তুমি আমার এক অন্যরকম শান্তি
পর্ব ৮
লেখা: Meherab Kabboমিথিলা মাকে বললো
- বলেন কি খাবেন?
- ওই তো চূলায় আছে তো।
- আপনি ঘরে যেয়ে বসেন আমরা নিয়ে আসছি।
- তোমাদের দুজনের জন্য একটু ও শান্তি নেই। কই ভাবলাম। এগুলো করে নিয়ে যাবো তখন তোমরা ঘুম থেকে উঠে দেখলে কতটা খুশি হবে৷ তার আগেই চলে আসলা।
মিহু মাকে ধরে
- আমরা তো অনেক খুশি মা। আপনাকে এখন এতো কষ্ট করতে হবে না৷
- হুম তোমরা তো আমার কলিজার টুকরো দুটো।
মা ঘরে চলে যায়। মিহু মিথিলা খাবার তৈরি করতে লাগে।
মেহেরাব তামান্নার দিকে তাকিয়ে বললো
- কি হয়েছে? আন্টি এমন আচরণ কেন করছে?
তামান্না কান্না করে দিয়ে
- তুমি প্লিজ আর কাউকে বলবে না কথা গুলো। তাহলে আমাদের এখানে ও থাকা হবে না।
- আচ্ছা বলবো না। বলো।
(তামান্না বলতে লাগলো
- আমি যে কলেজে পড়ি সে কলেজে একটা ছেলে পড়তো৷ আমার বন্ধুই। হঠাৎ করেই একদিন আমাদের বাসায় আসে। ও আমার কাছে পড়া জানতে এসেছে। ওকে বসতে বলি। ও আসছিলো দেখে মা কিচেনে ওর জন্য নাস্তা তৈরি করতে যায়। আমি রুমে ব্যাগ আনতে যায়। তখন ও আমার পিছু পিছু চলে আসে। আমি ওকে দেখে বললাম
- তুই এখানে আসলি কেন?
- তুই না বললি। তাই আসলাম।
- আমি কখন বললাম। আচ্ছা এসেছিস যখন ভালো হয়েছে। ভেতরে আই। বই গুলো নিবি
ছেলেটা রুমে ঢুকলো। তামান্না ছেলেটার হাতে বই ধরিয়ে দিলো। তখন তামান্নার মা তামান্নাকে ডাক দেয়৷ তামান্না চলে যায়। সেই সুযোগে ছেলেটা তামান্নার ওয়াশরুমে একটা ক্যামেরা রাখে। কে জানতো ছেলেটার মনে এতো শয়তানি। তামান্নার অর্ধ নগ্ন গোসলের ভিডিও ছেলেটার কাছে। ভিডি ও টা দেখিয়ে ওদের ব্ল্যাক মেইল শুরু করে।
বাসায় বিষয়টা জানাজানির পর তামান্নার বাবা তামান্নার মাকে চড় মেরে বলে
- তোকে আমি বার বার বলেছি মেয়ের দিকে খেয়াল রাখ। মেয়ের ছেলে বন্ধু বাসায় এসেছে তাকে আপ্যায়ন করেছিস দেখলি তো কতবড় ক্ষতি করে দিলো।
তামান্নার মা চুপ করে রইলো। তামান্নার বাবা যা না পারছে তাই বলে যাচ্ছে। শেষের দিকে তামান্নার বাবা বলে
- তোর মেয়েকে বিদায় করবি না হলে আমি এই বাসায় থাকবো না। আমার সব মানসম্মান নষ্ট করে দিলো।
- তুমি এতো উত্তেজিত হয়ো না। আমাদের কিছু একটা করতে হবে। তামান্নার ভাই কে জানাও?
