তুমি আমার এক অন্যরকম শান্তি


পর্ব   ২৫

লেখাMeherab Kabbo


তামান্নার গাড়ি বাসার সামনে এসে থামলে তামান্না গাড়ি থেকে নেমে দরজার কাছে যেয়ে কলিংবেল চাপলো।  তামান্নার মা দরজা খুলে দিলো।  তামান্না চোখের পানি মুছতে মুছতে নিজের রুমে যেয়ে দরজা আটকিয়ে দিয়ে  বিছানায় শুয়ে পড়লো।। তামান্না মা হতবাক হয়ে গেলো।  তামান্না কান্না করছে কেন?  কি হয়েছে ওর।  হাসিখুশি ভাবেই তো সেজে বের হলো।  বাসায় আসলো কান্না করতে করতে।  ওর কিছু হলো না তো।  তামান্নার মা দরজার কাছে যেয়ে তামান্নাকে ডাকছে।  তামান্না বালিশে মুখ গুঁজে দিয়ে কান্না করছে।  আর ভাবছে,
যার জন্য এতো কষ্ট করে সাজলাম সেই আমাকে বুঝলো না।  কত আশা নিয়ে গেছিলাম ও আমাকে প্রপোজ করবে কিন্তু করেনি।  আমাকে বুঝলো না।  আমার চোখের ভাষা কি একটু ও বুঝলো না।  কেন এমনটা করলে মেহেরাব।  তুমি কি আমাকে ভালোবাসো না।  আমি যে তোমাকে বড্ড ভালোবাসি।  সব সব আশা ভরসা শেষ হয়ে গেলো।। কেন এভাবে কষ্ট দিলে আমাকে। 


মেহেরাব বাসায় ফিরলো।  তামান্না কান্না করলো কেন এখনো অজানা মেহেরাবের। তামান্না বললো ও না কি হয়েছে ওর।    মন খারাপ করে মেহেরাব বাসার ভেতর ঢুকতেই অবাক হয়ে গেলো।  চোখ বড় বড় করে চেয়ে আছে।  রাশেদ মেহেরাবকে দেখে
- এতোক্ষণ লাগে তোর আসতে।  ফোন ধরিসনি কেন?
- খেয়াল করিনি।  তবে এসব কি?
- এখন প্রশ্ন করার সময় না।  তুই আমাদের সাথে যাচ্ছিস। 
-  আমি  যাবো না। 
সজীব বললো
- তোকে এখন বাসায় থাকতে হবে না।  আমাদের সাথে চল অনেক কাজ আছে। 
- না আমি যাবো না। 
মিথিলা বললো
- কয়েকটা দিনেরই ব্যাপার।  যাও।  নাই সমস্যা আছে। 
মেহেরাব অবাক হয়ে
- কিসের সমস্যা। 
রাশেদ বললো
- এখন বলা যাবে না।  পরে জানতে পারবি। 
সজীব বললো
- ওর ব্যাগ সব গুছানো শেষ তো। 
জান্নাত আর মিহু ব্যাগ এনে দিয়ে
- হ্যা সব কিছু ঠিক ঠাক ভাবে গুছিয়ে দিছি। 
রাশেদ বললো
- মা আমরা আসি তবে। 
- সাবধানে যাস।  মেহেরাবকে দেখে রাখিস। 
- চিন্তা করো না আমরা আছি তো। 
মেহেরাব মুখটা মলিন করে
- কেন আমাকে নিয়ে যাচ্ছো।  আমি যাবো না কোথা ও
রাশেদ মেহেরাবের হাত ধরে টেনে চলে যাচ্ছে।  মেহেরাব মায়ের দিকে ভাবিদের দিকে অসহায় ভাবে তাকিয়ে বলছে
- মা ভাবি আমি কোথা ও যাবো না।  তোমাদের সাথে থাকবো।  ভাইয়াকে বোঝাও মা তুমি ভাইয়াকে বলো।
 তুমি আমার এক অন্যরকম শান্তি পর্ব ২৫   



মা শাড়ির আঁচল মুখে চেপে ধরে কান্না করছে।  মিথিলা মিহুর চেখ বেয়ে পানি পড়ছে।  একটা গাড়িতে মেহেরাবকে উঠালো।  মেহেরাবকে নিয়ে চলে গেলো। 


