তুমি আমার এক অন্যরকম শান্তি
পর্ব ২৬
লেখা: Meherab Kabboহলুদ পর্ব শেষে মেধা নিজের রুমে যেয়ে নাহিদ কে কল করলো। নাহিদ জেনো এতোক্ষণ কল এর অপেক্ষায় ছিলো। ফোনটা রিসিভ করে
- এতোক্ষণ লাগলো।
- কি করবো সবাই না যাওয়া পর্যন্ত তো বসে থাকতে হয়।
- তোমাকে আজ কিন্তু হলুদ শাড়িতে খুব সুন্দর লাগছে।
- তুমি কিভাবে দেখলা।
- তোমার পিক তুলে এনে আমাকে দেখাইছে।
- তাই না।
- হুম। শোনো
- বলো
- এতো রাগ করো কেন তুমি? আমাকে যদি আমার ভূলটা না ধরিয়ে দাও তাহলে হবে।
- সরি। আমার সহ্য হয়নি। কষ্টটা তোমাকে বোঝাতে পারিনি।
- আচ্ছা বাবা আর করবো না এসব।
- মনে থাকে জেনো। আর যদি কোনো মেয়ের সাথে কথা বলতে দেখছি।
- তোমার সাথেই বলবো। তোমার সাথেই থাকবো।
- মনে থাকে জেনো। নাই আমার থেকে বেশি খারাপ কেউ হবে না।
- হুম সামান্য একটা ছেলেকে বলতে গেলাম দেখে তুমি যা করলা। যদি মেয়ে হতো আমাকে তো আর খুজে পাওয়া যেতো না।
মেধা হেসে দিলোম। দুজনে কথা বলতে থাকলো
পরেরদিন
সকালে রেল স্টেশনে জান্নাত রাতুল কে এগিয়ে দিতে মিথিলা মিহু মা সবাই এসেছে। জান্নাত মা কে জরিয়ে ধরে কান্না করে দিয়ে
- নিজের খেয়াল রেখো মা। তোমাদের ছেড়ে যেতে ইচ্ছা করছে না।
- আরে বোকা কান্না করছিস কেন? তুই ভালোভাবে থাকিস। আর রাগটা একটু কমাস।
কিছুক্ষণ জরিয়ে ধরে চোখের পানি ফেললো। মা কে ছেড়ে দিয়ে মিথিলা আর মিহুর সামনে দাঁড়িয়ে
- ভাবি আসি। কোনো কষ্ট পেলে মাফ করে দিয়ো
- আরে কি বলছো তুমি এসব। তুমি কষ্ট পেয়েছো তাই বলো।
- না ভাবি। তোমাদের মতো একটা ফ্যামিলি থাকলে কষ্ট কখনো ছুঁতে পারবে না।
- রাতুল যা বলে সব শুনো। এতো রাগ করো না ওর উপর।
- ঠিক আছে।
মা জান্নাতের পাশে আসলো। জান্নাত বললো
- তোমরা সময় করে একদিন বেড়াতে এসো। ভূলে যেয়ো না।
মা বললো
- মেহেরাবের পরীক্ষা শেষ হলেই আসবো। অনেক দিন থাকবো কিন্তু।
রাতুল পাশ দিয়ে
- আমার থেকে বেশি খুশি আর কেউ হবে না। অবশ্যই আসতে হবে। একবার আসলে সহজে আর বাসায় আসতে দিবো না।
রাতুল জান্নাত বিদায় নিয়ে ট্রেনে উঠলো। মা রাতুলকে বললো
- জান্নাত কে কষ্ট দিস না। ওর দিকে খেয়াল রাখিস।
- ঠিক আছে।
ট্রেন চলে গেলো। মা একটা দীর্ঘ শ্বাস ছেড়ে দিয়ে
- বাসাটা পুরো ফাঁকা হয়ে গেলো।
মিথিলা মিহু মা বাসার উদ্দেশ্য রওনা হলো।
★★
তামান্নার মা তামান্নাকে কয়েক বার ডেকে তুললো কিন্তু উঠে আবার শুয়ে পড়ছে। মা বিরক্ত হয়ে
- এই মেয়েটার কি হলো? কেন এমন পাগলামি করছিস। কিছুই তো বলছিস না। খাচ্ছিস না। এলোমেলো হয়ে গেলি কেন?