- ও কি আমাদের পরিবারের কেউ। বিয়ের পর তো শশুর বাড়িতেই আছে ঘর জামাই হয়ে।
- তবু ও ওর বোন তো।
তামান্নার বাবা তামান্নার ভাই কে ফোন দিয়ে সব টা বলে। ওপাশ থেকে
- তোমাদের ঝামেলা তোমরা মেটাও। মেয়েকে সব সম্পত্তি দিয়ে দিবা না। তাই দাও।
ফোনটা কেটে দেয় কথাগুলো বলে।
সবাই নিশ্চুপ হয়ে রইলো। ছেলেটা ফোন করে টাকা চাইলো। নাইলে ভিডিও ফাস করে দিবে।
মানসম্মানের ভয় তে থানায় কিছু বলে না।
ছেলেটার চাহিদা মতো টাকা দেওয়া হয়েছে।
বলেছিলো টাকা পেলে ভিডিও টা ডিলেট করে দিবে।
কিছুদিন যেতে না যেতে ছেলেটা আবার ব্ল্যাক মেইল শুরু করে দেয় ভিডিও ডিলেট দেওয়ার কথা থাকলে ও
কিন্তু ডিলেট দেয় নি। আবার ও শুরু করে ব্ল্যাক মেইল। ওর জন্য আমরা নিজেদের বাড়ি বিক্রি করে পালিয়ে এখানে চলে এসেছি। ও খোঁজ পেয়ে এসেছে এখানে। বিরক্ত করছে)
মেহেরাব সবকিছু শুনে থ হয়ে উঠে দাঁড়িয়ে পড়ে। তামান্নার চোখ বেয়ে পানি ঝরতে লাগলো। মেহেরাব কি বলবে বুঝতে পারছে না। বলার ভাষা ও নেই। মেহেরাব চলে যাবে তখনি তামান্নার মা বললো
- তামান্নার বাবা রাগ করে আমাদের সাথে কোনো সম্পর্ক রাখেনি। এই ১ টা বছর কোনো খোঁজ নেয় নি। মাসে টাকা পাঠিয়ে দেয়।
![]() |
| তুৃমি আমার এক অন্যরকম শান্তি পর্ব ৮ |
তামান্না বললো
- এই জন্য তোমাকে মাঝ রাস্তায় বলতাম চলে যেতে। মা জানলে আমাকে মেরে ফেলতো।
মেহেরাব কিছু না বলে বাসা থেকে বের হয়ে গেলো। তামান্নার মা বললো
- ও সবাইকে বলে দিলে আমরা এখানে সবার সামনে মুখ দেখাবো কি করে?
- মা আমাদের আর এখানে থাকা হবে না। চলো চলে যায়।
- তুই তোর সব কিছু গুছিয়ে নে আমরা আজই চলে যাবো।
মেহেরাব ঘরের ভেতর ঢুকে আসাতে তামান্না আর তামান্নার মা অবাক হয়ে গেলো। মেহেরাব যেয়ে তামান্নার হাত ধরে
- আন্টি ওকে নিয়ে আমি কোচিং এ যাচ্ছি। কোচিং শেষে আবার এগিয়ে দিবো। ভয় পাবেন না।
তামান্না বললো
- না আমি যাবো না। আমরা এখান থেকে অনেক দূরে চলে যাবো।
মেহেরাব তামান্নার কোনো কথা না শুনে হাত ধরে টেনে নিয়ে বাইরে চলে যায়। মেহেরাব বললো
- চোখের পানি মুছে নেন। নাই পাবলিকে দেখলে গণ ধোলাই দিবে আমাকে।
তামান্নার হাত ধরে মেহেরাব হাঁটছে। কিছুদূর যেতেই কয়েকটা ছেলে ওদের পথ আটকায়। একটা ছেলে সামনে আসাতেই তামান্না মেহেরাবের পিছনে মুখ লুকায়। ছেলেটা বললো
- কি রে তামান্না ছেলেটা কে রে? ও জানে তোর আর আমার ভেতরের সম্পর্ক ।
মেহেরাব শান্ত গলায়
- কে ভাই আপনি? আর আপনারা পথ আটকায়ছেন কেন?