**
মেধা নিজের রুমে ঢুকে পায়চারী করতে লাগলো।  কিছুতেই জেনো নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছে মেহেরাব একটা মেয়ের সাথে তাও এই অবস্থায়।  মেয়েটার কি রুচি বলতে কিছু নেই।  ওমন ভিখারির সাথে প্রেম করতে গেলো।  মেধার ফোন বেজে যাচ্ছে মেধা ফোন তুলছে না।  নাহিদ বার বার ফোন দিয়েই যাচ্ছে মেধা ধরছে না।  নাহিদ সরি বলে অনেকগুলো ম্যাসেজ দিলো।  মেধা দেখে ও না দেখার ভান করলো।


রাত ১১ টা
কান্না করে চোখ মুখ ফুলিয়ে দরজা খুলে বের হলো তামান্না।  তামান্না মা তামান্নার হাত ধরে টেনে সোফায় বসিয়ে
- কি হয়েছে মা তোর?  চোখ মুখ তো ফুলে গেছে।
- কিছু না।
- বল কি হয়েছে।  কে কি বলছে?

তামান্না মা কে জরিয়ে ধরে
- মা আমি কি দেখতে এতোটা খারাপ  । 
মা তামান্নার মাথায় হাত বুলিয়ে
- তুই তো রাজকন্যার মতো দেখতে।  কি হয়েছে বলবি। 
- কিছু না  তুমি চুপ থাকো আমাকে এভাবে থাকতে দাও। 


★★
মিথিলা  মায়ের রুমে এসে
- মা খাবেন না। 
- না এখন খেতে ইচ্ছে করছে না। 
- মা কি হয়েছে?
- মেহেরাব বাসায় নেই বাসাটা কেমন ফাঁকা ফাঁকা । 
- মা মেহেরাবের ভালোর জন্যই তো নিয়ে গেছে। আপনি টেনশন করবেন না একদম বলে দিলাম। 
- টেনশন চলে আসে৷  করা লাগে না। 

মিথিলা মায়ের কাছে এসে
- মন খারাপ করতে হবে না।  মেহেরাব ভালোটা যদি না চাই তাহলে কষ্ট আরো বেশি পাবে। 
মায়ের হাত টেনে নিয়ে চলে গেলো মিথিলা৷


**
মেধা মনে মনে ভেবে নিছে কিভাবে মেয়েটাকে সরাবে৷  মেহেরাবকে উচিত শিক্ষা দিবে।  আমি মেধা বেঁচে থাকতে তুই অন্য কোনো মেয়ের সাথে রিলেশন করতে পারবি না।  মেধা ফোন অফ করে দিছে।  নাহিদ মনে মনে বললো এতটুকুর জন্য এতোবড় শাস্তি দেওয়ার কোনো প্রয়োজন ছিলো না।  রাগ কমলে হয়তো ফোন দিবে অপেক্ষা করি তখন যা বলার বলবো৷  নাহিদ ফোনের দিকে তাকিয়ে আছে। 

**
তামান্না ফোন আর হাতে নিলো না।  তামান্না উঠে নিজের রুমে যেতে লাগলো।  তামান্নার মা বললো
- খাবি না। 
- এখন আর ভালো লাগছে না খেতে। 

তামান্না রুমে ঢুকে শুয়ে পড়লো। 

পরের দিন

সকালে তামান্নার মা তামান্নাকে ডাকলো কিন্তু কোনো সাড়াশব্দ দিলো না৷ চলে গেলো।  এভাবে অনেক বার এসে ডেকে গেলো।  কোনো সাড়াশব্দ নেই৷ ঠিক দুপুর ১২ টার সময় তামান্না দরজা খুলে বের হলো রুম থেকে।  তামান্নার মা তামান্নার দিকে রাগি দৃষ্টিতে তাকিয়ে
- কি সমস্যা কি তোর?  তুই তো এতো দেরি করে ঘুম থেকে উঠতি না। 
তামান্না চোখ ডলতে ডলতে বললো
- ঘুম বেশি হয়ে গেছে আজ। 
- খাওয়া লাগবে না। 
- এখন আর খাবো না।  ঘুম পাচ্ছে। 

