তুমি আমার এক অন্যরকম শান্তি
পর্ব ৩০
লেখা: Meherab Kabboনাহিদের বাবা মন খারাপ করে বাসায় ফিরলো। নাহিদের মা জিঙ্গেস করলো
- কি হয়েছে?
- কিছু না।
নাহিদের বাবা কথা এড়িয়ে চলে গেলো। আর কোনো কিছু বলার সুযোগ দেয় নি। নাহিদের মা কিছু একটা চিন্তা করে চলে গেলো।
মেধা সামনের দিকে এগিয়ে গেলো। হঠাৎ কানে ভেসে আসলো
- রুম কি রেডি করছো? তাহলে মেধাকে নিয়ে চলে আসি। আজ সারা রাত মাস্তি করবো। বিবাহিত মেধা আর সমস্যা হবে না।
মেধা পাশে তাকিয়ে নিস্তব্ধ হয়ে গেলো পাশে তাকিয়ে। এরা বন্ধু নাকি আমাকে ভোগ করতে চাই। ছিঃ এরা এতোটা নিচ। এদের জন্য আমি আমার শশুরের সাথে খারাপ ব্যবহার করলাম। আমার এখানে থাকলে সব কিছু হারাতে হবে। মেধা এক মুহুর্ত না দাঁড়িয়ে চলে গেলো।
পরের দিন সকালে
মেধা ঘুমিয়ে আছে। নাহিদের মা মেধার রুমে যেয়ে এক বালতি পানি ঢেলে দিলো। মেধা লাফিয়ে উঠে হা হয়ে গেলো। নাহিদের মা রাগি গলায় বললো
- নবাবজাদী এটা তোর বাপের বাড়ি না যে যা ইচ্ছা তাই করবি। নাস্তা কি তোর মা এসে বানিয়ে দিবে। ইচ্ছা স্বাধীন চলাফেরা আজ থেকে তোর অফ। আমার বাড়িতে থাকলে গেলে আমাদের কথা মতো তোকে চলতে হবে। নাই তোর বাপের বাড়ি চলে যাবি। এখন নাস্তা করবি রান্না ঘরে সব আছে।
কথা গুলো বলে চলে গেলো। মেধা এরকম টা আশা করেনি। মেধার রাগ হলো। এতোগুলো কথা শুনিয়ে গেলো। ফোনটা নিয়ে বাসায় ফোন করলো। মেধার মা ফোনটা রিসিভ করতেই মেধা কান্না সুরে
- মা আমি বাড়ি আসতাছি। এরা আমার উপর অত্যাচার করছে।
- তোকে কি আমরা বিয়ে দিছি বাড়িতে আনার জন্য। তোর বাড়ি এখন শশুর বাড়িতে।
- তাহলে কি আমি বাড়ি আসবো না?
- জামাইকে ছাড়া একদম না। আমাদের মান সম্মান আছে।
- আমি কিন্তু অন্য কোথা ও চলে যাবো।
- কার কাছে যাবি। এই দুনিয়ায় স্বার্থ ছাড়া কিছুই চলে না। তাই ভূল কাজ করিস না। তারা যেটা বলে তাই শোন। সুখী হবি। মানুষ পরিবর্তন শীল। তার অবস্থান একদিন বদলাবে৷
- তোমরা সবাই মিলে আমাকে ঠকাইছো।
মেধার মা কলটা কেটে দিলো। নাহিদের মা দরজার সামনে দাঁড়িয়ে
- নবাবজাদি এখনো বসে আছে দেখি। নাস্তা বানাবি নাকি তোর চুলের মুঠি ধরে টেনে নিয়ে যাবো।
মেধা ভয় পেয়ে গেলো। নাহিদের মা এতোটা ডেঞ্জার মেধার জানার বাহিরে। মেধা উঠে রান্না ঘরে চলে গেলো।
**
তামান্নার মা তামান্নার রুমে এসে
- মা তুই এমন মন মরা করে থাকলে আমার ভালো লাগে না। ঠি ক করে খাচ্ছিস না। ঘুম নেই তোর।
- আমি ওকে খুব মিস করছি। ও কি আমাকে একটু ও মিস করে না।
- কে মা?