ছেলেটা বললো
- দেখ ভাই তোর সাথে আমার কোনো ঝামেলা নেই। তুই ওকে রেখে চলে যা। আমাদের বোঝাপড়াটা করে নি।
তামান্না মেহেরাবের জামা শক্ত করে মুট করে ধরে। ভয় তে কাঁপতে লাগে। মেহেরাব বললো
- ও এখন আমার সাথে আছে। তাই ভাই কোনো ঝামেলা করবেন না।
ছেলেটা মেহেরাবের কলার ধরে
- তুই কে? তোর সাথে ঝামেলা করলে কি হবে। তুই জানিস আমি কে? তোকে এখানে পুঁতে রেখে যাবো। কি রে তামান্না সইচ্ছায় যাবি নাকি একে মেরে রেখে তোকে তুলে নিয়ে যাবো
মেহেরাব জামার কলার ধরে ছাড়িয়ে
- আপনি যেই হোন না কেন আমাদের যেতে দেন।
- তোর সাহস থাকলে তুই এক পা যা।
মেহেরাব তামান্নাকে বলে
- এই কি সেই ছেলে?
- হুম।
ছেলেটা বললো
- একটা রাত কাটাবি আমার সাথে তারপর তোর সব ভিডিও ডিলেট করে দিবো। না হলে ভাইরাল করে দিবো। চল আমার সাথে একটা রাত কাটাবি।
- না ও কোথাও যাবে না।
ছেলেটা মেহেরাবের গালে চড় মারে কষে। তামান্না আরো ভয় পেয়ে উঠে। ছেলেটার সাথে থাকা লোকগুলোকে বললো ধরতে তখন পুলিশের গাড়ি চলে আসে। ছেলেটাকে আর লোকগুলোকে ধরে বসে। মেহেরাব আর তামান্নার হাতে হ্যান্ডকাপ পড়িয়ে পুলিশ বললো
- রাস্তা ঘাটে নোংরামি শুরু হয়ে গেছে। থানায় চল বুঝাবো
ছেলেটা বললো
- স্যার আপনি জানেন না আমি কে? আমাকে ছেড়ে দেন।
পুলিশের স্যার ছেলেটার গালে কষে চড় মেরে
- তুই যেই হোস না কেন? আমার থেকে ছাড়া পাওয়া এতো সহজ না। তুই কে থানায় চল তোকে দেখাচ্ছি মজা।
পুলিশ অফিসার বললো
- এই সবাইকে গাড়িতে তোল।
মেহেরাব বললো
- স্যার স্যার আমাদের কোনো দোষ নেই। আমরা কোচিং এ যাচ্ছিলাম এরা আমাদের পথ আটকিয়ে আমাকে মারা শুরু করে।
পুলিশ অফিসার বললো
- তুই কে? ওর মতো করে বল।
- স্যার আমি সাধারণ একটা ছেলে। আমরা কোচিং এ যাচ্ছি এই দেখুন ব্যাগ নোট সব।
অফিসার সবকিছু দেখে
- এই ওদের ছেড়ে দাও।
দুজনকে ছেড়ে দিয়ে ওদের নিয়ে চলে গেলো। তামান্না মেহেরাবের হাত শক্ত করে ধরে আছে এখনো। তামান্নার ভয় টা তীব্র হতে লাগলো। মেহেরাব তামান্নার দিকে তাকিয়ে
- এতো ভীতু কেন আপনি? মনে সাহস রাখতে হয় বুঝলেন। কিছু হবে না। আজ আর কোচিং এ যাওয়া হলো না। টাইম শেষ। চলেন আপনাকে বাসায় এগিয়ে দিয়ে বাসায় যাবো।
তামান্নার মুখে কোনো কথা নেই হতভম্ব হয়ে আছে। মেহেরাব তামান্নাকে বাসায় পৌঁছে দিয়ে চলে গেলো।
সন্ধ্যার পর মেধা বাসায় আসতেই পুরো থ হয়ে দাঁড়িয়ে পড়লো......
(waiting for next part....)

Leave a Comment