তুমি আমার এক অন্যরকম শান্তি


পর্ব   ২৯

লেখাMeherab Kabbo

নাহিদ কে বাসায় কেউ না পেয়ে রীতিমতো হৈ চৈ পড়ে গেছে।   ফোনটা ও অফ।  নাহিদের মা এসে মেধাকে বললো
- নাহিদ কই গেছে বলছে কিছু তোমাকে?
- না।  আমি তো ঘুম থেকে উঠে দেখি তো ও নেই ঘরে। 
- কেমন একটা কেলেংকারী হয়ে গেলো।  ওকে তো এখন প্রয়োজন। 

নাহিদের মা চলে গেলো।  মেধা বসে ভাবছে গেলো কোথায়।  ফোন ও নাকি অফ।  আমি একবার এখান থেকে যেতে পারলে আর আসবো না।  আমার স্বপ্নে আমি হাটবো।  কখন যে বাসার সবাই আসবে।  আমাকে ঠকানো বুঝিয়ে দিবো। 

নাহিদ কে সবাই খুঁজলো কিন্তু পেলো না।  ফোনটা ও অফ। 


দুপুর হয়ে গেলো।  মেধাদের বাসা থেকে সবাই এসে পড়েছে কিন্তু নাহিদের খোঁজ নেই।  মেধার মা বাবা মেধার রুমে গেলো।  মেধা বসে আছে।  বাবা মা কে দেখে
- তোমরা জেনে শুনে আমার কপাল টা না পুড়ালে পারতে।  কি দোষ করছিলাম আমি?
মেধার মা বাবা দুজনে অবাক হয়ে
- কি হয়েছে?
- যার সাথে বিয়ে দিয়েছো সে ছেলের কিছু নেই।  বাড়ি টুকু ছাড়া।  আমি এই সংসার করবো না।
মেধার মা চোখ রাঙ্গিয়ে
- মেধা।  কি বলছিস কি?
- ঠিকি বলছি।  আমি থাকবো না এখানে।  তোমরা সবাই মিলে আমাকে ঠকিয়েছো। 
- তুই কি পাগল হয়ে গেছিস। 
- হ্যা হয়ে গেছি।  আমার বন্ধু দের মুখ দেখাবো কি করে যখন জানতে পারবে আমার স্বামীর গাড়ি নেই টাকা নেই। 
তুমি আমার এক অন্যরকম শান্তি পর্ব ২৯  



মেধার মা বাবা একে অপরের দিকে তাকালো।  মেধার পাশে যেয়ে বসে
- তুই এসব কি বলছিস।  ছেলেটা তো খুব ভালো৷  গাড়ি টাকা দিয়ে কি হবে?  এই চিন্তা ধারা গুলো বদলা। 
- না আমি কিছু শুনতে চাই না।  তোমরা আমাকে ঠকিয়েছো। 
- তুই নাহিদের সাথে কিছু করেছিস।
- যা করেছি ঠিকি করেছি।  তোমরা আমাকে এভাবে না ঠকালে পারতে। 
- তুই কাজ টা ভালো করিস নি। 
মেধার বাবা বললো
- সবাই আগে থেকে প্রতিষ্ঠিত হয় না।  প্রতিষ্ঠিত হয়ে নিতে হয়। এটা সবসময় মাথাই রাখবি।  যদি এমন কিছু চেয়ে থাকিস নাহিদের পাশে থাক দেখবি একদিন সব হয়ে যাবে। 

মেধার মা বাবা চলে গেলো রুম থেকে চলে গেলো। 
মেধাকে সাজানোর জন্য আসলে মেধা না বলে দেয়।  মেধার বাসার সবাই খাওয়া শেষে।  মেধার বাবা নাহিদের বাবাকে বললো
- নাহিদ বাসায় ফিরলে ওদের দুজনকে পাঠাই দিয়েন। 
- আপনারা ওকে নিয়ে যান বেয়াই। 
- না বেয়াই জামাই ছাড়া মেয়েকে নেওয়া যাবে না। 
- দুঃখিত বেয়াই।  আমার ছেলে হয়ে ক্ষমা চাচ্ছি।  আজকে এমন একটা কাজ করবে আমি বুঝতে পারিনি৷ 
- আরে বেয়াই কি বলছেন কি? এসব বলবেন না।  নাহিদ বাসায় আসলে আমাকে বলেন আমি এসে ওদের দুজনকে নিয়ে যাবো। 
- বউ মার সাথে দেখা করে যান। 
- না।  ওর সাথে এখন দেখা করবো না। 

