তুমি আমার এক অন্যরকম শান্তি
পর্ব ৩২
লেখা: Meherab Kabboমেহেরাব তামান্নাকে বললো
- আমরা বন্ধু হয়ে থাকলে কোনো সমস্যা।
- হ্যা সমস্যা। আমার সমস্যা কারণ আমি তোমাকে ভালোবাসি আমার বেহায়া মনকে তো বুঝাতে পারছি না।
- কিছু দিন পর মোহ কেটে যাবে৷ নিজেকে একটু শান্ত রাখুন।
তামান্না উঠে দাঁড়িয়ে
- আমি যেটা বলার বলে দিয়েছি। আমি তোমাকে না পেলে তোমাকে কারো হতে দিবো না। আর না আমি কারো হবো।
- এতো আবেগ ভালো না। আপনি আপনার লেভেলের ভালো কাউকে পেয়ে যাবেন দেখবেন। আমার থেকে ভালো কাউকে পাবেন।
তামান্না রেগে যেয়ে মেহেরাবের কলার ধরে
- কিসের এতো লেভেল করছিস। আমার আর ভালো কাউকে চাই না। তোকেই চাই। তুই আমার মনের শান্তি। তোকে ছাড়া আর কিছুই বুঝে না।
মেহেরাব কি বলবে কিছুই বুঝতে পারছে না। আকাশে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। তামান্না কলার ছেড়ে দিয়ে বসে পড়ে
- কেন বুঝছো না আমি যে তোমাকেই ভালোবাসি?
**
মেধা ফোনটা নিয়ে ওর চাচাতো বোন মেহেরুনকে কল করলো। কল টা রিসিভ করতেই মেধা কান্না করে সবকিছু বললো। অত্যাচারের কথা সব বললো। বাসার লোক নিতে চাই না। মেহেরুন সব কিছু শুনে
- তা কি করবি তুই এখন?
- আমাকে এই দোযখ থেকে বাঁচা তুই।
- আচ্ছা ফোনটা রাখ ৫ মিনিট পর ফোন দিচ্ছি।
মেহেরুন ফোনটা কেটে দিলো। মেধা মনে মনে ভাবছে মেহেরুন ও কি কিছু করবে না। আমার এই অত্যাচার সহ্য হচ্ছে না।
৫ মিনিট পর মেহেরুনের কল আসলো। মেধা কলটা রিসিভ করতেই
- শোন তুই ঐ বাসা থেকে একা একা চলে আই।
- কই যাবো আমি।
- আমি গাড়ি পাঠিয়ে দিবো। রাতে তুই চলে আসিছ। কাউকে কিছু জানাস না।
- ঠিক আছে।
- রেডি হয়ে থাকিস।
- ওকে।
ফোনটা কেটে দিলো। মেধা কিছুটা স্বস্তি পেলো।
**
মেহেরাব তামান্নার হাত ধরে উঠিয়ে
- আম্মু আপনাকে দেখতে চাইছে। চলেন আমার সাথে৷
তামান্না অবাক হয়ে
- ম ম ম মানে
- আম্মু আপনাকে দেখবে। কে আমাকে এতোটা ভালোবাসে তাকে দেখতে চাই। আম্মু তো বিশ্বাস করছে না। তাই একটু বিশ্বাস করাবো।
- আ আ আমার কথা তোমার আম্মু কে বলছো।
- হুম। নিয়ে যেতে বলছে আপনাকে।
তামান্নাকে নিয়ে বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হলো। আকাশে মেঘ করছে খুব। যেকোনো সময় বৃষ্টি পড়তে পারে৷ রিক্সা এসে বাসার সামনে থামলো। তামান্নাকে নিয়ে বাসার ভেতর ঢুকলো। গোলের কুড়ে ঘর দেখে
- এটা তোমার বাসা।
- হ্যা কেন?
- না এমনি।
মেহেরাব দেখলো মা নেই। জোরে মা মা করে ডাক দিলো। মেহেরাব মা এসে
- ছাগলের মতো ভ্যা ভ্যা করছিস কেন?
তামান্না হেসে দিলো। মা তামান্নার দিকে তাকিয়ে
- কে ও?
