তুমি আমার এক অন্যরকম শান্তি
পর্ব ২৭
লেখা: Meherab Kabboগাড়ি এসে নাহিদের বাসার সামনে দাঁড়িয়ে পড়লো। বাসার গেইটের সামনে মানুষজন সব ভিড় করে আছে৷ নাহিদ গাড়ি থেকে নামলো। সবাই চেয়ে আছে নতুন বউকে দেখার জন্য। সবাই গাড়ি থেকে নেমে পড়লো। গাড়ির ভেতরে মেধা একা বসে আছে৷ নাহিদের দুলা ভাই গাড়ির কাছে যেয়ে মেধাকে কোলে করে নিয়ে চলে গেলো। সবাই মেধার দিকে চেয়ে আছে। মেধাকে বাসর ঘরে নিয়ে বসিয়ে দিলো বিছানায়। সবাই এসে মেধাকে দেখছে। মেধাকে দেখে অনেকে মেধার প্রশংসা করছে। মেধা অন্যের মুখে নিজের প্রশংসা শুনে বেশ খুশি হলো। সবার দেখা শেষ হতে হতে রাত দশটা বেজে গেলো। রুমের ভিড় কিছুতেই কমছে। নাহিদের বোন ভাবিরা সবাইকে বের করে দিয়ে রুম ফাঁকা করে ফেললো। ভাবি একজন নাহিদকে বললো
- রুম ফাকা করে দিছি। একটু সাবধানে। প্রথম তো। যাও তোমার নতুন বউ অপেক্ষা করছে।
নাহিদ ভাবির কথা শুনে লজ্জা পেলো খুব। নাহিদকে ঠেলে রুমে ঢুকিয়ে দরজা আটকিয়ে দিলো। মেধা বসে আছে ঘোমটা টেনে। । নাহিদ ধীরে ধীরে বিছানার কাছে যেয়ে মেধার পাশে বসলো। হাত টা ধরলো নাহিদ। হাতটা সরিয়ে নেয় মেধা। লজ্জা লাগছে বেশি৷ মেধা গোমটা দিয়ে নিচের দিকে তাকিয়ে আছে। নাহিদ দুহাত দিয়ে ঘোমটা সরিয়ে দিলো মেধা ধীরে ধীরে মাথা তুলছে। নাহিদ মেধার দিকে তাকিয়ে হা হয়ে গেলো। এতো সুন্দর মানুষ হয়। মেধাকে না দেখলে জানাই যেতো না৷ নাহিদ আলতো করে মেধার কপালে চুমু দিয়ে
- তোমাকে পেয়ে সত্যি আমি খুব খুশি। ।
মেধা লজ্জায় লাল হতে থাকে। কিছু বলতে পারে না৷ নাহিদ ধীরে ধীরে নিজের মুখ মেধার মুখের কাছে নিয়ে
- ভালোবাসি তোমাকে প্রিয়।
মেধা নাহিদের চোখে চোখ রেখে
- ভালোবাসাটা কখনো কমিয়ে দিয়ো না। সহ্য করতে পারবো না৷
- আমার ভালোবাসা কখনো কমার নই৷ পাশে থেকো কখনো ভালোবাসার কমতি রাখবো না।
মেধা এক হাত নাহিদের মুখের উপর রাখলো। নাহিদ মেধার মুখে দিলো। ধীরে ধীরে ঠোঁট জোড়া এক হয়ে গেলো। দুজনে এক অচেনা সুখের সাগরে ডুব দিলো
( এই আপনারা এখানে কেন? ওদের কি শান্তিতে বাসর করতে দিবেন না হু। দূর হোন। সবাই বসেন চা আসতাছে খাবেন তো ☕☕। চা খেতে লাগেন সকাল হওয়া পর্যন্ত। )
সকাল ৮ টায় মেধার ঘুম ভেঙ্গে গেলো। পাশে নাহিদকে ঘুমিয়ে থাকতে দেখে নিজের দিকে তাকিয়ে হাত টা মুখ দিয়ে ঢেকে ফেললো। কিছুক্ষণ এভাবে থাকার পর মেধা নাহিদের বুকে শুয়ে পড়ে মুখটা নাহিদের মুখের কাছে নিলো। আলতো করে গালে কপালে চুমু খেলো। নাহিদ চোখ খুললো মেধাকে দু হাত দিয়ে জরিয়ে ধরলো । মেধার গালে কপালে চুমু একে দিলো। মেধা বললো