মেধার মা বাবা সবাই চলে গেলো। 


**
তামান্না আজ ও কোচিং এ এসে মেহেরাবকে দেখতে পেলো না।  মেহেরাব আজ ও আসে নি।  কি হলো ওর যে আসছে না।  তামান্না মন খারাপ করে বসলো।  মেহেরাবকে দেখতে না পেয়ে পাগল প্রায় তামান্নার মন৷  ও কি রাগ করে আসছে না।  ও কি কষ্ট পেয়েছে।  না এটা হতে পারে না। 

**
নাহিদের মা মেধার রুমে ঢুকলো।  মেধা চোখের পানি ফেলছে ।  নাহিদের মা মেধাকে বললো
- বউ মা কান্না করো না।  নাহিদ বাসায় আসুক ওকে বুঝাবো। 
মেধা কিছু বলে না।  নাহিদের মা বলে
- কিছু খেয়ে নাও এসো। 
- খাবো না এখন আর। 
- তোমার মা বাবা সবাই চলে গেছে। 
মেধা তাকিয়ে পড়ে
- কি চলে গেছে মানে?  আমাকে না নিয়ে।
- হ্যা।  নাদিহ বাসায় ফিরলে এসে নিয়ে যাবে। 
- আপনার ছেলের জন্য আমাকে কেন নিলো না। 
- সামাজিকতা বলে একটা আছে। ।
-রাখেন তো সামাজিকতা৷ সবাই আমাকে ঠকিয়েছে। 
নাহিদের মা অবাক হয়ে
- ঠকিয়েছে মানে। 
- আপনারা সবাই আমার সাথে চিৎ করেছেন। 
নাহিদের মা কিছু না বলে বের হয়ে যায় রুম থেকে।  মেধা ফোনটা নিয়ে ফোন দেয়।  মেধার বাবা কলটা রিসিভ করতেই মেধা বললো
- আমাকে না নিয়ে তোমরা চলে গেলে কেন?
- নাহিদ নেই তাই তোকে আনতে পারলাম না। 
- ও নেই কি হয়েছে৷  তোমাদের বলছি না আমি এই সংসার করবো না৷ 
- তোকে বিয়ে দিয়েছি সংসার না করার জন্য না।  আর তোকে বাসায় নেওয়ার জন্য না বিয়ে দিয়েছে। 
ফোনটা কেটে দিলো।  মেধার বুকটা কষ্টে ফেটে যাচ্ছে।  সবাই চেঞ্জ হয়ে গেছে।  বাবা ও আজ কথা শুনালো।  বাইরে গেলে মানুষ ও শুনাবে কথা।  আমার সব স্বপ্ন নষ্ট করে দিলো।  কাউকে সুখে থাকতে দিবো না।  নাহিদ তুই ও পারবি না সুখে থাকতে।  বাসায় ফের শুধু। 


রাতে নাহিদের ফোন থেকে কল আসে।  নাহিদের মা কলটা ধরে
- কই তুই।  না বলে কোথায় গেছিস
- আমার ডিউতি পড়ে গেছে।  জানানোর টাইম পাইনি। 
- তোর ফোন অফ ছিলো কেন?
- চার্জ ছিলো না।  এখন খুললাম ফোন।  তাই কল দিলাম। 
- বউ মার সাথে কথা বলবি। 
- মা কাজ আছে পড়ে কল করবো।  আর ওকে বাসায় পাঠাই দাও। 

