তুমি আমার এক অন্যরকম শান্তি
পর্ব ৩৩
লেখা: Meherab Kabboপরেরদিন সকাল বেলা
মিথিলা মিহু বাসায় আসে। মেহেরাব বললো
- আসছে এখন বাসায়। আমি যেই কাউকে নিয়ে বাসায় আসবো ওমনি তারা বাপের বাড়ি চলে যাবে।
- তুমি রাগ করছো কেন? রাগ পরে কইরো তা তোমার তার খবর কি? পলাইছে নাকি আছে।
- মনে তো হচ্ছে পলাইছে৷
- যাক তাহলে ভালোই হয়েছে।
- আম্মুর তো ওকে পছন্দ হয়েছে খুব।
- কি বলো? তাহলে কি ওকে বউ করে আনবা?
- আম্মু বললে অবশ্যই আনবো।
- সে যদি রাজি না হয়।
- রাজি করাবো। আম্মুর কথা তো রাখবোই।
মিহু বললো
- মনে হয় না মা এই কাজ টা করবে।
মিথিলা বললো
- এখন পর্যন্ত কোনো কথা হয়েছে।
- না।
- তাহলে তো বেঁচেই গেছো। ।
- হ্যা আগে থেকে। পরে যদি আবার আঘাত পেতাম।
- যাক ভালো করেছো। তুমি এই সকালে কই যাচ্ছো।
- বন্ধুর সাথে মেয়ে দেখতে যাবো।
মিথিলা মুচকি হেসে
- বন্ধু র জন্য নাকি তোমার নিজের জন্য।
- এই সকালে কেন?
- ৮ টাই গাড়ি। মেয়ের বাসায় যেয়ে পৌঁছাতে লাগবে দুপুর ২ টা। দেখে তো বাসায় আসতে হবে।
- মা কে বলছো।
- হ্যা। রাতেই জানিয়ে দিছি।
- ঠিক আছে সাবধানে যেয়ো।
মেহেরাব চলে গেলো। মিহু মিথিলা বাসায় ঢুকলো।
**
নাহিদের মা সকালে মেধাকে ডাকতে যেয়ে দেখলো মেধা রুমে নেই। ওয়াশরুম ও খালি। রান্না ঘরে গেলো সেখানে ও নেই। মেইন গেইট খোলা। তার মানে মেধা বাড়ি থেকে পালিয়েছে। নাহিদের মা নাহিদের বাবাকে যেয়ে ডেকে তুললো নাহিদের বাবা বললো
- কি হয়েছে?
- বউ মা বাড়ি থেকে চলে গেছে। কোথা ও নেই।
নাহিদের বাবা লাফ মেরে উঠে
- কি বলছো কি তুমি?
- হ্যা ঠিকি বলছি। মেইন গেইট তো খোলা।
নাহিদের বাবা রাগ করে
- তোমাকে আমি বারণ করছিলাম ওকে এতো অত্যাচার করো না। তবু ও তুমি তোমার মতো করে চলছো।
- আমি তো ভেবেছিলাম ও ভালো হয়ে যাবে। এখন কি একটা কেলেংকারী।
- ওদের এখন ঠিক করে বোঝার ক্ষমতা হয়নি। ঠিক মতো ডিসিশন নিতে পারে না। যখন বুঝতে পারতো তখন নিজেকে শুদ্রে নিতো।
- এতোকিছু হবে আমি কি ভাবতে পারছি?
- তোমাকে বলছি ওকে একটু ভালোবাসো শাসন করো। যখন বুঝবে দেখবে নিজেকে শুদ্রে নিবে।
- বাইরের লোক জানলে কি হবে?
- ফোনটা আনো৷ ওর বাসায় খবর নিতে হবে। বাইরে কেউ জেনো জানতে না পারে।
নাহিদের মা ফোন এনে দিলো মেধার বাসায় কল করলে। মেধার বাবা কলটা রিসিভ করে বললো
- বেয়াই টেনশনের কোনো কারন নেই। আমি গতকাল রাতে আপনাদের বলবো বলতে পারি নি। ফোনে টাকা ছিলো না।
নাহিদের মা বাবা অবাক হয়ে
- কি বলতে চেয়েছিলেন?