তামান্না কোনো কিছু বলে না। মা তামান্নাকে জোর করে খাইয়ে দিলো।
তামান্নার মা চিন্তা করলো ওর বাবাকে বিষয়টা জানাবে। কিন্তু না সে তো কাজের চাপে আছে। টেনশন করবে। তামান্নার কি হয়েছে আমাকে বের করতে হবে।
মেধার বাড়ি মেহেমানে গিজগিজ করছে। সবাই চলে এসেছে। মেধার কোনো সুযোগ নেই নাহিদকে ফোন দেওয়ার। সবাই মেধাকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে গেছে। নাহিদ ফোন দিয়েই যাচ্ছে কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছে না। নাহিদের বাসার লোক এবার নাহিদকে নিয়ে পড়লো৷ নাহিদ ও ব্যস্ত হয়ে পড়লো।
![]() |
| তুমি আমার এক অন্যরকম শান্তি |
দুপুরে তামান্নার মা তামান্নার রুমে যেয়ে তামান্নার পাশে বসে
- কি হয়েছে তোর মা৷ কেন এমন করছিস।
- কিছু না৷ আমার খালি ঘুম পাচ্ছে।
- হঠাৎ করে কি হলো?
- বুঝতাছি না।
- কোচিং এ যাবি না।
- আজ যাবো না৷ কাল থেকে যাবো।
- গোসল করবি না। ।
- ইচ্ছা করছে না।
- খেয়ে নে।
- ভালো লাগছে না। আরেকটু ঘুমাতে দাও।
- আমি খাবার নিয়ে আসছি। উঠে পড়।
তামান্নার মা রুম থেকে বের হয়ে গেলো।
**
মেহেরাবের মা এসে মিথিলাকে বললো
- রাশেদ কে ফোন দিয়ে বলো মেহেরাবকে ধরিয়ে দিতে৷ ।
মিথিলা ফোন দেয়। রাশেদ ফোনটা ধরতেই মিথিলা বললো
- মেহেরাব কই। মা কথা বলবে।
- ও তো আমাদের কাছে নেই৷
- কেন? ও না তোমাদের সাথে গেছে৷
- ওকে একটা বাসায় রেখে আসছি। ওখানে আছে। ।
- মা কথা বলবে। ওর তো ফোনেই বন্ধ।
- ঠিক আছে আমি দেখতাছি।
- আচ্ছা।
ফোনটা রেখে দিলো।
সন্ধ্যার পর
নাহিদ স্টেজে বসে আছে । মেধার বাসা থেকে অনেকে আসছে। নাহিদকে হলুদ লাগিয়ে দিলো। নাহিদকে হলুদ লাগানো শেষে সবাই খেতে গেলো। খাওয়া দাওয়া শেষে সবাই ফিরে গেলো। আজ আর কথা হলো না কারো।
পরেরদিন
মেধাকে সাজানোর পরিকল্পনা চলছে। কিভাবে সাজাবে। নাহিদ বর সেজে রেডি হয়ে গেলো। গাড়িতে উঠে পড়লো সবাই।
আজ মেধা আর নাহিদের বিয়ে৷ মেধা আজ খুব খুশি। নিজের স্বপ্ন পূরণ হতে যাচ্ছে৷ এতোদিন যে স্বপ্ন দেখছে সেই স্বপ্ন পূর্ণতা পাচ্ছে। জানালা দিয়ে বাহিরের দিকে তাকিয়ে আছে। নাহিদ কখন আসবে ওকে নিতে৷ কিছুক্ষণ পর অনেকগুলো গাড়ি এসে বিয়ের গেইটের সামনে থামলো। গাড়ি থেকে মেধার দাদা যেয়ে নাহিদের হাত ধরে নামিয়ে গেইটের সামনে নিয়ে আসলো। গেইটের পাওনা পরিশোধ করে দিয়ে ফিতে কেটে ঢুকে পড়লো। মেধা জানালার ফাঁক দিয়ে নাহিদকে দেখছে। লজ্জা ও পাচ্ছে। মনে মনে আনন্দ ফুটে উঠছে। নাহিদ সোজা বরের আসনে যেয়ে বসে পড়লো। লাগেজ নিয়ে মেধার ভাবির কাছে সব বুঝিয়ে দিলো।