- না কেউ না। আমি আগে তার মুখ দিয়ে না শোনা পর্যন্ত তোমাকে কিছু বলবো না।
- তুই আমাকে বল আমি যেয়ে শুনবো৷ কিন্তু তুই এমন করে থাকিস না। তোর কষ্ট আমি সহ্য করতে পারি না।
- না। আমিই বলবো। কবে আসবে।
- কে?
- তুমি যাও মা। আমি একটু ঘুমাই। অনেক ঘুম পাচ্ছে।
- নাস্তা করবি না।
- উঠে করবো। প্লিজ।
![]() |
| তুমি আমার এক অন্যরকম শান্তি পর্ব ৩০ |
তামান্নার মার অজানা এখনো। খোঁজ ও নিছে কিন্তু কোনো কিছু জানতে পারেনি এখনো। মেয়েটা কার প্রেমে পড়লো তাকে তো খুঁজে বের করতে হবে। ও কোনো ভূল করছে কি না আমাকে দেখতে হবে৷
**
রান্না ঘরে মেধা দাঁড়িয়ে আছে কি দিয়ে কি করবে এখনো জানে না । কখনো কাজ করেনি। এখন কি ভাবে নাস্তা বানাবে। নাহিদের মা এসে
- দাঁড়িয়ে আছিস কেন? নাস্তা বানা।
মেধা নিচের দিকে তাকিয়ে
- আমি পারি না।
- তুই পারবি কি করে? তোর তো মন ভরা অহংকার। অর্থের লোভ। তোর বাপ রে বলিস একটা কাজের বুয়া পাঠিয়ে দিতে।
মেধা নাহিদের মার কথায় হার্ড হয়ে গেলো। চোখ দিয়ে পানি পড়লো। নাহিদের মা এটা দেখে
- ঢংয়ের পানি তোকে কেউ ফেলতে বলেনি। তোর পাকনা গজিয়ে গেছে। এখন ওটা কাটতে হবে। সর
ডাক্কা মেরে সরিয়ে দিলো। মেধা যেয়ে পাশে ডাক্কা খেলো দেয়ালের সাথে৷ হাতে ব্যথা পেলো।। নাহিদের মা বললো
- দেখ নাস্তা বানায় কি করে?
***
বিকালে মেধা কোচিং এ আসলো। ক্লাসে ঢুকতেই সামনের দিকে চোখ পড়তেই নিজেকে আর সামলে রাখতে পারলো না নিজেকে। যেয়ে হাতটা ধরে কান্না করে দিলো৷ মেহেরাব অবাক হয়ে গেলো। ক্লাসের সবাই তাকিয়ে পড়লো। মেহেরাব উঠে দাঁড়িয়ে
- কি হয়েছে আপনার কান্না করছেন কেন?
- তুই কই ছিলি। আমাকে কি একটু বলার প্রয়োজন মনে হয় নি। আমার কি চিন্তা হয় না তোর জন্য। আমাকে কি একটু ও তোর মনে পড়ে নি। এতো রাগ তোর৷ কেন করলি আমার সাথে এটা বল।
মেহেরাব অবাক হয়ে গেলো। কি বলবে তামান্নাকে বুঝতে পারছে না। চুপ করে আছে। তামান্না মেহেরাবকে জরিয়ে ধরে
- আমি তোকে ভালোবাসি তুই কেন বুঝিস না। তুই এই ক টা দিন ছিলি না আমার কতো কষ্ট হয়েছে। আমার একটা দিন ও ভালো কাটে নি। শান্তিতে ঘুমাতে খেতে পারি নি।
ক্লাসের সবাই হা হয়ে গেলো। মেহেরাব পুরো থ হয়ে গেলো। তামান্নাকে বললো
- ছাড়ুন সবাই দেখছে।
- দেখুক। বল তুই আমাকে ভালোবাসিস।
- না।
তামান্না কথাটা শুনে মেহেরাবকে ছেড়ে দিলো। মেহেরাব ক্লাস থেকে বেরিয়ে গেলো। তামান্না ও বেরিয়ে পড়লো। রাস্তায় মেহেরাবকে থামিয়ে
- তুই সত্যি আমাকে ভালোবাসিস না।
- আপনি কি পাগল? আপনাকে আমি ভালোবাসতে কেন যাবো?