- মেধাকে নিয়ে চিন্তা করতে হবে না৷ ও ওর বোনের বাসায় গেছে। ওর বোন ফোন করেছিলো।
নাহিদের বাবা একটা দীর্ঘ শ্বাস ছাড়লো। যাক বাচা গেলো। মেধার বাবা কিছু কথা বলে ফোনটা রেখে দিলো৷
(মেহেরুন মেধার বাবাকে কল করে সব কিছু বললে মেধার বাবা বলছিলো যেটা ভালো হয় করো। তাই মেহেরুন মেধাকে নিজের কাছে নিয়ে আসলো।
মেহেরুনের আলিশন বাড়ি, গাড়ি কোনো কিছুতেই তার কমতি নেই। মেধা এসে বলতো
- এমন বাড়ি আমার জামাইয়ের হবে৷ গাড়ি হবে। সেই গাড়িতে চড়ে তোর বাড়িতে আসবো।
মেহেরুন দীর্ঘ শ্বাস ফেলে বলতো
- যখন বুঝবি তখন এসব কিছুই মনে হবে না। )
**
সকাল ১০ টা
তামান্না বাসা থেকে বের হচ্ছে তামান্নার মা বললো
- কই যাচ্ছিস।
- একটু কাজ আছে। তোমাকে এসে পড়ে বাকীটা বলবো।
- তুই কি জেনে বুঝেই সব করছিস?
- হ্যা মা। আমি এতোদিন ফাও কষ্ট পেয়েছি। বোকার মতো কেদেছি।
- ঠিক আছে৷ তাড়াতাড়ি বাসায় আছিস।
তামান্না বের হয়ে গেলো।
**
বাসের ভেতর বসে মেহেরাব আর ৪ জন বন্ধু রা মজা করছে। আয়ানের পরিবার মেয়েকে দেখে আসছে তাদের পছন্দ হয়েছে এখন আয়ানের পছন্দ হলে বিয়ে হবে। আয়ান তো মেয়ে দেখতে যাবে না। সবাইকে নিয়ে ঘুরতে যাচ্ছে৷ আয়ানের বস ছুটি দিতে চাই না। তাই এই সুযোগটা কাজে লাগাইছে। সবাই মিলে মজা করতে করতে হঠাৎ একটা মেয়ে এসে
- আপনাদের সমস্যা কি? এতো জোরে চিল্লাপাল্লা করছেন কেন ? বাসের আরো যাত্রী দের অসুবিধা হচ্ছে। আস্তে কথা বলেন।
আয়ান বললো
- আমরা কি করবো না করবো আপনাকে বলতে হবে। বেশি অসুবিধা হলে কানে তুলো দিন।
পাশ থেকে হৃদয় বললো
- তোমার সৌন্দর্যের কাছে আমি মুগ্ধ প্রিয়। তোমাকেই খুঁজছি এতো দিন।
মেহেরাব আয়ান আরো দুজন হৃদয়ের দিকে তাকিয়ে পড়লো অবাক হয়ে। মেয়েটা বললো
- বেয়াদব। এগুলোর কাছে কে টিকেট বিক্রি করছে৷ ।
মেয়েটা চলে গেলো। আয়ান মেহেরাব আরো দুজন মিলে হৃদয়ের পিঠে তাল ফেলতে শুরু করলো। আয়ান বললো
- তোকে কি মেয়েদের প্রশংসা করতে নিয়ে আসছি৷
- দোস্ত মারিস না। আমার এই মেয়েটাকে খুব পছন্দ হয়েছে।
- তোর পছন্দ হওয়া বের করছি। যে মেয়েকে দেখিস সেই মেয়েকে তোর পছন্দ হয়ে যায়।
- সত্যি বলছি দোস্ত। এ এবার রিয়েল।
মেহেরাব বললো
- আগের গুলো ও তো রিয়েল ছিলো। এটা কিভাবে রিয়েল।
- বিশ্বাস কর একে আমি রিয়েলি পছন্দ করছি। মন থেকে ভালোবাসা চলে আসছে। প্লিজ ম্যানেজ করে দে।
- তোর ভালোবাসা দেখাচ্ছি।
![]() |
| তুমি আমার এক অন্যরকম শান্তি পর্ব ৩৩ |
চারজনে হৃদয় কে মারতে থাকে। বাসের ভেতর অনেকে ওদের কান্ড দেখে হাসছে। মেয়েটা বিরক্ত হয়ে গেলো। উঠে ওদের সামনে যেয়ে দাঁড়িয়ে
- আপনাদের ভেতর ম্যানার বলতে কিছু নেই। আর এনাকে কেন মারছেন এভাবে একা পেয়ে। একটু কি শান্তিতে জার্নি করতে পারবো না।
- আপনার যখন বিরক্ত লাগছে এই বাসে উঠছেন কেন?