তামান্না রুমে ঢুকে আবার শুয়ে পড়লো। 

**
বাসাটা আজ ফাঁকা ফাঁকা লাগছে।  না আছে কোনো চিল্লাপাল্লা না আছে কোন হৈ-হুল্লোড়।  জান্নাত মিথিলার কাছে যেয়ে
- ভাবি কাল সকালের ট্রেনে আমরা চলে যাবো। 
- কি বলছো?  কালকেই চলে যাবা।
- হ্যা।  মেয়ের বাবার কাজ পড়ে গেছে।  না গেলে আর চাকরি থাকবে না৷ 
- কিন্তু মেহেরাব আসা পর্যন্ত তো থাকো
- ওকে আমি বুঝিয়ে বলবানি ও বুঝবেনে৷
- মাকে বলছো।
- হ্যা।  মা রাগ করছিলো।  বুঝিয়ে বলার পর বুঝছে।
- মেহেরাব নেই বাসাটা ফাঁকা লাগছে৷ আর তুমি গেলে তো আরো ফাঁকা  হয়ে যাবে। 
- মেহেরাব থাকলে তো শয়তানি করতে পারতাম মজা করতে পারতাম।  ও তো নেই।
- হুম

★★
দুপুর বেলা তামান্নার মা তামান্নাকে ডেকে তুলে
- উঠিস না কেন?  আর কত পড়ে পড়ে ঘুমাবি।  গোসল করে আই খাবি। কোচিং এ যাবি না। 
- না যাবো না৷ 
- তোর কি হয়েছে। 
- কি হবে কিছু হই নি?  তুমি যাও তো ঘুমাতে দাও।  এতো ডিস্টার্ব করো না তো। 
- কত ঘুমাতে পারিস দেখবো আমি। 

তামান্নার মা রাগ হয়ে বের হয়ে গেলো। 

বিকালের দিকে তামান্নার মা হাতে খাবার নিয়ে রুমে ঢুকে তামান্নাকে জাগিয়ে তুলে জোর করে কিছু খাবার খাইয়ে দিলো

★★
আজ মেধার গায়ে হলুদ।  বাড়িতে মেহমানে ভরপুর৷ মেধার রাগ কিছুটা কমে গেছে ।  বাড়িতে মেহেমান আসতে লাগলো।  মেধা সাজগোছ করতে ব্যস্ত হয়ে পড়লো।  ফোনটা চালু করতেই ভূলে গেলো।  আত্মীয় স্বজন সবার সাথে হাসিখুশি ভাবে কথা বলতে লাগলো মেধা।  একজন এসে মেধার হাতে ফোন দিলো৷ মেধা কানে ফোন ধরতেই ওপাশ থেকে
- এতো টেনশনে রাখতে খুব ভালো লাগে।  সেই যে গতকাল রাগ করে চলে গেলা একটা খোঁজ পর্যন্ত দিলা না৷  এখনো ফোন অফ করে রেখে দিছো।  কি পাইছো আমাকে আমি ও তো একটা মানুষ। ।
মেধা নরম সুরে বললো
- সরি।  আমি ফোন খুলে কল করবো।  এখন সবাই আছে।  স্টেজে যেয়ে বসতে হবে। 
- ঠিক আছে।  হলুদ দেওয়ার পর কল দিতে ভূলো না। 

ফোনটা কেটে দিলো।  মেধাকে নিয়ে স্টেজে বসালো৷ নাহিদ দের বাসা থেকে অনেকে এসেছে হলুদ দিতে।   মেধাকে হলুদ লাগিয়ে দিলো একে একে সবাই।  হলুদ পর্ব শেষ হয়ে গেলে সবাই খেয়ে বাসায় চলে যায়।

পরেরদিন
সকালে রাতুল জান্নাত জান্নাতের মেয়েকে এগিয়ে দিতে স্টেশনে চলে আসলো সবাই।  জান্নাত মা কে জরিয়ে ধরে কান্না করে দিলো..........


(waiting for next part.......)

মেহেরাবকে সবার থেকে আলাদা করে দিছি।  বাসা থেকে তামান্নার থেকে অনেক দূরে।  বিয়ে হবে মেধা নাহিদের।  বিয়ের পরের দিনেই হবে আসল মজা 🙂🙂☺।

পরের পর্বে থাকবে নতুন চমক।  সাথেই থাকুন 

Leave a Comment