- তাহলে এতোদিন আর ম্যাসেজ সবকিছু
- বন্ধু হিসেবে করেছি। এর বাহিরে তো কিছু ভাবিনি।
- তাহলে আমাকে কেন পাগল বানালি তুই। কেন আমার মনটাকে এতোটা দূর্বল করলি। তোর আমাকে ভালোবাসতে হবে। তুই আমার।
- সরি। আপনি আবেগে ভাসছেন।
- আমি আবেগে ভাসছি না। আমার তোকেই চাই। তুই আমার মনের শান্তি। ।
- সম্ভব না। বোঝার চেষ্টা করেন।
- আমি কিছু বুঝতে চাই না
- আপনি আমার অবস্থান দেখলে আপনার ভালোবাসা সব হারিয়ে যাবে। আপনার অবস্থান অনেক উপরে। আমাদের টা নিচু। আমাদের ভালোবাসা মানায় না।
- ভালোবাসা কখনো অবস্থা দেখে হয় না। না হয় অট্টালিকা দেখে। ভালোবাসা শুধু তারই জন্য মন থেকে যেটা আছে। ভালোবাসার মানুষটা যেই অবস্থানে থাকুক না কেন সে পাশে থাকলে আর কিছু চাই না।
- আপনি আবেগের বসে কথা বলছেন। নতুন সবকিছুই ভালো লাগে। পুরানো হলে তিতা হয়ে যায়। আমরা নতুন কোনো কিছু কিনলে তার গুরুত্ব টা বেশি দি। যখন বেশ ক দিন পর তা পুরানো হয়ে যায় তখন ফেলে দি। সেই জিনিসটার গুরুত্ব আর দি না।
- সবাই সবার গুরুত্ব দিতে পারে না। আমি তোকে চাই মানে তোকে চাই ।
- সম্ভব না। আপনি বড়লোক। আপনার সব আছে আমার কিছু নেই।
- আমার তো কিছু চাই না তোকেই চাই শুধু।
- বামুন হয়ে চাঁদে হাতটা দেওয়াটা শুধুই স্বপ্নে মানাই বাস্তবে না। আমি এই স্বপ্ন দেখতে চাই না।
- প্লিজ মেহেরাব আমি সবার মতো না। আমি তোমাকে ভালোবাসি। তুমি আমার শান্তি কেন বুঝছো না। তোমাকে ছাড়া আমি ভালো নেই। সত্যি আমি ভালো নেই।
- বাসায় যান ভালো করে ভেবে নেন।
তামান্নার মেহেরাবের মুখের কাছে এসে
- আমার ভাবা হয়ে গেছে। তোমাকে আমি না পেলে তোমাকে আমি খু*ন করে ফেলবো। একবারে খু*ন করে ফেলবো।
তামান্না চোখের পানি মুছতে মুছতে চলে গেলো। মেহেরাব হতবাক হয়ে গেলো। বাসার দিকে চলে গেলো।
***
মেধা বের হবে বাসা থেকে তখনি নাহিদের মা পেছন থেকে মেধার চুলের মুটি ধরে টান মেরে রাগি দৃষ্টিতে তাকিয়ে
- জবাব জাদি তোকে বলছি না এটা তোর বাপের বাড়ি না যখন যা ইচ্ছা তাই করতে পারবি না। সেজেগুজে আরেক নাগোরের কাছে যাচ্ছি।
- ছাড়ুন লাগছে
- তোর মা বাবা কে বল তোকে এসে নিয়ে যাক। আমার বাড়িতে তোর এই সব চলবে না। ঘরের বাহিরে পা দিবি তো পা ভেঙ্গে দিবো।
চুলের মুটি ছেড়ে দিলো। মেধা রুমে চলে যেয়ে কান্না শুরু করে দিলো।
**
তামান্না এসে মা কে জরিয়ে ধরে কান্না করে দিলো। তামান্নার মা তামান্নার মাথায় হাত বুলিয়ে.............
( waiting for next part........)

Leave a Comment