মেধাকে সাজানো শুরু হয়ে গেলো। পার্লার থেকে মানুষ নিয়ে আসছে। খুব সুন্দর করে সাজিয়ে দিচ্ছে মেধাকে।
এদিকে বর পক্ষকে আপ্যায়ন করতে সবাই ব্যস্ত। কারো কোনো কিছুতে কমতি না পড়ে।
মেধাকে সাজানো কমপ্লিট হয়ে গেলো। কাজী এসে বিয়ে পড়ালো৷ সবাই মোনাজাত ধরলো।
( আপনারা কি করছেন হু। হাত তুলুন ওদের জন্য দোয়া করেন৷ জিলাপি দিবো জিলাপি। মোনাজাত না ধরলে দিবো না। ধাক্কাধাক্কি করবেন না ধীরে সুস্থে থাকুন)
বিয়ের পড়ানো শেষ। এখন দুজনকে পাশাপাশি বসালো। কেউ কারো দিকে তাকাচ্ছে না লজ্জায়। সবাই হেসে দুজনকে দেখছে। বেশ মানিয়েছে দুজনকে।
( এই যে আপনারা কিন্তু মেধা নাহিদের বিয়ের সাক্ষী হয়ে গেলেন । পড়ে কিছু হলে কিন্তু সবাইকে জেলে যেতে হবে৷ এর জন্য আমি দায়ী না৷ আসুন সবাই মেধা আর নাহিদকে দেখে যান। গিফট আনছেন তো নাকি ভূলে গেছেন। সমস্যা নেই এই বিয়েতে না আনলে। সামনের বিয়েতে অবশ্যই আনবেন। তা না হলে কিন্তু বুঝেন তো ঢুকতে দিবো না ☺☺☺)
মেধাকে নিয়ে এখন চলে যাবে। মেধাকে নিয়ে গাড়ির সামনে গেলো। মেধার আজকে খুশি। মেধার কান্না পাচ্ছে না৷ তবু ও ফর্মালিটি বলে কথা আছে। ন্যাকা কান্না শুরু করে দিলো মেধা।
( ওরে মেধা এতো কান্না করিস না। আমরা আসি তো কান্না করার জন্য। এই যে পাঠক পাঠিকা কান্না শুরু করে দেন । মেধা শশুর বাড়িতে যাচ্ছে😜😜
মেধা কান্না করলে তো মেকাপ সব ধুয়েমুছে যাবে। শেষে পার্লারের বদনাম হবে৷ কি বলেন)
মেধাকে নিয়ে চলে গেলো।
বাসর রাতের সাক্ষী হতে পরের পর্বর জন্য অপেক্ষা করুন।
(waiting for next part............)
বিঃদ্রঃ কেউ কিছু মনে করেন না আবার। আমি আবার ওতো রোমান্টিক লেখক না। কি লিখবো নিজে ও জানি না। আপনারা কেউ রোমান্টিক কিছু জেনে থাকে কমেন্ট করে। তাহলে যদি রোমান্টিক কিছু নিয়ে আসতে পারি৷
মেহেরাব তামান্নার জন্য কেউ কষ্ট পেয়েন না৷ মেধা নাহিদের জন্য শুভকামনা করেন 🙂🙂🙂

Leave a Comment