ফোনটা কেটে দিলো।  নাহিদের মা নাহিদের বাবাকে বললো।  নাহিদের বাবা ফোনটা নিয়ে মেধার বাবাকে কল করে
- বেয়াই নাহিদের কাজ পড়ে গেছে চলে গেছে।  আপনি এসে বউ মা কে নিয়ে যান। 
- না না বেয়াই তা হয় কি করে।  জামাই ছাড়া মেয়েকে আনলে তো মান সম্মান থাকবে না।  মেয়ের দিকে খেয়াল রেখেন।  নাহিদ ছুটিতে আসলে তখন পাঠায় দিয়েন। 
- ঠিক আছে বেয়াই। 

ফোনটা কেটে দিলো। 


পরেরদিন

মেধা সাজগোছ করে বের হতে যাবে তখন নাহিদের মা বললো
- কোথায় যাচ্ছো বউ মা। 
- আপনাকে বলতে হবে।  আমাকে ঠকিয়ে কি শান্তি পান নি। 
মেধা কথাটা বলে বেরিয়ে গেলো।  নাহিদের মা অবাক হয়ে চেয়ে রইলো। 


**
তামান্না অনলাইনে গেলো মেহেরাব আসেনি এখনো সিন ও নেই ম্যাসেজ।  ওর নাম্বার টা ও নেই।  বাসা ও তো চিনি না কিভাবে খোঁজ নিবে৷  কোচিং এ যেয়ে ভাইয়াদের জিঙ্গেস করবো৷  নাকি তারা অন্যকিছু ভাববে।   কি করবো কিছুই বুঝতে পারছি।  আমাকে কেন এতো কষ্ট দিচ্ছো মেহেরাব।  অল্প দিনে কেন তুমি আমার মনে আসলে কেন আমাকে শান্তি দিচ্ছো না৷। 


**
হুটহাট মেধা বাসা থেকে বের হয়ে যাচ্ছে রাতে বাসায় ফিরছে।  বাঁধ ছাড়া হয়ে গেছে।  তামান্না কোচিং এ যাচ্ছে আসছে।  খাওয়া দাওয়া করে না ঠিক মতো।  মেহেরাবকে খুব বেশি মনে পড়ছে।  মিস করে খুব।  কেমন আন মরা হয়ে গেছে। 

*
নাহিদের মা বাবা ব্যাপার টা মেধার মা বাবাকে জানালো।  মেধার বাবা বললো
- মেধা এখন আমাদের মেয়ে না।  আপনার বাসার বউ।  আপনার বউকে আপনারাই কন্ট্রোল করবেন।  তা কিভাবে করবেন আপনারা ভালো জানেন।  আমি দেখতে যাবো না শুনতে যাবো না।  আমার তো মান সম্মান আছে তাই না। 
ফোনটা কেটে গেলো। 


দেখতে দেখতে ৭ দিন কেটে গেলো। 
একদিন নাহিদের বাবা রাস্তা দিয়ে আসার সময় দেখলো মেধা কিছু ছেলের সাথে।  নাহিদের বাবা ছেলেগুলোকে সুবিধার মনে হলো না।  এগিয়ে যেয়ে
- বউ মা তুমি এখানে এরা কারা। 
মেধা রাগি গলায়
- আরে আপনার প্রবলেম টা কি?  আপনাকে কইফিওত করতে হবে। 
সাথে থাকা ছেলে গুলো  হেসে উঠলো।  একটা ছেলে মেধার চুলে হাত দিয়ে
- বেবি আংকেল  তোমার শশুর।
- আরে কি বলো এরা সব ঠকবাজ আমাকে ঠকিয়েছে।  এ আমার শশুর হবে কেন। 

নাহিদের বাবাকে অপমান করলো।  নাহিদের বাবা চোখের পানি ধরে রাখতে পারেনি।  চলে আসলো।  পরের দিন

সকালে
মেধা ঘুমিয়ে আছে।  নাহিদের মা মেধার রুমে যেয়ে এক বালতি পানি ঢেলে দিলো।  মেধা লাফিয়ে উঠে হা হয়ে গেলো। 


বিকালে তামান্না কোচিং এ এসে নিজেকে সামলাতে না পেরে কেঁদে দিলো.......


(waiting for next part.........) 

Leave a Comment