- মা তামান্না। যার কথা বলছিলাম। তামান্না আমার মা।
![]() |
| তুমি আমার এক অন্যরকম শান্তি পর্ব ৩২ |
তামান্না মাথা নিচু করে
- আসসালামু আলাইকুম আন্টি।
- ওয়ালাইকুম আসসালাম
- কেমন আছেন?
- আলহামদুলিল্লাহ। তুমি?
- আলহামদুলিল্লাহ।
মেহেরাব বললো
- মা বাইরে দাঁড়িয়ে কথা বলবা নাকি ওকে নিয়ে ভেতরে যাবে৷
- হ্যা। চলো মা ঘরে।
তামান্না বেশি লজ্জা পাচ্ছে । মা মেহেরাবকে বললো
- তুই ওকে নিয়ে আসবি আমাকে আগে বলবি না।
- তুমি ওকে নিয়ে ভেতরে যাও আমি আসছি।
মেহেরাব চলে গেলো। মা তামান্নাকে নিয়ে ঘরে গেলো। কারেন্ট নেই। মেঘলা আকাশ দেখে কারেন্ট চলে গেছে। মা তামান্নাকে খাতের উপর বসতে বলে ঘরের ছোট্ট জানালা খুলে দিলো। আলো কিছু আলো আসলো। মেহেরাবের মা বললো
- কিছু মনে করো না। আমাদের ঘর থেকে।
তামান্না বললো
- কি যে বলেন আন্টি?
- তবু ও আমাদের তো অট্টালিকা নেই।
- সব অট্টালিকাই কি সব সুখ থাকে।
মেহেরাবের মা কি বলবে বুঝতে পারলো না। তারপর বললো
- বসো তুমি আমি রান্না ঘর থেকে আসছি।
মেহেরাবের মা চলে গেলো রান্না ঘরে। তামান্না ঘরের চার পাশ দেখছে। ঘরটা অগোছালো। জামা কাপড় যেখানে সেখানে ফেলা। এমন বাসায় এরা থাকে কি করে ভাবতে লাগে তামান্না। হঠাৎ করেই বৃষ্টি জোড়ে নেমে গেলো। চালের ফাঁক দিকে পানি পড়তে শুরু করে। তামান্না কি করবে বুঝতে পারছে না। এই ঘরে কিভাবে থাকে৷ বৃষ্টির পানি ও পড়ে চালের ফাঁকা দিয়ে। হয় রে। রাত হলে কি করতো? তামান্না সামনে থেকে কিছু বল এনে যেখানে যেখানে পানি পড়ে সেখানে সেখানে দিলো। তামান্না এ কোণে যেয়ে দাঁড়ালো । বৃষ্টির গতি ক্রমেই বেড়ে চলছে। কমার নাম নেই। মেহেরাবের মা রান্না ঘর থেকে এখনো আসছে না। বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে ভালোই। মেহেরাব কোথায় গেলো এখনো আসছে না। আটকা পড়লো বৃষ্টিতে। তামান্না জানালার কাছে যেয়ে একটা হাত বাইরে দিলো। বৃষ্টির পানি নিয়ে খেলা করছে। কিছুক্ষণ পর বৃষ্টি কমলে তামান্না বারান্দায় নেমে রান্না ঘরের দিকে তাকিয়ে অবাক হয়ে গেলো। মেহেরাবের মা কাক ভেজা হয়ে রান্না করছে। তামান্না রান্না ঘরে কোনোরকম উঠে
- আন্টি আপনি তো ভিজে গেছেন। বদলে নেন আগে। না হলে ঠান্ডা লাগবে।
- কিছু হবে না। এই তো রান্না প্রায় শেষ।
- আপনি আগে উঠেন৷ রান্না পড়ে করা যাবে৷ আগে বদলান। বৃষ্টি পড়ছে আপনি কেন ভিজতে গেলেন । বয়স হয়েছে আপনার।
- কি আর করবো। অভ্যাস হয়ে গেছে মা।
- অভ্যাস সব পড়ে দেখা যাবে আগে বদলিয়ে আসুন আমি দেখছি রান্না টা। ।
- তুমি পারো রান্না করতে।
- হ্যা পারি। আম্মুর কাছ থেকে শিখেছি কিছু টা। আপনি উঠুন এখন।
তামান্নার জোড়াজুড়ি তে উঠে গেলো মেহেরাবের মা। ঘরে চলে গেলেন। তামান্না রান্না ঘরে বসে রান্না ঘরের অবস্থা দেখে
- কি একটা অবস্থা? এর ভেতর থাকে কি করে?
