ে
- জানি না। 
- আমাকে নিয়ে কিন্তু দূরে কোথা ও ঘুরতে নিয়ে যাবে। 
- হ্যা অবশ্যই যাবো।

নাহিদ মেধা কথা বলতে লাগলো। 

এদিকে
তামান্না নিরবতা ভেঙ্গে দিয়ে
- কিছু বলছো না কেন?
মেহেরাব তামান্নার দিকে তাকিয়ে
- কি বলবো ভাবছি?
- যেটা তোমার মনে চাই ঐটাই বলো। 
- আপনি বলেন আমি শুনি। 
- নাহ্ তুমি বলবে আমি শুনবো। 
- আমাকে এখানে কেন ডাকলেন?
তামান্না কিছুটা অবাক হয়ে
- কেন ডেকেছি জানো না। ।
- না। 
- আমাকে দেখে কি বুঝতে পারছো না। 
মেহেরাব ভ্রু কুচকে
- কি বুঝবো?  আপনি কোথা ও গেছিলেন সেজেগুজে। 
মেহেরাবের কথা শুনে তামান্না উঠে দাঁড়িয়ে পড়লো।  তামান্না বললো
- সরি তোমাকে এখানে ডাকার জন্য। 
মেহেরাব অবাক হয়ে
- হঠাৎ কি হলো?
- কিছু না৷

তামান্না হাটা দিলো।  মেহেরাব কিছুই বুঝতে পারলো না।  তামান্নার পিছু নিলো।  মেহেরাব তামান্নাকে ডাকছে তামান্না না শুনে হেটে চলছে। 



নাহিদ মেধা দুজনের অভিযোগ ভালোবাসা বিনিময় করে পার্ক থেকে বের হতে যাবে।  মেধার চোখ পড়লো মেহেরাবের দিকে।  পুরো হা হয়ে গেলো মেধা। 

মেহেরাব পিছন থেকে তামান্নার হাতটা ধরে সামনে ফিরিয়ে দেখলো তামান্নার চোখের কোণে পানি জমে আছে।  মেহেরাব চোখের কোণের পানি মুছে দিয়ে
- কাজল টা তো নষ্ট হয়ে যাবে।  কি হয়েছে কেউ কি বকছে আপনাকে?
তামান্না মেহেরাবের দিকে তাকিয়ে আছে।  মেহেরাব বললো
- কি হয়েছে আপনার।  কান্না করছেন কেন?
তামান্নার চোখ বেয়ে টপটপ করে পানি গড়িয়ে পড়লো।  মেহেরাব অবাক হয়ে গেলো। 


নাহিদ মেধাকে বললো
- কি হয়েছে দাঁড়িয়ে পড়লে কেন চলো। 
- ক ক কই কিছু না। 
নাহিদের চোখ যেয়ে পড়লো মেহেরাবের দিকে।  নাহিদ বললো
- ও তুমি এটা দেখে দাঁড়িয়ে পড়লা।  আচ্ছা দাঁড়াও একটু। 

কথাটা বলে নাহিদ মেহেরাবের দিকে এগিয়ে যেয়ে মেহেরাবের ঘাড়ে হাত দিয়ে
- ব্রো ভালোবাসার মানুষকে এভাবে কাঁদাতে হয় না।  আগলে রাখো।  ভালোবাসা দাও খুশি ছাড়া কষ্ট পাবে না। 

মেহেরাব নাহিদের কথায় হা হয়ে গেলো।  নাহিদ চলে গেলো।  মেধাকে নিয়ে পার্ক থেকে বের হয়ে গেলো।  মেধা নাহিদ কে বললো
- তুমি ওখানে গেছিলা কেন?
- তুমি হয়তো ভাবছো আমি যদি এভাবে তোমাকে কাঁদায়। তোমাকে কখনো কাঁদতে দিবো না।
- তা তুমি গেলা কেন ওখানে।
- ছেলেটাকে একটা টিপস্ দিয়ে আসলাম। 
- এতো কি টিপস্ দেওয়ার কি ছিলো। 

মেধা কথাটা বলে রাগ করে চলে গেলো।  নাহিদ অবাক হয়ে গেলো। 


মেহেরাব তামান্নার চোখের পানি মুছে দিয়ে পার্ক দিয়ে বের হয়ে গেলো।   তামান্নার চলে আসলো।  গাড়িতে উঠে চলে গেলো।  মেহেরাব বাসার দিকে রওনা দিলো। 


মেহেরাব বাসায় যেতেই অবাক হয়ে গেলো...... 

(Waiting for next part........)  

Leave a Comment