- এই কি করছো ছাড়ো । বের হতে হবে।
- না ছাড়বো না৷
- কেন? রাতে হয়নি বুঝি৷
- রাত আর দিন আছে। তোমাকে সব সময় বুকে জরিয়ে ধরে রাখবো। তুমি কাছে থাকলে শান্তি লাগে।
- তাই না।
- হুম।
নাহিদ মেধার ঠোঁট দখল করে নিলো। মেধা নাহিদকে ছাড়িয়ে
- গোসলে যেতে হবে। এখনি ডাক পড়বে।
- উফ মেধা। কেউ ডাকবে না। বাঁধা দিয়ো না তো।
- এখন না বেবি। রাত তো রয়েছে । তখন ওকে। আর আমি তো তোমার কাছে সবসময় থাকবো। উঠো এখন।
নাহিদ মেধাকে আবার নিজের আয়ত্তে নিয়ে নিলো। তখনি নাহিদের বোন এসে
- ভাইয়া উঠছিস। ভাবিকে নিয়ে আয় নাস্তা করতে। সবাই নাস্তার টেবিলে অপেক্ষা করছে।
মেধা নাহিদকে ছাড়িয়ে ওয়াশরুমে ঢুকে পড়লো। নাহিদ বিরক্ত হয়ে গেলো। নাহিদ বললো
- যা আসতাছি।
**
মেহেরাবের মা মিথিলার কাছে এসে
- ফোন কি দিছে?
- না মা। বলছে লাইনে পাচ্ছে না।
- ওকে নিয়ে কই রাখলো যে পাচ্ছে না লাইনে। ওর ফোনটা ও বা কই।
- মা তুমি তো জানো সবকিছু। তোমার ছেলে মেহেরাবের কাছ থেকে ফোনটা রেখে দিছে অফ করে। কেউ ওকে ফোন দিয়ে বলতে না পারে মেধার বিয়ে। ও জানলে ভেঙ্গে পড়বো।
- ঐ মেয়ের তো বিয়ে হয়ে গেছে।
- হ্যা হয়েছে। আর ক টা দিন যাক।
- মেহেরাবকে না জানানোই ভালো।
- যার জন্যই তো এতোকিছু৷
**
মেধা ওয়াশ রুম থেকে বের হলো। নাহিদ ওয়াশ রুমে ঢুকে পড়লো। কিছুক্ষণ পর নাহিদ ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে দেখলো মেধা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ভেজা চুল আঁচড়াছে। নাহিদ পেছন থেকে যেয়ে মেধাকে জরিয়ে ধরে কাঁধে মুখ ডুবিয়ে দিয়ে চুলের সুভাষ নিচ্ছে। মেধা বললো
- এই ছাড়ো কি করছো ?
- তোমাকে যত দেখছি ততোই কন্ট্রোল হারাচ্ছি।
- এতো কন্ট্রোল হারালে পরে তো আমাকে ভালো লাগবে না।
- কে বলছে তোমাকে। তোমাকে সবসময় ভালোবেসে যাবো।
- নাও জামা কাপড় পড়ে নাও। সবাই অপেক্ষা করছে।
নাহিদ মেধাকে ছেড়ে দিয়ে জামা কাপড় পড়ে দুজনে খাবার টেবিলে গেলো। নাহিদের ভাবি বললো
- এতোক্ষণ লাগলো তোমাদের আসতে। সবাই অপেক্ষা করছে। এদিকে তো একটু খেয়াল করবে।
নাহিদ মেধা দুজনে লজ্জা পেলো। নাহিদের মা মেধার হাত ধরে চেয়ারে বসিয়ে নিজ হাত দিয়ে মেধাকে নাস্তা খাইয়ে দিচ্ছে। মেধা লজ্জা পাচ্ছে। খাওয়া শেষে সবাই মেধাকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়লো৷ নাহিদ নিজের রুমে চলে গেলো।
![]() |
| তুমি আমার এক অন্যরকম শান্তি পর্ব ২৭ |
**
তামান্নার মা তামান্নাকে বললো
- কি রে উঠবি না খাবি না?