মেহেরাব চলে আসলো। সোজা রান্না ঘরে এসে তামান্নাকে দেখে অবাক হয়ে গেলো। মেহেরাব বললো
- মা কই?
- ভিজে গেছে কাপড় চেঞ্জ করতে গেছে।
- আপনি রান্না ঘরে কেন?
- রান্না করবো। আর তুমি কেমন মানুষ বলতো তো।
- কেন?
- বাজার থেকে তো পলিথিন কিনে এনে ঘরের চালে আর রান্না ঘরের চালে দিলে তো পারো৷ তাহলে বৃষ্টি পড়লে আর পানি পড়তো না।
- একটু সমস্যার ভেতর আছি তো। আর এই ভাবে বৃষ্টি নামবে জানতাম না।
- তোমার মার বয়স হয়েছে। এখনো যদি সে কষ্ট করে তাহলে হবে বলো।
- না। একটা চাকরি পেলে তো আর এতো কষ্ট থাকতো না।
- ট্রাই করলে তো পারো।
- পরীক্ষাটা শেষ করে চেষ্টা করবো।
মেহেরাবের মা চলে আসলো। তামান্না খেয়াল করলো মেহেরাবের মা ছেঁড়া শাড়ি পড়ে আছে। তামান্না উঠে দাঁড়িয়ে
- রান্না শেষ।
পাশের বাসার একটা মহিলা এসে
- ভাবি নেন ভাত। আর এমন করে কতো জ্বালাবেন নিজেরা একটা কিনলে তো পারেন৷ আমাদের তো কারেন্ট বিল উঠে। আর বিরক্ত করবেন না। যত্তসব।
কথা টা বলে মহিলাটা চলে গেলো। মেহেরাবের মা মেহেরাব মাথা নিচু করলো। তামান্না বললো
- আন্টি এসবের কি দরকার ছিলো।
- তুমি নতুন এসেছো তোমাকে খালি মুখে কিভাবে যেতে দি।
- সময় তো এখনো আছে অনেক। আমার জন্য আপনাকে কথা শুনতে হলো।
- না না কি যে বলো। তুমি ঘরে যাও আমি খাবার নিয়ে আসছি।
- না খেলে হয় না আন্টি।
- তোমার জন্য কষ্ট করলাম তুমি না খেয়ে চলে যাবা।
- না না ঠিক আছে খেয়েই যাবো।
তামান্নাকে খেতে দিলো৷ খাওয়া শেষে মেহেরাব তামান্নাকে এগিয়ে দিয়ে বাসায় ফিরে। মেহেরাবের মা মেহেরাবকে বললো
- মেয়েটা ভারি সুন্দর আছে৷ তবে কি রিয়াকশন আসবে জানি না।
- যেটা হবে ভালোর জন্যই হবে। ওর ইমোশনাল আবেগ কেটে যাবে। আর আমাকে ভালোবাসার কথা ভূলে যাবে। বাস্তবতাকে জেনে নিবে৷
- মেয়েটাকে আমার খুব পছন্দ হয়েছে। তোর সাথে ভালো মানাতো। কিন্তু কপাল খারাপ আমাদের৷
- এতো আশা করো না।
মেহেরাব অপেক্ষায় আছে তামান্না কখন ম্যাসেজ করবে কিন্তু না লাইনে আসেনি। তাহলে ওর ভালোবাসা জানালা দিয়ে পলালো। আবেগে কতো বলে ভালোবাসি আর বাস্তবতা দেখলে ভালোবাসা হারিয়ে যায়। আজব দুনিয়া।
রাত ১ টা
মেধা পা টিপে টিপে চোরের মতো করে বাসা থেকে বেরিয়ে পড়ে গাড়িতে উঠে চলে যায়.........
বিঃদ্রঃ আচ্ছা তামান্নার এখন কি করা উচিত । মেহেরাবদের অবস্থান দেখে মেহেরাবকে ইগনোর করা৷ নাকি মেহেরাবের কাছে ফিরে আসা। কি মনে হয় আপনাদের।

Leave a Comment