- এটাই তো আমার ভূল হয়েছে। আমি যদি জানতাম আপনাদের মতো বান্দর উঠছে বাসে তাহলে কখনোই উঠতাম না। অন্য বাসে চলে যেতাম।
- আপনি কিন্তু বেশি বলছেন। সমস্যা হলে নেমে যান। আরেকটা বাসে উঠে চলে যান।
- তাই ই করতে হবে৷
হৃদয় উঠে দাঁড়িয়ে
- এ ভাই আপনাদের সমস্যা কি হ্যা? মেয়েটার পক্ষ নিয়ে আমি কথা বললাম বলে আমাকে মারলেন। এখন আবার বলছেন ও নেমে যাবে। আপনারা নামবেন। এই মামা গাড়ি থামাও। এগুলো কে নামাও আগে।
হৃদয়ের কথা শুনে চারজন চারজনের মুখের দিকে তাকিয়ে পড়লো। বাস থেমে গেলো। হৃদয় আরো যাত্রী দের এক করে চারজনকে নামিয়ে দিলো। বাস চলে গেলো। চারজনে হাসতে হাসতে শেষ প্রায়। মেহেরাব বললো
- আল্লাহ ভালো জানেন এই হৃদয়ের আর কয়টা রিয়েল হবে।
- ওর তো সব গুলোই রিয়েল। মন প্রাণ সব৷ কাজটা করলো কি?
**
তামান্নার রিকশা এসে মেহেরাবের বাসার সামনে এসে দাঁড়ালো । রিকশা থেকে নেমে বাসার সামনে গেলো। দরজায় তালা ঝুলছে। পাশের বাসার এক মহিলাকে বললো
- এই বাসার মানুষ কই।
- দাড়াও ডেকে দিচ্ছি।
মেহেরাবের মা তামান্নাকে দেখে অবাক হয়ে গেলো। মেহেরাবের মা বললো
- মা তুমি।
- হ্যা আন্টি আপনাকে দেখতে আসলাম। বাইরে দাঁড়িয়ে থাকবো নাকি ভেতরে নিয়ে যাবেন।
- না না। ভেতরে চলো ।
মেহেরাবের মা তালা খুলে ভেতরে ঢুকলো । ঘর টা আজ গোছানো। তামান্না অবাক প্রায়। মেহেরাবের মা বললো
- ঘরটা গোছানোর টাইম পাই না। আজ পেলাম তাই গুছিয়ে রাখলাম। মেহেরাব থাকলে গুছাতে পারতাম না।
- কেন? মেহেরাব কোথায়।
- ওর বন্ধু র সাথে গেছে মেয়ে দেখতে।
- মেয়ে দেখতে মানে।
- ওর বন্ধু বিয়ে করবে সেই মেয়েকে দেখতে গেছে। - ওর যাওয়ার দরকার কি অন্যের বউকে দেখতে?
- কেন কি হয়েছে?
তামান্না রাগে ফুসছে। নিজেকে কন্ট্রোল করলো।
***
মেয়েটা হৃদয় কে বললো
- ধন্যবাদ।
- কেন?
- বখাটে গুলো কে গাড়ি থেকে নামানোর জন্য। মেজাজটাই খারাপ করে দিছে।
হৃদয় মুচকি হেসে
- আজকাল সময় ওরা মেয়ে দেখলে চিল্লায় বেশি যদি মেয়েটাকে লাইনে আনা যায়৷ আমার চোখে পড়লে আমি প্রতিবাদ করি।
- আপনি খুব ভালো।
হৃদয় গলে পড়লো মনে হয়৷ হৃদয় বললো
- আপনার নাম টাই জানা হলো না।
- আমার নাম মৌ।
- আমি হৃদয়।
দুজনে মিলে কথা বলতে শুরু করলো। মেহেরাব আয়ানরা আরেকটা বাসে উঠে পড়লো।
**
তামান্না একটা শপিং ব্যাগ মেহেরাবের মায়ের হাতে ধরিয়ে দিলো। মেহেরাবের মা অবাক হয়ে গেলো......
( waiting for next part..........)
( দোস্ত এটাই শেষ। এটাই আমার রিয়েল লাভ। একে ছাড়া আমি বাচবো না। প্লিজ তোরা কিছু একটা কর। এমন বন্ধু যার আছে মেনশন দিয়ে দৌড় দেন। দোস্ত এটাই শেষ এটাই রিয়েল অথচ যাকে দেখে তাকেই পছন্দ হয় 😂🤣🤣🤣🤣)

Leave a Comment