- এখন ইচ্ছে করছে না।
- আজ কি কোচিং এ যাবি।
- হ্যা। আমার ফোনটা দাও তো।
তামান্নার মা তামান্নার ফোনটা দিলো। তিন দিন পর ফোনটা হাতে নিলো। ডাটা অন করে ফেসবুকে ঢুকলো। ম্যাসেজ চেক করলো। তিন আগে মেহেরাবের দেওয়া ম্যাসেজ রয়েছে
- আপনি কোথায় আসেন আসবেন না। নাকি আমি চলে যাবো।
আর কোনো ম্যাসেজ নেই। অন্যরা সবাই ম্যাসেজ দিয়ে ভরপুর করে রাখছে। তাহলে কি মেহেরাব আমাকে মিস করেনি৷ আমি কোচিং-এ লাইনে কেন আসিনি তার জন্য কি ওর টেনশন হয়নি। একটা ম্যাসেজ ও করলো না। খোজ নিলো না। আসলে ও কি আমাকে ভালোবাসে। নাকি ভালোবাসে না। আমাকে আজকে যেয়ে জানতে হবে।
তামান্না উঠে বসে। ওয়াশরুমে চলে যায়।
নাহিদ দু ঘন্টা ধরে রুমে বসে আছে মেধার অপেক্ষায়। সেই মেধার কোনো খোঁজ খবর নেই। নাহিদের রাগ হতে লাগলো। বিরক্ত হয়ে গেলো।
মেধাকে মাঝখানে বসিয়ে সবাই ওর সাথে গল্প করছে। নাহিদ মেধার জন্য অপেক্ষা করছে। নতুন বউকে যদি কাছে না পাই কেমন ডা লাগে। নাহিদের বোন যাচ্ছিলো ঘরের সামনে দিয়ে নাহিদ বোনকে ডাক দিলো. নাহিদের বোন থেমে যেয়ে
- কি হয়েছে?
- তোর ভাবিকে পাঠাই দে তো।
- ভাবি বিজি আছে এখন। আসতে পারবে না।
বোন চলে গেলো। নাহিদ কি করবে এখন বুঝতাছে না। শুয়ে পড়লো।
বিকাল বেলা
তামান্না কোচিং এর জন্য বেরিয়ে পড়লো। রাস্তায় রিপন শিপন লিমন তামান্নাকে ফলো করছে। পিছন থেকে ইঙ্গিত দিচ্ছে। তামান্না বিরক্ত হয়ে বাবাকে ফোন দিলো। তামান্নার বাবা ফোনটা ধরতেই
- বাবা রাস্তায় কিছু ছেলে ডিস্টার্ব করছে ইদানীং।
- তুই কোনো চিন্তা করিস না। আমি দেখছি। তুই গাড়িতে করে তো আসা যাওয়া করতে পারিস।
- আমার ভালো লাগে না জানোই তো।
- ওকে রাখ।
ফোনটা কেটে দিয়ে তামান্না দাঁড়িয়ে পড়ে
- সমস্যা কি আপনাদের।
লিমন বললো
- সমস্যা হচ্ছে ভাই আপনাকে ভালোবাসে আপনি রাজি হচ্ছেন না।
- আপনাদের মাথায় কি সমস্যা আছে। আমি অন্য একজনকে ভালোবাসি।
রিপন বললো
- তুমি যাকেই ভালোবাসো না কেন? তুমি শুধু আমার। আমাকেই ভালোবাসবে।
- সম্ভব না।
তামান্না হাটা দিলো। আবার তামান্নার পিছু নিলো।
**
নাহিদ মেধাকে নিয়ে বের হবে। ঘুরতে যাবে। মেধা বেশ সাজগোজ করে বের হলো। হাসিখুশি ভাবে বাসা থেকে বের হলো। রাস্তার পাশে নাহিদ আর মেধা দাঁড়িয়ে আছে। মেধা বললো
- এই গাড়ি কোথায়। কেমন ড্রাইভার রাখো যে গাড়ি নিয়ে বাসার সামনে থাকতে পারে না। নাহিদ মেধার দিকে তাকিয়ে পড়লো।
**
রিপন শিপন লিমনদের সামনে একটা গাড়ি এসে থামে। গাড়ি থেকে কিছু লোক হকি হাতে নিয়ে বের হয়। তিনজনে হা হয়ে তাকিয়ে পড়লো.....
(waiting for next part.......)
(এতোদিন পড়াশোনার ক ও করিনি। এখন একটু পড়তে হবে। অনেকে বলছিলো পরীক্ষার ক দিন লেখালেখি বাদ দিয়ে পড়ায় মন দি। কিন্তু বেহায়া মন আর তা শোনো না। মাঝ পথে থেমে যেতে ইচ্ছে করছে না গল্পটা যে এতো বড় হবে আমি কল্পনা ও করতে পারিনি। সবাই একটু দোয়া করবেন আমার জন্য)

Leave a Comment